কবিতা

বিধান সাহার শ্রীদেবী অপেরা

বিধান সাহা | 24 Apr , 2019  

শ্রীদেবী অপেরা

আসুন। বিবাহ পরবর্তী এই সন্ধ্যা বেশ উষ্ণ। বউ রান্না করছে। একটু পরে খেয়ে ঘুমিয়ে যাবো।

*
সিলভার কালার রেইন। বৃষ্টি বললাম না ইচ্ছে করেই। ফার্মগেটের কাছাকাছি যারা থাকেন, এই বৃষ্টিতে, আসুন চা খেয়ে নেই। আট নম্বর শেষ লোকালটাও চলে যাচ্ছে।

*
কথা বলা বন্ধ বলেই ‍মুড়ি খাই। সকালে বউ হরলিক্স করে দিয়েছিলো। তার আগে মোটিগাট আর প্যানটোনিক্স। পরে সেফাক্লেভ। আমার স্বর সেরে উঠছে। গান গাবো।

*
রোদ উঠছে। আস্তে আস্তে কথা বলাও বারণ। ফলে আপনারা যারাই আসবেন কথা আনবেন না প্লিজ। আমার ঘর ভর্তি আরশোলা। শরীর ভর্তি ডিম। বেহালা বাজায় কে?

*
অ্যাভাস্প্রে আপনিও ইউজ করতে পারেন। গুলি করার ভঙ্গিতেই স্প্রেটা করতে হয়। শহরে এতো জ্যাম যে রুম্পাও আজ অনেক ঘুরে এসেছে। কাঞ্চন ফুল আর আইসক্রিম হাতে দাঁড়িয়ে আছে শ্রীদেবী। খুন হবার আগে, বলছি শুনুন, আমার প্রিয় স্ট্রবেরি ফ্লেবার।

*
হাত তুলুন কে কে আছেন। আমিও ফুল ভালোবাসি। সকল ফুলের কাছেই আমারও একই মোহ ও মধুর টান। ফলে, এই যে বৃষ্টি, আমি ঘুমিয়ে যাচ্ছি, এখনও আমার বুকের ভেতর একটা ফুল। বেয়ারা রাইফেলে শান দেয়া আছে।

*
ঝড় উঠলে তোমাকেই গুলি করি রোজ। প্রিয় মধুবালা, তুমি কি গুলি খেয়ে মাটিতে লুটাও? তোমার ছাতা, বাঁচায় তোমাকে? এই যে মার্চ এসে গেলো। এর পরই এপ্রিল। ডোন্ট হেজিটেট। কাম অন বেইবি!

*
তোমাকে কী বলবো বুঝতে পারি না। শহরে আগুন জ্বলছে। আকাশেও শান্তি নেই। দেখো, নাগরভূক নায়িকার পোস্টারে অসংখ্য উত্তেজিত সাপ। আয়ুর বেলুনে লাইক বচ্ছে একজন আরোগ্যশিকারী। পুঁথিপাঠ শেষ। আফসোস, আলেকজান নামে আমার কোনো বোন নাই পৃথিবীতে!

*
শহরে এক বুড়ো ট্রাভেলার এসেছে। তার হ্যাট ও গাউনের ভেতর চকমকি পাখি। মাজারে মাজারে সে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর চিৎকার করে বলছে— ‘আমে ধান তেঁতুলে বান, আমে ধান তেঁতুলে বান।’ সন্ধ্যা নেমে এলো।

*
রেল লাইনই সব থেকে বড় গোঁয়াড়।—এফএম রেডিওতে এমন ঘোষণার পর সকলেই একটু নড়েচড়ে বসলেন। সিংহিনীর মতো একজন কোমর দুলিয়ে বললেন, ‘পবিত্র নারী দিসবে এমন ঘোষণা আমরা মানতেই পারছি না। আমরা কি সাঁতার জানি না?’ বিস্মিত কণ্ঠে অন্য একজন বললেন, ‘আজ তো বৃষ্টি হবেই। তাই বলে…!’ একজন মাখনখেকো বললেন, ‘বলুন কে বেশি গোঁয়াড়— রাইসু নাকি রেললাইন?’ শহরে শোরগোল। একটা গোল চাকতি সকাল থেকে ঘুরেই চলেছে। যেন, পৃথিবী। ফায়ারফক্স আজও ওপেন হলো না। চা খাবেন তো?

*
গোলে পাগলীর কথা মনে পড়ছে। কুকুরকেই স্বামী মানতো। লাল পলা পড়ে একদিন পৃথিবী ভ্রমণে নেমে গিয়েছিলো। লোকে বলতো, ‘গোলে কুইত্তার সাথে শোয়।’ মঙ্গলবারের হাটে ভালো লাটিম পাওয়া যায়।

*
কে কাকে হারায় বলো! যে কোনো হত্যাকাণ্ডের পরে রবীন্দ্রসঙ্গীত আবশ্যক। নদীর ঢেউ কি এখনও উজান বায়? মার্চ এসে যাচ্ছে। ওহো, বলা হয়নি, মোরগজবা এখনও কী যে টসটসে লাল! অথচ একা একা বসে আছি।

*
গতকাল থেকে আরো অধিক গোপন। ফলে যে কোনো মৃতদেহও এখানে হিউজ রকস্টার। ইউটিউবে গান গাইছে ইন্দ্রানী সেন। আর ক্ষুরে শান দিচ্ছে রুদ্র। থেকে থেকেই চকচক করে উঠছে। যেন নাগিনীর মনি থেকে ঠিকরে বের হচ্ছে আলো। স্বেচ্ছাচারিতা ভালো নয়। যৌনপুষ্পের দিকে তাকিয়ে আছে হাবা মাস্তান।

*
নাচের মুদ্রা ভুলে গেলে বাবা-মার দোহাই দিয়ে স্রেফ ঘুমিয়ে যেও। ভেবো না, আমি ব্যাংক-বুথের সামনে দাঁড়িয়ে রেডিও ছাড়বো না। পশ্চিম দিক থেকেই ভয়াবহ মেঘ উঠে আসবে। এসো তবলা বাজাই।

*
দরজায় দাঁড়ানো চিতাবাঘ। ক্যাপস লক চলছে! আমাদের এদিকে থাকলে তুমিও দেখতে পেতে, ট্রাফিক সিগন্যালে একটা লাল রুমাল আর ইউটিউবার। আর সমস্ত ফাল্গুন জুড়ে কড়া পারফিউমের হাওয়া। উজানি জোয়ারে ভাসে দিলখুশ তাগড়া নাগর।

*
কত কিছুই তো বলা যায়! মানুষ কীভাবে মানুষ— শুধু এই প্রশ্ন করো না। আমার ফ্রেমিং করা ছবির দিকে তাকিয়ে আছে শ্রী। তার মন খারাপ। বিষণ্ন হলুদচাঁপায় আজও পৃথিবীর ছেলেরা বিভ্রান্ত হয়; মেয়েরা রঙিন। মেঘ গুড় গুড় মেঘ গুড় গুড় বৃষ্টি নেমে আয়।

*
তোমার অভিমানের মতো শীত পড়েছে এদিকে। অথচ ফ্লুরোসেন্ট লাইটের মতোই ঝকমক করছে শরীর। জানো তো, নদীর নামতা ভুলে গেলে প্রেমের মরাও জলে ভাসে না। মাটির পুতুল তুমি মখমলে খামোখা আদর।

*
শান্তনাই অধিক প্রশান্তির। তোমাকে নদীর চেয়ে আজো বেশি স্রোতস্বিনী লাগে। নাও বাও সই। দিগন্তে ফুটেছে দেখো, লাল রেখা, গর্ভফুল, অসম্ভব মামণির মুখ।

*
রেডিওতে বলো, মাউথ অর্গান ছেড়ে নলখাগড়ার বাঁশি তুলে নিয়েছিলো কেউ একজন বারো বছর আগে। এখনও সে বাঁশি বাজায়। কিন্তু সেই সুরে কোথাও কোনো ঝরণা নেমে আসে না আর। বাঁশি হাতে হেঁটে যাওয়া সকল পুরুষই মূলত একা। বিষণ্ন পাহাড় এক-একটা। বলিও।

*
এদিকে শুকনো পাতার পাহাড়। ফাগুন ঝরছে। রক মিউজিক যারা শোনে না তারাও গান গায় এখানে। একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুর হেঁটে যাওয়া দেখে মনে পড়লো আঠারোই মে বৌদ্ধপূর্নিমা। অ্যান্ড্রয়েডের ছবিগুলো সব ব্লার হয়ে গেছে। বউ ডাকছে না।

*
যৌনজাহাজ
সেক্সপিস্তল
ইয়া ঢিসিয়া!

*
বউ এখন বেদম ঘুমাচ্ছে। আহারে! তার মুখের উপর বিস্মরণ বিরোধী মায়া ঝলমল করছে। বৃষ্টি হয়েছিলো খুব। ফলে কামরাঙা গাছও ভীষণ নীরব। এইসব জার্নি আমার ভালো লাগে। চিল হয় খুব। কান্না আসে।

*
ক্রূরতা ভালো নয় বন্ধু। ঈর্ষা ভালো নয়। এসো নতমস্তকে সমুদ্র আর পাহাড় আঁকি। নীলগাই এখনও অকস্মাৎ লোকালয়ে চলে আসে। এই সত্য ভুলো না। আমাদের ডাক্তার চলে গেছে এই সত্য ভুলো না। ফলে আমরা কষ্ট লুকিয়ে চুপি চুপি সিনেমায় যাই। আমাদের ভালোবাসি এসো।

*
পলিপাসের দিন শেষ হলে, বন্ধু, তোমাকে কসমোসায়েন্স শেখাবো। অনন্ত নক্ষত্রের রাতে আমাদের টিভি দেখার দিন শেষ হোক। দেখো, আমাদের টিভিগুলোয় কোনো অ্যান্টেনা নাই। এই হতাশা নিয়ে, বন্ধু, চলো ঘুমায়ে পড়ি।

*
ন্যূড স্টাডি এখন আর করা হয় না। ফিগার ড্রইং করতে গেলেই আস্ত শরীর উঠে আসে। রেহনুমার হাসি থেকে আজও পাখি উড়ে যায়। গভীর অন্তর্ধানের পরে এক বোকা ডিটেকটিভ এসে দেখে গেছে যৌন-বাগান। সাপ ছিলো না।

*
কিউবিকল— এখানেও অপার রহস্য। সুস্থির দিন এসে যাচ্ছে গো ভাই। হাতিরঝিলে, ওয়াটার ট্যাক্সিতে কারা যাচ্ছে আজ? জিপসী রমনীর কোমর, আহা, মনে পড়ছে। বাসাবদলের দিন চলে এলো।

*
নতুন বাসা পেয়ে গেছি বন্ধুগণ। আপাতত ফেসবুক করা যাক কিছুক্ষণ। বাতাস লাগলে উত্তরের জানালা খুলে দেবো। আলো লাগলে পুবের। দিংশানের হাতে ভিডিও গেম। দিংশান গুলি করছে। ঠ্যা ঠ্যা ঠ্যা…। আহারে! সেই লাল রোবটের কথা মনে পড়ছে। যার হাতে কলিংবেল। কোমরে ব্যাটারি। আর পায়ে রূপার পায়েল।

*
চাঁদনী রাতে ছাদে যাওয়ার পারমিশন আছে। ফলে হেডফোনে গান শুনতে শুনতে আপনি হারিয়ে যেতে পারবেন। ফার্মগেট বেশি দূরে নয় প্রিয়। নিচে গাড়ির হর্ণ বাজছে। লিফট নেই। কলাপসিবল গেট পেরোলেই অন্য দুনিয়া। পুলিশগুলো বসে বসে ঝিমোচ্ছে।

*
অধমে তাকাও, সোনা— পাতাঝরা দিন বয়ে যায়।


1 Response

  1. Nazmun Nahar says:

    ভালো কিন্তু একসাথে এতো দিলে হজমে সমস্যা !!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.