আর্টস

কাজপাগল ও কর্মবীর গোলাম মুরশিদের জন্য ভালোবাসা

নওশাদ জামিল | 20 Mar , 2019  

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের পংক্তি থেকে খানিকটা ধার করে যদি বলি– গোলাম মুরশিদ তাঁর ‘কাজকেই করিয়াছেন জীবনের ধ্রুবতারা’, তাহলে কথাটা কী যথার্থ হবে? গাম্ভীর্য আর প্রাজ্ঞতার দেয়াল ঘুচিয়ে রসিকতার সুরে যখন বলেন, তিনি ‘কাজের গোলাম’, ‘মুরশিদের গোলাম’ নন; তখন হয়তো টের পাওয়া যায় মানুষটির জীবনের সারৎসার। সত্যিকার অর্থেই সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিদ্যাচর্চার নানা ক্ষেত্রে বহুমুখী কাজ করছেন লেখক ও গবেষক গোলাম মুরশিদ। ‘কাজপাগল’ ও ‘কর্মবীর’ শব্দ দুটো যদি তাঁর সঙ্গে যুক্ত করি, তিনি বিরক্ত হবেন কিনা কে জানে!

গোলাম মুরশিদ একাধারে লেখক, গবেষক, প্রাবন্ধিক, অধ্যাপক। তিন দশক আগে বিলাতে পাড়ি জমালেও বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়েই তাঁর ধ্যান, জ্ঞান। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ওপর তিনি লিখেছেন বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়েও লিখেছেন কিছু ‘মহাগ্রন্থ’। তাঁর কাজের বড় অংশ জুড়ে আছে বহুমাত্রিক কোষ ও অভিধানগ্রন্থ আর সম্পাদনা। এ ছাড়াও তাঁর কৌতূহল ও আগ্রহ বহুমুখী। মননশীল ও সৃজনশীল রচনায় তাঁর যে অসাধারণ প্রাজ্ঞতার পরিচয় পাওয়া যায়, বইয়ের পরতে পরতে যে আবিস্কারের রোমাঞ্চ পাওয়া যায়, পাঠক হিসেবে বলতে পারি তা সত্যিই মুগ্ধকর। গবেষণাধর্মী রচনায় টিকা-টিপ্পনি ও তথ্য-উপাত্তের ভারে অনেকের রচনা যেখানে ক্লান্তিকর, গোলাম মুরশিদ সেখানে গতিশীল তাঁর সরস এবং প্রাণবন্ত গদ্যসম্ভারে। তাঁর বেশকিছু বই পড়তে পড়তে মনে হয়েছে, মননশীল রচনাতে যেমন রসদীপ্ত, তেমনই জ্ঞানগাম্ভীর্যে সমৃদ্ধ। পন্ডিত পাঠক শুধু নন, বলা যায় সাধারণ পাঠকও তাঁর রচনা পড়তে আগ্রহী হবেন, তরতর করে পাঠস্রোতে এগিয়ে যাবেন তাঁর লেখার গুণেই। হয়তো তাই তাঁর মননশীল রচনাও জনপ্রিয় ও পাঠকপ্রিয়।

বাংলা সাহিত্যের ভুবনে অতলস্পর্শী কর্মপরিধি রয়েছে গোলাম মুরশিদের। বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান থেকে হাজার বছরের বাংলা সংস্কৃতি নিয়ে যেমন রয়েছে শ্রমসাধ্য কাজ, তেমনই রয়েছে ভিন্নমাত্রিক মাইকেল মধুসূদন দত্ত থেকে কাজী নজরুল ইসলামের অনন্য জীবনীগ্রন্থ। সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব, মানববিদ্যা, মুক্তিযুদ্ধসহ বিচিত্র অঙ্গণে বিচরণ তাঁর। জীবনের টানে, চিন্তা ও মননের বিভায় তিনি যেমন অধ্যাপনা করেছেন, সংবাদ উপস্থাপনা করেছেন, পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন নানামাত্রিক সাহিত্য চর্চায়। বহুমাত্রিক এ মানুষটির আগামী ৮ এপ্রিল ৮০ তম জন্মবার্ষিকী। আশিতে পৌঁছার আগেই অনেকেই তো ‘আসি’ বলে ডুবে যান সময়প্রবাহের তরঙ্গে, গোলাম মুরশিদ তাঁর কর্মগুণেই বরাবরই দৃশ্যমান থাকবেন যেন ধ্রুবতারা হয়ে। সফল জীবনের মাইলফলক ৮০ তম জন্মবার্ষিকীর প্রাক্কালে তাঁকে জানাই অফুরান শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

আমার কেবলই মনে হয়, বাংলা ভাষার জীবনীসাহিত্য ও জীবনীগ্রন্থকে নবতর আলোয় উজ্জ্বল করেছেন গোলাম মুরশিদ। তাঁর অনন্য রচনা আশার ছলনে ভুলি, বিদ্রোহী রণক্লান্ত শুধুমাত্র মাইকেল মধুসূদন দত্ত কিংবা কাজী নজরুল ইসলামকেই ভিন্নতরভাবে উদ্ভাসিত করেনি, বাংলা সাহিত্যকেই করেছে দেদীপ্যমান। বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে গোলাম মুরশিদের গ্রন্থ হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি জাতি হিসেবে আমাদের গর্বের অনন্য স্মারক। রবীন্দ্রকুমার দাশগুপ্ত তাঁর এ বইটিকে তো আখ্যা দিয়েছেন ‘মহাগ্রন্থ’ হিসেবে। এ ছাড়াও বিলাতে বাঙালির ইতিহাস, বেগম রোকেয়া, আঠারো শতকের বাংলা গদ্য নিয়ে তাঁর কাজ বাঙালি জাতিকে স্মরণ করতে হবে শ্রদ্ধাভরে।

গোলাম মুরশিদের গবেষণাধর্মী বই রেনেসন্স বাংলার রেনেসন্স পাঠে মুগ্ধ হয়েছিলাম, অভিভূত হয়েছিলাম। গবেষণার মধ্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, বঙ্গদেশেও রেনেসাঁ এসেছিল। ঠিক ইতালীয় রেনেসাঁর মতোই শিল্প, সাহিত্য ও স্থাপত্যে। তবে সীমিত আকারে। অনেকে সেটাকে অস্বীকার করেন, অনেকে বলেন অযৌক্তিক। উনিশ শতকে বাংলা অঞ্চলে ভাষা, সাহিত্য, সংগীত ও শিক্ষাক্ষেত্রে অভূতপূর্ব জাগরণ হয়েছে। তখন মধ্যযুগীয় সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে বাঙালি পা দেয় আধুনিকতার সিঁড়িতে। বাংলা ভাষাভাষীদের ভেতরে দেখা দেয় ব্যক্তিস্বাতন্ত্য ও ব্যক্তিস্বাধীনতা। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, প্রমথ চৌধুরীর মতো ব্যক্তিত্বরা বাংলার রেনেসাঁরই ফসল। কেউ স্বীকার কিংবা অস্বীকার করুক, কারো কাছে যৌক্তিক কিংবা অযৌক্তিক মনে হোক; বাংলার রেনেসাঁ নিয়ে গোলাম মুরশিদের গবেষণাধর্মী কাজকে আমার কাছে মনে হয়েছে অনন্যসাধারণ গ্রন্থ।


গোলাম মুরশিদ সংবর্ধনা গ্রন্থ
সম্পাদক: স্বরোচিষ সরকার
প্রকাশক: কথাপ্রকাশ
প্রকাশক: জসীম উদ্দিন
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯
মূল্য : ৫০০ টাকা
পৃষ্ঠা : ৪৫৬
প্রচ্ছদ : আনিসুজ্জামান সোহেল”

০২

গোলাম মুরশিদ দেশের বাইরে থাকেন, দেশের মধ্যেও থাকেন। মেলবোর্ন হয়ে বিলাতে আবাস গড়েছেন, কিন্তু তাঁর হৃদয় ছড়িয়ে থাকে বাংলাদেশে, পদ্মার পাড়ে রাজশাহীতে, কিংবা জন্মভূমি বরিশালের নদ-নদীতীরে। বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি, মানুষ নিয়েই কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরেই। কিন্তু দেশের বাইরে অবস্থান করায় অনেকটাই দৃষ্টির আড়ালে থাকেন। নীরবে, নিভৃতে থেকেই একের পর এক অবিস্মরণীয় কাজ করে চলছেন।

বিরলপ্রজ গবেষক ও লেখক গোলাম মুরশিদকে গত ১৯ মার্চ মঙ্গলবার বিকালে সংবর্ধনা জানানো হয় এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সেদিন আয়োজিত হয় তাঁর ৮০তম জন্মোৎসব ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। একই অনুষ্ঠানে কথাপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গোলাম মুরশিদ সংবর্ধনা গ্রন্থ এবং তাঁর লেখা শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ বইয়ের মোড়ক উন্মোচিতও হয়। দেশের নানা শ্রেণির মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয় ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। বৃহৎ পরিসরে যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ চর্চা পাঠচক্র ও প্রকাশনা সংস্থা কথাপ্রকাশ। গুণীজন গোলাম মুরশিদকে শ্রদ্ধা জানানোর এ মহৎ আয়োজনের জন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

বিভিন্ন বয়সের লেখক, কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণীর মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল গোটা আয়োজন। নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছিল মিলনায়তনটি, বাংলা একাডেমিতে প্রবেশের দ্বারটিও করা হয়েছিল শৈল্পিক ও কারুকার্যময়। উৎসবমুখর আয়োজনেই গোলাম মুরশিদকে জানানো হয় সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা।

কয়েকটি পর্বে বিভক্ত ছিল আয়োজন। তার মধ্যে শুরুতে গোলাম মুরশিদকে নিবেদিত রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন লাইসা আহমদ লিসা। শ্রুতিমধুর কণ্ঠে এ শিল্পী গেয়ে শোনান ‘সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে’ ও ‘তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা’। পরে সংবর্ধনামঞ্চ আলোকিত করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক স্বরোচিষ সরকার। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কথাপ্রকাশের প্রকাশক জসিমউদ্দিন।

সাধারণের জন্যই লিখেন গোলাম মুরশিদ, সাধারণ পাঠকের ভালোবাসাকেই তিনি মনে করেন জীবনের আরাধ্য। অনুষ্ঠানে সংবর্ধনার জবাবে তিনি জানালেন তাঁর নানা কথা। অনুভূতি প্রকাশে গোলাম মুরশিদ বলেন, “বিভিন্ন বিষয়ে আমি লেখালেখি করেছি, কাজ করেছি। আর যা কিছু লিখেছি সবটাই সাধারণের উপযুক্ত করে। এ কারণেই হয়তো সাধারণ পাঠকরা আমাকে ভালবাসেন ও সমাদর করেন। তাই প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিষয়ে আমার কোন আক্ষেপ নেই। আসলে যে স্বীকৃতিতে মনটা ভরে যায় সেই সাধারণ মানুষের স্বীকৃতি পেয়েছি। ভালোবাসা পেয়েছি। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এটিই।”

নিজের প্রসঙ্গে বিনয়ের সঙ্গে গোলাম মুরশিদ বলেন, “বিধাতা আমাকে কম প্রতিভা দিয়েছেন। এ কারণেই অনেক পরিশ্রমের ও ঘষামাজার মাধ্যমে নিজেকে তৈরি করেছি। পরিশ্রম করেই লেখালেখি করেছি। আমার অনেক কাজ বাকি রয়েছে। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কাজ করে যেতে চাই। কাজের মাধ্যমেই জীবনকে উপভোগ করতে চাই।”

আগামী দিনে নিজের কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে গোলাম মুরশিদ বলেন, অনেক কিছুর লেখার রয়েছে। আগামীতে রবীন্দ্রনাথের নারী এবং বাংলা গান ও বঙ্গীয় স্থাপত্যকীর্তি নিয়ে লিখতে চাই। উপন্যাস লিখতে চাই, আত্মজীবনী লিখতে চাই।”

অনুষ্ঠানে প্রশংসা ও ভালোবাসায় আল্পুত হন গোলাম মুরশিদ। প্রতিউত্তরে তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, “আমার অনুকূলে যা বলা হয়েছে, সেটাকে অপপ্রচার মনে হচ্ছে। আমি অতি সাধারণ এক মানুষ। নিজেকে এই অসাধারণ আয়োজনের অনুপযুক্ত বলে মনে হচ্ছে।”

০৩
গোলাম মুরশিদের প্রতি যেমন ভালোবাসা জানান তাঁর অগ্রজেরা, তেমনই অনুজেরা প্রকাশ করেন গভীর অনুরাগ। তাঁর চেয়ে বয়সে খানিক বড় জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। গোলাম মুরশিদের গবেষণা ও লেখালেখির প্রশংসা করে তিনি বলেন, “গোলাম মুরশিদের সঙ্গে আমার ছয় দশকের পরিচয়। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তাঁর অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তবে তাঁর গবেষণাসত্তার কোন পরিবর্তন হয়নি। আগ্রহ ও কৌতূহলের পরিবর্তন হয়নি। গবেষণার ক্ষেত্রে নিষ্ঠা ও অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে তিনি রেখেছেন দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ। মাইকেল মধুসূদন, নজরুল থেকে শুরু করে বাঙালী নারীর ইতিহাস নিয়ে তিনি চমৎকার গবেষণা করেছেন। গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি নতুন পথ নির্মাণ করেছেন। আমি তাঁকে একজন বিরল প্রজাতির গবেষক হিসেবেই উল্লেখ করি।”
বন্ধু গোলাম মুরশিদের সঙ্গে নানা সময়ের স্মৃতিচারণ করেন হাসান আজিজুল হক। দীর্ঘদিন তাঁরা একইসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। হাসান আজিজুল হক বলেন, “গোলাম মুরশিদ একজন প্রথম শ্রেণীর ও প্রধান গবেষক এবং অনন্য জীবনী লেখক। তাঁর বই শুধু সুখপাঠ্য নয়, একই সঙ্গে শিক্ষণীয়। বাংলা ভাষা, ব্যাকরণ, জীবনীসহ বিবিধ বিষয়ে তিনি লিখেছেন এবং তাঁর গদ্যভাষা অনবদ্য। সেখানে বাহুল্য থাকে না। তিনি যা কিছু লেখেন নির্মোহ এবং স্বচ্ছতা নিয়ে লেখেন। তাই তাঁর লেখা জীবনীগ্রন্থে শুধু প্রশংসা বাক্য নয়, প্রকৃত জীবনকে খুঁজে পাওয়া যায়।”

ব্যক্তি গোলাম মুরশিদ প্রসঙ্গে হাসান আজিজুল হক বলেন, “মানুষ হিসেবে গোলাম মুরশিদ কথা কম বলেন। তেমন একটা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন না। কিন্তু তাঁর মতো কোমল হৃদয়ের মানুষ খুবই কম আছেন।”

শামসুজ্জামান খান বলেন, “গোলাম মুরশিদ এমন একজন গবেষক যাকে নিয়ে গর্ব করা যায়। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে তাঁর কাজ যেমন অতুলনীয়, তেমমি সমৃদ্ধ।” বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান প্রকাশের সময়কার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “বাংলা একাডেমির গবেষণায় তিনি আধুনিকতার ছাপ রেখেছেন। লন্ডনে বসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি সকল ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিয়েছিলেন।”
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ”গোলাম মুরশিদের লেখায় মধুসূদন ও নজরুলকে ভিন্নভাবে জানার সুযোগ হয়েছে। বাংলা ভাষার দুই মহান কবির ভিন্নতর বৈশিষ্ট্য, প্রবণতা ও ব্যাক্তিত্বকে নতুন আলোয় উজ্জ্বল করেছেন। তাঁর গবেষণার দৃষ্টি একইসঙ্গে তীক্ষ্ণ ও সংবেদনশীল। মননশীল রচনায় তাঁর সৃজনকুশলতার যে পরিচয় পাওয়া যায়, গোলাম মুরশিদকে তা পৌঁছে দিচ্ছে অনন্য উচ্চতায়।”

অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, “গোলাম মুরশিদের লেখায় তাঁর ব্যক্তিত্ববোধের ছাপ পাওয়া যায়। এ বিরল গুণটি সবার মধ্যে থাকে না। নানা দিক ও প্রান্ত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন এবং করছেন।”

সুন্দর ও পরিপাটি আয়োজনের জন্য ধন্যবাদপ্রাপ্য প্রকাশনা সংস্থা কথাপ্রকাশের। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান জসিম উদ্দিন বলেন, “কথাপ্রকাশ সব সময়ই বিশিষ্টজনদের এমন কাজ করতে চায়। গুণীজনকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে চায়। আমরা বইকে, গুণীজনের কাজকে সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। তার জন্য আমাদের রয়েছে নানা পরিকল্পনা ও উদ্যোগ। পাঠক সৃষ্টি এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে যেমন যেমন নানামাত্রিক কাজ করি, তেমনই কাজ করি গুণীজনদের নিয়েও। বিশ্বাস করি গুণের কদর না দিলে গুণীজনের জন্ম হবে না।”

আশি পেরিয়েও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন নানা গুরুত্বপূর্ণ রচনা। বয়স তাঁর কাজে বাধা হতে পারেনি, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। গোলাম মুরশিদ পরিশ্রমী লেখক; কাজ করে যেতে চান সবসময়, লিখে যেতে চান জীবনের শেষদিন পর্যন্তও।

ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সত্যিকার অর্থে পরিশ্রমী ও কাজপাগল গোলাম মুরশিদ হতে পারেন অনেকেরই অনুপ্রেরণা। যারা কাজ করেন, পরিশ্রম করেন, তাদের সাফল্য আমাকে যেমন আনন্দ দেয়, তেমনই দেয় বহুমাত্রিক কাজ করে যাবার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা। তাই গোলাম মুরশিদকে হৃদয়ের গভীর থেকে জানাই প্রাণের প্রণতি।
Flag Counter


1 Response

  1. Shamsul Alam says:

    আমার প্রিয় শিক্ষক গোলাম মুরশিদের ৮০ বছর পূর্তিতে অভিনন্দন জানাই। একজন সামান্য কৃষিবিদ হিসেবে, প্রমিত বাংলায় দুচার হরফ লেখার অভ্যেস গড়ার প্রস্তুতি তাঁর কাছেই পেয়েছি। একটি বিজ্ঞান অভিধান লেখায় হাত দেয়ার সাহস করেছি, সেটাও তাঁর উৎসাহেরই ফল। তাই আমার জীবনের সেরা মুরশিদ, গোলাম মুরশিদকে জানাই আমার বিশেষ শুভেচ্ছা। শামসুল আলম মুকুল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.