কবিতা

বুবুন চট্টোপাধ্যায়-এর ভালোবাসা, বন্ধু ও কাঁটাতার

বুবুন চট্টোপাধ্যায় | 23 Mar , 2019  


বুনন
ভেতরে একটা ভাঙা চাঁদ।
একটা অতলান্ত খাদ।
অনিঃশেষ আলপথ।
কোথাও কোনো বাড়ি,ঘর নেই।
শুধু মরিচীকার মতো দিগন্ত।
এমন একটি রাস্তা দিয়ে প্রায়শই হাঁটা…
টেবিলে মাথা গুঁজে কফিনবন্দী শব্দকে ঘষে ঘষে আগুন জ্বালানো। মুহূর্তের। তারপর দপ করে নিভে যাওয়া।
হতাশার মতো অন্ধকার।

এই তো কবির জীবন।
হেরে যাওয়ার বুননকৌশল।

বন্ধু

কী রে ফোন করিস না কেন?
তুইও তো করিস না।
এইরকম সংলাপের আরম্ভে কত প্রেম, অভিমান, বন্ধুত্ব যে জমাট বেঁধে বরফ হয়ে যায়।
কত রামধনু আসতে গিয়েও ফিরে যায়।
কত নদীর জল স্থির হয়ে যায়।
শালিকের ওড়াউড়ি আকাশকে ভয় পায়।
দুব্বোতে আর রোদ পড়ে না কোনোদিন।

কীরে, কতদিন, দেখা হয় না বল!!!

কাঁটাতার

সালমা আর মুনিয়া এখন ভাত খায় লঙ্কা, পেঁয়াজ, রসুন ডলে ডলে।
নাহলে বমি পায়। গলার কাছে উঠে আসে গ্রাস।
হাওয়া দিলে গন্ধ আরো ছড়ায়।
শুকিয়ে যাওয়া রক্তের গন্ধে শালিক, ফিঙেও ফিরে আসে না আর।
লতাপাতা মথিত কাঁটাতারের খোঁজে অন্য দেশে যায়।
কাঁটাতারে রোদে দেওয়া সালমার ভিজে শাড়ি, মুনিয়ার অন্তর্বাসের মধ্যে শুকনো রক্তের দাগ।

ওরা ভাত খায়। বমি উঠে আসে।
দু দেশের কাঁটাতারে রক্ত লাগে যখন।

ভালোবাসা

ফড়িংয়ের ডানা দুটো ভেজা ভেজা।
বোধহয় ভোরের শিশির পড়েছে।
শালিকটা কেমন খুড়িয়ে হাঁটছে।
ব্যথা পেল কোথাও।
মেঘ মনে হয় আজ বৃষ্টি ঢালবে।
তা হোক। এই বারান্দায় বসে দেখবো কতদূর ভিজে যায়।

ভালোবাসা বলতে আজকাল এসবই ভাবি।


1 Response

  1. Humayun Kabir says:

    কাব্যগুচ্ছ পড়েছি, সবটুকু বুঝিনি, তবুও হৃদয় ছুঁয়ে যায় বুবুর কবিতায় আর সুন্দর চেহারায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.