বৈশাখ শুধু বাঙালির উৎসব নয়

বৈশাখে আরও যাদের নববর্ষ

সাইমন জাকারিয়া | ১৫ এপ্রিল ২০০৯ ৭:২৩ পূর্বাহ্ন

aprilfourteen-12.jpg
aprilfourteen-13.jpg
শহরবাসীর পহেলা বৈশাখ উদযাপন, ছবি: মুস্তাফিজ মামুন

প্রতি বছর বাংলা মাসের হিসেবে চৈত্রের দ্বিতীয়ার্ধ এলেই বাংলাদেশের সংস্কৃতবান শহরবাসী জনতা পহেলা বৈশাখকে বাঙালির নববর্ষ হিসেবে পালন করার বিভিন্ন প্রস্তুতি নিতে থাকেন। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল, জাতীয় প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান পহেলা বৈশাখকে বাঙালির নববর্ষ হিসেবেই মহাসমারোহে উদযাপন করে থাকে। রমনার বটমূলে ছায়ানটের যে অনুষ্ঠান, চারুকলা ইনস্টিটিউটের শোভাযাত্রা সবখানেই বাঙালির নববর্ষ হিসেবেই পহেলা বৈশাখ বরিত হয়। কিন্তু গ্রাম পর্যায়ে বাংলাদেশের বিচিত্র সাংস্কৃতিক তৎপরতার সন্ধানে নেমে গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ করেছি পহেলা বৈশাখ শুধু বাঙালির উৎসব নয়, পহেলা বৈশাখ এদেশে বসবাসরত বেশ কিছু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ। অথচ, পহেলা বৈশাখে বাঙালির নববর্ষ পালনের জাতীয় তৎপরতার মহাডামাডোলের মধ্যে চাপা পড়ে যায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের সুবিস্তৃত ও বর্ণিল আয়োজন। যখন ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পায় তখন এদেশের অন্যান্য ভাষাভাষী জনগণের সংস্কৃতিকে বাঙালির সাংস্কৃতিক তৎপরতার নিচে নামিয়ে রাখার কোনো অর্থ হয় না।

bom_02.jpg…….
বম জনগোষ্ঠীর রোখা বা বাঁশনৃত্য
……..
বাঙালি জনগোষ্ঠীর বাইরে পহেলা বৈশাখে এদেশীয় অন্যান্য যে সকল জাতিগোষ্ঠী তাঁদের নববর্ষ উদযাপন করে বলে তথ্য পাওয়া যায় তারা হলেন: পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী (তথ্য: হাফিজ রশিদ খান), এ ছাড়া বৃহত্তর সিলেট জেলার মণিপুরি জনগোষ্ঠী। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের সীমা ছাড়িয়ে পহেলা বৈশাখ তথা ১৪ এপ্রিল বার্মা এবং থাইল্যান্ডেও নববর্ষ পালিত হয়। আমরা সেদিকে যাবো না, আমরা আজকের লেখায় পহেলা বৈশাখে বাংলাদেশীয় যে সকল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ তাদের নববর্ষ উদযাপনের বিবরণ উপস্থাপন করবো।

বৃহত্তর পার্বত্যাঞ্চল চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি আর বান্দরবান জেলা মূলত চাকমা, মারমা, ম্রো-মুরং, তঞ্চ্যঙ্গা, বোম, খিয়াং, পাঙ্খু, লুসাই, ত্রিপুরা, খুমী, চাক ইত্যাদি জনগোষ্ঠীর বসতি এলাকা। বাংলা বছরের শেষ দুদিন থেকে পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত এখানকার প্রতিটি জনগোষ্ঠী বেশ ঘটা করে নিজস্ব ভঙ্গি ও রীতিতে বর্ষবিদায়-বর্ষবরণ করে থাকে। উল্লেখ্য পার্বত্য চট্টগ্রামের এক এক জনগোষ্ঠীর নববর্ষ উৎসবের নামও এক এক রকম।

goraia_02-b.jpg…….
ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর গোরাইয়া নৃত্যে ঢোল বাদন ও নৃত্য
…….
পার্বত্য চট্টগ্রামের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী পহেলা বৈশাখে বৈসু বা বৈসুক নামে নববর্ষ উৎসব উদযাপন করে। ত্রিপুরাদের বৈসু বা বৈসুক শুরু হয় পহেলা বৈশাখের দুই দিন আগে থেকে, যার প্রথম দিনে থাকে হারি বৈসু, দ্বিতীয় দিনে বিসুমা এবং তৃতীয় অর্থাৎ পহেলা বৈশাখের দিন থাকে বিসিকাতাল বা আতাদাক। শেষ দিনটিই ত্রিপুরারা নববর্ষ হিসেবে উদযাপন করে থাকে। নববর্ষ হিসেবে ত্রিপুরারা তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ‘গোড়াইয়া নৃত্য’ পরিবেশন করে। ২০-৩০ জন নারী-পুরুষ নর্তক-নর্তকী নিয়ে গঠিত হয় একেকটি গোড়াইয়া নৃত্য দল। বৈসুকের দিনে এই গোড়াইয়া নৃত্য দল পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে নৃত্য পরিবেশন করে।

marma_01.jpg…….
মারমাদের নৃত্য
…….
পহেলা বৈশাখে মারমা ও চাকমা জনগোষ্ঠী যথাক্রমে সাংগ্রাইন ও বিজু নামে নববর্ষ উৎসব উদযাপন করে থাকে। চাকমা জনগোষ্ঠী ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মতোই পহেলা বৈশাখের আগের দু’দিন থেকে নববর্ষ উৎসব শুরু করে। যার প্রথম দিন থাকে ‘ফুল বিজু’, দ্বিতীয় দিন ‘মূল বিজু’ এবং শেষ দিনকে তারা ‘গোর্য্যাপর্য্যার দিন’ বলে তারা মোট তিন দিন ব্যাপী নববর্ষ উদযাপন করে।

বাংলা বর্ষের শেষ দিনের আগের দিন চাকমারা ফুল বিজু পালন করে। এ দিন ভোরের আলো ফোটার আগে চাকমা নারী-পুরুষ, ছেলেমেয়ে বাড়ির বাইরে বনবাদাড়ে বেরিয়ে আসে ফুল তোলার জন্য বাগানে। নিজের বাগানে তো বটেই, প্রতিবেশীর বাগান থেকে পর্যন্ত ফুল চুরি করতে এ দিন কারো কোনো বাধা থাকে না। তাই বলতে গেলে রাতভর সবাই সজাগ থাকে যাতে নিজে ফুল তোলার আগে অন্য কেউ বাগানের ফুল চুরি করে নিয়ে না যেতে পারে। তোলা ফুলের একাংশ দিয়ে বুদ্ধপুজো দেওয়া হয়, বাকি অংশ নিয়ে দেওয়া হয় নদীতে পুজোর অর্ঘ রূপে। নদীতে ফুল পুজো দেওয়ার আগে গোসল করা হয়। গোসলের সময় আর ফুল দেওয়ার সময় নদীর কাছে প্রার্থনা করা হয়: ‘জু মা গঙ্গী, ম-র পুরোন ঝরঝর আপদবলা, ফিবলা বেগ ধোয় নে যা’ অর্র্র্থাৎ ‘প্রণাম হে মা গঙ্গা, আমার পুরানো বছরের যাবতীয় আপদ-বিপদ সব ধুয়ে নিয়ে যাও।’

চাকমাদের বিজু উৎসবের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ বাংলা বর্ষের শেষ দিনকে বলা ‘মূল বিজু’। এই শব্দবন্ধ থেকে বোঝা যায় বিজু উৎসবের মূল বা প্রধান আকর্ষণ হলো এই দিনটি। এ দিন সকালে ছোট ছেলেমেয়েরা থালায় ধান নিয়ে প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠোনে ধান ছিটায় মুরগিদের খাওয়ানোর জন্য। মুরগিদের খাওয়ানো শেষে আসে নিজেদের খাবার পালা। ছেলেমেয়েরা সবাই মিলে প্রতিবেশীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ঘুরে ঘুরে বিজু খেয়ে থাকে। প্রতিবেশীদের বাড়িতে ঘুরতে এ দিন কোনো দাওয়াতের প্রয়োজন হয় না। প্রতি বাড়িতে পাজনসহ খাবারের বিভিন্ন আয়োজন থাকে। বিভিন্ন পদের সবজির সংমিশ্রণে রান্না করা তরকারিকে পাজন বলা হয়। সম্ভবত পাঁচ অণ্ন (পাঁচন) শব্দ থেকেই পাজন শব্দের উৎপত্তি, যা তৈরি হয় ন্যূনতম পাঁচ পদের সবজি দিয়ে। সবাই চেষ্টা করে পাজনে সবজির পদ বা সংখ্যা বাড়াতে। অনেক ক্ষেত্রে একশ পদেরও বেশি সবজি দিয়ে পাজন রান্না করা হয়। এই পাজন ছাড়াও থাকে পিঠা, পায়েস, সেমাই, শরবত ইত্যাদি অনেক ধরনের খাবার ও পানীয়। পাজনের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের আপ্যায়ন করা হয় ঘরে তৈরি মদ দিয়ে। সাধারণত মূল বিজুর দিনে ভাত এবং মাছ-মাংস দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় না। দুপুরে তরুণ-তরুণীরা নদী, কুয়ো থেকে জল তুলে কলসি কাঁধে বয়সীদের গোসল করায়। বৌদ্ধ মন্দিরে বুদ্ধের মূর্তিকে গোসল করানো হয়। গোসল করা বা করানোটা হলো পুরনো বছরের ময়লা-আবর্জনাস্বরূপ আপদ-বিপদ ধুয়ে পূতঃপবিত্র হওয়ার প্রতীক। সন্ধ্যায় মোমবাতি দিয়ে বুদ্ধকে, গঙ্গী মাকে (নদীকে) পুনরায় পুজো করা হয়, বাসায় আলোকসজ্জা করা হয় এবং গোয়ালঘরও মোমবাতি দিয়ে আলোকিত করা হয় এই উদ্দেশ্যে যে, পুরনো বছরের যাবতীয় অজ্ঞানতা, আপদ-বিপদের অন্ধকার যেন দূরীভূত হয়ে যায়।

বিজু উৎসবের তৃতীয় দিন বা বাংলাবর্ষের প্রথম দিনকে বলা হয় ‘গোর্য্যাপোর্য্যা’ দিন অর্থাৎ ‘গড়িয়ে পড়া দিন’। হিন্দিতে যেমন জন্মদিনকে বলা হয় ‘সাল গিড়া’ বা ‘বর্ষ গড়িয়ে যাওয়া’র দিন, তেমনি চাকমাদের কাছে পহেলা বৈশাখ হলো বছর গড়িয়ে পড়ার দিন। এ দিন নিকট আত্মীয়দের দাওয়াত দিয়ে ভাত-মাছ-মাংস দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। সাধারণত যে গৃহবধূরা অন্যদের আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকার কারণে মূল বিজুতে বেশি শরিক হতে পারেনি, তারা এ দিন বাড়ি বাড়ি ঘোরে।

02.jpg
মারমা তরুণ-তরুণীরা পানি ছিটানী খেলায় মেতে উঠেছেন

মারমা আর রাখাইন আদিবাসীগোষ্ঠীর কাছে নববর্ষের উৎসব ‘সাংগ্রাইন’ নামে পরিচিত। চাকমারা যেখানে পুরনো বছরের আপদ-বিপদ দূরীভূত করার মানসে নদীতে গোসল করে, বয়সীদের গোসল করায়, সেখানে সাংস্কৃতিক বিবর্তনে বর্র্ষবিদায় ও বর্ষবরণের উৎসব ‘সাংগ্রাইন’ মারমাদের কাছে হয়ে গেছে পানি ছিটানোর ‘জলকেলি’ উৎসব। এ উৎসবে নারী-পুরুষ সবাই অংশগ্রহণ করে পরস্পরের ওপর জল ছিটানোর জন্য।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ম্রো জনগোষ্ঠীও পহেলা বৈশাখে ‘চাংক্রান পোই’ নামে নববর্ষ উদযাপন করে থাকে। ম্রোদের এই উৎসবের নাম এসেছে একটি ফুলের নাম থেকে। ফুলটি সুগন্ধিযুক্ত সুন্দর গঠনের; অনেকটা যেন হাসনুহেনার মতো দেখতে। এ ফুল ফোটার অর্থ হলো বছর শেষ হয়েছে, নতুন বছর এসেছে। নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ম্রো-যুবতীরা চাংক্রান ফুল দিয়ে খোঁপা সাজায় আর ম্রো-যুবকেরা পুঙ বা বাঁশির তালে তালে ক্লুবঙ প্লাই বা পুষ্পনৃত্য করে।

চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায় সাড়ম্বরে বিষুব সংক্রান্তি পালন করে। এ উপলক্ষে সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামের গ্রামে গ্রামে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন খেলার প্রতিযোগিতা। খেলার মধ্যে বাংলাদেশের সমতল এলাকা থেকে ব্যতিক্রমধর্মী খেলা হলো নাধেং খেলা, ঘিলা খেলা ইত্যাদি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত অন্যান্য জেলার আদিবাসীরাও পালন করে বিষুব সংক্রান্তি উৎসব। বৃহত্ত সিলেট জেলার কমলগঞ্জের বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরিদের কাছে এ উৎসব ‘বিষু’ নামে অভিহিত। পুরনো বছরের শেষ দিন থেকে শুরু হয়ে একটানা সাত দিন চলে এ উৎসব। বিষু উপলক্ষে চলে পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে বিভিন্ন খাবারের আদান-প্রদান, পাড়ায় পাড়ায় খেলাধূলার প্রতিযোগিতা। খেলার মধ্যে রয়েছে কড়ি, ঘিলা খেলা ইত্যাদি।

পহেলা বৈশাখকে বাঙালির নববর্ষ হিসেবে পালন করার প্রতি তুমুল পক্ষপাত ব্যক্ত করার পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ করা যাচ্ছে কিছু সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ের অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বর্ষ বরণের বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে। এমনকি পত্র-পত্রিকার সংবাদে ও আলোকচিত্রে ক্ষুদ্রজাতিসত্তার বর্ষ বরণের সাংস্কৃতিক তৎপরতার ছবি ও সংবাদ ছাপতে। কিন্তু তারপরও বৈশাখকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় বাঙালির নববর্ষ হিসেবে, পত্রিকায় বড় করে মুদ্রিত হয় ছায়ানট কিংবা চারুকলার শোভাযাত্রার আলোকচিত্র ও সংবাদ, এদেশের আর কোনো জাতিসত্তার নয়।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালির বৈশাখী উৎসবের সমান্তরালে বাংলাদেশীয় অন্যান্য জাতিসত্তার বৈশাখী উৎসবকে রাষ্ট্রীয় ভাবেই পালন করা সঙ্গত বিবেচনা করি। জয়তু বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ জীবনাচার ও সংস্কৃতি, যা বাঙালির সাংস্কৃতিক তৎপরতার থেকে রূপে, গুণে, বর্ণে মোটেও কম ঋদ্ধ নয়।

saymonzakaria@gmail.com

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (1) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Hossaien Kabir — এপ্রিল ২৩, ২০০৯ @ ৩:০৮ অপরাহ্ন

      লেখার মূল বক্তব্য যৌক্তিক।

      হোসাইন কবির
      নিউ ইয়র্ক

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com