কবিতা

তানহিম আহমেদ-এর একগুচ্ছ কবিতা

তানহিম আহমেদ | 6 Jul , 2019  


ডুব – ০১

এবঙ– জেনে রেখো। মানুষ হোলো এক
অতি দক্ষ ডুবুরি। গাঢ় সমুদ্রের নাম। বারবার
তাকে পাঠ করতে গিয়ে জেনেছি– এভাবে
অবিরত ক্ষয়ে যাওয়ার ডাকনাম জীবন।

বারবার— তার মাঝে। ডুবে যেতে যেতে।
কেবল জেনেছি অক্ষম মানুষের বুকে জমিয়ে
রাখা দীর্ঘশ্বাস। প্রবহমান হাওয়ার মতন। অম্লান
বিমুখ সময়ের কাছে রেখে যায়– কিছু গান।

তার মুখ জুড়ে সাদাকালো তৃষ্ণাদগ্ধ মুখোশ
অদেখা জন্মদাগের মতন– লেগে থাকে–
যেন উটের থরথর প্রসন্ন গ্রীবাদ্বয়।

ডুব – ০২

জেনেছো কি— দ্বিধার বৃক্ষ। হে নারী তোমার
অক্ষয়প্রাপ্ত চোখে। বিতৃষ্ণার মত— চিরকাল
কেবল ফুটে থাকে এক দীর্ঘকালীন ডুব।

কমলালেবু

হঠাৎ কখনো— কমলালেবুর খোসার মতন— তুমি
লেগে থাকো, অবহেলিত মৃত বৃক্ষের গায়ে। অমৃত
ভাঙা বিক্ষত ধাতব খণ্ডের ভিতর— কোনো বিরল
একক হেমন্তের অর্কেস্ট্রা। হারানো ভাষায়। বিমুগ্ধ
বেহালার সুরে— শোনায় ভিন্ন সব ধ্রুপদী সংগীত।
তার চূড়া থেকে উড়ে গিয়ে শিকারী ঈগল। নীরবে
জানিয়ে যায় মূলত পৃথিবী এক, বৃহৎ কমলালেবু।

দরোজা

সময়— একটি বহুব্রীহি ভাস্কর্য।

পৃথিবীর সমসাময়িক দরোজা। যার থরে
থরে সাজানো হরেক রকমের পরিচ্ছেদ।

মানুষের। স্বতন্ত্র স্বর ও ভঙ্গিমা।

যার, রন্ধ্রে রন্ধ্রে— ঢুকে গিয়েছে
ঘাতকের ছুড়ি। চিৎকার ও মৃত্যুর নামতা—

সময়— এক দক্ষ। মূকাভিনেতা।

প্রাচীন মুদ্রা ভেবে। যে উড়িয়ে
দেয় গাঢ় ব্যর্থতার ম্লান হাসি।

কমরেড
(চে গুয়েভারাকে)

একদিন– তার কাছে নিতে গিয়ে ক্ষুধাকে রপ্ত
করবার দীক্ষা। দেখলাম– দগ্ধ চে গুয়েভারা।
ঘোর অন্ধকারে খুব ধীরলয়ে খুড়ছেন নিজের
কবর। নিয়তি নামক মূঢ় পাহাড়ের বুক জুড়ে।


2 Responses

  1. কবিতার নতুন ভাষা| অভিনন্দন নবীন এই কবির আগমনে|

  2. রণিল says:

    ভালো লেগেছে। ডুবের পারস্পেক্টিভ দারুণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.