কবিতা

মাসুদ আনোয়ার: তিনটি কবিতা

মাসুদ আনোয়ার | 24 Jun , 2019  


পা রাখি বিভেদের মধ্য রেখায়

শর্মিষ্ঠা, আপনার জন্যে সীমান্ত উচ্ছেদ করলাম
উদ্ধত এগিয়ে আসুন পা রেখে মধ্য রেখায়
জেনে নিক মানুষেরা, মানুষের পৃথিবীতে
মানুষকে আটকাতে নেই
কিংবা আটকাতে হলে মনকে আটকে রাখুক
দেখি কত বড় স্পর্ধা ধরে কঠিন রাজনীতি তার
হৃদয়বিহীন হৃৎপিণ্ডে!

দেখুন না, ট্রাম্প… ক্যাবলাটা যিশুর চেয়ে বড় একটা ক্রুশ
বুকে এঁকে হঠাৎ কেমন খ্রিস্টান বনে গেছে
আর মেক্সিকো সীমান্তে পুঁতে দিচ্ছে
বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার।
সামান্য পুঁজি আর অসামান্য প্রাণ নিয়ে
ভূমধ্য সাগর সাঁতরে যাওয়া মানুষ নয়, কিছু মুসলমান
আর কিছু কৃষ্ণাঙ্গ যেন তার শ্বেত মুল্লুকে ঢুকতে না পারে।
অথচ পৃথিবীর ভূমি মানুষের, কোনো ধর্ম কিংবা বর্ণধারীর নয়
শর্মিষ্ঠা, আসুন, পা রাখুন বিভেদের মধ্য রেখায়
বলে দিন সমান্তরাল নয়, দুদিক সমান।

আমাদের পৃথিবীতে ফেলানীরা নিঃসঙ্কোচে সীমান্ত পেরোবে
হরি, হ্যারি, হারিস ব্যাগ কাঁধে নিশ্চিন্ত ভবঘুরে হবে
কোনো ধান্দাবাজ মোড়ল পকেটে ব্যালিস্টিক মিসাইল
নিয়ে মহাদেশ ঘুরে ঘুরে নিরাপত্তা খুঁজবে না
আর গুয়ান্তানামো বে, কারাগার নয়,
ক্যারিবীয় সাগরে সূর্যাস্ত দেখার মানবিক পর্যটন কেন্দ্র হবে।

দুঃখগুলো রঙিন স্বপ্ন

আমাদের দুঃখগুলো জমা থাকে
তাদের জন্যে, যারা পৃথিবীর পথে পথে প্রতিদিন দুঃখ কেনে
তারপর ডাটা প্রসেসিংয়ে ফেলে পণ্যের আদলে
শো কেসে সাজিয়ে ফিরি করে দাতা সংস্থায়
আমাদের দুঃখগুলো
কর্পোরেট কর্তাদের ধোঁয়াওঠা মিহিভাত, খাসির সালুন আর
সফট ড্রিংকের যোগানদাতা অচলা কমলা।
আমাদের দুঃখগুলো রঙিন স্বপ্ন তার ক্রেতাদের।

আমাদের দুঃখগুলো আমাদের নয়
এ দুঃখ রোপন করা পুঁজির বাক্স হাতে বসে থাকা বৈশ্যকর্তাদের
গোলার্ধে গোলার্ধে ঘোরে বারো ভূত আমাদের ঘাড় মটকে
পান করে মেরুদণ্ড রস, আমরা দূরের দিগন্তে দেখি
সুখের মোড়ক
দিগন্ত পেছাতে থাকে আর ক্লান্ত শ্রান্ত পড়ে থাকি দুঃখের চৌকাঠে।

তারপর কখনো কখনো বসি বিধাতার সঙ্গে
দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাত তুলি আকাশের দিকে
আমাদের দুঃখ কবে শেষ হবে প্রভু
বিধাতা মুহ্যমান মাঝে মাঝে আমাদের চোখ বেয়ে
দুঃখ হয়ে ঝরে।

আমার এই আছে, আর তো কিছু নেই

যখন খুব চেয়ে তোমাকে না পাওয়া
তখন কষ্টের বাঁকানো ভাঁজ খুলে
নীরবে ভিজে ভিজে তোমার দু’পায়ের
পাতাতে চুমু খাওয়া
আমার এই আছে, আর তো কিছু নেই
তোমার উঠোনের নেহাত এক কোণে
নিজেকে বিছিয়েছি নিরীহ মৃদু হাওয়া।

কিন্তু যে ঝড়ের অতল উচ্ছ্বাসে সমুদ্র ফুঁসে ওঠে
তুমি তা বোঝ নাকি
নিরীহ মৃদু হাওয়া কত পথ পেরিয়ে তোমার কাছে আসে
হদিস খোঁজ নাকি!

আদিম বাতাসের যে ছোঁয়া পেয়েছিল প্রথম পৃথিবীর
প্রথম ফুলটিও
প্রথম শিহরণে যেভাবে কেঁপেছিল
প্রথম বৃক্ষের গভীর মূলটিও
আকাশে মেলে দেয়া কোমল পাতাদের
সূর্য লুকোচুরি, চন্দ্র ঝিলিমিলি
আমি সে বাতাসের আকুল বয়ে আসা কোটি শতাব্দী
পেরিয়ে, পানখিলি
ঠোঁটের বিবরে যে লালিম ভালবাসা
তারই কাছে থাকি, তারই সাথে মিলি
তুমি কি বোঝ নাকি, তুমি তা বোঝ নাকি
আমার শুধু চলা, তোমার কাছে যাওয়া!


1 Response

  1. Should you not be mentioning the identity of the painting you are using ?. looks like Chirico but not sure. Thanks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.