বইয়ের আলোচনা

নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর আলোচনা অনুষ্ঠান

কামরুল হাসান | 27 Feb , 2019  


বিশ্ব সাহিত্যের ইতিহাসে উপন্যাস লেখা হয়েছে অগুণিত, কিন্ত কিছু উপন্যাস যেরকম আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তেমনটি দুর্লভ। এই গুটিকয় মাস্টারপিসের একটি হলো আইরিশ ঔপন্যাসিক জেমস জয়েসের ইউলিসিস, অন্যটি কলাম্বিয়ান লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের ওয়ান হানড্রেড ইয়ারস অব সলিচুড বা নিঃসঙ্গতার একশ বছর। এই দুটি উপন্যাস বদলে দিয়েছে পৃথিবীর উপন্যাসের চরিত্র।
পৃথিবীর ৩৮টি ভাষায় অনুবাদ হয়েছে নিঃসঙ্গতার একশ বছর, বিক্রি হয়েছে লক্ষ লক্ষ কপি। ঐ ৩৮টি ভাষার একটি বাংলা। যে কয়টি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে তার সবগুলোই হয়েছে ইংরেজি থেকে অর্থাৎ অনুবাদের অনুবাদ। এবার মূল স্প্যানিশ থেকে বইটির তর্জমা করেছেন আনিসুজ্জামান, যিনি লাতিন আমেরিকায় বসবাস করছেন বহুবছর ধরে, স্প্যানিশ ভাষাটি তার দখলে আর মাতৃভাষা বাংলায় তার করায়ত্ত। বাংলাদেশে অনুবাদকরা কপিরাইট মানেন না, সেসব অনুবাদ যেসব প্রকাশক ছেপেছেন তারাও এ ব্যাপারে উদাসীন। মেক্সিকোতো বসবাসের সুবাদে মার্কেজের পরিবারের কাছ থেকে যথাযথ অনুমতি নিয়ে বিধিসম্মত ভাবেই তিনি এগিয়েছেন।

সম্প্রতি হয়ে গেল বইটির প্রকাশনা উৎসব। জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনের বিপরীতে যে নতুন মিলনায়তনটি রয়েছে সেখানেই উৎসবটি অনুষ্ঠিত হলো। এর আয়োজন করেছে বইটির প্রকাশক অন্যপ্রকাশ। দৈর্ঘ্যের চেয়ে প্রস্থে বড় মিলনায়তনটির সমুখের সারিতে বসেছিলেন প্রথিতযশ কথাসাহিত্যিক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, পেছনে তার সহধর্মিণী কথাসাহিত্যিক পূরবী দত্ত। কলম্বিয়ার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক পাউলো ব্রিতোকে দেখলাম সে সারিতে। ক্ষণিক পরেই এলেন কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সবাই অপেক্ষা করছিল প্রধান অতিথি নাট্যজন আসাদুজ্জামান নূরের জন্য। তিনি এলে অনুষ্ঠান শুরু হলো। দেয়াল জুড়ে পেতে রাখা তিন তিন ছয় সিটের দুটি সোফার মাঝখানে রাখা এক সিটের একটি সোফা, সেটি প্রধান অতিথির জন্যই। কিন্তু তিনি নিজে না বসে সেখানে জ্যোতিপ্রকাশ দত্তকে বসালেন। তার এই সৌজন্যবোধ আমাদের মুগ্ধ করলো।

অন্যপ্রকাশের কর্ণধার মাজহারুল ইসলাম তার সূচনা বক্তব্যে আন্তর্জাতিক বইমেলায় ও ফোরামে বাংলাদেশে কপিরাইট না মানা বিষয়ে বিদেশীদের প্রশ্নের উল্লেখ করে বল্লেন, তখন তাদের বিব্রত থাকতে হয়। আনিসুজ্জামানের বইটি কপিরাইট মেনে মুদ্রিত হয়েছে।

এরপরে বইটির মোড়ক উন্মোচন হলো। সাত অতিথি আলোচকের হাতে জ্বলজ্বল করে উঠল প্রচ্ছদে চিত্রশিল্পী মাসুক হেলালকৃত মার্কেসের অবয়ব আঁকা নিঃসঙ্গতার একশ বছর

অনুবাদক আনিসুজ্জামান জানালেন তিনি যখন বইটি অনুবাদের সিদ্ধান্ত নেন তখন দেখলেন তাতে এত যৌগিক বাক্য রয়েছে যে তা অনুবাদ করা কঠিন। যৌগিক বাক্য ভেঙে সরল বাক্য করলে মাধুর্য হারিয়ে যায়, বাংলার পাঠকও তাতে সেই জাদুটি খুঁজে পাবে না যা মার্কেজের নিজস্ব ভাষাশৈলী। মার্কেজ এমন অনেক শব্দ আবিষ্কার করেছেন যা একান্তই তার, স্প্যানিশ ভাষার অভিধানে সেসব শব্দ নেই। তিনি স্বীকার করলেন যে অনুবাদের আগে সম্পূর্ণ উপন্যাসটি তিনি পড়েন নি, একটি একটি অনুচ্ছেদ ধরে এগিয়েছেন। এ বই অনুবাদের জন্য তিনি চলে গেছেন কলম্বিয়ার সেসব অঞ্চলে যেখানে গড়ে উঠেছে এই মহাকাব্যিক উপন্যাসের পটভূমি। এসব অঞ্চলে মার্কেস স্বয়ং পরিভ্রমণ করেছেন। আনিসুজ্জামান তার সঙ্গে করে মোটা বাঁশির মতো দেখতে একটি কাঠের খাঁজকাঁটা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন যা বাজাতে হয় একগুচ্ছ শক্ত তারের অগ্রভাগ দিয়ে। এর নাম গুরুচারকা। তার কথা থেকে জানলাম মার্কেসের উপন্যাসের প্লটসমূহ, ঘটনা বলি আর গল্প বলি, নেয়া হয়েছে কলম্বিয়ার বাইয়েনাতো (এক ধরণের গান) থেকে, যে গান গাওয়া হয় গুরুচারকা বাজিয়ে। তিনি একটু বাজিয়ে শোনালেন, কেননা তিনি, অনুবাদের স্বার্থেই, বাদ্যযন্ত্রটি বাজাতে শিখছেন। বক্তৃতার শেষ অংশে তিনি তার অনূদিত একটি অংশ পড়ে শোনালেন। অংশটি ছিল কামজবর্ণনায় জীবন্ত ও শৈল্পিক।

অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের অভিমত ষোড়শ শতকে লেখা সারভেন্তেসের ডন কিহোতোর পর গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের ওয়ান হানড্রেড ইয়ারস অব সলিচুডই হচ্ছে স্প্যানিশ সাহিত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস। রাজু নিজে স্প্যানিশ ভাষা জানেন, সে ভাষার সমৃদ্ধ খনির অনেক স্বর্ণই উত্তোলন করেছেন অনুবাদের চারুকর্মে। তিনি বল্লেন, অনুবাদমাত্রই কঠিন কাজ, মার্কেসের উপন্যাসটি অনুবাদ করা এক দূঃসাধ্য অভিযান। তার বন্ধু আনিসুজ্জামান যে চ্যালেঞ্জটি নিয়েছেন তা তার পছন্দ। তিনি আনিসুজ্জামানের কাজটির বিপুলত্ব বোঝাতে ‘দানবীয়’ শব্দটি ব্যবহার করলেন। এক ভাষার যে ছন্দ তা অন্য ভাষায় নেওয়া যায় না। বুদ্ধদেব বসু বলেছেন, অনুবাদ কখনো শতভাগ নিখুঁত হয় না।


কলাম্বিয়ান অতিথি লেখক পাউল ব্রিতো ইংরেজি তেমন জানেন না। তিনি স্প্যানিশ ভাষায় বক্তৃতা দিলেন, রাজু আলাউদ্দিন তা বাংলায় তর্জমা করে শ্রোতাদের শোনালেন। আনিসুজ্জামানের অনুবাদকর্মটিকে রাজু আলাউদ্দিন বলেছিলেন ‘দানবীয়’ কাজ; পাউল ব্রিতো আখ্যায়িত করলেন ‘টাইটানিক’ কাজ হিসেবে। এই কাজের সূত্র ধরে আনিসুজ্জামানের পরিচয় হয়েছে কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর লেখকদের সঙ্গে। আনিসুজ্জামান বিয়ে করেছেন একজন মেক্সিকান নারী। সে প্রসঙ্গে পাউল একটি মজার কথা বল্লেন। তিনি বল্লেন, এই বৈবাহিক সম্পর্ক লাতিন আমেরিকার সংস্কৃতির সাথেই এক বিবাহের মতো।
জন্মসূত্রে কলাম্বিয়ার নাগরিক হলেও জীবনের দীর্ঘকাল, ছত্রিশ বছর বয়স থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, মার্কেজ কাটিয়েছেন মেক্সিকোতে। কলম্বিয়ার উপকূলবর্তী এলাকা, যেখানে উপন্যাসটির পটভূমি রচিত, সেখানে আনিসুজ্জামান গিয়েছেন, কলম্বিয়ার কালি অঞ্চলের এক নারী, আনিসুজ্জামানের বন্ধু, ঐ অঞ্চল সম্পর্কে জানতে তাকে প্রভৃত সাহায্য করেছে। কলম্বিয়া এক দেশ হলেও তার প্রতিটি অঞ্চল আলাদা বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।

পাউল ব্রিতোও বল্লেন মার্কেজের এই মহান কাজটির পেছনে সঙ্গীতের বড় ভূমিকা আছে। আনিসুজ্জামানের সঙ্গীতচর্চা এক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।গুয়াচারকা জীবনের স্পন্দন, বাইয়েনেতো এ উপন্যাসের বীজ ধারণ করে। ব্রিতো জানাল এ উপন্যাসের মূল চরিত্র কোন মানুষ নয়, সময়। রাজু আলাউদ্দিনও বলেছিলেন, এ সময় চক্রাকার, কুহকী, জাদুকরী। ব্রিতো অনুবাদকের নামের অর্থের সাথে চমৎকার জুড়ে দিলেন সময়ের সম্পর্ক। আনিস অর্থ বন্ধু, জামান অর্থ সময়। আনিসুজ্জামানের অর্থ সময়ের বন্ধু। ব্রিতোর ঐ অর্থ ব্যবচ্ছেদ শ্রোতাদের মাঝে কৌতুহল জাগাল। উপন্যাসের কেন্দ্রে মাকোন্দো নামের যে গ্রাম আছে যা পরে পরিণত হয় এক নগরে, তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় প্রবল ঝড় আর অবিরল বৃষ্টিতে। পুরাতন ধ্বংস না হলে নতুন জীবনের সম্ভাবনা জাগে না। মার্কেজের এই উপন্যাস পৃথিবীতে নতুন জীবনের জন্য নিবেদিত। পাউলের খুব গোছানো বক্তৃতা আমাদের মুগ্ধ করলো।

প্রধান আলোচক শক্তিমান কথাসাহিত্যিক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত বক্তৃতার শুরুতেই বল্লেন, এ কাজের (প্রধান আলোচকের) যোগ্য ছিলেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি সময়াভাবে আনিসুজ্জামানের অনুবাদটি পড়তে পারেননি, কিন্তু যেটুকু অনুবাদ শুনলেন তাতে তার মনে হয়েছে অনুবাদ ভালো হয়েছে। তিনি অনুবাদকের ধীশক্তি ও প্রচণ্ড পরিশ্রমের উচ্চ প্রশংসা করলেন। তিনি জানালেন জীবনে অসংখ্য মহৎ উপন্যাস তিনি পাঠ করেছেন, কিন্তু মার্কেসের ওয়ান হানড্রেড ইয়ারস অব সলিচুড তার কাছে সেরা মনে হয়েছে। এ বই যখন পড়েন তার মনে হয়েছে তিনি ঘুমের ভেতর পড়ে গেছেন, বাস্তব ও কল্পনা এমনভাবে তন্দ্রাচ্ছন্ন করে রাখে। এ এক জাদুকরী গদ্য, অপূর্ব তার সম্মোহনী ক্ষমতা। মার্কেস তাঁর উপন্যাসে যে জাদুবাস্তবতা বুনে দিয়েছেন তা কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশের সাহিত্যে, বিশেষ করে বাংলায় ছিল, এমনকি খুব বেশি দূর যেতে হবে না, মার্কেসের উপন্যাসটি বিশ্বমঞ্চে আসার আগে, আজ থেকে ৫৫ বছর আগে তাঁর (জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের) নিজের লেখা কতিপয় গল্পে জাদুবাস্তবতা ছিল। হয়তো আমরা তাকে জাদুবাস্তবতা বলিনি, কিন্তু ছিল। তবে মার্কেসের কাছে তিনি শিখেছেন কী করে কল্পনা আর বাস্তবকে মেশাতে হয়।

প্রধান অতিথির ভাষণ দিতে এসে আসাদুজ্জামান নূর প্রথমেই একটা মজার গল্প বল্লেন। রাজনীতিতে যোগ দেবার পরে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার একটি ইউনিয়নে গেছেন জনসংযোগ করতে। সেখানে ইউনিয়নটির বিশিষ্টজনদের সাথে তাকে পরিচয় করিয় দেয়া হচ্ছে। যার সাথেই পরিচয় করানো হচ্ছে তার পরিচয়ই হচ্ছে চেয়ারম্যান। তিনি আশ্চর্যান্বিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এ গ্রামে কী সকলেই চেয়ারম্যান? তখন বিষয়টি খোলাশা হলো কেউ কুড়ি বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন, কেউ পনের বছর আগে, কেউ বর্তমান চেয়ারম্যান এই আর কি। এ গল্পটি তিনি বল্লেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক তাকে কয়েকবার সাবেক মন্ত্রী বলে সম্বোধন করায়। সাবেক মন্ত্রী কোন পরিচয় হতে পারে না। তিনি একজন নাট্যজন, আবৃত্তিকার, সংস্কৃতিকর্মী- তার তো কিছু পরিচয় আছে। তিনি তার কৈশোরের দেব সাহিত্য কুটির প্রকাশিত বিখ্যাত সব রচনা, যেমন রবিন হুড, ফ্রাঙ্কেস্টাইন প্রভৃতির কিশোর সংস্করণ পড়েছেন। সেসবই ছিল ইংরেজি থেকে অনুবাদ। এখনো বাংলাদেশে প্রায় একশত ভাগ অনুবাদ হয় ইংরেজি থেকে সেটা যে ভাষাতেই লেখা হোক না কেন, অর্থাৎ অনুবাদের অনুবাদ। আনিসুজ্জামান যে মূল স্প্যানিশ থেকে সরাসরি বাংলায় এই বিশ্বখ্যাত উপন্যাসটি অনুবাদ করেছেন তা অভিনন্দনযোগ্য। এতে মূল ভাষার স্বাদ পাওয়া যাবে, হবে মূলানুভব। যে নিষ্ঠা নিয়ে আনিসুজ্জামান অনুবাদের কাজটি করেছেন তা খুব কম মানুষই করেন। তিনি চেষ্টা করেছেন উপন্যাসটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত সংস্কৃতিকে শেকড় থেকে জানার। এটা বিরল। একটি গ্রন্থের অনুবাদের জন্য এই ত্যাগ স্বীকার ও পরিশ্রম খুব কম মানুষই করবে, বিশেষ করে ঐ ভ্রমণগুলো, ঐ মানুষের সাথে ভাবের আদানপ্রদান। তিনি একটু মজা করে বল্লেন, আমার ভয় হচ্ছে আজ থেকে কুড়ি বা ত্রিশ বছর পরে ঐ গ্রন্থের কৃতিত্ব অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের কাছে চলে যায় কি না।

সভাপতির ভাষণ দিতে এসে কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সভাপতি হবার সুবিধা অসুবিধা নিয়ে হালকা কৌতুক করলেন। এরপরেই তিনি চলে যান সিরিয়াস আলোচনায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনি মার্কেসের সাহিত্য পড়িয়েছেন বহুবছর। এই উপন্যাস, মার্কেজের ১২টি গল্পের বই Strange Pilgrims সহ অনেকগুলো গ্রন্থ তিনি ছাত্রদের পড়িয়েছেন। মার্কেজের গল্পশৈলীর সাথে যেমন রবীন্দ্রনাথের গল্পশৈলীর মিল আছে, তেমনি উপন্যাসটি যে অঞ্চলকে ঘিরে রচিত সেই মাকোন্দো অঞ্চলের সাথে রয়েছে বাংলাদেশের মিল।

ওয়ান হানড্রেড ইয়ারস অব সলিচুড গল্পের একশ বছর হলো ১৮২০ থেকে ১৯২০। উত্তর ঔপনিবেশিক কালে একটি পরিবার কীভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলো আবার শতবছরের পরিক্রমায় কীভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলো তা এই উপন্যাসের উপজীব্য। মাকেন্দো গ্রামটি ধীরে শহর হয়ে ওঠে, সেখানে প্রবেশ করে বহুজাতিক কোম্পানি কলা চাষের অজুহাতে, পরিবারটি জড়িয়ে পড়ে রাজনীতিতে, মাকেন্দোয় ছড়িয়ে পড়ে গৃহযুদ্ধ। অবশেষে টানা বন্যা আর ঝড়ে পুরো অঞ্চলটি পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। পুঁজিবাদের আগ্রাসন কী করে প্রকৃতিকে ধ্বংস করে, মানবিকতাকে ধ্বংস করে তার দলিল হচ্ছে এ উপন্যাস যা লিখিত হয়েছে জাদুবাস্তবতার গদ্যে। দ্বন্দ্বমুখর এক পরিবারকে আবর্তিত করে এর বিস্তার। তিনি মার্কেসের উপন্যাসে যে সাংস্কৃতিক নিসর্গ, যে মনস্তাত্ত্বিক নিসর্গ, যে ইতিহাসচিন্তা রয়েছে তার আভাস দিলেন। গোটা উপন্যাসটিকে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম শ্রোতাদের কাছে অত্যন্ত মনোজ্ঞভাবে তুলে ধরলেন। মাকেন্দো গ্রামে শ্রোতাদের মানসভ্রমণ হলো। আনিসুজ্জামানের কাজকে তিনি ঝরঝরে অনুবাদ বলে প্রশংসা করে এর বহুল প্রচার কামনা করলেন। সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জ্ঞানপ্রদায়ী অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হলো, জাদুবাস্তবতা থেকে আমরা ফিরে এলাম বাস্তব পৃথিবীতে!


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.