বইমেলা

স্থান সংকুলান হচ্ছে না, গ্রন্থমেলা একাডেমি প্রাঙ্গণের বাইরে নেয়ার দাবি (ষষ্ঠ পর্ব )

জালাল ফিরোজ | 6 Feb , 2019  

গ্রন্থমেলা ১৯৮৮ : লেখকের আলোকচিত্র
১৯৮৮ সালের গ্রন্থমেলা শুরু হয় ৭ই ফেব্রুয়ারি, চলে ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ৭ই ফেব্রুয়ারি বিকেলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন। তিনি গ্রন্থমেলার উদ্বোধনও করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক আবু হেনা মোস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানে বাপুপ্রবিস-র সহ-সভাপতি শেখ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বক্তব্য রাখেন। গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান সবাইকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও মেলার উদ্বোধক হিসেবে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন মাতৃভাষায় গ্রন্থ প্রকাশ, পাঠক সৃষ্টি, প্রকাশনা জগতের উন্নয়নের মাধ্যমে একুশে গ্রন্থমেলা কিভাবে জাতীয় গ্রন্থমেলায় রূপান্তরিত হচ্ছে সেদিকে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন :

বাংলা একাডেমীর এই গ্রন্থমেলা থেকে আমরা জানতে পারি, আমাদের দেশে মাতৃভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থের অবস্থা কি। তাই এই গ্রন্থমেলার গুরুত্বের কথা বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বিভিন্ন বিষয়ের কয়েক হাজার বই এই মেলায় প্রদর্শিত হবে। গভীর আগ্রহ নিয়ে নানা বয়সের নানা পেশা ও রুচির পাঠক এই সব বই দেখবেন এবং ক্রয় করবেন। বাংলা একাডেমীর এই গ্রন্থমেলা প্রতি বছর অধিক থেকে অধিকতর পাঠক সৃষ্টি করছে। এমন কি এই গ্রন্থমেলাকে উপলক্ষ করে প্রকাশক ও লেখকেরা তাঁদের বই প্রকাশ করছেন। সারা বছর দেশে যে বই বিক্রি হয়, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিক্রি হয় এই গ্রন্থমেলায়। তাই এই গ্রন্থমেলা আজ জাতীয় গ্রন্থমেলার রূপ লাভ করেছে।

এই বছরের মেলায় ৯৪টি প্রতিষ্ঠান ১৪২টি স্টল পায়। ৯৪টির মধ্যে ৮১টি ছিল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। বাকিগুলো বই ছাড়া অন্যান্য জিনিস বিক্রি করে।

গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বাংলা একাডেমি জীবনীগ্রন্থমালা সিরিজের অধীনে এই বছর ৩০ জন বিশিষ্ট লেখকের জীবনী প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে এই সিরিজ শুরু হয় এবং সেই বছর ৩০টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো ১৯৮৮ সালের একুশে ও গ্রন্থমেলার অনুষ্ঠানমালাকে তিনটি পর্বে বিভাজিত করা হয়। যথারীতি শিশু-কিশোর চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বাংলা একাডেমির বই নিয়ে আলোচনা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। তবে এই বছর প্রথম আবৃত্তি ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতা শুরু হয় বলে অনুমান করা যায়। একুশের স্মারকগ্রন্থ ’৮৮-তে আবৃত্তি ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতার বিষয় ও বিজয়ীদের নাম প্রকাশিত হয়। এই বছর আরও দুইটি বিশেষ আয়োজন ছিল। একটি হলো শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের অংকিত ছবি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা। অন্যটি হলো বর্ধমান ভবনের তিনতলায় বিশিষ্ট লেখকদের বক্তব্য সম্বলিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন। গোলাম হিলালীর সংগ্রহ করা ৮৫ জন লেখকের আলোকচিত্র এতে প্রদর্শিত হয়।

গ্রন্থমেলা ১৯৮৯ : স্থান সংকুলানের সমস্যা
১৯৮৯ সালে গ্রন্থমেলা আগের বছরগুলোর তুলনায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও আয়তনে ব্যাপকভাবে আয়োজিত হয়। এর আগে এক বছরে সর্বোচ্চ ১০৩টি প্রতিষ্ঠান (১৯৮৭ সালে) মেলায় অংশ নেয়। এবার ১৫৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এগুলোর মধ্যে ১৩৬টি ছিল বই প্রকাশক ও বিক্রেতা এবং বাকি ২১টি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। ১৫৭টি প্রতিষ্ঠানকে ৮ ফুট x 8 ফুট x ৮ ফুট আকারের ২২৭টি ইউনিট ভাড়া দেওয়া হয়। মেলা চলে ৭ থেকে ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

৭ই ফেব্রুয়ারি বিকেলে গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক আবু হেনা মোস্তফা কামাল। বক্তব্য রাখেন বাপুপ্রবিস-র মহাসচিব মো. আবু তাহের ও মেলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আশফাক-উল-আলম। প্রধান অতিথির ভাষণে অধাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন :

অবিস্মরণীয় অমর একুশের শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত বাংলা একাডেমীর বার্ষিক বইমেলা আমাদের সাংস্কৃতিক অধিকারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার সংগ্রামে যাঁরা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এর চাইতে সুন্দর প্রেক্ষিত পাওয়া দুষ্কর।…গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলা একাডেমী যে নীতিমালা গ্রহণ করেছিলেন উত্তর উত্তর মেলার সাফল্য তার কার্যকারিতাই প্রমাণ করছে। বই প্রকাশনার ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমীর নিজস্ব অবদান প্রশংসার দাবি রাখে। বাংলা একাডেমীর প্রকাশনা শুধু একাডেমীর জন্য নয়, দেশ ও জাতির সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

মেলা উপলক্ষে একাডেমী জীবনীগ্রন্থমালা সিরিজের অধীনে ৩৪টি এবং চিরায়ত কিশোর গ্রন্থমেলা সিরিজের ১৪টি গ্রন্থ প্রকাশ করে। ১৯৮৯ সালেও একাডেমি তিন পর্বে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদি হয়। এই বছর একাডেমি একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। বর্ধমান ভবনের তিনতলায় ‘বাংলা একাডেমীর একুশে উদযাপন : বর্ষে বর্ষে’ শীর্ষক এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে।

এই বছর মেলায় অধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ায় একাডেমি প্রাঙ্গণে স্থান সংকুলানের সমস্যা প্রকটভাবে দেখা দেয়। স্বল্প পরিসরের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাবেশ ঘটে বলে বইমেলাকে কেন্দ্র করে নানা জটিলতা দেখা দেয়। এজন্য একাডেমী প্রাঙ্গণে বইমেলা ও অনুষ্ঠানাদি আয়োজনে বর্ধিত জায়গার প্রয়োজনীয়তা অনেকে অনুভব করেন। অন্যদিকে এই সময়ে মেলায় সাধারণ দর্শক-ক্রেতার সংখ্যাও অনেক বৃদ্ধি পায়। ফলে স্বল্প পরিসরের মধ্যে সবার স্থান সংকুলান করা এক বিরাট সমস্যা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। মেলা প্রাঙ্গণে অত্যধিক ভীড়ের কারণে অনেক নারী প্রতি বছর বখাটে ও সুযোগ সন্ধানী যুবকদের দ্বারা নিপীড়নের শিকার হতে থাকেন। এই অবস্থা অনেককে ভাবিয়ে তোলে। এই সমস্যা সমাধানে বিকল্প ও উদ্ভাবনীমূলক প্রস্তাবও আসতে থাকে। এ-রকম এক প্রস্তাব প্রকাশ করেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ফখরুল ইসলাম ফারুক। দৈনিক সংবাদ-এ প্রকাশিত এক চিঠিতে তিনি বলেন :

ক্রমান্বয়ে বাংলা একাডেমীর অপ্রশস্ত অঙ্গণে যে হারে মেলার সময় মানুষের ভীড়ে ও তাদের পদাঘাতে ধূলি ধুম্রের সৃষ্টি হয় তাতে পরিবারের সবাই তো দূরের কথা একান্ত নিজে একা গিয়েও যে সুস্থভাবে ফিরতে পারব তার নিশ্চয়তা দিনকে দিন কমে জাচ্ছে। অথচ কর্তৃপক্ষ এই [বিষয়ে] কিছু ভাবছেন কিনা বুঝতে পারছি না। প্রতি বছর মেলা অঙ্গনে বিশেষ করে সংকীর্ণ গেটে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পত্রিকার পাতায় দেখা যায়। ঘটনাগুলো পত্রিকায় যারা পড়েন তারা কতটুকু অনুধাবন করতে পারেন জানিনে—তবে ভুক্তভোগীরাই কেবল টের পান অতি ভীড়ের সুযোগে এক শ্রেণীর উচ্ছৃংখল যুবেকের অশ্লীলতার স্বাক্ষর। নিজের চোখে না দেখলে বোঝা যায় না সভ্য পোশাকের আবরণে ভদ্রবেশী এই যুবকদের উচ্ছৃংখলতা।

এই অবস্থার চিত্র তুলে ধরে পত্রলেখক সমাধানের লক্ষ্যে কিছু পরামর্শও প্রদান করেন। তাঁর মতে :
একাডেমী কর্তৃপক্ষকে শহরের ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মেলা চলাকালীন দিনগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর থেকে দোয়েল চত্বর অবধি সমস্ত ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। এ রাস্তাটা এতটা জরুরি নয় যে এর জন্য ট্রাফিক কর্তৃপক্ষকে বেশী ঝামেলায় পড়তে হবে, অনেকগুলো ডাইভারশান রোড আছে যেগুলোকে একটা দিন বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে চালিয়ে নিতে পারবেন। এর ফলে একাডেমী কর্তৃপক্ষ প্রচুর খোলা জায়গা পাবেন যার দু’পাশে ১০ ফুট করে ২০ ফুট চওড়া ফুটপাত এবং মাঝখানে প্রায় ৬০ ফুট চওড়া সড়ক পাওয়া যাবে। এর ফলে কর্তৃপক্ষ মেলায় আগ্রহী স্টলগুলোকে নিজেদের প্রয়োজনমাফিক সাজাতে (arrangement) পারবেন। যেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্টল কর্তৃপক্ষ একাডেমীর নিজস্ব প্রাঙ্গণের সুবিধামত জায়গায় বসাবেন, এর ভেতরে থাকবে বই স্টল, কিছু কুটির শিল্প স্টল, দু’ একটি ক্যাসেট বিক্রয় স্টল ও গুটিকয় রেস্তোরা। আর ভেতরে বাদ বাকী ফাকা জায়গাগুলো থাকবে বিভিন্ন সামাজিক, নাট্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর জন্য, যারা সুবিধামত জায়গায় উন্মুক্ত মঞ্চে তাদের দৈনন্দিনের অনুষ্ঠানগুলো করবে। এছাড়া একাডেমীর স্টেজ বরাবরের মত যেখানে হয় সেখানেই থাকবে আর বাদ বাকী অর্থ্যাৎ মেলায় আগত মোট স্টলের ৬০ ভাগ দেয়ালঘেরা প্রাঙ্গণের বাইরে রাস্তার ধার ঘেষে দুই ধারের ১০ ফুট চওড়া ফুটপাতগুলোর উপর বসবে। এইসব স্টলের মধ্যে বই, খাবার-দারারসহ সব ধরনের স্টলই থাকবে। তবে মেলা চলাকালীন সময়ে যাতে আণবিক শক্তি কমিশন ও পুষ্টি ভবনের কার্যাদি ঠিকমত চলতে পারে তার জন্য ওদের দেয়াল সংলগ্ন ফুটপাতটুকু ফাকা রাখতে হবে। আর উল্টোদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন ১০ ফুট চওড়া ফুটপাতটুকু স্টলের জন্য ব্যবহার করা যাবে। আর মেলায় আগত বিভিন্ন প্রকার যানবাহন পার্ক করার জন্য তিন নেতার মাজার সংলগ্ন সামনের রাস্তার অংশ ও তার উল্টো দিকের কিছু অংশ এবং আণবিক শক্তি কমিশনের মেইন গেট বাদে টিএসসি’র দেয়ালের পার্শের রাস্তাগুলো পার্কিং এর জন্য ব্যবহার করা যাবে। আমার মনে হয় এই ব্যবস্থায় মেলার আয়োজন নিলে আর কোন অনাকাঙ্খিত ভিড় বা দুর্ঘটনার কারণ থাকবে না।

অমর একুশে বইমেলা ১৯৮৯ এবং এই বছরের অনুষ্ঠানমালার নানাদিক বিশ্লেষণ করে কবি ও সাংবাদিক সাইয়িদ আতীকুল্লাহ লিখেন :

আকারে আয়তনে বাংলা একাডেমীর ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠানমালা প্রতিবছরই বড়ো হচ্ছে। শুধুমাত্র একাডেমী প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানকে সীমাবদ্ধ রাখার দিন বোধহয় শেষ হয়ে গেছে। আশেপাশে যেসব প্রতিষ্ঠান আছে তাদের খালি পড়ে থাকা জায়গা অনায়াসেই ব্যবহার করা যেতে পারে। এ জন্যে আন্ত:প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের প্রয়োজন এবং শেষ পর্যন্ত এ ব্যাপারে সরকারী সহযোগিতারও দরকার হবে। এজন্যে বাড়তি অর্থের মতো সাময়িকভাবে হলেও বাড়তি কিছু কর্মীরও প্রয়োজন, যারা বিশেষভাবে একাডেমী মেলার পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত থাকবেন। এসব এবং অনুষ্ঠানগুলোকে আরও সুন্দর এবং পরিবেশের সুস্থতার নানা সমস্যা নিয়ে একাডেমী কর্তৃপক্ষ চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত এসব চিন্তার কি ফল হয় সে সম্পর্কে অনিশ্চয়তা আছে।

এক মাসব্যাপী একটি বড়ো মাপের সাংস্কৃতিক ঘটনাকে প্রতিদিন রূপায়িত করার কাজটা খুব সহজসাধ্য নয়। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলা একাডেমীতে অনুষ্ঠানাদি এবং বইমেলা যেভাবে মোটামুটি নির্বিঘ্নে হয়ে গেল তার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি সঙ্গত কারণেই অনেক সাধুবাদ পাবার যোগ্য। সামান্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটি বিচ্যুতির জন্য কিছু ধিক্কারও জুটেছে বাংলা একাডেমীর।

দৈনিক বাংলা-য় প্রকাশিত ‘বই মেলার এই সমাপ্তি দিনে’ শীর্ষক এক উপ-সম্পাদকীয় কলামে সালেহ চৌধুরী লিখেন,

…যে বই মেলা আজ শেষ হতে চলেছে তার স্মৃতি অবিমিশ্র আনন্দের স্মৃতি হলে অবশ্যই আমাদের সুখের সীমা থাকতো না। হয়নি বলেও অবিশ্যি হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বিষাদ আছে বলেই আনন্দের আয়োজন। তাকে জয় করার সাধনাতেই সকল আয়োজনের সার্থকতা। বই মেলার আয়োজনকে সে সাধনার উচ্চস্তরে নিয়ে যেতে হবে।

বই মেলার সংগঠন বাংলা একাডেমীর অতিরিক্ত দায়িত্ব হয়েও অন্যতম প্রধান দায়িত্বের পরিণতি পেয়েছে। এ দায়িত্বের গুরুত্ব অনুধাবনে একাডেমী যেমন ভুল করেনি, দায়িত্বের যথাযথ পালনে নিষ্ঠারও কোন ঘাটতি নেই। কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা একাডেমীর কর্মীদের যথেষ্ট দক্ষও করে তুলেছে। মাসব্যাপী উৎসবের পরিকল্পনা আর পরিচালনায় সে দক্ষতার ছাপ পরিস্ফুট। তবে স্থান সংকুলানের সমস্যা ক্রমেই অনতিক্রম্য হয়ে উঠেছে। স্বল্প পরিসরে উপছে পড়া ভিড়ই অনেক বিপত্তির কারণ। এর একটি কিছু সুরহার কথা এখনই ভাবা উচিত। জায়গাতো ইচ্ছে করলেই টেনে বাড়ানোর উপায় নেই, সমাধান তাই অন্যপথে খুঁজতে হবে। দোকানের সংখ্যা কিছু কমিয়ে, বই ছাড়া অন্য পসরার পরিবেশনা অন্যত্র সরিয়ে কিছু করার কথা ভাবা যায় কি?

সংবাদপত্রে প্রকাশিত এসব মতামত থেকে দেখা যায়, ১৯৮৯ সালের দিকে এসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ গ্রন্থমেলার স্থান সংকুলানের জন্য পর্যাপ্ত বিবেচিত হচ্ছে না। মেলাকে একাডেমির বাইরে নিয়ে যাওয়ার দাবি উঠতে থাকে।

টীকা:
১. একুশের স্মারকগ্রন্থ ‘৮৮, বাংলা একাডেমী, ঢাকা ১৯৮৮, পৃ. ৬৭-৬৮
২, একুশের স্মারকগ্রন্থ ‘৮৯, বাংলা একাডেমী, ঢাকা ১৯৮৯, পৃ. ৬৫ ও ৬৭
৩. দৈনিক সংবাদ, ঢাকা, ২ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৯
৪. সাইয়িদ আতিকুল্লাহ ‘বাংলা একাডেমীতে ঊননব্বইর বর্ণাঢ্য বইমেলা শেষ হয়ে গেল’, একুশের স্মারকগ্রন্থ ‘৮৯, বাংলা একাডেমী, ঢাকা ১৯৮৯, পৃ. ১৬৭-১৬৮
৫. দেখুন, দৈনিক বাংলা, ঢাকা, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯, পৃ. ৬

(সপ্তম পর্বে দেখুন : ছাত্র আন্দোলন, রাস্তায় মেলা)

Flag Counter


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.