কবিতা

রক্ত আর হাহাকারের দিন

রনি আহম্মেদ | 31 Jul , 2019  


একটি মোমবাতি জ্বলছিল

এস আমার গ্রামে
এখানে মোরগের ডাকে
সমুদ্র উঠে আসে,
যেন তোমাদের আত্মারা
কিছু বলবে !
যদিও তিনি জানেন
যা জানে একটি ঘর
একটি মোমবাতি জ্বলছিল
কার যেন শোকে !
হাওয়ার নৌকা এলো
কার যেন কথায় ,
আর তিনি চলে গেলেন
মরিচবাতির রাতে
মুখোমুখি একটি আয়না
আর একটি ময়ূর
আল্লাহর এই জগতে
পেখম মেললো সৃষ্টি !
শূন্যের ঘরে সংখ্যা বসালেন

ঝড় এসে তোমাদের বললো
গাছ হও আকাশ ছোঁয়া।
মুহাম্মদের নূরে
শুরু হলো যা’ কিছু নূর ছিল !
ভেবে দেখো
কতটা প্রেমে
তোমাদের রিজিক হয়!
আর কতটা প্রেমে সৃষ্টিগুলো
এক হওয়া আছে !
নূরের আত্মায়
এস আমার গ্রামে
পাখিদের বিছানায়
তোমাদের ঘুম হবে.
অনন্তকাল যেদিন হবে শেষ।


কার কি নাম

সময় থাকে থেমে
দুটো বাজার
মিনিট পনেরো আগে
রহস্য তো তাই
ঘাসের বুকে রেখে আসা
তোমাদের ফটোগুলো
বৃষ্টি আর ঝড়
এমন সকালে
সাম্যের দরজাটা নড়ে।
আমিতো প্রতিদিনের সংযুক্তি
তোমাদের ধরে রাখি ,
মহাকালের আত্মায় !
ভেবে নিয়ো একটি গ্রাম
মা বাবার অনু-পরমাণু
লেগে থাকা

গাছে গাছে লাল ঠোঁট
সাদা পাখি
একদল আলোর মানুষ,
মিশে থাকে বাতাসে।

আমাকে বলে দিও
কার কি নাম
দীর্ঘ হোক যা কিছু নিঃশ্বাস ,
বেঁচে থাকার মতো কিছু কণ্ঠ…

পেতলের ঘন্টায় ঘুম ভাঙ্গে।
আর গোপনে নবীদের নাম
লিখে রাখি
যেখানে তুমি নেই ,
না আছি আমি!
অথবা তারা
ভালোবাসা নিয়ো ,
জিকিরগুলো ভুলোনা
বিদায়


অশ্রুদাগ

প্রজাপতির ভিতর দেখা হলো
তোমার আমার
যেন পর্বতের জানালা
খোলা আছে
খোলা আছে
সুপ্ত দিনগুলো
তোমাদের ডাকে
চন্দ্রপাড়ায় তাদের বাড়ি।
আমি কি ভুলে যাওয়া,
ডুবে যাওয়া নৌযান ?
মনে রেখো
সাত আসমান থেকে
তাকানো আমি
তোমাদের দিকে।
ঘিরে আসা বৃত্তকে বলো
সময় দাঁড়িয়ে আছে,
শিরিষ গাছগুলো
মন দিয়ে শুনবে
মানুষের কথাগুলো।
শুধু পুরোনো কোনো
ফটোতে দেখা হবে;
তোমাদের আত্মায়
টাঙানো ফুলের মালায়
লেগে থাকা দূর সমুদ্রের
অশ্রুদাগ



প্রজাপতিদের বিদায় বেলা

নবীদের সাথে
মেশা এই হৃদয়
তুমি কি টের পাও ?
নয়ন জোড়া গ্রাম ,
আমাকে ডাক দেয়
কারণ তুমিতো একটা গাছ,
পাখিদের নিবিড় বন্ধু !
কার ভাষা কে বুঝে ?
মাথা উঁচু করা
অচেনা ফুল
তোমাদের কি বলেছিলো ?
বাতাসে নদীর গান
নৌকা এসে থামা
একটা জীবন
মনে রেখো
ভালবাসতে গিয়ে
সাতটি জীবন
হেটে গেলো আবুসিনায়ায় ,
মরক্কোয় আর
রাশিয়ার বরফ ডানায় !
বালুর ঢেউ নিয়ে
খেললো মরিয়াম ,
চোখে তার প্রজাপতিদের
বিদায় বেলা
দূর কোনো দুঃখের কথা
আবছায়া মনে পড়লো।
লম্বা ট্রেন যাত্রায়
কেউ ছিলোনা
শুধু একটি তাজা
লাল গোলাপ
পাশের কেবিনে
আমিতো জানতাম
এবার শীত পড়বে !
যেখানে তোমরা শেষ হও ,
অগণিত আল্লাহর জানালা
পরের স্টেশনে দাঁড়ানো
অপেক্ষায় থাকা
তোমরা …তোমাদের
ভালোবাসা নিয়ো ,
ফুটে উঠো তোমরা
কালের সুরেলা নদীতে ,
জানোইতো তোমাদের
চিঠিগুলো আমারই লেখা ছিল।
আজকের মতো যাচ্ছি
যেখানে তারারা থাকে।


কাফেলায় শরীক হই

মেঘগুলো পর্বত
কে জানতো
যে কথা ছিল
দুইটি জাহাজ এসে
বলবে মনের কথা
তোমার চোখের গল্প
তুমি ফোটাও
জেসমিনে ঢাকা
একটি বিকেল।
আমার সন্ধ্যাগুলো
ভালো থাকবে
যদি আমি না থাকি তবে…
আর সব’ই তো ছবি
কিছুটা
ভুলে যাওয়া।
এমন দিন আর কি আসবে বলো ?
শুধু ভাব যাকিছু তাই তো তার !
মালিকের কাছে ফিরবার
নিঃশ্বাসের গালিচায়
এ পৃথিবী কাঁপছে
রক্ত আর হাহাকারের দিন।
তবুও কোথাও চুড়ুই
আর ঘুঘুর দল
কাফেলায় শরীক হই
দূর আকাশে আত্মারা
মেঘের আকার নিলো ,
যারা কষ্টে আছে
দো’আ করো তাদের জন্য।
গোলাপের দিনগুলো থাকুক ,
গোলাপের শব্দের ভিতর
ফেরেস্তাদের রাতে
দেখা হবে
জিব্রাইলের ডানায়
ছেয়ে যাওয়া
কিছু সমুদ্র
উঠে আসে
তোমাদের চোখে।
আগামী দিনগুলো
ভালো থাকুক ,
ভালো থাকো
যত্ন নিও…


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.