কবিতা

ইকতিজা আহসান-এর একগুচ্ছ কবিতা

ইকতিজা আহসান | 27 Jul , 2019  


তেরো

এমন এক অন্তহীন তেরো
এমন এক সংখ্যাবাচক দিন
একটি ভোর হঠাৎ দিল গেরো
সেলাই হলো সুই ও সুতো হীন
সবুজপত্রে জমলো শত ঋণ

একটি পত্রে লেপ্টে গেল ভোর
ভোরের ভেতর উড়লো কত পাখি
দিনের ভেতর দিন-হারানো ঘোর
দেহান্তরে দিগন্ত এক আঁকি
পরস্পর থেকে গেলাম বাকি!

দেহাঙ্গেও পাহাড় সমতল
ঘুরে এসে তীব্র অবতল
বিন্দু থেকে দূর কেন্দ্রভার
এক পৃথিবী দেখা হল সার
এক পৃথিবী তোমার আমার!!

পরস্পরের ভেতর প্রচারিত
দুইটি দেশ দারুণ একীভূত
দুইটি দেশের মনের রীতিনীতি
তুমিই হলে পরম ও প্রকৃতি
তুমিই পেলে মনের আকৃতি

রোদ ওঠে, রোদের পিছে পিছে
আকাশ জুড়ে ঘনিয়ে আসে মেঘ
ঝরাপাতা পাতাঝরার দিনে
বৃক্ষে বৃক্ষে পত্রমোচী বেগ
সামাল দেয় পাতারও আবেগ!

মহাকালের পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে
এলো ফের সংখ্যাবাচক তেরো
এখন আমরা ভাগ হওয়া প্রদেশ
আমাদের ভাগ্য এমনতর
থাকে তবু সূক্ষ্ম এক গেরো
আমাদের ভাগ্য এমনতর!!

ভোর

একটা ভোর ফোঁটাকে ফুলের মতো মনে হয়
কণা কণা ঘ্রাণ জমা করে
নিঃশব্দে কোমলতা ছুঁয়ে থাকে
পৃথিবীর পথে আয়োজিত হয়
এক চক্রবর্তী ভ্রমণ
দেহমধ্য অজানা ব্রম্মান্ড জুড়ে
গোলকধাঁধায়
একটি ভোর
নেমে আসে শারীরিক;
প্রেমালিঙ্গণে কাতর
অবমুক্ত আপেল-নদী
মহাকালের কোনো গূঢ় ইশারা ইংগিতে
ফোঁটা ভোরের ভেতর দিয়ে
বয়ে চলছে সমুদ্র অবধি!


পথচিহ্ন

কানাওলায় পাওয়া এই দিনরাত্রি
রাস্তা হারিয়ে চক্রাকারে ঘুরে
নিজের থেকে নিজে বহুদূরে
তোমার থেকে আরও দূরে
দূর আকাশে এক দূরের তারা!
হারানোর গল্প বুনে
এক নীলকষ্ট-হারানোর কাঁধে
হাত রেখে হেঁটে যাই…
পাহাড় উপত্যকা নদী বন সমুদ্রের যে অংশে
অজ্ঞান থাকে
থাকে কিছু বিহবল কুয়াশা
বিভ্রমের চিহ্ন ধরে কিছুদূর এগুলে
তার পাশে এক অন্তহীন খেলা তোমার সাথে আমার!
তুমি হারাবে
তোমাকে খুঁজতে গিয়ে অনন্তর আমাকে রাস্তার মাঝে
কানাওলায় পাবে
আমি রাস্তার মাঝে ঘুরপাক খেতে খেতে
কোথাও পৌছাবো না কোনোদিন!
কোনো পথচিহ্ন নাই আর
কোনো পথ আর চিহ্ন হয়ে ওঠে না !!


নৈঃশব্দ্য

এবার কিছু নৈঃশব্দের চারা কিনবো
রোপণ করবো বুকের মধ্যে
প্রতিদিন নিয়ম করে জল দিব, আগাছা ঝেটে ফেলবো
চারাগুলো বড় হবে, ডালপালা মেলবে
আর আমি মূক ও বধির হয়ে উঠবো
চারাগাছগুলো আরও বড় বৃক্ষ হবে
আরও শব্দহীনতার অক্ষরে
আরও নৈঃশব্দ্য বুনে
আমার ভেতরে আমি ঢুকে যাব


পৃথিবী সিরিজ (২)

অনেক পৃথিবী নয়, একটা পৃথিবীই ব্যাসার্ধ জুড়ে থাক
একটা পৃথিবীই হয়ে উঠুক সুশীতল, ছায়াসুনিবিড়, প্রকৃতির মায়াঘেরা গৃহ
কোনো আড়ম্বর নয়; একদম ঘরের শান্তির মতো একটা পৃথিবীর ভেতরে আত্মীয়ের আশ্রয় সবুজের ঘ্রাণে কথা বলতে বলতে শিশুর পায়ের ঘুঙুরের মতো বাজতে থাকুক মনো-দৈহিক প্রতিবেশে!
একটাই পৃথিবী চাই অনেক নদী সমুদ্র আর পাহাড় নিয়ে
ষড়ঋতুর বৈচিত্র নিয়ে
অতি শিল্পের দূষণহীন পুরান দিনের গানের মতো….. সাদাকালো একটা পৃথিবী
অনেক ধান দুব্বা কদম রাধাচূড়ার বাক্যে বাক্যে বিস্তারিত থাক দৃশ্যে দৃশ্যে
অদৃশ্যের কল্পলোকে

জ্বর

পৃথিবীর জ্বর!
অনেক জ্বরতপ্ত সে….
অনেক জ্বর নিয়ে তার ভেতরের সকল সবুজ কাঁপছে!
নদী, সমুদ্র, পাহাড়, উপত্যকায় কুয়াশালীন সকল উদ্ভিদ
জ্বরের ভাষায় কথা কইছে পরষ্পর!
সকল বর্ণমালা, সকল অক্ষর দিয়ে বোনা তার সমূহ বাক্য অনেক উষ্ণ; গরম -ভাবাপন্ন শরীরে ঘুম নাই
তার আঙুল বর্ধিষ্ণু তাপমাত্রার মুদ্রায় রান্না করে তবু দৈনন্দিন আনাজ, দৈনন্দিন জীবন

হে আকাশলীনা মেঘ,অদৃশ্য জল সম্ভার, আমাকেও তোমার ভেতর লীন করে নাও
মেঘের ভেতরে ছদ্মবেশ নিয়ে
দূর দূর মেঘের দেশ থেকে অধিক ঠাণ্ডা জলের সমাবেশ ঘটিয়ে
তারপর হে ছদ্মবেশী আমি-মেঘ তুমি পৃথিবীর মাথায় রাতজেগে জলপট্টি দাও
অনেক ঠাণ্ডা প্রয়োজন আজ পৃথিবীর
অনেক শুশ্রূষাময় ঠাণ্ডায় পৃথিবীর জ্বর নেমে যাবে


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.