চলচ্চিত্র, চিত্রকলা

শিল্পোৎসবের বিস্তার, বৈচিত্রের সমাহার

মিন্টু চৌধুরী | 26 Dec , 2018  


ছবি: উৎসবের দ্বিতীয় দিনে সমাগত সুধীবৃন্দ
বৈচিত্র্যময় বৃহত্তর শিল্পের সঙ্গে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা নিয়ে চট্টগ্রামের শেষ হয়েছে তিনদিনের বিস্তার শিল্পোৎসব।
চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিস্তার : ‘চিটাগাং আর্ট কমপ্লেক্স তিনদিনের এ উৎসবের আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, নৃত্য, বাউল সংগীত, চর্যাগীতি, উচ্চাঙ্গ সংগীত, বিদেশী শিক্ষার্থীদের সংগীত ও নৃত্য, আলোকচিত্র এবং আদিবাসী শিল্পীদের নিয়ে যৌথ দৃশ্যশিল্প প্রদশর্নী।
শনিবার উৎসবের শেষদিনে আলোকচিত্র ও দৃশ্যশিল্প প্রদশর্নী ছাড়াও একাডেমির সেমিনার কক্ষে সকালে ছিল দিলারা বেগম জলির পরিচালনায় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘জঠরলীনা’র প্রদর্শনী ও আলোচনা।
বিকালে একাডেমির মুক্তমঞ্চে চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এর শ্রীলংকা ও মিয়ানমারের শিল্পীদের পরিবেশনায় লোকনৃত্য ও সংগীত। শিল্পী রিজোয়ান রাজন একক মূকাভিনয় পরিবেশন করেন।

ছবি: কয়্যার পরিচালনা করছেন ইউরোপীয় ধ্রুপদী সংগীত-বিশেষজ্ঞ, সেলভাম থোরেজ।


ছবি: একটি রাজসিক নৃত্যভঙ্গিমায় অর্থী আহমেদ

ছবি: নাটকের একটি নান্দনিক মুহূর্তে তরুণ কুশীলবদ্বয়, রনি দাশ ও মাহবুব সজল

শিল্পী সৃজনী তানিয়া পরিবেশন করেন প্রাচীন চর্যাগান ও বাউল সংগীত। এসব গানের গ্রন্থণা করেন বাংলা একাডেমির গবেষক সাইমন জাকারিয়া। নেত্রকনোণার দিলু বয়াতী ও তার দল পরিবেশন করে পালাগান মহুয়া। এ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় তিনদিনের শিল্পোৎসব।
গত বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে এ উৎসবের উদ্বোধন করেছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী অনুপম সেন।
চতুর্থবারের মতো একটি পরিপূর্ণ শিল্পোৎসব আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলে বিস্তারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক
প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক আলম খোরশেদ বলেন, এটি শুধুমাত্রই শিল্প উৎসব। শিল্পের বিভিন্ন শাখার একটি সমবেত উপস্থাপনা হয়েছে এখানে।

ছবি: দার্ঢ্য ও দ্রোহের প্রতীক, ইন্দ্রাণী ও তাঁর গান

শিল্প মানুষের ভেতরে সম্প্রীতি, ঔদার্য্যবোধ ও নন্দনবোধ তৈরি করে উল্লেখ করে আলম খোরশেদ বলেন, “চট্টগ্রামে এই কাজটাই করতে চাচ্ছি আমরা, বিশেষ করে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম বিশেষত এই ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে আছে। আমরা চট্টগ্রামে এ ধরণের বোধ তৈরি করতে চাই। আধুনিক প্রগতিশীল সমাজ তৈরির লক্ষ্যেই আমাদের উদ্যোগ।”
এবার উৎসবে শিল্পকলা একাডেমির জয়নুল গ্যালারি হলে আয়োজন করা হয় আদিবাসী শিল্পীদের দৃশ্যশিল্প নিয়ে প্রদশর্নী ‘সাজাক্য়া কক্রক’ এবং শোয়েব ফারুকীর আলোকচিত্র নিয়ে প্রদর্শনী ‘সমুদ্র ও সন্ততি’।
বাংলাদেশের টিপরা জনগোষ্ঠীর ভাষা ‘সাজাক্য়া কক্রক’ এর অর্থ ‘না বলা কথা’। বিস্তারের এ উৎসবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের আদিবাসী চিত্রশিল্পীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় দৃশ্যশিল্প প্রদর্শনীর।

ছবি: গৃহহীন কন্যাশিশুদের আশ্রয়কেন্দ্র ‘উপলব্ধি’র ক্ষুদে শিশুদের উদ্বোধনী পরিবেশনা

ব্যক্তিমানুষ প্রতিদিন হাজারো বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারে, কিন্তু সবকিছু সে প্রকাশ করতে পারে না। আদিবাসী শিল্পীদের ক্ষেত্রে এ সংকট আরও বেশি বলে মনে করেন আয়োজকরা।
এ দিকটি মাথায় রেখে আদিবাসী নয়জন শিল্পীর আঁকা ৩৫টি দৃশ্যশিল্পের অনবদ্য প্রদর্শনী।
আদিবাসীদের প্রতিদিনকার ব্যতিক্রমী জীবনযাপন, বসতি স্থাপনা, নয়নাভিরাম প্রকৃতি, নদী-লেক, আদিবাসীদের পোশাকের কোলাজ নিয়ে শিল্পীদের আঁকা দৃশ্যশিল্পে উঠে এসেছে।

ছবি: কথা বলছেন উৎসবের বিশেষ অতিথি, সাহিত্যিক ও সমাজচিন্তক, অধ্যাপক ফেরদৌস আরা আলীম

প্রদর্শনীতে শিল্পী জয়দেব রোয়াজা, জুবলি দেওয়ান, আতিয়া মাই বম, ভ্যানরাম বম, জয়তু চাকমা, আ সান, লু বাইসু চৌধুরী, দিব্য আলো চাকমার আঁকা ছবি স্থান পেয়েছে।
এছাড়া গ্যালারিতে আলোকচিত্রী শোয়েব ফারুকীর তোলা ২২টি স্থিরচিত্র নিয়ে ‘সমুদ্র ও সন্ততি’ শিরোনামে পৃথক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
এতে সমুদ্র, সামুদ্রিক মাছ, শুঁটকি, সমুদ্র তীরের বসতি, গাঙচিল, নৌকাজীবন, সমুদ্রপাড়ের মানুষের আনন্দ-উচ্ছ্বাস-দুঃখ-বেদনা, সূর্যাস্ত, সামুদ্রিক জাহাজের শেষ যাত্রার ছবি স্থান পেয়েছে।

Flag Counter


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.