প্রবন্ধ, বইয়ের আলোচনা, বিশ্বসাহিত্য

গার্সিয়া মার্কেসের অপ্রকাশিত উপন্যাস: আমাদের দেখা হবে আগস্টে

ফয়জুল লতিফ চৌধুরী | 17 Jul , 2019  


১৭ এপ্রিল গার্সিয়া মার্কেস লোকান্তরিত হইবার পর অচিরেই জানা গেল যদিও কালান্তক ব্যাধির কারণে আত্মজীবনীর দ্বিতীয়-তৃতীয় খন্ড রচনার অবকাশ জুটিল না, কিন্তু আস্ত একখানা উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায় রহিয়া গিয়াছে। ইহার কথা একেবারেই অজানা ছিল তাহা নহে। কেহ কেহ জানিতেন। কবে এই গ্রন্থ প্রকাশিত হইবে? খুব ঘনিষ্ঠ কেহ প্রশ্ন করিলে তিনি উত্তর করিতেন, ‘‘এই তো এই আগস্টে’’।
তাহার মৃত্যু হইল ১৭ এপ্রিল মধ্যাহ্নে; অপরাহ্নে সান হেরোনিমো এভিনিউতে অবস্থিত একটি ফিউনেরাল হোমে মরদেহ রক্ষা করা হইল। দেহ সৎকার হইল ১৯শে এপ্রিল, পরম নিভৃতে, প্রায় সকলের অগোচরে। ২১ শে এপ্রিল একটি পাত্রে রক্ষিত দেহভষ্ম মেক্সিকো শহরে অনুষ্ঠিত জনবহুল শ্রদ্ধানিবেদন সভায় প্রদর্শন করা হইল। ২৪ তারিখ গার্সিয়া মার্কেস ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক জাইমি অ্যাবেলো নিশ্চিত করিলেন: হ্যাঁ, কথা সত্য, অপ্রকাশিত একখানা পাণ্ডুলিপি রহিয়াছে বটে; তবে কবে তাহা মুদ্রিত হইয়া পাঠকের হাতে পৌঁছাইবে তাহার ঠিক নাই। এই বিষয়ে মার্কেসের স্ত্রী মের্সেদেস বার্চা, দুই পুত্র রডরিগো গার্সিয়া বার্চা এবং গনযালো গার্সিয়া বার্চা-ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিবেন।

স্বাভাবিকভাবেই সকলের কৌতূহল ছিল অপ্রকাশিত উপন্যাসটি কবে নাগাদ লিখিত হইয়াছে। প্রকাশনা সংস্থা র‌্যান্ডম হাউজের ক্রিস্ট্রোবাল পেরা যিনি দীর্ঘকাল মার্কেসের নানা গ্রন্থ সম্পাদনা করিয়াছেন অবহিত করিলেন এই গ্রন্থটি মার্কেস দীর্ঘকাল ধরিয়া লিখিয়াছেন। তাহার সর্বশেষ উপন্যাস ক্ষীণতনু আমার বিষণ্ন বেশ্যাদের স্মৃতিকথা প্রকাশিত হইয়াছিল ২০০৪-এ; আর পরের বৎসরই মার্কেস তাহার মেহিকান লেখক-বন্ধু হোমেরো আরিদহিসকে জানাইয়াছেন, খেল্ খতম, লেখার পাট চুকিয়াছে, তিনি আর লিখিবেন না। আমার বিষণ্ন বেশ্যাদের স্মৃতিকথা লিখিত হইয়াছিল ১৯৯৯-এর মধ্যেই। ঘনিষ্ঠজনেরা অনুমান করিতেছেন সমসাময়িক কালেই অপ্রকাশিত উপন্যাসটি লিখিত হইয়াছে কেননা মার্কেস ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দেই মাদ্রিদে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ইহার প্রথম অধ্যায়টি স্বকণ্ঠে পাঠ করিয়া শুনাইয়াছেন। তাহার জীবনীকার মার্টিন জিরাল্ড জানাইতেছেন বস্তুত: চারটি পৃথক গল্প হিসাবে এই রচনাগুলি একটি গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হইবার কথা ছিল। সম্ভবত: মার্কেস পরবর্তীকালে এইগুলি একসূত্রে গাঁথিয়া একটি উপন্যাসের রূপ দিতে মনস্থ করেন।
পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত এই উপন্যাসটি এক প্রৌঢ়া রমণীর কাহিনী যিনি প্রতি বৎসর নিয়ম করিয়া কলম্বিয়ার একটি দ্বীপে সমাহিত মায়ের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করিয়া থাকেন। পাঁচটি অধ্যায়ের প্রতিটিই ছোটগল্পের ন্যায় স্বয়ংসম্পূর্ণ; প্রতিটিই পৃথক পৃথকভাবে পাঠ করিলে রসাস্বাদনে পাঠকের সমস্যা হইবে না। সে যাহাই হউক, প্রশ্ন হইল সেই ১৯৯৯-এ রচিত গোটা উপন্যাসটি মৃত্যু অবধি অপ্রকাশিত রহিল কেন। ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক বন্ধু হোসে সালগার জানাইয়াছিলেন, ২০০৮-টেই মার্কেস মুদ্রণের জন্য পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করিয়াছিলেন। কিন্তু শেষাবধি ইহা অপ্রকাশিত রহিয়া গিয়াছে। ঘনিষ্ঠজনদের কাহারও কাহারও কাছে মার্কেস শেষ অধ্যায়টির কাহিনী লইয়া স্বীয় অসন্তোষের কথা উত্থাপন করিয়াছেন। তিনি শেষ অধ্যায় তথা কাহিনীর পঞ্চম পর্বটি পুনর্লিখনের জন্য সংকল্প করিয়াছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার বাধা ঠেলিয়া তিনি ছয়-ছয় বার পঞ্চম পর্বটি পুনর্লিখন করিয়াছেন; ইতোমধ্যে বৎসরের পর বৎসর কাটিয়া গিয়াছে, তথাপি শেষ গল্পটি তৃপ্তিকরভাবে লিখিয়া উঠিতে পারেন নাই। মার্কেস অতিশয় খুঁতখুঁতে প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। পাঠক জানেন এমনও নজীর রহিয়াছে যে একটি উপন্যাস তিনি ১২ দফা পুনর্লিখন করিয়া তবে ক্ষান্ত হইয়াছেন। সর্বমোট তের দফা লিখিতে তিনি না আলস্য না ক্লান্তি বোধ করিয়াছেন। যতক্ষণ না কোন রচনা প্রকাশযোগ্য মনে করিয়াছেন ততক্ষণ তাহা প্রকাশ হইতে পারে নাই; পুনর্লিখনের স্বার্থে ছাপাখানা হইতে পাণ্ডুলিপি অক্লেশে পুনরায় লেখার টেবিলে আসিয়া পৌঁছিয়াছে। সারা দিনে একটি মাত্র অনুচ্ছেদ লিখিয়া তৃপ্ত থাকিয়াছেন তবু ঈপ্সিত মানের ব্যাপারে রেয়াত করিতে প্রস্তুত ছিলেন না।
কোন বিশেষ গোপনীয়তার কারণে কি ইহার প্রকাশ অধিকতর বিলম্বিত হইবে? ইহা কি মার্কেসের ‘অসমাপ্ত রচনা’ হিসাবে আখ্যায়িত হইবে? ছাপাখানা হইতে বাহিন হইয়া যখন আলোর মুখ দেখিবে তখন ইহার প্রচ্ছদনাম কী থাকিবে? এই সব প্রশ্ন দুই মাস যাবৎ মার্কেসপ্রেমীদের মনে ঘুরপাক খাইতেছিল। পাণ্ডুলিপি রচনার সময় মার্কেস গ্রন্থটির একটি কাজচলতি নাম নির্বাচন করিয়াছিলেন। হিস্পানী ভাষা হইতে তাহার বাঙলা উচ্চারণ হইতে পারে: “এন আগস্তো নোস ভেমোস”। বঙ্গার্থ করা যাইতে পারে: “আমাদের দেখা হবে আগস্টে”। ইহাই চূড়ান্ত শিরোনাম কি-না তাহা এখনই নিশ্চিত করিয়া বলা যাইতেছে না।

প্রথম অধ্যায়ে কাহিনী শুরু হইয়াছে ১৬ই আগস্ট, দুপুর ২টায়: কলম্বিয়ার একটি দ্বীপের ফেরীঘাটে স্টিমার আসিয়া ভিড়িয়াছে। কাহিনীর মূল চরিত্র অ্যানা মাগদালেনা এই স্টিমারের যাত্রী। তাহার বয়স বায়ান্ন হইয়াছে। কুড়ি বৎসর পূর্বে লেখাপড়ার পাট চুকাইয়া ফেলিবার আগেই যখন তাহার বিবাহ হইয়াছিল তখনও সে কাহারও প্রেমে পড়ে নাই; তদাবধি সে অক্ষতযোনী — পাকেচক্রে কাহারও অঙ্কশায়িনী হইয়া সতীত্ব বিসর্জ্জনের অঘটন ঘটে নাই। তাহার কুড়ি বৎসরের বৈবাহিক জীবন তৃপ্তিতে ভরপুর। তাহার পিতা সঙ্গীতের শিক্ষক, মাতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। মৃত্যুর দিন তিনেক পূর্বে মা বলিয়াছিলেন তাহাকে যেন কলম্বিয়া সাগরের নির্দ্দিষ্ট একটি দ্বীপে সমাধিস্থ করা হয়। অ্যানার পিতা স্ত্রীর এই শেষ ইচ্ছা অপূর্ণ রাখেন নাই। তবে যেই দিন মরদেহ সমাহিত করিবার উদ্দেশ্যে ঐ দ্বীপে লইয়া যাওয়া হয় সেই দিন অ্যানাকে সঙ্গে লওয়া হয় নাই পাছে সে তীব্র শোকে ভাঙ্গিয়া পড়ে। তবে মৃত্যুর প্রথম বার্ষিকীতে পিতা কন্যাকে সঙ্গে লইলেন। যন্ত্রচালিত ডিঙ্গী নৌকা আথাল-পাথাল সমুদ্রে চার ঘণ্টা আছড়াইতে আছড়াইতে পিতা-কন্যাকে ঐ দ্বীপে পৌঁছাইয়া দিল, সে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। পিতা-কন্যার যৗথ উদ্যোগে অ্যানার মায়ের সমাধিতে নামফলক গাঁথা হইল। অনন্তর প্রতি বৎসর মায়ের মৃত্যু বার্ষিকীতে এক তোড়া পুষ্পস্তবক লইয়া ভালোবাসা জানাইতে পরলোকগত মায়ের সমাধিতে আসিতে সে কদ্যপি ইতস্তত: করে নাই। আগস্ট একই সঙ্গে অত্যধিক গরম এবং ভারী বর্ষণের মাস। তথাপি সমুদ্র পাড়ি দিয়া এই দ্বীপে সে আসিতো একাই। এমনকী বিবাহের সম্বন্ধ ঠিক হইবার সময়ই সে হবু স্বামীর নিকট খোলাসা করিয়া লইয়াছিল যে প্রতি বৎসর ঐ দ্বীপে গিয়া মায়ের কবরে সে একাই পুষ্পস্তবক অর্পণ করিবে; ইহা তাহার একান্তই নিজস্ব বিষয়।
ঊনত্রিশ বৎসর আগে মাতার তিরোধান হইয়াছে, আঠাশ বৎসর যাবৎ সে ব্যত্যয়হীন নিষ্ঠায় এই স্বআরোপিত কর্তব্যটি করিয়া চলিয়াছে। অপরাহ্নে ফেরী আসিয়া তাহাকে দ্বীপে পৌঁছাইয়া দেয়, ফেরিঘাটে এক গাল হাসি দিয়া অর্ভ্যথনা করে দীর্ঘ দিনের পরিচিত ট্যাক্সি চালক, সে ওঠে এলাকার সবচেয়ে প্রাচীন, জীর্ণ হোটেলটিতে যাহা তাহাকে ঠিক মানায় না। আঠাশ বৎসর যাবৎ সে একই হোটেলে উঠিয়াছে, রাত্রিবাসের জন্য একই কক্ষ বাছিয়া লইয়াছে: হোটেল হইতে পুনরায় ট্যাক্সিতে সমাধিস্থলের দিকে যাত্রা, পথে কৃষ্ণাঙ্গ মহিলার নিকট হইতে পুষ্পস্তবক ক্রয়। বিকাল পাঁচটার আগেই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীর্ণ-করুণ সমাধিস্থলে পৌঁছিয়া ঘাস-জঙ্গল সরাইয়া মায়ের কবরটি খুঁজিয়া বাহির করিতে হয়। গ্ল্যাডিওলাসের স্তবকটি মাতার পাদদেশে অর্পণ করিয়া সে নিঃশব্দে কথোপকথন শুরু করে: মাকে সংসারের খবরাদি দেয়, গোপন বিষয়াদিও অকপটে চাউর করে এবং কোন পরামর্শ থাকিলে স্বপ্নে আসিয়া জানান দিবার অনুরোধ জ্ঞাপন করে। অত:পর হোটেল প্রত্যাবর্তন এবং পরবর্তী দিন সকাল নয়টা অবধি ফিরতি ফেরীর জন্য অপেক্ষা।

এই একইভাবে সাতাশটি বৎসর গিয়াছে; এই বার আঠাশ দফায় ১৬ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্যতিক্রম ঘটিতে শুরু করিল। হোটেলে নিজস্ব বারে একাকী টেবিলে রাতের আহারাদি সারিতে সরিতে সে লক্ষ্য করিল অন্য একটি টেবিলে বসা একজন মধ্যবয়সী পুরুষ তাহার দিকে এক পলকে তাকাইয়া রহিয়াছে। অতঃপর যাহা হইবার তাহাই হইল। ঐ ভদ্রলোকের সহিত দ্রুত পরিচয় হইল এবং অ্যানা মাগদালেনা অল্প সময়ে তাহার ঘনিষ্ট হইল। আগন্তুক পুরুষটি এই হোটেলের বাসিন্দা নহে। অতএব হোটেলের তৃতীয় তলার অ্যানা মাগদালেনার ২০৩ নম্বর কক্ষেই অন্তরঙ্গ সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত হইল। প্রথমে কক্ষে প্রত্যাবর্তন করিল অ্যানা মাগদালেনা, কিছুক্ষণ পর আগন্তুক ভদ্রলোক। ইত্যবসরে অ্যানা দ্রুত পোশাক ছাড়িয়া, স্নানাগারে গিয়া পায়ের আঙ্গুল, বগল ও যোনীদেশ ধৌত করিয়া, হালকা প্রসাধন করিয়া প্রস্তুত হইয়াছে। পোশাক ছাড়িবার শেষ পর্যায়ে ভদ্রলোক যখন আন্ডারপ্যাণ্ট খুলিতেছেন তখন অ্যানা আড়চোখে ঘরের আবছা আলোয় নির্ভুল লক্ষ্য করিল ঐটি তাহার স্বামীর মতো ততটা বড়সড় নহে। মধ্যরাতের নিঃস্তব্ধতা ভাঙ্গিয়া সারসগুলির সজোর পাখা ঝাপাটানো ভদ্রলোকের অপরিচিত, অ্যানা সমুদ্রসারসের এই জন্মগত অভ্যাসটি ব্যাখ্যা করিয়া দিল। প্রথম মিলনের পর দ্বিতীয় মিলন ছিল অনিবার্য। অ্যানা ভাবিয়া অবাক হইল কী অল্প সময়ে পুরুষমানুষটি কয়েকটি মাত্র অঙ্গুলির ক্ষীপ্র দক্ষতায় তাহার দেহে পুনর্বার উত্তেজনার বান ডাকিয়া আনিয়াছে। বাহিরেও তখন ঝড়, আকাশ ঘিরিয়া বিদ্যুতের চমকানি। কিছু কথাবার্তা, এক সময় শ্রান্ত ভদ্রলোক নিদ্রায় ঢলিয়া পড়িলেন, তাহার নাক ডাকিবার শব্দ যুগপৎ পরিশ্রম ও পরিতৃপ্তির জানান দিতে থাকিল।

প্রদোষের আধো-অন্ধকারে যখন অ্যানার ঘুম ভাঙ্গিল তখন সে সারা জীবনের সতীত্ব বিসর্জ্জন দিয়া পরপুরুষের অঙ্কশায়িনী হইয়াছে এই চিন্তা উদয় হইয়া তাহাকে কিঞ্চিৎ কাতর করিয়া ফেলিল। কিন্তু সে কোথায়? অ্যানা শয্যায় একা, তাহার রাতের সঙ্গী ইতোমধ্যে প্রস্থান করিয়াছে। অথচ ভদ্রলোকের নামটি পর্যন্ত জানা হয় নাই। রাত্রির স্মৃতি বলিতে ভদ্রলোকের ব্যবহৃত ল্যাভেন্ডারের মৃদু গন্ধ ঘরের বাতাসে তখনও জীয়মান। কিছুক্ষণ পর ফিরতি যাত্রার প্রস্তুতিকালে যখন সে খাটের মাথার কাছে রাখা বইটি স্যুটকেসে ভরিতে গেল তখন দেখিল ভদ্রলোক কুড়ি ডলারের একখানা নোট রাখিয়া গিয়াছেন। ঐ দিন ফেরিতে করিয়া যে অ্যানা মাগদালেনা প্রত্যাবর্তন করিল সে সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষ।
সন্দেহ নাই প্রথম অধ্যায়ের এই কাহিনী পাঠককে তৃপ্ত করিবে। পরের চারিটি অধ্যায়ে অ্যানার অনুরূপ চারিটি অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার বয়ান রহিয়াছে। শুধু কহিনী নয়, বয়ানের চিত্রল গাঁথুনি পাঠককে আবিষ্ট করিবে।
‘‘আমাদের দেখা হবে আগস্টে’’ উপন্যাসের ভাষা মার্কেসের পাঠকের নিকট অপরিচিত প্রতিভাত হইতে পারে। শুরুর দিকটা বাদ দিলে পরবর্তী অংশের বাক্যগঠন রীতি মার্কেসীয় জটিলতা হইতে মুক্ত বলিলে ভুল হইবে না। তবে যাহারা আমার বিষণ্ন বেশ্যাদের স্মৃতিকথা পড়িয়াছেন তাহারা অনুধাবন করিবেন প্রায় একই সময়ে রচিত এই দুইটি উপন্যাসে মার্কেসের রচনাশৈলী ও ভাষাভঙ্গী অভিন্ন; দুইটিতেই কাহিনীর ওপর গুরুত্ব বেশী। ইহা ঠিক ‘‘আমাদের দেখা হবে আগস্টে’’ যৌনতার গন্ধ পরিব্যাপ্ত কিন্তু ইহাও স্পষ্ট যে তাহা কেবল মানুষের ব্যক্তিত্বের লুক্বায়িত, অন্ধকারাচ্ছন্ন দিকটিতে আলোকসম্পাতেরই স্বার্থে। আমরা সম্পূর্ণ উপন্যাসটি গ্রন্থকারে প্রকাশের অপেক্ষায় থাকিলাম।


6 Responses

  1. মৃদুল says:

    ইন্টারেস্টিং গল্প। ইন্টারনেট-এ সার্চ দিয়ে মূল গল্পটা পেলাম না কেন বুঝতে পারছি না। মূল গল্পটা পড়ার আগ্রহ বোধ করছি।

  2. মোফাজ্জল says:

    মার্কেসের অপ্রকাশিত লেখা আছে অথচ আজো বাংলায় ছাপা হয় নি জেনে বিস্মিত হয়েছি। আজকাল তো খুব অনুবাদ হচ্ছে। এ গল্পটির কথা কি অনুবাদকদের অজানা? গল্পটি খুবই মজাদার। আর সাধুভাষায় রচনাটিতে অন্যরকম স্বাদ এসেছে। যাই হোক পুরো রাতের জন্য মাত্র ২০ ডলার কেন এ কৌতুকময় প্রশ্নটি মনে হয় সবার মনেই জাগবে। একবারের জন্য মাত্র ১০ ডলার দিয়ে ভদ্রলোক সুবিবেচনার পরিচয় দেন নি। অন্য দিকে মার্কেসের মৃত্যুপরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার এরকম বর্ণনাও অন্য কোথাও পড়িনি। গোপনীয়তার মোড়ক কেন ছিল এ বিষয়েও প্রশ্ন থেকে গেল। হয়তো ওদের সংস্কৃতিটাই সে রকম। লেখককে ধন্যবাদ।

  3. Saimum says:

    অসাধারণ একটি লেখা

  4. শাহনেওয়াজ says:

    ফয়জুল লতিফ স্যারের লেখা সবসময় পড়ি। কেবল জীবনানন্দ বিষয়ে নয়, বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার ব্যাপারেও তাঁর অবদান অনেক। মনে পড়ে ১৯৮৯ সালে কামিলো হোসে সেলা‘র পাস্কুয়াল দুয়ার্তের পরিবার বইটি অনুবাদের জন্য তিনি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আমি তখন তাঁর আন্ডারে চট্টগ্রামে পদস্থ। আন্দারকিল্লা থেকে ইংরেজী বইটি আমি ফটোকপি করে এনেছিলাম। বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে এ দেশের পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার ব্যাপারে তাঁর ভূমিকা এখনও অব্যাহত দেখে ভাল লাগছে। মার্কেসের এই অপ্রকাশিত এবং অনুবাদ না হওয়া গল্পটির কথা তিনি এতো সুন্দর করে লিখেছেন যে মূল গল্পটি না পড়লেও চলে। আশা করি তাঁর এই রকম লেখালিখি দীর্ঘ দিন অব্যাহত থাকবে।

  5. তৌহিদ says:

    অনবদ্য।
    ফয়জুল লতিফ স্যারের লেখা সবসময় পড়ি। কেবল জীবনানন্দ বিষয়ে নয়, বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার ব্যাপারেও তাঁর অবদান অনেক।

  6. ফরিদ আহমেদ says:

    মার্কেসের ‘‘এন আগস্তো নোস ভেমোস” গল্পটির অনুবাদ প্রকাশের জন্য অনুরোধ করতেছি। আলোচনা দরকার আছে সত্য কিন্তু ভাল গল্পের অনুবাদ পড়া জরুরী না? অসমাপ্ত উপন্যাসটার অন্য চ্যাপ্টারগুলি কি পাওয়া যায়? সেইগুলাও পড়তে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.