বইমেলা

নবম পর্ব : স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী, মেলার ‘ঘরে’ ফেরা

জালাল ফিরোজ | 10 Feb , 2019  


গ্রন্থমেলা ১৯৯৭ : স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী
১৯৯৭ সালের গ্রন্থমেলার শুরু, উদ্বোধন ও শেষ হয় একাডেমির দুইজন মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও দায়িত্ব লাভের এক বিশেষ পরিসরে। অধ্যাপক মনসুর মুসা ১৫ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ১৭ই ফেব্রুয়ারি একাডেমির মহাপরিচালক নিযুক্ত হন। অধ্যাপক মনসুর মুসা দায়িত্বরত থাকাবস্থায় একুশের অনুষ্ঠানমালা ১লা ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। তবে গ্রন্থমেলার শুরু অর্থাৎ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয় ১৮ই ফেব্রুয়ারি। রমজান মাস ও ঈদের কারণে বইমেলা পরে শুরু হয়। এই বছরের বইমেলা চলে ১৭ই মার্চ পর্যন্ত।

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে প্রথম গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি আবুল হোসেন। বিশেষ অথিথি ছিলেন যুব, ক্রিড়া ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সৈয়দ ইউসুফ হোসেন ও বাপুপ্রবিস-র মহাসচিব আখলাকুর রহমান। একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন স্বাগত ভাষণ দেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব মাহফুজুর রহমান। প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন :

মহান ভাষা আন্দোলনে আমাদের আত্নদানের প্রায়র্ধশতক ও স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের আড়াই দশক অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আজ আমরা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি প্রশ্নের মুখোমুখি নিজেদের দাঁড় করাতে পারি। আমরা কি মাতৃভাষার প্রতি আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি বিশ্বস্ত থাকতে পেরেছি? …আমরা প্রতিটি একুশে ফেব্রুয়ারিতে যেন নিজেদের প্রশ্ন করি—কী আমরা চেয়েছিলাম, কতটুকু আমরা পেয়েছি, এবং কতটুকু এখনও অনর্জিত। …১৯৭১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমীর এই পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়েই আমাদের মহান নেতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের অবিসংবাদিত প্রাণপুরুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমরা যেদিন স্বশাসন লাভ করব, সেদিন থেকেই বাংলাদেশের সর্বস্তরে বালা ভাষা ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করব।’ এ লক্ষ্যেই দেশের স্বাধীনতা লাভের সূচনালগ্ন থেকেই সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

১৯৯৭ সাল স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী। গ্রন্থমেলা ও অনুষ্ঠানমালার আয়োজনে স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী উদযাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। মেলার বাজেট বৃদ্ধি পায়। আগের বছর থেকে বাড়িয়ে ১৫. ৩০ লাখ করা হয়। রজত জয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচি নির্ধারিত হয়। দেশের বিশিষ্ট লেখকেরা স্বাধীনতা অর্জনের পঁচিশ বছর উপলক্ষে ‘সাহিত্য সাধনায় আমার পঁচিশ বছর : স্বাধীনতা-উত্তরকাল’ শীর্শক বিষয়ে একাডেমির মূল মঞ্চে বক্তব্য রাখেন। এই শিরোনামে আহমদ রফিক, কবি শামসুর রাহমান, কথাশিল্পী শওকত আলী, কথাশিল্পী রাজিয়া খান, সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদ, কবি সৈয়দ শামসুল হক, কথাশিল্পী আবু ইসহাক প্রমুখ বিভিন্ন দিন বক্তৃতা প্রদান করেন। এছাড়া পঁছিশ বছরে বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রবন্ধ পঠিত হয়। ২৬শে ফেব্রুয়ারি ‘পঁচিশ বছরের বাংলাদেশের বইমেলা’ বিষয়ে প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনা হয়। প্রবন্ধ পাঠ করেন হামিদুল ইসলাম। আলোচনা করেন মহিউদ্দিন আহমেদ ও শহিদুল ইসলাম। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ।

১৮ই ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় “জাত ‘একুশে’ : জনক ‘একুশে” শীর্ষক অমর একুশে বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিম। ২১শে ফেব্রুয়ারি সকালে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর বসে। ১০৮ জন কবি কবিতা পাঠ করেন। সকাল ৭টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলে।

মেলায় ৫৪০টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবার একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং একাডেমির সামনের রাস্তার দুইদিকে স্টল নির্মিত হয়। ২৫০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান একাডেমির ভেতরে এবং ২৯০টি প্রতিষ্ঠান বাইরে স্টল পায়। ১৪টি খাবারের স্টল ছিলো। বিকেল ২টা থেকে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলে। ২৩শে ফেব্রুয়ারি একটি স্টলে আগুন লাগে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রিত হয়। মেলায় প্রথম দিকে প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে। পূর্ববর্তী বছরের মতো জন-চাপে পাঠক-ক্রেতাদের অবস্থা দুর্বিসহ হয়। অপর্যাপ্ত পানি ও টয়লেট না-থাকায় মানুষের কষ্ট হয়। ভাসমান হকার ও শব্দদূষণ বিরাট সমস্যা হিসেবে বিরাজমান ছিলো। ২৮শে ফেব্রুয়ারি একাডেমির আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হয়। ১৭ই মার্চ পর্যন্ত মেলার মেয়াদ থাকলেও এই মাসের শুরু থেকে বইমেলায় মানুষের অংশগ্রহণ কমতে থাকে। বিভিন্ন পত্রিকায় মার্চে যে বইমেলা জমছে না সে-বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হতে থাকে। পত্রিকার ‘বিক্রি বাড়ছে না কমছে মানুষ’ (আজকের কাগজ, ৪ঠা মার্চ), ‘মেলা জমাতে চাই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’ (আজকের কাগজ, ৬ই মার্চ), ‘আর কোনো নয়া আশাবাদ নেই’ (আজকের কাগজ, ১০ই মার্চ), ‘মেলায় এখন নির্বাচিত মানুষ নির্বাচিত ক্রেতা’ (আজকের কাগজ, ১২ই মার্চ) — এই সব শিরোনাম থেকেই বোঝা যায় মার্চে বইমেলা ভাঙ্গা হাটের রূপ নেয়। মেলা না-জমায় প্রিতিবাদ হতে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রতিবাদে অংশ নিয়ে মৌন মিছিল করেন।

বাংলা একাডেমি ১৯৯৭ সালের বইমেলায় ১৪ লাখ টাকার বই বিক্রি করে। ১৭ই মার্চের সমাপনী অনুষ্ঠান হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কবি শামসুর রাহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি ছিলেন যথাক্রমে কথাসাহিত্যিক শওকত আলী ও ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক পবিত্র সরকার। বক্তব্য রাখেন ভাষাশহীদ শফিউর রহমানের স্ত্রী বেগম আকলিমা খাতুন। স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। এই অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক অঙ্গীকার করেন যে, বইমেলা ‘আগামীতে বইমেলাই হবে, বারোয়ারি মেলা নয়।’

গ্রন্থমেলা ১৯৯৮ : প্রাঙ্গণে ফেরা, কেবল বইয়ের মেলা
১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বইমেলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং একাডেমির সামনে টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তায় অনুষ্ঠিত হয়। এই সময়ের মধ্যে মেলা কেবল আয়তনে বাড়েনি, বইয়ের সঙ্গে নানা উপাদানও মেলার সঙ্গে যুক্ত হয়। কয়েক বছরের মধ্যে বইমেলা নিজের প্রধান বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ‘বই নয়, অন্যান্য জিনিসের মেলা’য় পরিণত হয়। বইয়ের সঙ্গে এই মেলায় এহেন জিনিস নেই, যা তখন পাওয়া যেত না। শাক সবজি, হাঁড়ি-পাতিল, মুড়ি-চানাচুর, শার্ট-প্যান্ট, শাড়ি-পাঞ্জাবি থেকে সবকিছু। ফলে মেলা গ্রন্থমেলা থেকে ‘বারোয়ারি মেলা’য় পরিণত হয়। বইমালায় কেবল যে নানা ধরনের জিনিস পাওয়া যেতো তা-ই নয়, বিভিন্ন স্টলের রুচিহীন ও আপত্তিকর নামও দেওয়া হতো।

এই অবস্থার উন্নতি ঘটানোর জন্য লেখক-প্রকাশক-পাঠকের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন প্রতিশ্রুতি দেন যে, ১৯৯৮ সালে একাডেমির সামনের রাস্তা বাদ দিয়ে কেবল একাডেমির ভেতরের অঙ্গনে মেলা আয়োজিত হবে। এই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৯৯৮ সালে বইমেলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ফিরে আসে। এই ফেরারও প্রতিক্রিয়া হয়। মেলা কেবল একাডেমির ভেতরে আসায় স্থান সংকুলানের সমস্যা দেখা দেয়। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান স্টল পায়নি। এটা নিয়ে কিছু প্রকাশকের পক্ষ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত হয়।

যাহোক, ১৯৯৮ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করা হয়। মেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কবি শামসুর রাহমান। বিশেষ অতিথির ভাষণ দেন ড. নীলিমা ইব্রাহিম এবং যুব, ক্রিড়া ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। বক্তব্য রাখেন বাপুপ্রবিস-র সভাপতি ফজলুল হক বিএসসি। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব হাবীব-উল-আলম। প্রধান অতিথির ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন,

বাংলা একাডেমী আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা আজ বাণিজ্যকভাবে সংগঠিত বইয়ের মেলাই শুধু নয়, এ বইমেলা আমাদের চেতনারও অংশ। আমাদের মননের দিগন্তে বইমেলা স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে রেখাপাত করেছে। কারণ অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বাংলার লাখো গ্রন্থপ্রেমিক বই কেনার পাশাপাশি সৃজনশীলতার প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করতে সমবেত হন। বইমেলা আমাদের কাছে এ অর্থে মিলন মেলাও বটে। …জাতির জনক বঙ্গবন্ধু একুশের চেতনাসম্মত সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু একুশের চেতনার দুশমন প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকবৃন্দ তাঁকে হত্যা করে একুশের চেতনাকে অবলুপ্ত করে দিতে চেয়েছিলো। একুশের চেতনাকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র আর বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড একই সূত্রে গাঁথা।…কবি সাহিত্যেকেরা জাতির বিবেক। বাংলার প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে কবি-সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি কর্মীরা পালন করেছেন এক অনন্যসাধারণ ভূমিকা।…একবিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্নে বিশ্বের বুকে একটি মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টায় দেশের সংস্কৃতিকর্মীদের বিশাল দায়িত্ব রয়েছে। আশা করি দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ আমাদের শিল্পী সাহিত্যিকেরা সোনার বাংলা গড়ার বর্তমান সংগ্রামে এগিয়ে আসবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বইমেলা পরিদর্শনের সময় বাংলা একেডেমি স্টল থেকে ২ হাজার ৪৭০ টাকা দিয়ে ১৭টি বই ক্রয় করেন। একাডেমির সদস্য হিসেবে তিনি ৫০ শতাংশ কমিশনে এসব বই ক্রয় করেন।

এই বছর ২৯৭টি প্রতিষ্ঠান স্টল পায়। ৭ থেকে ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলা চলে। মেলার সময় ছিলো বিকেল ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। শুক্র ও শনিবারে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলে। সংবাদ মাধ্যমে শুরু থেকে মেলা সম্পর্কে ইতিবাচক সংবাদ/প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে থাকে। ৮ই ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘প্রথমদিনেই জমে উঠেছে বইমেলা’।

১৯৯৮ সালের বইমেলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো মেলা রাস্তা থেকে একাডেমি প্রাঙ্গণে আসে এবং মেলা শুধু গ্রন্থমেলার চরিত্র ফিরে পায়। দেশের লেখক-প্রকাশক-পাঠকেরা এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানান। সংবাদপত্রসমূহে পরিবর্তনের পক্ষে সংবাদ/প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘সর্বাঙ্গ সুন্দর বইমেলা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় :

বইপ্রেমী, লেখক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ নানা বয়সী হাজার হাজার নারী-পুরুষের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে বইমেলা। বই বিকি-কিনিও হচ্ছে প্রচুর। বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেকাংশে ব্যতিক্রমী এবারের বইমেলা নিয়ে জনমত ইতিবাচক। প্রায় সবাই বলছেন, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়। মাইকের চিৎকার, চেঁচামেচি নেই, অবাঞ্চিত ভিড় নেই। অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বেশ সুশৃংখলভাবেই বইমেলা চলছে।… প্রতিটি সন্ধ্যা বইপ্রিয় মানুষের সম্মিলনে বেশ প্রাণবন্ত ছিলো একাডেমী চত্বর।

২৮শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিচারপতি মুহম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, এবারের বইমেলায় যে পরিচ্ছন্ন রূপ এসেছে তার সাথে একুশের চেতনার একটা সামঞ্জস্য আছে। সমগ্র মেলায় বাংলা একাডেমি ২২ লাখ টাকার বই বিক্রি করে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় একাডেমির ইংরেজি-বাংলা অভিধান। এবারের সামগ্রিক আয়োজন সাম্প্রতিক অন্যান্য বছরের তুলনায় ‘ব্যতিক্রমী ও পরিচ্ছন্ন’ ছিলো।
(দশম পর্বে দেখুন : বইমেলায় প্রযুক্তির ব্যবহার, একুশে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি)

Flag Counter


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.