প্রবন্ধ

ভাবনগর সাধুসঙ্গের সাধকশিল্পীদের ঐতিহাসিক তৎপরতা

মাহফুজ পাঠক | 13 Jan , 2019  

The introduction of lyrics from the Charyageete among contemporary Baul and Fakir Practitioners is a very interesting project.

-Dr Carola Erika Lorea.

বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যিক উপাদান হিসেবে চর্যাপদ বা চর্যাগানের প্রাচীনত্ব প্রায় এক হাজারের বছরের পুরানো। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহসহ নানা মুণির মতে, চর্যা-সংস্কৃতির উদ্ভব ও বিকাশকাল ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। সেই সঙ্গে একথা প্রতিষ্ঠিত সত্য যে চর্যা-সংস্কৃতির বিকাশ ও বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ৭৮১ থেকে ৮২১ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত নওগাঁর সোমপুর বিহার তথা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের সাধককবি ও সিদ্ধাচার্যগণ। প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ৩০০ বছর ধরে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সংস্কৃতির সাধনার ঐতিহ্য হিসেবে চর্যা গীতি, নৃত্য ও নাট্য চর্চা অব্যাহত ছিল এবং সে সময় তা সমগ্র বাংলাদেশসহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ হয়ে নেপাল ও তিব্বতে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বাংলায় সেন ও মুসলিম শাসনের প্রতাপে প্রাচীন বৌদ্ধ সংস্কৃতির চর্যা চর্চা বিলুপ্ত হয়ে যায়, যদিও নেপালে ও তিব্বতে চর্যা-সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ভাবনগর সাধুসঙ্গ দীর্ঘদিনের তৎপরতায় বাংলাদেশের সাধকশিল্পীদের মাঝে প্রাচীন কালের সাহিত্য-সংস্কৃতির নিদর্শন চর্যাগানের পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছে। এরই মধ্যে ভাবনগর সাধুসঙ্গের চর্যাগানের পুনর্জাগরণের স্বীকৃতি মিলেছে জাতীয় সংসদে মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূরের বর্ণনায়; এমনকি বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালায় ভাবনগর সাধুসঙ্গের সাধকশিল্পীরা চর্যাগান পরিবেশনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।


ভাবনগর সাধুসঙ্গ ও বৈচিত্র্যময় কর্মযজ্ঞ

ভাবনগর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিগত ৫ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতি বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়মিতভাবে ভাবনগর সাধুসঙ্গের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আসর বসে। ভাবনগর সাধুসঙ্গের এই সাপ্তাহিক সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আসরের একদিকে থাকে ধ্রুপদী থেকে সাম্প্রতিক সাহিত্যের পাঠ, আলোচনা এবং ঐতিহ্যবাহী সংগীতের উপস্থাপনা, যাতে যোগ দিয়ে থাকেন বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-শিক্ষার্থী, সাহিত্যিক-দার্শনিক-সাংবাদিক ও ভাবসাধকগণ; শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক পরিম-লের নানা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-গবেষকগণও প্রায় নিয়মিতভাবে এই সাধুসঙ্গে অংশ নিয়ে থাকেন।

এর মধ্যে ভাবনগর সাধুসঙ্গে যোগ দিয়ে লালন সাঁইজির গানের হিন্দি অনুবাদের কাজ সম্পন্ন করেছেন ভারতের প্রাক্তন কূটনৈতিক অধ্যাপক মুচকুন্দ দুবে। এছাড়া, জার্মানের হানা রুথ-থমসন ও ম্যাক্স স্টীলে, চেক রিপাবলিকের মার্টিন হৃবেক ও ইজবিনেগ মুখা, জাপানের মাসাহিকো তোগাওয়া, ফ্রান্সের ড. ইসাবেল অ্যান্টনিস, সারা জেন ও জেরেমি কদ্রন, ভারতের ড. মহুয়া মুখোপাধ্যায়, ড. সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়, সুকন্যা চক্রবর্তী, অনিকেত দে, নবারুণ মুখোপাধ্যায়সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০ জন গবেষক-পন্ডিত ভাবনগর সাধুসঙ্গে যোগ দিয়ে তাঁদের গবেষণাকর্ম সম্পর্কে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

ভাবনগর সাধুসঙ্গের এই সাপ্তাহিক আসরের সৃজনশীল উদ্যোগ যেন শুধু শুধু মুখের কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা আড্ডার সৃজনশীলতায় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিম-লের চিন্তা-গবেষণা ও সাংস্কৃতিক তৎপরতায় অর্থপূর্ণ কোনো নিবেদন যুক্ত করতে পারে–সেই ভাবনা থেকে ভাবনগর প্রথমদিকে সংগীতনৃবিদ্যা [এথনোমিউজিকোলজি] বিষয়ক কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করে, পরবর্তীতে চর্যাগানের পুনর্জাগরণের কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং বিগত ৫ বছরের প্রচেষ্টায় ভাবনগর সাধুসঙ্গ ঢাকাসহ প্রাচীন বাংলার চর্যাগানের সূতিকাগার নওগাঁ জেলার সোমপুর [পাহাড়পুর] বৌদ্ধ বিহার এলাকায় চর্যাগানের সাধকশিল্পী দল গড়ে তোলে। বর্তমান বাংলাদেশে ভাবনগর সাধুসঙ্গের উদ্যোগে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, সাতক্ষীরা প্রভৃতি জেলার বাউল-ফকির সাধকশিল্পী নিয়মিতভাবে চর্যাগান পরিবেশন করছেন।

উল্লেখ্য, ভাবনগর আকষ্মিকভাবে চর্যাগানের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। আসলে, ভাবনগরের প্রথম উদ্যোগ শুরু হয়েছিল ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটমন্ডলে “সাধুপরিবারের গান” শিরোনামের একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। অবাক করা বিষয় হল অনুষ্ঠানটিতে সাধুরা কোন প্রকার ইলেক্ট্রনিক শব্দযন্ত্র ছাড়াই গান শুনিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন। সেই আসরে প্রথমবারের মতো ভাবনগর সাধুসঙ্গ ঘোষণা করে, তাদের লক্ষ্য ‘খোলা গলার গান খোলা কানে শোনানো’, সেই লক্ষ্যে ভাবনগরের সাধুরা মোমবাতির আলোয় প্রাকৃতিক ধূপের গন্ধ ছড়িয়ে বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র গুপীযন্ত্র (একতারা), দোতারা, মন্দিরা, একতারা, বাঁশি ও প্রেমজুড়ির সুর-তাল সঙ্গ নিয়ে গেয়ে শুনিয়েছিলেন লালন সাঁই ও খোদাবকশ শাহের গান। এরই ধারাবাহিকতায় ভাবনগর ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল-মে মাসে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে [বাংলা একাডেমি গেটের বিপরীতে] প্রতি বুধবার সাধুসঙ্গের আয়োজন করে আসছে।

ভাবনগর সাধুসঙ্গ প্রথম থেকেই চেয়েছে এদেশের সৃজনশীল জ্ঞানচর্চার সাথে প্রচলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক জ্ঞানচর্চার একটি যুগল মিলন সম্ভব করতে। তাই ভাবনগর সাধুসঙ্গে মূলত পৃথিবীর নানান দেশের মহাজ্ঞানীদের সৎ চিন্তার সঙ্গে সঙ্গ করা হয়। সক্রেটিস-প্লেটো থেকে লালন সাঁই, মাইজভান্ডার, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, আহমদ ছফা, সেলিম আল দীন, শহীদুল জহির এমনকি সাম্প্রতিক কালের নানমুখী জ্ঞানচর্চার ধারা নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে।

২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে চর্যাগানের পুনর্জাগরণের অনুষ্ঠান ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে শিল্পকলা একাডেমি চর্যাগানের পুনর্জাগরণের অনুষ্ঠান

ভাবনগর সাধুসঙ্গের চর্যাগানের পুনর্জাগরণের ইতিহাস

২০১৫ খ্রিস্টাব্দে ভাবনগরের সাধুগুরুরা চর্যাপদের উৎসভূমি পাহাড়পুর বৌদ্ধপুর বিহারে গমন করেন এবং সেখানকার সাধু গুরুদের সাথে সম্মিলিতভাবে চর্যাগান পরিবেশন করেন। আশার কথা এই যে, জাপানের হিরোসিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিদ্যা ও উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক মাসাহিকো তোগোওয়া এবং তাঁর বাংলাদেশি জাপানিজ শিক্ষার্থীরা সেই চর্যাগান পর্যবেক্ষণ করেন এবং উৎসাহ প্রকাশ করেন। ফলে ভাবনগরের সাধক শিল্পীদের ভেতর দারুণ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।

ভাবনগর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, নাট্যকার-গবেষক ড. সাইমন জাকারিয়া ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে নানা পর্বে প্রাচীন চর্যাপদকে গানের উপযোগী করে সমকালিন বাংলায় গীতরূপান্তর অব্যাহত রাখেন। ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের সভাপতি ও অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের অনুপ্রেরণা তিনি পর্যায়ক্রমে ৫০টি প্রাচীন চর্যাপদকে সমকালীন বাংলা গীতরূপান্তর করেন এবং একই সঙ্গে সেই পদগুলিকে নির্ভর করে ‘ন নৈরামণি’ বা ‘বোধিদ্রুম’ নামে নাটক রচনা করেন। সেই নাটকের মধ্যে সংযোজন করে চর্যার কিছু পদের সমকালীন রূপান্তর, যাতে পর্যায়ক্রমে সুর-সংযোজন করেন রবিশংকর মৈত্রী, কফিল আহমেদ, কমল খালিদ, সাইম রানা ও শিমূল ইউসুফ। এর মধ্যে সাইমনের রূপান্তরিত চর্যাগান, চর্যাপদ অবলম্বনে রচিত নাটকের প্রতি দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় সমকালীন বাংলা ভাষার অন্যতম কবি উৎপলকুমার বসু এবং চর্যাপদ বিশেষজ্ঞ কলকাতাবিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিশ্বনাথ রায়ের। সমান্তরালে সাইমন জাকারিয়া বাংলাদেশের বাউল-ফকির সাধুদের সঙ্গে মিলে চর্যাগানের পুনর্জাগরণের স্বপ্ন দেখতে থাকেন এবং গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে কুষ্টিয়া অঞ্চলের বাউল-ফকিরদের সাথে বহুবার মতবিনিময় করে এবং তারই পূর্ণতা ঘটে ভাবনগর সাধুসঙ্গের চর্যাগানের সুরারোপে।

ভাবনগর সাধুসঙ্গের সাধুদের জন্য সাইমন জাকারিয়া শুধু চর্যার প্রথমপদ ‘কাআ তরুবর”-এর সুরের কাঠামো দান করেন। পরবর্তীতে সেই কাঠামো প্রাপ্তির উদ্দীপনা থেকে সুফি সাধক শাহ আলম দেওয়ান, আরজ আলী বয়াতী, বাবুল আক্তার বাচ্চু, আরিফ বাউল, বাউল অন্তর সরকার, ফারুক নূরী, রবিউল হক, ফারজানা লীনা, নাদিরা ইসলাম নীপা, সরফুদ্দিন দেওয়ান সাগর প্রমুখ চর্যার ৫০টি পদে সুরসংযোজন করেন।

ভাবনগর সাধুসঙ্গের উদ্যোগে সারা বাংলাদেশে সাধকশিল্পীদের মধ্যে চর্যাগানের পুনর্জাগরণের নিয়মিত কর্মশালা চলছে। ভাবনগর সাধুসঙ্গের সাধকশিল্পী ও চর্যাগানের অন্যতম সুরকার বাউল অন্তর সরকার বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গিয়ে প্রথমে সাধকশিল্পীদের শনাক্ত করেন, পরে তিনি শনাক্তকৃত সাধকশিল্পীদের মধ্যে চর্যাগানের পরিচয়, চর্যাগানের প্রয়োজনীয়তা, চর্যাগানের সুর-গায়কী ইত্যাদি বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং এক টানা কয়েকদিন শনাক্তকৃত শিল্পীদের মাঝে অবস্থান নিয়ে চর্যাগানের পুনর্জাগরণের তৎপরতা চালিয়ে আসছেন। এরমধ্যে ভাবনগর সাধুসঙ্গের তৎপরতায় বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, টাঙ্গাইল, জয়পুরহাট, নওগাঁ, ঢাকা, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রাম প্রভৃতি জেলায় চর্যাগানের পুনর্জাগরণ সম্ভব হয়েছে। এখন বাংলাদেশের প্রায় সহস্রাধিক সাধকশিল্পী নিয়মিতভাবে চর্যাগান করেন।

ভাবনগর সাধুসঙ্গের চর্যাগানের পুনর্জাগরণের কার্যক্রমের সাথে একাত্ম হয়েছেন গৌড়ীয় নৃত্য-সংগীতের প্রবর্তক অধ্যাপক মহুয়া মুখোপাধ্যায় ও অমিতাভ মুখোপাধ্যায়। এছাড়া, ভাবনগর সাধুসঙ্গের চর্যাগানের পুনর্জাগরণকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সংগীততাত্ত্বিক অধ্যাপক করুণাময় গোস্বামী। সম্প্রতি ভাবনগর সাধুসঙ্গের চর্যাগানের পুনর্জাগরণের সাথে যুক্ত রয়েছেন সাধকশিল্পী শিলা মল্লিক, সৃজনী তানিয়া, ফারুক হোসেন, আবাবিল ইহসান অলিক, পাখিমালা, কাওসারসহ বাংলাদেশের প্রায় সহস্রাধিক সাধকশিল্পী। ভাবনগর সাধুসঙ্গের প্রত্যয় হলো চর্যাগানের পুনর্জাগরণের মাধ্যমে প্রাচীন চর্যাপদের মূল ভাব-রস-সাধনকথা-মানবতার মন্ত্র ও আমাদের দেশ-কালের পরিচয় সমকালীন রুপান্তরিত গীতবাণী ও সুরে বাংলাদেশের বাউল-ফকিরদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া।

চর্যাপদের প্রকাশনার শতবর্ষ পূর্তিতে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও ভাবনগর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অদ্বয় বঙ্গাল শিরোনামে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। যেখানে বাণী দেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, ইমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী প্রয়াত কবি মাহবুবুল হক শাকিল, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বনাথ রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, জাপানের হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হান্স হারডার, কবি অসীম সাহা, নৃত্যশিল্পী ও গবেষক লুবনা মারিয়াম, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুল হক, কবি ও অধ্যাপক শোয়াইব জিবরান, ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির পিএইচডি ক্যান্ডিডেট ও সাধক কিথ ই. কান্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, কবি মোহাম্মদ সাদিক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শহীদ ইকবাল, কবি মিহির মুসাকী, সালেহ মুজাহিদ।

ভাবনগর সাধুসঙ্গের চর্যাগানের পুনর্জাগরণ বাংলা একাডেমিসহ বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে যেমন গৃহীত ও সম্বর্ধিত হয়েছে, তেমনি ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় যথা চেক রিপাবলিকে প্রাগ বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানের হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ইতালির রোম বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের টোকিও বিদেশ বিদ্যা বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্রান্সের ইনালকোসহ আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাবনগর সাধুসঙ্গের চর্যাগানের পুনর্জাগরণকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


ভাবনগর সাধুসঙ্গের অন্যান্য কর্মকান্ড

ভাবনগর সাধুসঙ্গ তথা ভাবনগর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০১৩-২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ, আমেরিকা, জাপান, জার্মান, ভারত ইত্যাদি নানা দেশের গবেষক-অধ্যাপকদের অংশগ্রহণে সংগীত নৃ-বিদ্যা (Ethnomusicology), বঙ্গবিদ্যা (Bengal Studies), পরিবেশনা বিদ্যা (Performance Studies) ইত্যাদি বিষয়ে তিনটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভা (International Symposium) আয়োজন করে। এছাড়া, ইউনেস্কো আয়োজিত ইন্টানজিবল হেরিটেজ বিষয়ক কর্মশালার অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জে প্রচলিত বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির একটি জনসংস্কৃতি-সমীক্ষণ পরিচালনা করে। এবং সেই সাথে বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, উন্নয়নের গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভাবনগর ফাউন্ডেশন ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে নানা ধরনের কর্ম তৎপরতায় সক্রিয় রয়েছে। ভাবনগর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে “ভাবনগর : ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব বেঙ্গল স্টাডিজ” প্রকাশিত হয়। আন্তজার্তিক গবেষণা জার্নাল অবাঙালি বঙ্গবিদ্যা বিশারদদের রচিত বাংলা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। এ যাবৎ ভাবনগরের ৮টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতি বুধবার বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে [বাংলা একাডেমি গেটের বিপরীতে] ভাবনগর সাধুসঙ্গের আয়োজন ঢাকা মহানগরের এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। বাংলাদেশের সৃজনশীল ও প্রতিষ্ঠানিক জ্ঞানের এই মিলন কেন্দ্র এখন যেমন বাংলাদেশের সকল প্রান্তের মানুষের মনে আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে তেমনি বঙ্গবিদ্যায় আগ্রহী আন্তর্জাতিক পরিম-লের গবেষক-প-িতদের জন্যেও আকর্ষণীয় প্রত্যক্ষ জ্ঞান আহরণের স্থান হয়ে উঠেছে।

Flag Counter


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.