অনুবাদ গল্প

মিসেস অরলান্ডোর ভয়

মেহেদী হাসান | 25 Jul , 2019  


লিডিয়া ডেভিস ১৯৪৭ সালের ১৫ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের নরদাম্পটনে জন্মগ্রহণ করেন। অণুগল্প (Flash fiction) কথিত অত্যন্ত স্বল্প পরিসরের সাহিত্য আঙ্গিকের জন্য তিনি অধিক পরিচিত। পাশাপাশি তিনি একজন ছোট গল্পকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক এবং অনুবাদক। তিনি মার্সেল প্রুস্তের সোয়ান’স ওয়ে এবং গুস্তাব ফ্লবেয়ারের মাদাম বোভারীসহ ফরাসী ও অন্যান্য ভাষার বেশ কিছু চিরায়ত সাহিত্য ইংরেজীতে অনুবাদ করেন।

লিডিয়া ডেভিসের বাবা রবার্ট গরহ্যাম ডেভিস (Robert Gorham Davis) ছিলেন একজন সাহিত্য সমালোচক এবং ইংরেজী সাহিত্যের অধ্যাপক এবং মা হোপ হেল ডেভিস ( Hope Hale Davis) ছিলেন একজন ছোট গল্পকার, স্কুল শিক্ষিকা এবং স্মৃতিকথা লেখক। গোড়ার দিকে তিনি সঙ্গীত শিক্ষা করেন- প্রথমে পিয়ানো, তারপর ভায়োলিন। সঙ্গীত ছিল তার প্রথম প্রেম। লেখক হওয়ার বিষয়ে লিডিয়া ডেভিস জানান, “আমি সম্ভবত সবসময় লেখক হওয়ার পথেই এগিয়ে গিয়েছি, এমনকি যদিও এটা আমার প্রথম প্রেম নয়।” তিনি বার্নার্ড কলেজ (Barnard College) এ পড়াশোনা করেন যেখানে তিনি প্রধানত কবিতা লেখতেন।

১৯৭৪ সালে লিডিয়া ভেভিস পল অস্টার (Paul Auster) কে বিয়ে করেন যার সাথে তার ড্যানিয়েল নামে একটি ছেলে আছে । পরবর্তীতে অস্টারের সাথে তার বিচ্ছেদ হয়ে যায় এবং অতঃপর তিনি চিত্রশিল্পী অ্যালান কোট (Alan Cote) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন যার সাথে তার থিও কোট (Theo Cote) নামে আরেকটি ছেলে আছে। এই লেখিকা ইউনিভার্সিটি এট আলবেনী (University at Albany, SUNY) এর ক্রিয়েটিভ রাইটিং বিভাগের অধ্যাপক।

লিডিয়া ডেভিস দ্যা থারটিন উম্যান এন্ড আদার স্টোরিজ (১৯৭৬) এবং ব্রেক ইট ডাউন (১৯৮৬) সহ মোট ছয়টি গল্প গ্রন্থ প্রকাশ করেন। ব্রেক ইট ডাউন গল্প গ্রন্থটি পেন/ হেমিংওয়ে অ্যাওয়ার্ড (PEN/Hemingway Award) এর চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়। এবং তার সাম্প্রতিক প্রকাশিত ভ্যারাইটিজ অব ডিস্টারবেন্স (২০০৭) গল্প গ্রন্থটি স্থান লাভ করে ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড (National Book Award) চূড়ান্ত তালিকায়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত লেখা তার সকল গল্পের সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়েছে দ্যা কালেক্টডে স্টরিজ অব লিডিয়া ডেভিস (২০০৯) ।

লিডিয়া ডেভিস ৬৫ বছর বয়সে ২০১৩ ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরষ্কার লাভ করেন। ডেভিসকে পুরস্কার দেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ম্যান বুকার প্রাইজ ওয়েবসাইটে তার সাহিত্যকর্মকে কাব্যের পরিমিতি বোধ এবং যথাযথতা সম্বলিত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

মূল: লিডিয়া ডেভিস
অনুবাদ: মেহেদী হাসান

মিসেস অরলান্ডোর পৃথিবী তমসাচ্ছন্ন। সে জানে তার বাসায় কি কি জিনিস বিপজ্জনক: গ্যাসের চুলা, খাড়া সিঁড়ি, পিচ্ছিল বাথটাব, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার। বাসার বাইরে কি কি জিনিস বিপজ্জনক তার কিছুটা সে জানে তবে সব নয় এবং ভয় পায় নিজের অজ্ঞতায়। এবং সে নানা ধরনের অপরাধ ও দুর্যোগের খবরাখবর জানার জন্য উৎসুক থাকে।

যদিও সে প্রতিটি বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে, তবে কোন সতর্কতাই যথেষ্ট হয় না। সে ক্ষুধা, শীত, বিষন্নতা এবং প্রচুর রক্তপাতের আশঙ্কায় আগাম প্রস্তুতি নেয়ার চেষ্টা করে। তার সাথে সবসময় ব্যান্ডএইড, সেফটি পিন এবং ছুরি থাকে। তার গাড়িতে অন্যান্য জিনিসপত্রের সাথে থাকে এক ফালি দড়ি, একটা হুইসল এবং তার মেয়েদের জন্য অপেক্ষা করার সময় পড়ার জন্য ইংল্যান্ডের সামাজিক ইতিহাস- তার মেয়েরা প্রায়ই অনেকক্ষণ ধরে কেনাকাটা করে।

সে সাধারণত পুরুষের সঙ্গ পছন্দ করে: তাদের বিশাল দেহ এবং পৃথিবীর প্রতি তাদের যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তারা নিরাপত্তার অনুভূতি দিতে পারে। সে বিমুগ্ধ হয় বিচক্ষণতায় এবং কদর করে সেই ধরনের পুরুষকেই যারা রেস্তোরায় তার জন্য টেবিল নিয়ে বসে থাকে এবং তার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় ইতস্তত করে। সে আইনজীবী নিয়োগ করার ব্যাপারে আস্থাশীল এবং আইনজীবীদের সাথে কথা বলার সময় সবচেয়ে বেশী নিরাপদ বোধ করে কারণ তাদের উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ আইন দ্বারা সমর্থিত। তবে সে শহরের বানিজ্য এলাকায় কেনাকাটা করতে যাওয়ার সময় একা না গিয়ে বরঞ্চ তার মেয়েদেরকে বা কোন মেয়ে বন্ধুকে তার সাথে যাওয়ার জন্য বলে।

শহরের বাণিজ্য এলাকায় একবার সে এলেভেটরের ভেতরে এক পুরুষের আক্রমণের শিকার হয়। তখন ছিল রাতের বেলা, লোকটি ছিল কৃষ্ণাঙ্গ, এবং আশেপাশের এলাকা তার অপরিচিত ছিল। তার বয়স তখন এখনকার চেয়ে কম ছিল। এছাড়াও সে বেশ কয়েকবার বাসের ভিড়ের মধ্যে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। একবার এক রেস্টুরেন্টে বাগ্বিতণ্ডার পর এক উত্তেজিত পরিচারিকা তার হাতে গরম কফি ঢেলে দেয়।

শহরের ভূগর্ভস্থ রেলে যাতায়াতের সময় সে ভুল পথে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় থাকে, তবে সে নিম্নবিত্তের কোন অপরিচিত লোকের কাছে পথের হদিশ জানতে চায় না। সে অনেক কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ পাশ কাটিয়ে যায় যারা নানা ধরনের অপরাধের পরিকল্পনায় মশগুল। যে কেউ তার কাছ থেকে ছিনতাই করতে পারে, এমনকি অন্য নারীর কাছ থেকেও।

বাসায় সে টেলিফোনে তার মেয়েদের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলে এবং তার কথাবার্তা সব নানা ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ভরা থাকে। সে তার আনন্দের কথা বলতে চায় না, কারন সে ভয়ে থাকে সে হয়ত কোন সৌভাগ্য বিনষ্ট করে দেবে। যদি সে কখনও বলে কোন কিছু ভালো চলছে তাহলে তা বলে নিচু স্বরে এবং বলার পর টেলিফোন টেবিলে ধাক্কা মারে। তার মেয়েরা তার সাথে খুব অল্প কথাবার্তা বলে এই আশঙ্কায় যে তাদের কথাবার্তার মধ্যে সে অমঙ্গলসূচক কিছু খুঁজে পাবে। এবং যখন তারা তার সাথে অল্প কথা বলে তখন তার মনে হয় যে তাদের হয়ত কোন সমস্যা হয়েছে- হয় তাদের কোন অসুখ হয়েছে না হয় তাদের সংসারে কোন গোলমাল বেঁধেছে।

একদিন সে টেলিফোনে তাদেরকে একটা গল্প শোনায়। সে একদিন শহরের বাণিজ্য এলাকায় একা কেনাকাটা করছিল। সে গাড়ি বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে একটা ফেব্রিকের দোকানে ঢোকে। সে তাকিয়ে তাকিয়ে ফেব্রিক দেখে তবে কেনে না কিছুই, যদিও সে তার পার্স থেকে কিছু ফেব্রিকের নমুনা বের করে। ফুটপাত দিয়ে অনেক কৃষ্ণাঙ্গ তার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় এবং তারা তাকে সন্ত্রস্ত করে তোলে। সে তার গাড়ির কাছে যায়। চাবি বের করার সময় গাড়ির নীচ থেকে একটা হাত বেরিয়ে এসে তার পায়ের গোড়ালি আঁকড়ে ধরে। একটা লোক তার গাড়ির নীচ শুয়ে আছে এবং কালো বর্ণের হাত দিয়ে তার মোজা পরা গোড়ালি আকঁড়ে ধরেছে এবং গাড়িতে বাঁধা পাওয়া শব্দে তার পার্সটি ফেলে দিয়ে চলে যেতে বলছে। সে লোকটির কথা মত কাজ করে, যদিও সে ব্যাপারটি সহ্য করতে পারে না। সে একটি ভবন প্রাচীরের পাশে দাঁড়িয়ে পার্সটির উপর চোখ রেখে অপেক্ষা করে, তবে পার্সটি সেখানেই পড়ে থাকে। কিছু লোক তার দিকে আড় চোখে তাকায়। এরপর সে হেঁটে গাড়ির কাছে গিয়ে ফুটপাতের উপর হাঁটু গেড়ে বসে গাড়ির নীচে তাকিয়ে দেখে। গাড়ির অপর পাশে রাস্তার উপর সূর্যালোক এবং গাড়ির পেটের মধ্যে কিছু পাইপ দেখতে পায়: কোন লোক তার চোখে পড়ে না। সে পার্সটি উঠিয়ে গাড়ি চালিয়ে বাসায় চলে আসে।

তার মেয়েরা তার গল্পটি বিশ্বাস করে না। তারা তাকে জিজ্ঞেস করে কেন একটি লোক এমন অদ্ভুত কাজ করতে যাবে এবং এই ভরদুপুরে। তারা বলে যে লোকটি কোনভাবেই হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে পারে না। সে তাদের অবিশ্বাসে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে এবং যেভাবে তারা ‘ভরদুপুর’ এবং ‘হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়া’ শব্দ দুটি উচ্চারণ করে তা তার পছন্দ হয় না।

তার গোড়ালি চেপে ধরার ঘটনার কয়েকদিন পর, আরেকটা ঘটনায় তার মন খারাপ হয়ে যায়। সে এক সন্ধ্যাবেলায় সমুদ্র সৈকতের পাশে একটা পার্কিং লটে গাড়ি নিয়ে যায়, যেমনটা সে মাঝে মাঝেই যায়, যাতে সে গাড়িতে বসে উইন্ডশীল্ডের ভেতর দিয়ে সূর্যাস্ত দেখতে পারে। সেই সন্ধ্যাবেলায় পানির উপর বোর্ডওয়াকের দিকে তাকিয়ে অন্যান্য দিনের মত জনমানব শূন্য নিস্তব্ধ সৈকত দেখতে পায় না, বরঞ্চ একটা ক্ষুদ্র জটলা দেখতে পায় যা বালির উপর শুয়ে থাকা কোন একটা কিছুকে ঘিরে আছে।

সে সাথে সাথে কৌতুহলী হয়ে উঠে, তবে সূর্যাস্ত না দেখেই ফিরে যাওয়া অথবা বালির উপর কি শুয়ে আছে তা দেখতে যাওয়ার মধ্যে সে দ্বিধান্বিত হয়ে উঠে। এটা কি হতে পারে তা সে ভাবার চেষ্টা করে। এটা সম্ভবত কোন এক ধরনের জন্তু, কারণ লোকজন সাধারণত কোন কিছুর দিকে এতক্ষণ তাকিয়ে থাকে না যদি তা জীবিত না হয় বা জীবিত ছিল এমন না হয়। সে ভাবে এটা হয়ত একটা বিশাল মাছ। এটাকে অবশ্যই বিশাল হতে হবে কারণ ছোট মাছ কৌতুহলোদ্দীপক নয়। এটা জেলীফিশ ধরনেরও কিছু নয় কারন জেলীফিশ আকারে বেশ ছোট। সে এটাকে ডলফিন মনে করে আবার হাঙ্গরও ভাবে। এটা একটা সিল মাছও হতে পারে। সম্ভবত ইতিমধ্যে মারা গেছে, তবে এমনও হতে পারে যে মারা যাচ্ছে এবং জটলার লোকজন এটার মারা যাওয়া দেখতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

মিসেস অরলান্ডো এখন ওখানে যাবে এবং নিজের চোখে সব দেখে আসবে। সে তার পার্সটা তুলে নিয়ে গাড়ি হতে বের হয়, দরজায় তালা লাগায়, একটি নিচু দেয়াল পেরিয়ে যায় এবং বালিতে এসে নামে। অনেক কষ্টে বালির উপর দিয়ে হাই হিল পায়ে দিয়ে, পা দুটি বেশ ফাঁক করে, ধীরে ধীরে হাঁটতে থাকে, চকচকে পার্সটির ফিতা হাত দিয়ে ধরা এবং পার্সটি সামনে-পিছনে ভয়ানকভাবে দুলতে থাকে। সাগরের বাতাস তার ফুলতোলা পোশাককে তার উরুর সাথে চেপে ধরে এবং এটার ঝালর তার হাঁটুর কাছে পতপত করতে থাকে, তবে তার আঁটসাঁট রুপালী চুল অনড় থাকে এবং সে ভ্রু কুঞ্চিত করে এগিয়ে যায়।

সে লোকজন ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং নীচের দিকে তাকায়। বালির উপর যা শুয়ে আছে তা কোন মাছ বা সীল নয়, শুয়ে আছে একজন তরুণ। সে শুয়ে আছে পুরোপুরি সোজা হয়ে, তার পা দুটি একত্রে রাখা এবং বাহু দুটি তার শরীরের পাশ ঘেঁষে রাখা এবং সে মৃত। কেউ তাকে সংবাদপত্র দিয়ে ঢেকে দিয়েছে তবে মৃদুমন্দ বাতাস কাগজ উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং এক এক করে তারা ভূলুন্ঠিত হয়ে বালির উপর দিয়ে গড়িয়ে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের পা প্যাঁচিয়ে ধরছে। শেষমেষ একজন কৃষ্ণাঙ্গ লোক, যে মিসেস অরলান্ডোর দিকে তাকায় একজন মেক্সিকানের মত, পা বাড়িয়ে দেয় এবং অবশিষ্ট থাকা পাতাটি সরিয়ে ফেলে এবং এখন সকলে মৃত যুবকটিকে ভালভাবে দেখতে পায়। যুবকটি সুদর্শন এবং হালকা-পাতলা গড়নের, তার গায়ের রং ধূসর এবং কয়েক জায়গায় হলুদ বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে।

মিসেস অরলান্ডো তাকিয়ে থাকার মধ্যে নিমগ্ন হয়ে পড়ে। সে আশেপাশের মানুষগুলোর দিকে এক নজর তাকায় এবং দেখতে পায় যে তারাও নিজেদের ব্যাপারে বিস্মৃত হয়ে গেছে। ডুবে মরা। এটা একটা ডুবে মরা। তবে এটা আত্মহত্যাও হতে পারে।

সে অনেক কষ্টে বালির উপর দিয়ে হেঁটে ফিরে আসে। বাসায় এসেই সে তার মেয়েদেরকে ফোন করে এবং যা দেখেছে তা খুলে বলে। সৈকতে সে একটা মৃত ব্যক্তি দেখেছে, একজন ডুবে মরা ব্যক্তি, এটা বলে সে গল্পটা বলতে শুরু করে। এরপর আবার গল্পটা বলতে শুরু করে এবং বিস্তারিত খুলে বলে। তার মেয়েরা উৎকন্ঠিত হয়ে উঠে কারণ সে প্রত্যেকবার গল্পটা বলার সময় উত্তেজিত হয়ে পড়ে।

পরবর্তী কয়েকদিন সে বাসার ভেতরেই থাকে। তারপর সে হঠাৎ একদিন বাসা থেকে বের হয়ে তার এক বন্ধুর বাসায় যায়। সে তার বন্ধুটিকে জানায় যে সে একটা বাজে ফোন কল পেয়েছে এবং রাতটি সে সেখানেই কাটায়। পরের দিন বাসায় ফিরে তার মনে হয় তালা ভেঙ্গে কেউ তার বাসায় ঢুকেছিল কারণ কিছু কিছু জিনিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে সে প্রতিটি জিনিস একটা উদ্ভট জায়গায় খুঁজে পায়, তারপরও তার মনে হতে থাকে যে কেউ তার বাসায় ঢুকেছিল।

অনুপ্রবেশকারীদের ভয়ে এবং কোন সমস্যা হয় কি না তা খেয়াল রাখতে সে বাসায় বসে থাকে। সে যখন বসে থাকে, বিশেষ করে রাত্রে, সে এত ঘন ঘন অদ্ভুত শব্দ শুনতে পায় যে সে নিশ্চিত হয়ে উঠে যে জানালার নীচে ছিচকে চোর লুকিয়ে আছে। এরপর সে বাইরে যায় এবং বাহির থেকে বাসাটা দেখে। সে অন্ধকারে বাসার চারপাশে চক্কর দেয় এবং কোন ছিচকে চোর দেখতে পায় না এবং বাসার ভেতরে ফিরে আসে। তবে বাসার ভেতরে আধা ঘন্টা বসে থাকার পর তার মনে হয় যে তাকে আবার বাসার বাইরে যেতে হবে এবং বাহির থেকে বাসাটা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

সে বাসার বাহিরে যায় এবং ভেতরে আসে এবং পরের দিনও বাসার ভেতরে-বাহিরে যাতায়াত করে। এরপর সে বাসার ভেতরে বসে থাকে এবং জানালা ও দরজার উপর চোখ রেখে ফোনে কথা বলে এবং অদ্ভুত ছায়া দেখলে সচকিত হয়ে উঠে এবং এরপর বেশ কিছুক্ষণ সে আর বাইরে যায় না শুধুমাত্র অনেক ভোরে মাটিতে পদচিহ্ন পরীক্ষা করতে যাওয়া ছাড়া।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.