গল্প

তোমার ধর্ম

দিলরুবা আহমেদ | 1 Jan , 2019  


চিত্রকর্ম: ফাহমিদা জামান ফ্লোরা
শাপলা আজ নিজেই মাকে ফোন করলো।
তার গলা শুনে মা বলে উঠলেন,ওরে আমার সোনাপাখী।
শাপলার মনটা কেমন যেন হঠাৎ কেদে উঠলো। তার মা। তার নিজের মা। কত রাগ করে সে সারাক্ষণ তাকে আগলে রাখে বলে। আর ঐ দিকে দ্রাবিড়া’দি খুজে সারা একজন মা কে। আসলেই দাঁত থাকতে মানুষ দাঁতের মর্যাদা বুঝে না, ঠিকই বলা হয় কথাটা। দ্রাবিড়া’দি শুনলেই বলতেন,দেখছি একমাত্র তুই-ই টু দা পয়েনট সব বুঝতে পারিস। জিজ্ঞেস করলো,
কি করছো?
এই তো তোর পথ চেয়ে আছি। গেছিস মাত্র দুইদিন অথচ মনে হচ্ছে দুই যুগ।
শাপলা হেসে উঠে। বলে,
চিন্তা নেই মাম, কালই চলে আসবো।
সে কি ! কেন? দ্রাবিড়ার সাথে গেলি তো থাকবি বলে ক’টা দিন। তোর বাবা অবশ্য খুব চিন্তা করছিল ওখানে চিটাগাং এ কিছু হিন্দু পরিবারে নাকি কারা আগুন দিয়েছে।
জানি না। মানে একটু শুনেছি। ভেবো না।
শাপলা মায়ের মনে ভয় ঢুকাতে চাইছে না, তবে সেও শুনেছে। বললো,
দ্রাবিড়া’দির মাসীর বাড়িতে দারুন আছি। ওনাকে তোমার কথামত খালা ডাকছি। দ্রাবিড়া’দি আমার আপন চাচাতো বোন অথচ ওনার নানার বাড়ীর সবাই অন্য ধমের্র এটা বেশ অন্য রকম লাগছে।
সাবধানে থাকিস। চলে আয় কাল, সেই ভাল।
আচ্ছা।
দ্রাবিড়া কেমন আছে রে। ও-ও কি আসছে?
মনে হয় আসবে। মাম শোন, তুমি কি জান যে দ্রাবিড়া’দি চাচ্চুর নিজের মেয়ে না!
শাপলা অবাক হয় মাম চুপ করে আছে দেখে।
কিছু বলছে না কেন? না জানলে চেচিয়ে বলবে তো, বলছিস কি তুই! কিন্তু সে রকম কিছু হলো না।
আপন মনে ভাবে, সব জেনেই কি মাম চুপ করে আছেন! না হঠাৎ এমন কথা শুনে থমকে গেছেন!
মাম্, বল না তুমি জান কিছু?
এ নিয়ে তোর মাথা ঘামানোর-ই দরকার নেই। বড়দের ব্যাপার বড়দেরই থাকুক।
মাম, দ্রাবিড়া’দি সারা শহর তোড়পাড় করে একজন মা’কে আর বাবাকে খুজছেন। রিকসাওয়ালা, ফকির মিসকিন কেও বাদ যাচ্ছে না।
বলিস কি!
এতক্ষনে মাম বলেছেন বলিস কি! তারমানে এটুকু ওনার অজানা। জানতে চাইছেন,
তবে দ্রাবিড়া সত্যিটা জানলো কোত্থেকে, কিভাবে?
তুমি জান তাহলে?
এলে কথা হবে।
না মাম, তুমি এখন বল,এটাই ওনার যেন জীবনের এখন একমাত্র মিশন, টারগেট। তুমি কি জান কে ওনার বাবা মা?
নারে, জানি না। শুধু একবার একটু গুঞ্জন শুনে আমরা কলিকাতায় ফোন করে তোর চাচাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,উনি বলেছেন একে ওনার মেয়ে ভাবতে, এটাই উনি জানেন,মানেন। তোর চাচী কোথায় পেয়েছে কার মেয়ে কিছুই তিনি জিজ্ঞেস করেননি। তাই আমাদেরও বলেছেন নাক না গলাতে। আমরাও চুপ করে গেছি।
বল কি?
হ্যা তাই। আমি তো অবাক হচ্ছি দ্রাবিড়া এত বছর পর কেন এসব খুজছে। ওর বাপকে জিজ্ঞেস করছে না কেন?
করেছে। উনি জানেন না বলেছেন।
তাহলে আমাদেরকে ঠিকই বলেছিলেন। আমি তো ভেবেছিলাম জেনেও না জানার ভান করে কথা বলছেন।
তাহলে কে জানতে পারে?
তাও জানি না। ওরা তো পরিবারের কারও সাথেই ঘনিষ্ঠ ছিল না। তোর চাচী হিন্দু হওয়াতে এই পরিবারের বাকীদের সাথেও দূরত্ব ছিল। বেবীও ছিল না, শেষে দ্রাবিড়াকে নিয়ে যেন আরো লুকিয়ে গেল।
হুম,ঠিক আছে মাম শোন তুমি ভেবো না আমি কাল চলে আসবো। বাই।
শাপলা ফোন কাটতে কাটতে শুনলো মাম এর হাসি আর ইনশাআল্লাহ বলা। চলে আয় চলে আয় বলা।
যেনো সে হারিয়ে যাচ্ছিল কোথাও। মামও না যা! উফ।
ভুল পথে পা বাড়াতে গিয়েও সে আসলে ফিরে আসছে। বলেনি সে মামকে যে ভুল করেও সে আর ভুল পথে পা বাড়াতে চায় না। মা আর বাবাইয়ের এত মমতায় সে কষ্ট ঢেলে দিতে পারবে না। ভুতুম ভাইয়ের সাথে পতেঙ্গা যাবার ইচ্ছা সে বাতিল করে দিয়েছে। কত-ই তো লোভনীয় মনোহরনকারী প্রলোভন থাকবেই এই জীবনে। তবে যে পথে হাটা যাবে না সে পথে ঢোকাই অবান্তর। মুগ্ধ হয়েছে বলে ঐ সিংহ দরজায় ঢুকতেই হবে কেন, কে জানে। মনকে বোঝায়, দেখ দ্রাবিড়া’দির অবস্থা দেখ। দেখ ছোট চাচীর অবস্থা। পরিত্যক্ত। প্রত্যাখ্যাত। পুরা জীবন নিজের পিতার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। শিয়া না হলে হয়তোবা ঠিক ছিল। এখন বেঠিক। পরিকল্পনা বাতিল। দরকার কি অযথা সম্পর্কের টানা পোড়নে যাওয়া। কি দরকার! দরকার নেই। কোনটা ভাল, কে শুদ্ধ, কে বিশুদ্ধ অত কচলানোর দরকার কি? দু’জন দু বিশ্বাসের মানুষ। জন্মেছে এভাবে। এভাবেই জীবনটা যাপন করে গেলেই হয়! নিজেকে নিজেই বুঝিয়েছে গেল কিছু ঘণ্টা। বুঝিয়েই সরিয়ে দিয়েছে ভুতুম ভাইয়ের পথটা। ভুতুম পেচা। থাকুক কোথাও হারিয়ে রাতের আধারে।
এখন প্রায় সন্ধ্যা ছুয়ে ছুয়ে আসছে অন্ধকার রাত। ধূপের গন্ধও আসছে। মনে হয় কারা যেন পূজাও করছে বাড়ীতে।
দ্রাবিড়া’দি আনমনে সুটকেস গুছাচ্ছেন। বললেন,
মন চাইছে না মাঝপথে ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে। শেষ দেখা উচিত তাই না!
কোন দিকে শেষ তাই তো জান না তুমি।
দ্রাবিড়া’দি এ বার দুঃখী ধরনের একটা হাসি দিলেন শুধু। তার পরের ক্ষণেই বললেন,
এত যে পরী হলি কল্পনায় তোর সেই ভুতুম ভাইকে সাথে নিয়ে সমুদ্রের উপর চাঁদ দেখবি,মাঝ পথে পরিকল্পনা বাতিল করলি যে?
ইমোশনকে লাগাম দিয়ে আগাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হয় । দ্রাবিড়া’দি হেসে উঠে বললেন,
বাহ, বাহ,ইউ লুক লাইক আ হ্যান্ডসাম হর্স রাইডার। ব্রেইভ এন্ড ইন্টিলিজেন্ট।
বিউটি ফুল হর্স রাইডার বললে বেশী ভাল লাগতো।
হেসেই ফেললেন দ্রাবিড়া’দি,বললেন,
যুগে যুগে সবাই যদি তোর মতন নিজেকে চেক দিতে পারতো তাহলে দারুন হতো। সমস্যা বিহীন প্রেমহীন সুপার স্পীডী পৃথিবী হতো।
আ, তা যা বলেছো, তবে এটুকু জানি যে এতে করে অন্ততঃ আজন্মের ভালবাসার মানুষগুলো দূরে চলে যেত না। নতুনকে পেতে গিয়ে পুরাতন সব সস্পর্ক ভেঙ্গে যেত না। তাই না। বল, সেটাও কি ঠিক!
বেশ ভালই তো বুঝেছিস পৃথিবীর হিসাব নিকাষ। তুই-ই টু দা পয়েনট সব বুঝতে পারিস দেখছি।
দ্রাবিড়া’দি কথাটা বলে হাসছেন। শাপলা বললো,
হুম তোমাদের দেখে দেখেই তো বুঝতে শিখেছি। বুঝতে চাইছি। জটিলেম্বরী হয়ে ওঠা কি জরুরী !!
তুই আসলে প্রেমে পড়িসনি। পড়লে উঠতে পারতি না।
বুঝে শুনে দেখে ভেবে ধীরে সুস্থে প্রেম করবো।
ওহ্ নো নো। অত ভেবে বুঝে প্রেম হয় না। প্রেমে পড়ে যায়। ফল ইন লাভ।
বেশ শোরগোল আওয়াজ আসছে যেন কোথাও থেকে! শাপলা জানতে চাইলো,
এত চিল্লাচিল্লি হচ্ছে কেন নিচে! দেখবো বের হয়ে?
দ্রাবিড়া’দি কিছু বলার আগেই খালা এসে ঢুকলেন। ঢুকেই দ্রুত দরজা বন্ধ করে দিতে দিতে বললেন,
তোদের পালাতে হবে এখন? এলাকায় মারামারি শুরু হয়েছে। রায়ট। নিচে কিছু হিন্দু ছেলে এসেছে তোদের খোজে।
কি বলছো মাসী?
খালা আমার ভয় করছে। এসব কি বলছো।
হ্যা হ্যা আয় আমার সাথে। মন্দিরে কারা যেন হামলা করেছে তাই প্রতিশোধ নিতে চাইছে অনেকে। আরো বেশী করে গণ্ডগোল পাকানোর জন্য এখন কয়েকজন মুসলমান মারতে পারলে ওদের লাভ। মুসলিম মেয়ে হলে তো আরো ভাল, আগুন জ্বলে উঠবে চারদিকে। আয় আয় তাড়াতাড়ি বেলকনিতে আয়। আমার শ্বাশুড়ী ওদের আটকাতে ওদের সাথে বকবকাচ্ছেন।
লাফ দিতে হবে খালা এবার নীচে?
নারে পাগল। পাশের বাড়ীর বেলকনিতে রেলিং টপকে চলে যা। দূরত্ব এক হাতও না।
ও নো নো, আমি পারবো না। মরে যাব আমি।
শাপলা দেখলো দ্রাবিড়া’দি এক হাত আর খালা আরেক হাত ধরে হিড় হিড় করে তাকে টেনে বারান্দার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সেই দুই হাতী লম্বা ব্যালকনি। টানা হেচড়ার ভেতরই বুঝলো রেলিং পেরিয়ে গেছে। ওই পারে তারা। খালা বললো, হিন্দুরা জিজ্ঞেস করলে হিন্দু নাম বলবি মুসলমানরা জিজ্ঞেস করলে মুসলিম নাম বলবি।
শাপলা দেখলো ভয়ে তার হাত পা কাপছে। দ্রাবিড়া’দি খুব শক্ত ভাবে তার হাতটা ধরে রেখেছে।
তুমি কেন পালিয়েছো, তোমার নাম তো দ্রাবিড়া।
খালাই উত্তর দিলেন,
তোমাকে বাঁচাতে হবে তাই। আর ও হিন্দু না মুসলিম কিছুই তো আমরা জানি না। যাও যাও চুপ করে ওখানে ঘাপটি মেরে থাক। আমি ঐ বাড়ীর মেসো মশাইকে ফোন করে দিয়েছি সিঁডি বেয়ে টপকে উঠতে উঠতেই। এই উনি দরজা খুললেন বলে।
দ্রাবিড়া দি বললেন,
এনারা কি তাহলে হিন্দু। এখানে আমরা তাহলে কি নিরাপদ?
অবশ্যই, আমরা মানুষ। এসো ভেতরে এসো। দরজায় দাড়ানো একজন অচেনা বৃদ্ধ মেশোমশাই। দরজা খুলে উনি দাড়ায়ে রয়েছেন।
যা যা বলেই খালা দ্রুত বেলকনির দরজাটা ভেতর থেকে লাগিয়ে দিলেন।
বজ্রাহতের মতনই শাপলার নিজেকে পাথরের মতন ভারী মনে হচ্ছে। এসব কি হচ্ছে। এতো সিনেমায় হয়। মুভিতে সে দেখেছে। খুব পানির তেষ্টা পেয়েছে। অবিশ্বাস্য লাগছে রাতের আধারের এই ক্ষণ পরিবেশ। এ কি ধরনের এ্যাডভেঞ্চার। ধর্মের বিভাজন কি মানুষকে এতটাই নিরুপত্তাহীনতায় ফেলতে পারে ! লতার মতন কাপছে সে, পড়েও যেতে পারে। কেন থাকবে না সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। পাশাপাশি সহ অবস্থান। দ্রাবিড়া’দি যেমন ধরে রেখেছে তার হাত, ঐ বৃদ্ধ সৌম্য মানুষটি যেমন দরজা খুলে আহ্বান জানাচ্ছে আশ্রয়ের,মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক কি তেমনই মানবতার হওয়া উচিত নয় !! এমন অমানবিক, মানবেতর হয় কি করে! সে তো নিজে পছন্দ করে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ হয়নি। জন্মসূত্রে হয়েছে। যে মারতে এসেছে সেও তো মুসলিম হয়ে জন্মাতে পারতো!পারতো না !!
দ্রাবিড়া’দিকে বললো না, বললে হয়তো আবার বলবে,তুই-ই টু দা পয়েনট সব বুঝতে পারিস দেখছি। পাকামোর আর দরকার নাই।
এসো, ঘরে এসে বসে বস। দরজাটা পেছনে লাগিয়ে দাও।
দুজনের দিকে দুটো পানির বোতলও এগিয়ে দিলেন। তারপর বাতি নিভিয়ে দিলেন। বললেন,
অন্ধকারে ভয় পেয়ো না। ঐ সোফায় দুজন বসে থাক। এখানে তোমাদের কোন ভয় নেই। ঘুম পেলে সোফাতেই ঘুমিয়ে যেয়ো। আর কাওকে পাঠাচ্ছি না এই ঘরে। চাই না কেও জানুক। কোন শব্দ হোক। বুঝেছো!
চলে গেলেন উনি। কি নিরবতা ঘরের ভেতর। কিন্তু বাহির থেকে প্রচুর শব্দ আসছে। কি হচ্ছে বাহিরে কে জানে। খালার বাসায় সবাই ঠিক আছে তো। অনেকক্ষণ। বহুক্ষণ। অপেক্ষার প্রহর বুঝি এতটাই দীর্ঘ হয়। দ্রাবিড়া’দি এককেবারেই চুপ। ফোনটা হাতে ছিল। তাই নিয়ে বেরিয়ে এসেছে। ফোন করবে কি মাকে ? না ওদের ঘাবড়ে দিয়ে লাভ নেই। পুলিশ স্টেশনের নম্বরও তো জানে না। ফেইস বুকে চেনে নিহা নামের একজনকে, উনি বলেছিলেন, আমেরিকাতে ৯১১ এ ফোন করলেই সাথে সাথে পুলিশ চলে আসে। আহ, কবে যে ৯১১ হবে বাংলাদেশে! ফেইস বুকে একটা আপডেট দেওয়া দরকার। জানুক সবাই কোন বিপদে সে আছে।
দ্রাবিড়া’দি একদম চুপচাপ। বললো,
কোলকাতায় ৯১১ আছে দি??
কোন জবাব দিচ্ছেন না দ্রাবিড়া’দি, তার মানে নেই। চুপচাপ বসে থাকতে পারছে না সে।
শাপলা বললো,
তোমার ধর্ম তো বললে না ’দি?
আমিও জানি না। বিলুপ্ত হয়ে গেছে আমার অতীত ঐ রাতের মহাকাশে। আর জানতেও চাই না। মানবতাই আমার ধর্ম। পানিটা গিল। ভাল লাগবে।
দ্রাবিড়া’দি উঠে হাটছেন ঘরময়। বেলকনির কাচের দরজাটা উপর যে পর্দা ছিল তা সরিয়ে দিলেন। ঝলমলিয়ে আলো এসে উপচে পড়লো ঘরময়।
তুই না এই জোস্না দেখতে চাইছিলি? তোকে দেখা দিতে এসেছে।
দেখার মন নেই আর। জীবন যুদ্ধের কাছে চাঁদ সূর্য্য সব বহু দূরের কাব্য। এখন ভোর হলে বাঁচি।
এতক্ষণে যখন কিছু হয়নি তখন আর ভয় নেই। মনে হচ্ছে সব ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।
বলতে না বলতেই শাপলার ফোনটা বেজে উঠলো। সামনে তাদের বেলকনিতেও মনে হচ্ছে কারা যেন এসে দাড়িয়েছে। সাথে সাথে ভয়ের একটা শির শিরে ভাব যেন বিদুতের মতন খেলে গেল শাপলার শরীরে। দ্রাবিড়া’দির হাতটা চেপে ধরলো। পর্দাটা সরানো। আলো ফেললে ওরা তাদের দেখে ফেলবে।
ফোনের ওই ধারে খালার গলা। চলে আস। সব ঠিক হয়ে গেছে। ওরা চলে গেছে। পুলিশ এসেছে।
তারপরও ভয়ে ভয়ে শাপলা জিজ্ঞেস করলো আধারে তোমার পাশে কে দাড়িয়ে রয়েছে।
ও তোমার ভুতুম ভাই।
শাপলা অবাক হয়ে দ্রাবিড়া’দির খুলে দেওয়া বেলকনির দরজা দিয়ে বেরিয়ে এসে দেখলো বিশাল এক আকাশ জোস্না মাথায় নিয়ে ভুতুম ভাই দাড়িয়ে রয়েছেন। উনি হাত বাড়িয়েছেন, রেলিং টপকাতে সাহায্য করতে।
শাপলা দেখেনি ভাব করে রেলিং ধরেই পার হলো। এই জীবন শুধু উড়ে বেড়ানোর নয়, এই জীবন অনেক মূল্যবান। এই জীবন খুব ছোট, ভুল করলে একবার শুধরাবার সময় আর থাকে না। পরিবারের একজনের ভুল বাকীদেরও ভোগায়,ফুপায়। এলেই ধরতে হবে কেন যদি তা নাই ধরে রাখা যায়!

Flag Counter


1 Response

  1. মোজাম্মেল হারুন চৌধুরী says:

    সব সময় আপনার গল্প পড়ি , তবে সময়ের অভাবে কখনো কোনো মন্তব্য করা হয় না ।আজ প্রথমে টেনেছে গল্পের নাম আর আপনার নাম ।বলতে গেলে একটানে পড়ে শেষ করেছি ।অসাধারণ একটি লেখা ।খুব অল্প কথায় বলেছেন অনেক কথা । খুব ভালো করবেন লেখার জগতে এই প্রত্যাশা থাকলো ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.