কবিতা

হক ফারুক আহমেদের একগুচ্ছ কবিতা

হক ফারুক আহমেদ | 1 Jun , 2019  


সাঁওতালী ঝুমকা

তখন কেবলই বৃষ্টি থামল
গহীন অরণ্য ছুঁয়ে টুপটাপ;
হঠাৎ পরিচিত শব্দের আনাগোনা ভেঙে
শুনি বাতাসের কানে দোলে
পাহাড়ের ধুন।
কাদামাটি জুড়ে একজোড়া পদচিহ্ন
অনুসন্ধিৎসু মনে সেদিকে যাই;
দেখি আলতো পরশে চুলের স্পর্শে
বেজে চলেছে ঝুমকা
সাঁওতালী হরষে।

মেঘদরিয়ার মাঝি

ধবল আলোর লণ্ঠন হাতে ঠায় দাঁড়িয়ে নবমীর চাঁদ। বাইরে এসো, করো না আর দেরি ধরো এ হাত।
কোষা নাওয়ে উড়িয়েছি পাল, পাটাতনে বসো; দেব বৈঠায় টান। একটু দূরে গেলেই পাবে বৃষ্টির গ্রাম।

দেখ সবাই এখনো জেগে সেখানে। কাল সারাদিন ঝরবে কোথায় তাই নিয়ে জলীয় বাষ্প-ধূলিকণাদের চলছে সভা।
ওই দিকেতে গোমরামুখো কালো কালো মেঘেরা। একটু হেসে দেখতে পারো ওদের মনটা ভালো হয় কিনা।

হঠাৎ ঘরছাড়া বাতাসের দল মেঘশিশুদের নাড়িয়ে গেল। ধুপধাপ শব্দের ঢাক-ঢোল নিয়ে হাজির বজ্রনৃত্য।
ভয় পেয়ো না, নতুন অতিথি এলে ওরা একটু বেশিই করে। অভিবাদন জানিয়ে মেঘমন্দিরে বাজবে শঙ্খ।

দেখো চলে এলাম রংধনুদের বাড়ি, ওরা ঘুমিয়েই থাকে বেশি। ডাক দিলে এসে হাজির হবে জড়িয়ে রঙিন শাড়ি।
দূরে একটা হট্টগোল পাখিদের কানাকানি। মেঘপিয়ন এখনো আনেনি রাজার খবর, প্রাসাদ-বারান্দায় দাঁড়িয়ে মেঘরাণী।

এবার চোখ মেলো, দেখো চেয়ে আছে অভিভূত এক সকাল। মেঘদরিয়ার ওপারেও জেগেছে গাঢ় নীল এক আকাশ।
স্বপ্ন নয় বাস্তবেই ছিলে এই মাঝির রাতের আতিথেয়তায়। এখন চলো বাড়ি যাবে, কথা দিলাম হবেই দেখা আবার।

জোছনা বকুল

এই রাতে যদি পাশে বসো
বাঁকা চাঁদটা খোলস পাল্টে
পরিণত হবে পূর্ণ বয়সে।
আরেকটু কাছাকাছি এলেই
গতিপথ পরিবর্তন করে
তারাগুলো আসবে হাতের নাগালে।

সাহস করে যদি হাতটা ধরো
আরও শুভ্রতা ধার করে
জোছনা হয়ে উঠবে উজ্জ্বলতর।
একটু করে বাহুডোরে এলে
অচেনা সৌরভ ছড়িয়ে
রাতের বুকে ফুটতে থাকবে বকুল।

কফিরাশ কিংবা চিনিসংবেগ

তুমি বললে কফিরাশ, আমি বললাম চিনির অবাধ ধাবন
প্রাসাদ অর্কিড ছুঁয়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিকেলের শেষ আলো;
ততক্ষণে পাথর মোড়ানো পথের মঞ্চে শুরু অবিরাম হাসি আর নৃত্য
আমরা না বন্ধু ছিলাম, না যুগল, না অভিমান যুদ্ধের শেষে দু’জন
প্রাচীন শহরে আমি তোমার বিদেশি, তুমি আমার বিদেশিনী, এতটুকুই সব।

নাম বললে মেরিলিন মনরো, হেসে বললাম তবে আমি গ্রেগরি পেক
বাজছে ম্যান্ডোলিন, বাজছে ড্রামস দুলছে রঙিন আলো;
এবার সন্ধ্যার বুকে ফুটছে বাহারি সব ফুল চলছে আনন্দ চুম্বন
আমরা না জানতাম সীমানা, না চিনতাম অক্ষর, না বুঝতাম সাদাকালো প্রভেদ
কোথায় বাড়ি কীসের বাড়ি, চলছে চলুক যত বাড়া-বাড়ি, একটাইতো জীবন।

ভালোবাসার পংক্তিগুচ্ছ

১.
তারপর একদিন রোদের হাতে হাত রেখে
তুমি-আমি হেঁটে যাব সূর্যের পথ ধরে…
২.
তোমার দমকা হাওয়ার স্রোতে
ভেসে যাব বলে
আকাশের দরজা খুলে
দাঁড়িয়ে আছি অপেক্ষায়
৩.
এবার বৈশাখে বাড়ি এসেছি
পথে আসতে তোমাকে দেখলাম,
অনেকদিন পর যেন
সমুদ্র দেখার সুখ পেলাম।

দেখা

আলো আসুক আলো
ক্ষীণ, তীর্যক, প্রশস্ত
কিংবা
দেখা পৃথিবীর চেয়েও বিশাল।
সমুখে দাঁড়াও সমুখে
অবগাহনে, ছুঁয়ে, ভেসে
কিংবা
দেখা মুক্তির চেয়েও স্বাধীনতায়।


1 Response

  1. সামিহা says:

    ভালোবাসার পংক্তিগুচ্ছ

    ১.
    তারপর একদিন রোদের হাতে হাত রেখে
    তুমি-আমি হেঁটে যাব সূর্যের পথ ধরে…
    ২.
    তোমার দমকা হাওয়ার স্রোতে
    ভেসে যাব বলে
    আকাশের দরজা খুলে
    দাঁড়িয়ে আছি অপেক্ষায়
    ৩.
    এবার বৈশাখে বাড়ি এসেছি
    পথে আসতে তোমাকে দেখলাম,
    অনেকদিন পর যেন
    সমুদ্র দেখার সুখ পেলাম।

    সুন্দর কবিতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.