অনুবাদ কবিতা

সোনিয়া সিলবা-রোসাসের একগুচ্ছ কবিতা

রাজু আলাউদ্দিন | 13 Jul , 2019  


একাধারে কবি, সাংবাদিক ও সম্পাদক। সোনিয়া সিলবা-রোসাসের জন্ম মেক্সিকোর রাজধানীতে ১৯৭১ সালে। পড়াশুনা করেছেন মেক্সিকোর নুয়েবো লেয়ন নামক অঙ্গরাষ্ট্রের la Universidad Autónoma de Nuevo León নামক বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিষয় ছিল প্রথমে স্প্যানিশ ভাষা ও সাহিত্য এবং পরে অপরাধবিজ্ঞান এবং সবশেষে সমাজবিজ্ঞান ও অপরাধবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা করেন।
এক সময় মেক্সিকোর বিখ্যাত প্রকাশনী Fondo de Cultura Económica-এ কাজ করেছেন। মেক্সিকোর শিল্পকলা একাডেমি Instituto Nacional de Bellas Artes-এ কাজ করেছেন। এছাড়া Alfaguara, McGraw Hill, Televisa, Fundación SM, Fondo Editorial Tierra Adentro de Conaculta, EDIMEND এবং Planeta নামক প্রকাশনা সংস্থাগুলোতে সম্পাদনা পরিষদে কাজ করেছেন।
সোনিয়ার এ পর্যন্ত কবিতা, গল্প ও উপন্যাসসহ মোট দশটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
Laberinto de Siluetas ( 1994), Ídolos de Sal ( 1995), Lluvia ácida sobre la danza de las horas (Poesía. 1996), Tanta Memoria ( 2002), Cuentos para entristecer al payaso ( 2009), Cuarto Menguante ( 2011), Caban. El reclamo de los dioses ( 2013), Cuarto Menguante ( 2015), Benita Salvador (2018), Hola, ¿qué hace? Redacción para jóvenes ( 2019) এবং De tanta Sombra (P. 2019).
বর্তমানে তিনি la Universidad Emiliano Zapata বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।
এই প্রথম তার কবিতা বাংলাভাষায় অনূদিত হলো মূল থেকে। অনুবাদ করেছেন লাতিন আমেরিকান সাহিত্য-বিশেষজ্ঞ কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন ।

মানচিত্র

করিডোরে জুতোর লুকিয়ে রাখা চিহ্নগুলো আঁকা হয়ে যায়
প্রতিটি চিহ্ন জুড়ে অলজ্জ ইতিহাস মাথা তুলে আছে
প্রবল দাম্ভিকতা মনে করে জেনে গেছে পথিকের সকল গোপন
অভ্যস্ত হাঁটার এই অদ্বিতীয় মানচিত্র পলায়নে সহায়ক সেই ছিনালীর
শয্যার নিচে যে অপেক্ষায় থাকে প্রেমিককে হত্যার আশায়
সেখানে আমার পা কল্পনায় দেখতে পায় তোমার আসাযাওয়া
আর সুবাধ্য উদ্বেগগুলো তোমার আদেশের অপেক্ষা করে।
(Mapamundi)

রাতের পেছনে
ঠিক ছয়টার দিকে আমার জিব্বার ডগা এঁকেছিল দিগন্ত
তখন ছয়টা আর দিগন্ত ও হাল্কা বাতাস
অপেক্ষা করছিল দিবসের অন্য এক কোণে
অন্য যে-কোণটি প্রায় কারোর নজরে পরে না,
সকলে যা উপেক্ষা করে,
তারপর এলো রাত, রাতের পেছনে এলে সময়ের ক্রম,
নির্জীব পাখিগুলো বারবার উড়ার শাস্তি নিয়ে আছে,
সর্বদাই তাদেরকে পৌঁছাতে হবে সেই অভিন্ন ডকে,
ভাবতে হয় ফেনার সেই রেলগাড়ির আসবার কথা
যার আছে অনুপস্থিতির বহু আদল,
অশ্রুর চিরন্তন স্বাদ।
(Detrás de la noche)

এতসব ছায়া
এতসব ছায়া ভেদ করে দিনগুলি কার্বনসহ
আলোকিত হয়ে উঠেছিল
এত বেশি আলোকিত হয়ে উঠেছিল যে
বিড়ালেরা গড়াগড়ি খেয়েছিল ছাদে
আকাশে নিজের পালা আসবার অপেক্ষায় থাকা
বিষন্ন চাঁদের দিকে চিৎকার করছিল তারা
প্রবল ছায়ার ফলে
সূর্যের প্রাত্যহিক খরতাপ ছাড়াই
সাদা ত্বক হয়েছে উধাও
ছায়ার দীর্ঘ কালো চুল
বুনেছে নারীর চারপাশে
চোখের উপত্যকা ভরে আছে
ছায়া আর কার্বনের দীপিত আশায়:
আসবে সে এই পথ ধরে।
(De tanta sombra)

চন্দ্রালোকিত সেরেনাদ

শুধু এটুকুই
একটি ছিদ্রপথে
হৃদয়ের উন্মোচন এবং দেয়ালে
কিছু আলপিন স্মৃতিকে আন্দোলিত করে
যখন শুনতে থাকি মুনলাইট সেরেনাদ
এইখানে বুকের পৃষ্ঠা নড়ে ওঠে,
ধারালো পৃষ্ঠা ঠিকভাবে কাটা হয়ে আছে
নিরেট ক্ষতস্থান
ক্লারিনেট স্বরগুলো
হৃদয়ের ফেলে রাখা
শুন্যে ছুঁড়ে মারে
ঠিক ওইভাবে
ভিন্ন কোনো পথহীন
রাত্রি বদলে হয় সেরেনাদে
সাশ্রু নয়নে এই বুকে
সেলাই করছি তার প্রতিমাসমূহ
(Moonlight Serenade)

পিন-কুশন

হায়, হৃদয় আমার
স্মৃতির পিন-কুশন!
উন্মোচিত হৃদয় এবং
দুচোখে আমার
বিধ্বস্ত সকাল।
(Alfiletero)

মাংশ
মাংশ তবে কী যদি না তোমার কন্ঠ করে আহবান?
কি আমি যদি না তোমার মাঝে আমার স্বরের
না থাকে প্রতিধ্বনি কোনো?
পূর্নিমার চাঁদনী রাতে
তোমাকে রাখে সেই সীমান্তে
যেখানে তোমাকে মাতাল হয়ে স্পর্শ করতে চায়।
আমার জিভের ডগা তোমাকে খুঁজে ফেরে
আমার বক্ষ যে শ্বাস ওঠে নামে সেখানে তোমার নাম শুধু ।
(Carne)


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.