বিশ্বসাহিত্য

মুরাকামির নিভৃতাচার

ফারুক মঈনউদ্দীন | 12 Feb , 2019  


হারুকি মুরাকামি (জন্ম: ১৯৪৯) এমন একসময়ে বেড়ে ওঠেন যখন জাপানকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরাজয়ের গ্লানি মাথায় নিয়ে পুনর্গঠনের আড়ালে আমেরিকান দখলদারিত্ব এবং অভিভাবকত্ব মেনে নিতে হয়। তিন বছরের মার্কিন শাসনের সময় দেশটিতে চালানো হয় ব্যাপক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার। সুতরাং আশৈশব পরিচিত মার্কিন জীবন যাপন পদ্ধতি তাঁর জীবনকেও বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর বাবা ছিলেন সাহিত্যের শিক্ষক, আর পিতামহ বৌদ্ধ ভিক্ষু। তাঁর শৈশবাবস্থায় মুরাকামির পরিবার ব্যস্ত বন্দরনগরী কোবে চলে যায়। ব্যস্ত বন্দরের কারণে এখানে বিদেশী নাগরিকদের আনাগোনা ছিল অব্যাহত। সে সময় আমেরিকান নাবিকদেরও বিশাল সমাবেশ ছিল সেখানে। তাঁর শিশুমনের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী এসব কারণেই বোধ করি পাশ্চাত্য শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি মুরাকামির বিশেষ আকর্ষণ ছিল। তাঁর বাবা-মা দুজনই চেষ্টা করেছিলেন জাপানি সাহিত্য সম্পর্কে তাঁকে আগ্রহী করে তুলতে। কিন্তু প্রথাগত পড়াশোনায় তাঁর মন ছিল না। তাঁর অনুরক্তি ছিল ক্রাইম ফিকশনে। স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি পুরোনো বইয়ের দোকান থেকে পেপারব্যাক কিনে পড়ার মাধ্যমে ইংরেজি পাঠের অভ্যেস রপ্ত করেন।
লায়েক হওয়ার পর মুরাকামি ভর্তি হন টোকিওর ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটির নাট্যতত্ত্ব বিভাগে। আগে থেকেই তিনি ছিলেন জ্যাজ সংগীত আর হালিউডের ছবির বিশেষ ভক্ত, পড়তেন বেশির ভাগ পাশ্চাত্যের গল্প-উপন্যাস। তাঁর নিজের ভাষায়, ‘যুদ্ধের ঠিক পরপরই জন্ম বলে আমি আমেরিকার সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠি: আমি শুনতাম জ্যাজ ও আমেরিকান পপ সংগীত, দেখতাম আমেরিকান টিভি শো—এটা ছিল অন্য জগতের দিকে একটা জানালা। কিন্তু যা-ই হোক, ক্রমে আমি আমার নিজস্ব কায়দা খুঁজে পাই। সেটা জাপানি বা আমেরিকান নয়—আমার নিজস্ব কায়দা।’ এসব কারণেই বোধ করি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষভাগে এসে তিনি প্রথম কাজ নেন একটা রেকর্ডের দোকানে।
ছাত্রাবস্থা শেষ হওয়ার প্রায় সাথে সাথে তিনি তাঁর স্ত্রীর সাথে মিলে চালু করেন তাঁর পোষা বিড়ালের নামে একটা কফি শপ ও জ্যাজ বার, ‘পিটার ক্যাট’। এ সময়েই লেখালেখির জগতে প্রবেশ ঘটে তাঁর। মধ্যরাত অবধি বারে কাজ করে তারপর সব সাফ-সুতরো করে লিখতে বসতেন তিনি। ১৯৭৮ সালে তাঁর উপন্যাস লেখার প্রথম প্রেরণার কথা দিনক্ষণ উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন এই বইতে। একটি বেসবল প্রতিযোগিতায় খেলা দেখতে দেখতে তিনি এই ধারনায় উপনীত হলেন যে তিনি উপন্যাস লিখতে পারেন। লেখালেখির জগতে প্রবেশ করার সেই চিন্তাটি হয়তো আগেই তাঁর মাথায় এসেছিল। তাঁর ভাষায়, ‘এক রাতে আমি [আমার] ক্লাবের বারে দেখি কয়েকজন কৃষ্ণ আমেরিকান সৈনিক কাঁদছে, কারণ তাদের খুব মনে পড়ছে আমেরিকার কথা। . . . আমি বুঝতে পারি, এই পাশ্চাত্য সংস্কৃতি আমি যতই পছন্দ করি না কেন, তা এই সৈনিকদের জন্য যতটুকু, আমার কাছে কখনোই ততখানি হবে না। এ কারণেই আমি লিখতে শুরু করি।’
আবার গার্ডিয়ান পত্রিকার সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, জানতেন না কীভাবে তিনি একজন লেখক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ‘আমার কি বিকল্প জীবনের ধারনা ছিল? হ্যাঁ, ছিল। সে জন্য এখনো আমার বেশ অবাক লাগে। কখনো ভাবি, কেন আমি এই মুহূর্তে একজন ঔপন্যাসিক। কেন একজন পেশাদার লেখক হলাম তার কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই। কিছু একটা ঘটেছিল, আর তাই আমি একজন লেখক হই।’
লেখালেখির এই প্রয়াসে ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস হিয়ার দ্য উইন্ড সিং, যেটি গুঞ্জো সাহিত্য সাময়িকী পুরস্কার পায়। তার পরের বছর প্রকাশিত হয় পিনবল ১৯৭৩ এবং ১৯৮২ সালে অ্যা ওয়াইল্ড শিপ চেজ। জ্যাজ বার চালানো এবং লেখালেখির কাজ যুগপৎভাবে করা আর সম্ভব হচ্ছিল না বলে তিনি বারটা বিক্রি করে দিয়ে সম্পূর্ণভাবে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেছিলেন।
লেখালেখির শুরু থেকেই অন্যদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে পছন্দ করতেন তিনি। তাই লেখকদের কোনো সংঘ বা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত হননি কখনো। একারণেই বোধ করি অতিমাত্রায় মার্কিনঘেঁষা বলে অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। স্কুলে থাকতেও তিনি একা নিজের মধ্যে থাকতে স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন। তাঁর নিজের ভাষায় ‘আমি এমন একজন মানুষ যে একা একা থাকতে পছন্দ করে। . . . রোজ এক বা দুই ঘণ্টা কারও সাথে কথা না বলে একাকী দৌড়ে এবং চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা একা নিজের টেবিলে কাটানোকে কঠিন বা একঘেয়ে মনে করি না আমি। ছোটবেলা থেকেই এই প্রবণতা আমার ছিল, বেছে নিতে বলা হলে আমি অন্য কারও সঙ্গ পাওয়ার চেয়ে একাকী বই পড়া বা গান শোনায় মনোযোগ দেওয়াকেই বেছে নিতাম। সব সময় নিজে নিজে কোনো কিছু করার কথা ভাবতে পারতাম আমি।’
তাঁর চতুর্থ বই দ্য হার্ড বয়েলড ওয়ান্ডারল্যান্ড অ্যান্ড দ্য এন্ড অভ দ্য ওয়ার্ল্ড প্রকাশিত হওয়ার পর ১৯৮৬ সালে মুরাকামি বছর তিনেক জন্য সস্ত্রীক রোম বসবাস করেন। সেখান থেকে ফিরে এসে পাড়ি দেন যুক্তরাষ্ট্রে, সেখানে বছর দুয়েক প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিেিত ভিজিটিং স্কলার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তার পর বস্টনের টাফটস ইউনিভার্সিটিতে দুবছর কাটান আবাসিক লেখক হিসেবে। এখানে অবস্থানকালে তিনি রচনা করেন উপন্যাস দ্য উইন্ড আপ বার্ড ক্রনিকল। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডি লিট ডিগ্রি দান করে।
তাঁর বস্টন অবস্থানকালে ১৯৯৫ সালে এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কোবের প্রায় ছয় হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। জাপানি অর্থনীতির ওপর ব্যাপক আঘাত হানা এই দুর্যোগের পর পরই টোকিওর সাব ওয়েতে জাপানি ধর্মীয় জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর গ্যাস হামলায় বারো জনের মৃত্যু এবং হাজার খানেক মানুষ অসুস্থ হওয়ার খবর জানার পর মুরাকামি স্বদেশের প্রতি এক অব্যক্ত আকর্ষণে দেশে ফেরার টান অনুভব করেন।
তাঁর গল্প এবং উপন্যাস বছরের পর বছর ধরে জাপান এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেস্ট সেলার হয়েছে, ৫০টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে তাঁর বিভিন্ন বই, বিক্রি হয়েছে লক্ষ লক্ষ কপি। ১৯৭৯ সালে প্রথম উপন্যাস হিয়ার দ্য উইন্ড সিংয়ের জন্য গুঞ্জো পুরস্কার পাওয়ার পর তাঁর ছয়টি বই (অ্যা ওয়াইল্ড শিপ চেজ, দ্য হার্ড বয়েলড ওয়ান্ডারল্যান্ড অ্যান্ড দ্য এন্ড অভ দ্য ওয়ার্ল্ড, দ্য উইন্ড আপ বার্ড ক্রনিকল, আন্ডারগ্রাউন্ড, কাফকা অন দ্য শোর, ব্লাইন্ড উইলো, স্লিপিং উওম্যান) জিতে নিয়েছে বিভিন্ন পুরস্কার। এ ছাড়াও তিনি ব্যক্তিগতভাবে পেয়েছেন ফ্রানৎজ কাফকা পুরস্কার (২০০৬), জেরুজালেম পুরস্কার (২০০৯), কাতালুনিয়া পুরস্কার (২০১১), ওয়েল্ট লিটাটুরপ্রাইস (২০১৪), হান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন লিটারেচার পুরস্কার (২০১৬)। ২০১৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বাতিল করা হলে অস্থায়ীভাবে প্রবর্তিত নিউ অ্যাকাডেমি পুরস্কার, তথা বিকল্প নোবেলের জন্য প্রস্তাবিত চারজনের মধ্যে মুরাকামির নামও ছিল।
লেখক হিসেবে দেশে-বিদেশে তাঁর পাঠকপ্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যায় ওয়ান কিউ এইটি ফোর (১ছ৮৪) উপন্যাসটির বিক্রয়সংখ্যা থেকে। ব্যাপক অগ্রিম অর্ডারের কারণে বুকস্টোরে আসার আগেই বেস্ট সেলার হয়ে যায় বইটা। এক মাসের মধ্যে এটির বিক্রি সংখ্যা দশ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। বইটার নামকরণের মধ্যেও পাওয়া যায় তাঁর ওপর পাশ্চাত্যের প্রভাবের একটা দৃষ্টান্ত। নামটা ইংরেজ লেখক অরওয়েলের উপন্যাস নাইনটিন এইটি ফোর থেকেই নেওয়া, কারণ জাপানি ভাষায় নয় সংখ্যাটির উচ্চারণ ‘কিউ’। বইটির তৃতীয় খ- বের হলে বিক্রি হয় ৩৮ লক্ষ কপির ওপর। ফ্রান্সে বইটি প্রথমে ছাপা হয়েছিল ৭০ হাজার কপি, কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছিল। তাঁর নরওয়েজিয়ান উড বইটির নাম নেওয়া হয়েছিল বিটলসের একটা গান থেকে। তাঁর অগতানুগতিক স্মৃতিকথা হোয়াট আই টক অ্যাবাউট হোয়েন আই টক অ্যাবাউট রানিং-এর শিরোনামও নেওয়া হয়েছে আমেরিকান ছোটগল্পকার রেমন্ড কারভারের (১৯৩৮Ñ৮৮) একটা ছোটগল্প সংকলন হোয়াট উই টক অ্যাবাউট হোয়েন উই টক অ্যাবাউট লাভ থেকে।

বইটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালে। এটি মুরাকামিকে পরিচয় করিয়ে দেয় নতুন ভুবনের পাঠক মহলের সাথে। ব্যাপক সাড়া পাওয়ার কারণে আমাজনের রানিং অ্যান্ড জগিং বেস্টসেলার তালিকার পঞ্চম স্থানে উঠে আসে বইটি। তাঁর বয়স যখন ৩৩, তখন প্রথম দৌড়বিদ হিসেবে অবতীর্ন হন তিনি। ততদিনে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর তিনটি গ্রন্থ। তারপর থেকে লেখালেখির পাশাপাশি তিনি অগনিত স্বল্প পাল্লার দৌড়ে অংশগ্রহণ করার বাইরে মোট ২৬টি পূর্ণ ম্যারাথন দৌড়েছেন। তাঁর বয়স যখন ৪৭, তখন ৬২ মাইলের আলট্রা ম্যারাথন দৌড় সফলভাবে শেষ করতে পেরেছিলেন তিনি। তাঁর পাঠককুল বিস্ময়ের সাথে লক্ষ করে যে উপন্যাস লেখা এবং দৌড়—এই দুই বিপরীতধর্মী কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন তিনি। হোয়াট আই টক অ্যাবাউট . . . বইটির একটা বড় অংশ জুড়ে আছে বস্টনের চার্লস নদীর তীর ধরে নিউ ইয়র্ক সিটি ম্যারাথনের জন্য তাঁর অনুশীলনের বর্ণনা। এই সব বর্ণনার সাথে তিনি বার বার বিভিন্নভাবে তুলে এনেছেন তাঁর লেখক সত্ত্বার সাথে একজন দৌড়বিদের সম্পর্কের প্রসঙ্গ। তাঁর কাছে উভয় কাজের মধ্যে রয়েছে একটা নিকট সম্পর্ক ও সাযুজ্য। সেটাকে তিনি এভাবেই দেখেন, ‘আমি মনে করি, ঔপন্যাসিকের পেশায় হারা বা জেতার কোনো বিষয় নেই। বিক্রীত বইয়ের সংখ্যা, প্রাপ্ত পুরস্কার এবং সমালোচকদের প্রশংসা সাহিত্যে প্রাপ্তির একটা বাহ্যিক মাপকাঠি হতে পারে, কিন্তু এসবের কিছুই তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কারও লেখা নিজের নির্ধারণ করা মানদ- পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে কি না। . . . সেই অর্থে উপন্যাস লেখা ও ম্যারাথন দৌড়ানো খুব কাছাকাছি। মূলত একজন লেখকের একটা নীরব, অভ্যন্তরীণ প্রণোদনা থাকে এবং বাহ্যিকভাবে দৃশ্যমান কোনো স্বীকৃতি তিনি যাচনা করেন না। আমার কাছে দৌড়ানো হচ্ছে একই সাথে ব্যায়াম ও রূপক। দিনের পর দিন, রেসের পর রেস দৌড়াতে দৌড়াতে একটু একটু করে আমি উচ্চতা বাড়াই, প্রতিটি ধাপ পার হওয়ার পর নিজেকে ওপরে ওঠাই আমি।’
নিজেকে কখনোই অনন্যসাধারণ মনে করেন না মুরাকামি। একবার নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে দৌড়ানোর জন্য গেলে এক মহিলা তাঁকে জিগ্যেস করেন তিনিই সেই বিখ্যাত জাপানি ঔপন্যাসিক কি না? তিনি জবাবে বলেন, না ঠিক তা নয়, আমি কেবলই একজন লেখক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যখন লোকজন আমাকে এভাবে জিগ্যেস করে আমার খুব অবাক লাগে, কারণ, আমি একজন সাধারণ মানুষমাত্র। বুঝতে পারি না মানুষ কেন আমার সাথে কথা বলতে চায়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি নিজেকে একজন শিল্পী মনে করি না। লিখতে পারে তেমনই একজন মানুষ কেবল।’
খাতির এই বিড়ম্বনা নিভৃতচারী মুরাকামিকে সত্যিকারভাবে বিব্রত করে। তাঁর চরিত্রগুলোও যেন তাঁর মতোই যেন একাকী ও বিচ্ছিন্ন নির্বিকার একেকজন দর্শক। তবে নিজের রচনা নিয়ে তাঁর একটা অদ্ভুত ধারণা আছে। তিনি মনে করেন কোনো দেশে যখন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থাকে, সে সব দেশের লোকজন তখন তাঁর বই বেশি পড়ে। তিনি বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায়, তখন সেখানে ছিল বিশাল অনিশ্চয়তা, সেই ১৯৯০-এর দশকে রাশিয়াতে তাঁর বই খুব জনপ্রিয় ছিল। তাঁর মতে, অনিশ্চয়তার মধ্যেই লোকজন তাঁর বই বেশি পছন্দ করে। জার্মানিতে যখন বার্লিন দেয়ালের পতন হয়, তখনো সেখানে ছিল অনিশ্চয়তা, সে সময়েও লোকজন তাঁর বই বেশি পড়ত। অতি সম্প্রতি (জুলাই ২০১৮) মুরাকামির উপন্যাস কিলিং কমেন্দাতোরের চীনা অনুবাদ হংকং বই মেলায় প্রকাশিত হলে কর্তৃপক্ষ এটিকে অশ্লীলতার দায়ে অভিযুক্ত করে। নির্দেশ দেওয়া হয়, বইটি যাতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত মলাটবন্দী করে বাজারজাত করা হয়। উল্লেখ্য এটির মূল জাপানি সংস্করণ ছাপা হয়েছিল তেরো লক্ষ কপি।
নিজের লেখা নিয়ে এই ধরনের মতামত সত্ত্বেও মুরাকামি সব সময় চেষ্টা করেছেন নিভৃতে থাকতে। প্রথম উপন্যাসটি গুঞ্জো পুরস্কার পাওয়ার পর তাঁর দ্বিতীয় ও তৃতীয় উপন্যাস হিয়ার দ্য উইন্ড সিং এবং পিনবল, ১৯৭৩ আকুতাগাওয়া পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও শেষাবধি কোনোটাই পুরস্কার জেতেনি। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘কোনোটা নিয়েই আমার কোনো মাথাব্যথা ছিল না। পুরস্কার জিতলে আমাকে সাক্ষাৎকার আর ফরমায়েশি লেখার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়তে হতো, ভয় ছিল এসব আমার জ্যাজক্লাবটা চালানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।’ ২০১৮ সালে বিকল্প নোবেলে তাঁর নাম হ্রস্বতালিকায় উঠে এলে তিনি তাঁর নাম প্রত্যাহার করে নিতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, কারণ, সংবাদ মাধ্যমের লক্ষ্যবস্তু হওয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখে লেখার কাজে মনোনিবেশ করতে চান তিনি। বিশ্বজোড়া তাঁর অগনিত পাঠক প্রতীক্ষায় আছেন বিকল্প নয়, মূল নোবেল পুরস্কারটা তাঁকে কখন দেওয়া হবে।
Flag Counter


1 Response

  1. লীনা দিলরুবা says:

    চমৎকার একটি লেখা! ফারুক মঈনউদ্দীনের কাছ থেকে মুরাকামির সেরা লেখাগুলির অনুবাদ চাই। ‘অনন্য জীবনানন্দ’ দিয়ে তিনি ইতিপূর্বে অনুবাদে তাঁর দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.