বইয়ের আলোচনা

আমার ঘর আমার শব্দজগত: নিজের একটি কামরা

আঁখি সিদ্দিকা | 18 Apr , 2019  


বিষন্ন দুপুর। হঠাৎ করেই নিজেকে অন্যরকম আবিষ্কার করলাম কিশোরী বেলায়। হাঁটতে না পারার সুবিধায় বাড়ির গাছগুলো আর ঘরের বইগুলো বেশ বন্ধু করেই বেড়ে উঠছিলাম। আর অবচেতন মনই নানান বইয়ের সমাহারে শব্দজগত তৈরী করে দিলো আমার মধ্যে।
আমরা একটি বড় পরিবার ছিলাম। প্রতি দুইবছর অন্তর আমাদের ঘরে নতুন অতিথি আসতে আসতে প্রায় সাত জন হয়ে এলো। আর আমার শব্দ নিয়ে খেলাও বাড়তে লাগলো। সেই কিশোরী আমি’র প্রথম কবিতা ছাপা হয়ে গেলো ৪র্থ শ্রেনীতেই। কিন্তু এই যে ‘নিজের একটি কামরা’ !? অনুভব করতাম নিজের লেখার আর পড়ার জন্য আলাদা একটি ঘর। কিন্তু বাবার বাড়িতে যতদিন থেকেছি,হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সময়ও হলজীবন । আলাদা কামরা কোথায়? আমার মনে পড়ে একটি ঘরের ভেতর একটি হার্ডবোর্ডের পার্টিশন দিয়ে একটি খাটে আমি থাকতাম। আর পড়ার টেবিল বলতে বাবার পুরোনো ট্রাংকে পেপার বিছিয়ে সেখানে চলতো আমার পড়া আর সাহিত্যচর্চার কাজটি।
কিন্তু এই গৃহহীন আমি’র কথা লেখা বা ভাবা কখনও হয়নি। কিন্তু ২০১২ সালের বই মেলায় ‘সংহতি’র স্টলে ‘’নিজের একটি কামরা’ বইটি দেখে যেনো চমকে উঠলাম। একি, আমার কথা কি করে জানলো? বইয়ের দোকানে দাঁড়িয়ে উলটে পালটে দেখলাম আলম খোরশেদ এর অনুবাদ। বইটির মুল নাম A room of one’s own লেখিকা প্রিয় ভার্জিনিয়া উলফ। দেরী না করে বইটি কিনেই বাড়ি ফিরে পড়তে শুরু করি। প্রতি পাতায় পাতায় আমার কথা লিখেছেন লেখিকা। চরম বাস্তবতার মুখোমুখি যেন আরও একবার দাঁড়ালাম। পড়তে পড়তে লিখতে শুরু করলেও লেখা আর হয়ে ওঠেনি ‘নিজের একটি কামরা’র কথা। আজ আবার বই গোছাতে গিয়ে বইটি উল্টে দেখি অজস্র কালো লাইন করা বইয়ের বাঁকে বাঁকে । পছন্দের লাইনগুলো আবার যেন আলোড়িত করলো। কিন্তু আমার মায়ের হয়তো সার্মথ্য ছিলো না আমাকে একটি আলাদা কামরা দেবার। কিন্তু আমার কন্যা সন্তানকে সে কিশোরী হবার আগেই আলাদা কামরা দিতে আমি ভুলিনি।
তখন এবং এখন উভয় সময়েই আমার ঘরটা ছোট, তাতে পড়ার জায়গাটা আরও ছোটো। বাবুইয়ের বাসা আমার। এতোদিনে বারো বাই দশের ঘরটা আমার কাছে অতি অপরিহার্য বিষয় ছিলো। বহু কষ্টে এদিক সেদিক জায়গা বাঁচিয়ে, প্রচলিত নিয়ম ভেঙ্গে এই ছোট্ট পরিসরটিকে আলাদা করে নিয়েছি, অনেকের কটাক্ষ সহ্য করেই। আমার ঘরে আসবাব বলতে কিছুই নেই। এমনকি খাট। একটি তক্তপোষে থাকার জায়গা। আর একটি টেবিল আজ আছে। বইগুলোর জায়গা সব মেঝেতে। পরিমানগত দিক দিয়ে বইয়ের সংখ্যা যা তাতে সেলফ রাখলে নিজে থাকার জায়গা পাবো না। তাইতো ভাবা অসম্ভব যে, আজ আমার ঘরে একটি টেবিল আর বইয়ের স্তূপ থাকবে না।
ভার্জিনিয়া উলফ A room of one’s own এ বলেন, যদি নিজের একটি ঘর আর ৫০০ পাউন্ডের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, নারীরাও অনেক উন্নতমানের সাহিত্য উপহার দিতে পারতেন। জেন অস্টেন, জর্জ ইলিয়ট, মেরি কারমাইকেলের মতো লেখিকাদের অত্যন্ত প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও শেক্সপিয়ারের স্তরে উন্নীত হতে পারছেন না পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নানা অসঙ্গতির কারণে। এর মধ্যে বড় হলো আর্থিক সমস্যা। আর তাই নারীকে নির্ভর করতে হয় পুরুষের ওপর। তাই আর্থিকভাবে পরাধীন নারী নিজের পছন্দমতো জীবনকে যাপন করলেও কখনও কখনও জীবন উদযাপনের কথা ভাবতেই পারেন না। পরাধীনতা তাই কোন দৃশ্যমান শৃঙ্খল নয়, পরাধীনতা একটি অজ্ঞানতাপ্রসূত অন্ধকারের নাম হয়ে সেই সকল নারীর জীবনে।
ভার্জিনিয়া উলফ এই সমাজের কাছে একটি প্রশ্ন রাখেন ‘নারীকে নিচে ফেলে রাখলে পুরুষরা বড় হবে কী করে? আর পুরুষরা এই মনোভাব বজায় রাখলে নারীদের মুক্তি মিলবে কী করে?’
মানবসভ্যতার এই যুগে নারীরা অনেক দিক থেকে এগিয়ে গেছেন। এদেশে এমন কোন পেশা নেই যেখানে নারীর অংশগ্রহণ নেই। অনেক জায়গায় পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যাই বেশি। কিন্তু সাহিত্যে নারীর পদচারণা কতটুকু?
অনেক নারী জীবনের কিছু সময় লেখালেখি করলেও পরে তা ধরে রাখতে পারেন না। কিংবা অন্যান্য কাজের ফাঁকে লেখালেখির সঙ্গে কিছুটা যুক্ত থাকেন। যার কারণে সাহিত্যে পুরোপুরি মনোনিবেশ করা নারীদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
অনেক নারী ভালো লিখতে জানেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লেখালেখিকে জীবনের সাধনা হিসেবে নিতে পারেন না। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সাংসারিক দায়িত্ব, সন্তান দেখাশোনার দায়িত্ব- এই বিষয়গুলোই মূলত বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীর বুদ্ধিমত্তা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয় না। প্রশ্ন তোলা হয় নারীর সাহিত্য মান নিয়ে। কিন্তু পুরুষের মতো সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যদি নারীরাও বড় হতেন, তাহলে বেগম রোকেয়া, সিমন দ্যা বুভ্যেয়ার, মহাশ্বেতা দেবীর মতো আরও অনেক নারী লেখক তৈরি হতো এই সমাজে।
আমার হাতে যে বইয়ের কপিটি তা পূর্বেই বলেছি আলম খোরশেদের অনুবাদ, বাংলাদেশ অনুবাদ সংসদের পক্ষে ‘সংহতি’ বইটি প্রকাশ করেছে, সব্যসাচী হাজরার প্রচ্ছদে। নারী অধিকারের কথা ভাবতে আমাদের মাথায় চট করে চলে আসে পরিপাটি কোন একজন নারী স্কুল ঘরে শিক্ষিকার চাকরী করছেন। ভার্জিনিয়া উলফ যে অনুষঙ্গের আড়ালে নারীদের অবস্থানের ভিন্নতা দেখিয়েছেন, তা হোল সাহিত্য বা সৃজনশীলতা। নারীর মানসিক দৈন্যের পাশাপাশি তিনি অবকাঠামোগত আয়োজনের অভাব আর শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা ধ্যন-ধারণাকে মূখ্য বলে দেখাতে চেয়েছেন।
কামরা বা ঘর। নারী তো নিজেই ঘরনী। তাহলে অসুবিধা কোথায়? কিন্তু ঘরে যে থাকে তাকে ঘরনী বলে। পুরুষের ঘরে নারী থাকে তাই সে ঘরনী। পুরো ঘরই তো তার তবে অধিকার তার নয়। কেবলি কর্তব্য অর্থে, অধিকার অর্থে নয়। বিয়ের আগে পিতার ঘরে কোনো কোনো নারীর একটি ঘর এবং টেবিল থাকে, আনুষ্ঠানিক পড়ালেখা শেষ হলে সে পর্বও শেষ হয়। আর বিয়ের পর তো নারী নিজেই ভোলেন তার একটি জীবন ছিলো, সেখানে তার নিজস্ব সময় ছিলো বা তিনি কোন এককালে সময় পেলে ডায়রী লিখতেন, লিখতেন কখনও কবিতা। একটি চেয়ার এবং একটি টেবিল, আর কিছু নিজস্ব সময়, এর অভাবে অনেক নারীর শেকসপীয়র হয়ে ওঠা হয় না, প্রকৃত বোদ্ধার মত রাজনীতিকে বুঝতে পারলেও বারোয়ারি বসার ঘরে পারিবারিক আড্ডার গালগল্পের প্রভাবে তিনি সামাজিক উপন্যাসেই আটকে থাকেন।
নারীরা কেনো শেকসপিয়র হতে পারেন না, তার উত্তর অনুসন্ধান করে ভার্জিনিয়া উলফ দেখিয়েছিলেন, এর জন্য দায়ী নারীর প্রতিভার অনুপস্থিতি নয়, এর জন্য দায়ী সামাজিক গঠন, সাংস্কৃতিক নিয়ামকগুলো। ‘নিজের একটি কামরা’ গ্রন্থটিতে তিনি তাই সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন, শেকসপিয়রের সমান প্রতিভার অধিকারী হয়েও তার কল্পিত ভগ্নী জুডিথ সংসার জীবন ছেড়ে লন্ডন নগরীতে নাটকের জগতে প্রতিষ্ঠিত হতে চাইলে তাকে মর্মান্তিক পরিণতিই বরণ করতে হতো। নারী এতকাল কেনো শেকসপিয়র কিংবা নিউটন হতে পারেননি, তার ব্যাখ্যা তাই সোজা : সমাজের অনুমতি মেলেনি।
‘নিজের একটি কামরায়’ তাই উলফের লেখায় দেখতে পাই- “কল্পনায় সে চুড়ান্ত গুরুত্বের যোগ্য, কার্যত তার কোন মূল্যই নেই। কবিতার ছত্রে ছত্রে তার উল্লেখ, ইতিহাসে সে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। কথাসাহিত্যে রাজা ও বিজেতাদের জীবন সে নিয়ন্ত্রণ করে, বাস্তবে সে যে কোন বালকেরও দাসী। ”
শেকসপীয়রের কালজয়ী লেখাগুলোর পেছনে অনেক সুবিধাবঞ্চিত হয়েও শুধু পুরুষ হবার জন্য শেকসপীয়র যে বাড়তি সুযোগগুলো পেয়েছেন, তার ভূমিকা আছে। সেই একই স্থানে একটি নারী থাকলে তার বাস্তবতা হয়ে দাঁড়াতো ঠিক উল্টোটা। একটা তুলনায় বিষয়টা খুব স্পষ্ট হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন-‘ কোন এক বিশপ লিখেছিলেন, ‘অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের যে কোন নারীর পক্ষে শেকসপীয়রের মত নাটক লেখা সম্পূর্ণ অসম্ভব। ঠিক যেমন বিড়ালেরা আত্না থাকা সত্ত্বেও কখনওই স্বর্গে যায় না’।
ধরে নেয়া যাক, ঠিক একই রকম কাব্যপ্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে একটি নারী, শেকসপীয়রের মতই অল্প একটু আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পেয়েছে এবং একই রকম পারিবারিক পরিবেশ থেকে সে বের হয়ে এসেছে। উলফ দেখছিলেন মনের চোখে, মেয়েটি লুকিয়ে লিখছে আবার ফেলেও দিচ্ছে তার সৃষ্টিগুলোকে। কারণ সে সমাজে মেয়েদের লেখালেখির চল নেই। আবার তাড়াহুড়োয় তাকে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বিবাহ নামক আরেক শৃঙ্খলে। উলফ বলছেন-
“অতএব তার নিজের প্রতিভাই তাকে অন্য পথে চালিত করে। সে তার যৎসামান্য সম্পত্তি পুঁটলিতে বেঁধে নিয়ে, এক গ্রীষ্মের রাতে দড়ি বেয়ে নিচে মেনে আসে আর লন্ডন রওনা হয়। …… ভাইয়ের মত তারও ছিল শব্দ ও সংগীতের ব্যপারে চটজলদি প্রতিভা। ভাইয়ের মত তারও ছিল নাট্যবোধ। সেও তাই মঞ্চের দরজায় গিয়ে দাঁড়ায়, অভিনেত্রী হবার বাসনা পোষণ করে। মোটা, মুখপাতলা ম্যনেজারটা তাকে নিয়ে ফোঁড়ন কাটে। কুকুর ছানার নাচ ও মেয়েদের অভিনয় করা নিয়ে কী যেন একটা বিদ্রূপাত্মক অঙ্গভঙ্গি করে- কোন মেয়েরই, সে বলে, অভিনয় করার ক্ষমতা নেই। সে ইঙ্গিত করে- আপনারা জানেন কিসের। সে তার পছন্দের এই শিল্পে কোন শিক্ষা পায় না। সে কি কোন সরাইখানায় রাতের খাবার কিনতে কিংবা মধ্যরাতে রাস্তায় হাঁটতে পারতো? তবু তার প্রতিভা ছিলো সাহিত্যেই এবং সে ছিলো তরুণী ও তার মুখে ছিলো শেকসপিয়রের আদল, একই রকমের ধূসর চোখ ও জোড়া ভ্রু- অভিনেতা কাম ম্যানেজার নিক গ্রিন তার ওপর দয়াপরবশ হলেন এবং সে নিজেকে আবিস্কার করল তার সন্তানের জননী হিসেবে- নারীদেহে আটকে পড়া কবিহৃদয়ের উত্তাপ ও আক্রোশ পরিমাপ করবে কে?- এবং এক শীতের রাতে আত্নহত্যা করে এখন সে শুয়ে আছে ক্যসল ও এলিফেন্ট এর মোড়ে, যেখানে বাসগুলো এসে থামে।”
কবি রুবি রহমান এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘নারী লেখালেখি করতে চাইলে অনেক প্রতিবন্ধকতা আসে। সাহিত্যচর্চা শুরু করলেই অর্থনীতির সংকুলান হয় না। অর্থাৎ সাহিত্য ঠিক সঙ্গে সঙ্গে অর্থের যোগান দিতে পারে না। আবার অর্থ ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সবার জন্যই কঠিন। তবে মেয়েদের জন্য আরও কঠিন। কারণ নারীকে সহযোগিতা করার মতো মানসিকতা সবার থাকে না। এছাড়া পারিবারিক ব্যাপারগুলোতেও নারীকেই বেশি ভূমিকা পালন করতে হয়। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মায়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব তার সন্তানের। একজন মা সব দায়িত্ব এড়িয়ে গেলেও সন্তানের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। সন্তানের সমস্ত ব্যাপারের সাথে মাকেই যুক্ত থাকতে হয় বেশি। যেমন আমার সন্তানের কোন সমস্যা হলে সেটাকেই বড় সমস্যা মনে করতাম আমি।’
আর উলফ ‘নিজের একটি কামরায়’ বলেন –‘একটা স্থায়ী উপার্জন মন মানসিকতায় কী অসম্ভব পরিবর্তনই না আনতে পারে।। পৃথিবীর কোন শক্তিই আমার পাঁচশ পাউন্ড ছিনিয়ে নিতে পারবে না। খাদ্য, বাসস্থান ও পোশাক আমার চিরকালের জন্য নিশ্চিত’।
A room of one’s own গ্রন্থের মধ্য দিয়ে একের পর এক নারী লেখকের জীবন তুলে এনেছেন লেখিকা। ‘নিজের একটি কামরা’কে কাছে এনে দিয়েছেন অনুবাদক আলম খোরশেদ। এর মধ্য দিয়ে আমরা জানতে পারি ধীরে ধীরে নারী লিখে অর্থ উপার্জনের পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। সামাজিক উপন্যাস, জীবনীগ্রন্থ ইত্যাদির সীমানায়ই আবদ্ধ ছিলো নারীর বিচরণ। তারপরও প্রতিভার পাশাপাশি ব্যবসাবুদ্ধি না থাকায় অনেক মূল্যবান গ্রন্থের স্বত্ব নারীরা তুলে দিয়েছেন প্রকাশকের হাতে। এ প্রসঙ্গে একটি জনশ্রুতি ছিলো – নারী লেখক যদি ভালো কিছু লিখতেন তাহলে লোকে বলতো, স্বামী লিখে দিয়েছে। কোন নারী লেখকের স্বামীও যদি লেখক হন, তাহলে এই কথাটি আরও বেশি শোনা যেতো।’
তবে আজ সময় অনেকটাই বদলেছে। ভার্জিনিয়া উলফ স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে অনেকাংশে । বাংলাদেশে ৬০ এর দশকে অল্প কিছু নারী লেখালেখি করতেন। এখন আরও অনেক নারী লিখছেন। তবে তাদের সংখ্যা খুব বেশি না। তবে জীবনের মোহ থেকে একেবারেই কেউ মুক্ত হতে পারেন না। পারিবারিক, সামাজিক দায়িত্ব সব ঠিক রেখে নিজেকে সাধনার মধ্যে নিয়োজিত রাখতে পারা কষ্টের হলেও অনেকেই এই সাধনার পথে আছেন। তাইতো উলফের স্বপ্নের সাথেই বলতে পারি
‘‘প্রতিটি সৃজনশীল নারী হৃদয়ের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা শেকসপিয়রের সে বোনটি জেগে উঠুক, যাকে সমাজ আত্নহত্যা ছাড়া আর কোন সম্মানের পথ বেছে দিতে পারেনি। “তবে আমার বিশ্বাস, এই কবি, যে কোনদিন একটি শব্দও লিখেনি এবং যে ঐ রাস্তার মোড়ে সমাহিত, সে এখনো বেঁচে আছে। সে বেঁচে আছে আমার আপনার মধ্যে, এবং আরও অনেক নারীর মধ্যে, যারা আজ রাতে এখানে নেই, কারণ তারা বাসন ধোয়া আর বাচ্চাদের ঘুম পাড়াতে ব্যস্ত। কিন্তু সে বেঁচে আছে, কারণ বড় কবিরা কখনও মরে না, তাদের উপস্থিতি এখনও সক্রিয়, তাদের শুধু আমাদের সামনে রক্ত-মাংসে হাঁটার সুযোগ করে দেওয়া দরকার। … …
আমাদের যদি স্বাধীনতার অভ্যাস এবং যা ভাবি হুবহু তাই লেখার সাহস থাকে, আমরা যদি যৌথ বসার ঘর থেকে পালিয়ে গিয়ে কিছুটা হলেও মানবসমাজকে দেখি, … … তাহলে সুযোগ আসবে এবং সেই মৃত কবি, শেকসপিয়রের বোন, পুনরায় শরীর ধারণ করবে, যে এতোদিন সমাহিত ছিলো। অজ্ঞাত পূর্বসূরীদের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে পুনরায় জন্ম হবে তার।”
তাইতো A room of one’s own –‘নিজের একটি কামরা’ মনে আজও মনে করিয়ে দেয় আমার নিজের ঘর, নিজের জগতের কথা। একই প্রাণের কথায় নড়ে চড়ে উঠি আমি এবং আমরা। প্রেরণার উৎসমুখ এই বইটি তাই একটি ঘাসজমির পাশে নিজের হাঁটাটুকু অনায়াসে দেখিয়ে দেয়। এই বইটি হাতে পৌঁছে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই অনুবাদক আলম খোরশেদ’কে এবং সংহতি প্রকাশনা’কে। নারীর একটি ঘর হোক, হোক একটি সৃজনশীল জগত।
Flag Counter


1 Response

  1. জুয়েল খান says:

    তুমি নারী চাচ্ছ একটি আন্তঃ পরিচয়, চাচ্ছ স্বাধীনতা, সব ঠিক আছে, আমরাও তোমার আন্তঃ পরিচয় দিচ্ছি, তোমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিচ্ছি, কিন্তু সমস্যা কোথায় জান?
    ………………পূর্ণ স্বাধীনতা। খুব সম্ভব এই পর্যায়ে তোমরা শয়তানের খুব কাছে পোঁছে যাও দুঃখ টা এইখানেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.