কবিতা

কণ্টকিত ক্যাকটাস ও মায়াবী ফার্ন

আশরাফুল কবীর | 2 Jun , 2019  


কণ্টকিত ক্যাকটাস ও মায়াবী ফার্ন

আমাদের জুড়ে দেয়া সাঁকোটি মাঝপথে ভেঙ্গে গেল
ক্রমান্বয়ে সৃষ্টি হল বহুপথ-ঘুরোনো এক সর্পিল চ্যানেল
নূতন কোনো অভিযানে আর জড়ানো হবে না নিজেকে,
প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির সম্মেলনে কিছু অপূর্ণতা জমে থাকুক
হয়তো খুঁজেফিরে বেড়াবো ধোঁয়াওঠা জীবনের মানে।

পেছনে পড়ে থাকবে পুরোনো সব ইতিহাস, খানিকটা জঞ্জাল
থাকুক না হয় সদা স্থির হয়ে যে যার মতো, যেনো ঠিক
এ’পাশে নান্দনিক প্যারিস আর ও’পাশে বালুকাময় ডোভার,
সোৎকন্ঠে সমাপ্তি ঘটুক সকল ব্যঞ্জনধ্বনিদের
ঔরসজাত তোমার আর আমার।

দাবা-ঘুঁটির খেলায় চলবে কাটাকুটি; নৌকা-গজ-অশ্ব, আহ, পালোয়ান সব!
বিখণ্ডিত হবে সময়, বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের ঠিক মাঝামাঝি,
আমাদের প্রহেলিকাময় কথাগুলো ছুটে বেড়াবে এদিক-সেদিক
কিছুটা দ্বিধাহীনভাবে ট্রাভেলগে এসে হানা দেবে কিয়ৎকালের মৌনতা
হানা দেবে এক দশকের পালপার্বণ, রুপান্তরের গান,
তবুও বিস্মরণ সঙ্গীতে মেরুমুখী হবে যথারীতি
কন্টকিত ক্যাকটাস ও মায়াবী ফার্ন।

সময়বিহীন

চলে এসো কোনো এক মধ্যশীতের গাঢ় আলিঙ্গনে।
আলিঙ্গন! হ্যাঁ, ঠিক তাই, তবে আমার নয়
হাড়-কাঁপুনে মধ্যশীতের; কুয়াশা চাদরের আর
এক জনমানবহীন উন্মুক্ত প্রান্তরের।
একটু তড়িঘড়ি করে নভেম্বরের সাতসকালে এসো।
দেখাবো গতিহীনতার বর্ণাঢ্য সব আয়োজন, বৃক্ষসারির
নির্বাক হয়ে থাকা তবে মধ্যশীতকালের আচ্ছন্নতায়
ভেবো না আমার কথা।
আমি মিশেছি শৈলস্তুপে, স্থানচ্যূত কালের সাথে, বিমূর্ত ভঙ্গিমায়।
আমার অবয়বের উন্মুক্ততায় হানা দেয় সমস্ত
কাঠঠোকরার দল।
আলিঙ্গন! সেতো কবেই ভুলে গিয়েছি, যখন পতিত
হয়েছিলাম হিমমগ্ন কালের জমিনে।
এখন আমার অখণ্ড অবসর!
ঠোকরে ঠোকরে আমি যেন ক্লান্ত, জড় স্পন্দনহীন
আমার কথা? আছি আগেরই মতন, অনড় ও অচল,
সেকেন্ড-মিনিট-ঘণ্টাবিহীন।


2 Responses

  1. সামিহা says:

    অনেক সুন্দর, আমার খুব ভালো লেগেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.