কবিতা

কোথায় নেই তুমি?

নাহিদা আশরাফী | 16 Dec , 2018  


গতকাল এক জনাকীর্ণ সভায় তোমার চশমা আর ঘড়ি সাক্ষী দিয়েছে- তুমি বেঁচে আছো।
এক রক্তমাখা পাঞ্জাবী আর এক বৃদ্ধ চারমিনার পাইপ অতি কষ্টে নিজেদের হাজির করেছিলো গণমানুষের আদালতে। কাঁপা কাঁপা অথচ কি দৃঢ় কন্ঠে ওরাও বলেছে -তুমি মৃত নও।
দিল্লী থেকে বেনাপোলগামী ট্রেন, ট্রেনের কামড়া, তোমায় আচম্বিতে চিনে ফেলা সেই সাহসী যুবক, সবাই; সবাই সাক্ষী দিয়েছে -তুমি বেঁচে আছো।
শুকুনের থাবা আর হিংস্র দানবের শিকারী চোখ এড়িয়ে, রাত্রির নির্জনতা আর আঁধারের প্রগাঢ়তায় নিজেকে আড়াল করেছ কত শতবার। পরম মমতায় ওরা তোমায় আগলে রেখেছিলো; যেন মাতৃক্রোড়ে আগলে থাকা শিশুটি। সেই রাত্রিকালীন নির্জনতাও তার জঠরের দিব্যি দিয়ে বলেছে- তুমি বেঁচে আছো।
সাক্ষী দিয়েছে বাইগার নদী, সাক্ষী দিয়েছে জেলের নৌকো, সাক্ষী দিয়েছে জাতিসংঘে দেয়া তোমার প্রথম বাংলা ভাষণ। সাক্ষী দিয়েছে স্বাধীন ভূখন্ড- তুমি ওদের ঘিরেই আছো।
এক জোড়া দোয়েল, হলুদবরণ সর্ষের মাঠ, নীল আকাশ, শুভ্র কাশের বন, গর্বিত লাল-সবুজ মানচিত্র; বলতে পারো, কোথায় নেই তুমি?
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, প্রদীপ্ত ভাষণে, উজ্জীবিত তারুণ্যে, বিপ্লবীর কন্ঠে, কবির কবিতায় কি আশ্চর্যরকম ভাবে মিশে আছো।
তোমার মনে আছে; নির্যাতিত, লাঞ্ছিত প্রতিটি মেয়ের বাবা হতে চেয়েছিলে তুমি?
আজ কান পেতে শোনো, এই বাংলার প্রতিটি ঘরে প্রতিজন মা তার সন্তানের নাম রেখেছে তোমার নামে।
এবার তুমিই বলো হে বঙ্গসন্তান; কোথায় নেই তুমি?
Flag Counter


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.