১৯৭১

দেশের সূর্য সন্তানদের কি আমরা যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে পেরেছি ?

দিল মনোয়ারা মনু | 14 Dec , 2018  


একটু একটু করে ভয়ে ভয়ে রক্ত ভেজা মাটি পেরিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে থমকে দাঁড়ালাম, সামনে দুটো মানুষ– হাত পা বাঁধা নাক কাটা, কান-কাটা মুখের পাশ থেকে যেন খামচিয়ে পরম হিংস্রতায় মাংস তুলে নিয়েছে কেউ। এই অবস্থায় দু’দিন ধরে লাশ ওখানে পড়েছিলো। শনাক্ত হয়নি। ফর্সা বড় বড় দুটো মানুষের বিকৃত বীভৎস চেহারা, বহুদিন তাড়া করে ফিরেছে তাকে। পরে ওখানকার বাসিন্দারা মাটি চাপা দিয়েছিলো তাদের। আর একটু এগিয়ে যেতেই আর একটা মাটির ঢিবি। তারই পাদদেশে একটি নারীর লাশ। তার চোখ বাঁধা। পরনে কালো ঢাকাই শাড়ি, এক পায়ে মোজা। চোখ ও মুখের কোন আকৃতি নেই, যেন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তা কেটে তুলে নিয়েছে। এই নারী স্বাস্থ্যবতী এবং ফর্সা, স্তনের একটা অংশ কাটা। লাশটা চিৎ হয়ে পড়েছিলো, পরে অবশ্য শনাক্ত হয়েছে এটি শিলালিপি পত্রিকার সম্পাদক সেলিনা পারভীনের। খবর পেয়ে বিকেলে তার স্বজনরা লাশটি তুলে নিয়ে যায়। অধ্যাপিকা হামিদা রহমান কাঁটাসুরের বধ্যভূমি দেখার উপরোক্ত অভিজ্ঞতা এইভাবে বর্ণনা করেছিলেন তৎকালীন দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। ঠিক এমনি নির্মমভাবে সিলিংফ্যানে ঝুলিয়ে কবি মেহেরুন্নেসা, তার মা এবং ছোট ভাইকে হত্যা করেছে মীরপুরের রাজাকার কমান্ডার এবং তার সহযোগিরা।
অধ্যাপিকা হামিদা রহমান তার লেখায় আরো বলেছেন আমি অন্যদের সহযোগিতায় উঁচু একটা ঢিবির উপর উঠে নিচুঁ হয়ে দেখলাম নিচু জলাভূমির ভেতর এক বীভৎস দৃশ্য। সেখানে বারো তেরোজন সুঠাম সবল মানুষ একের পর এক শুয়ে আছেন। সেখানে হৃদপিন্ড ছিড়ে নেয়া একজন মানুষ ছিলেন। শনাক্ত হলো তিনি ডা: ফজলে রাব্বী। তিনি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বলে তার হৃদপিন্ড ওইভাবে উপরে নেয়া হয়েছে। পাশের গাদাগাদিতে রয়েছেন রমনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী এবং প্রখ্যাত সাংবাদিক সিরাজউদ্দীন হোসেন। শোনা গিয়েছিলো অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর লাশও সেখানে ছিল। অধ্যাপক এসএম রাশিদুল হাসানকে ১৪ ডিসেম্বর বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ২২ দিন পর তার গলিত লাশ রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পাওয়া যায়। তার মেয়ে রোকাইয়া হাসিনা বলেছেন তার বাবা রাজনৈতিকভাবে সচেতন ছিলেন এবং তিনি ছাত্রদের মুক্তিযুদ্ধে যেতে উদ্বুদ্ধ করতেন। রবীন্দ্র সংগীতের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা ছিল। তাই মেয়েকে রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী হতে উদ্ধুদ্ধ করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন বাঙালি জাতিসত্ত্বাকে বাঁচিয়ে রাখতে রবীন্দ্রনাথ চর্চা একটি বড় মাধ্যম হতে পারে। অনুমান করা হয় এই কারণেই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। মনে পড়ে পত্রিকায় পরা তিন বোনের কথা। পাক বাহিনী ওদের বাবাকে অন্যদের মতই বুলেট আর বেয়নেট দিয়ে নৃসংসভাবে হত্যা করেছে। পাক শত্রুদের ভয়ে সেদিন বাবাকে খুঁজতে যেতে পারেনি ঐ তিন বোন। যেদিন ঘাতক ঘৃন্য পশুর দল এই দেশ থেকে বিতারিত হয় সেদিন ওরা ওদের বাবার সন্ধানে বের হয়। বহু খোঁজাখুজির পর পেয়েছিলো শুধু মাথার খুলি। সেই খুলি বুকে চেপে রেখে ওরা বলেছিল- বাবাকে পাইনি কিন্তু তার মাথার খুলি পেয়েছি। প্রতিটি জলার পাশে ছিল অসংখ্য মাটির ঢিবি। তার মধ্যে মৃতদের কঙ্কাল। সাক্ষ্য দিচ্ছে কত লোককে সেই মাঠে হত্যা করা হয়েছে। রক্তের নদী ডিংগিয়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, একটি মানচিত্র। এর প্রতিটি বালুকনা ঘাস লতাপাতা নদীর সাথে জড়িয়ে আছে ত্রিশ লক্ষ মানুষের রক্ত।

২৫শে মার্চ মাঝরাত থেকে সারা দেশে হত্যা ধর্ষন লুটপাটের পাশাপাশি চলে, ডিসেম্বর মাসে দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের নিধন পর্ব। তবে স্বাধনীতার যুদ্ধের পুরো নয় মাস সু-পরিকল্পিত ভাবে একের পর এক বুদ্ধিজীবী হত্যা চলেছে। পাকিস্তানী ঘাতকদের আত্মসর্মপনের ঠিক দুই দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর বীভৎস অমানবিক নৃশংস হত্যাকান্ডের কোন তুলনা হয় না। পৃথিবীর ইতিহাসে এ এক জঘন্যতম বর্বর ঘটনা। বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী মানুষ এই ঘটনার নির্মমতায় স্তম্ভিত হয়েছিল। সেই থেকে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বুদ্ধিজীবীদের নিধনের মর্মন্তুদ স্মৃতিঘেরা এক শোকাবহ দিন।
কেন বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হলো আমরা প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী অনুধাবন করতে পারি। যারা দৈহিক শ্রমের বদলে মানসিক বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রম দেন দেশ ও মানুষের কল্যানের জন্য তারাই বুদ্ধিজীবী। তারা হচ্ছেন লেখক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, রাজনীতিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি- ভাস্কর, চলচ্চিত্র ও নাট্য ব্যক্তিত্ব এবং সমাজ ও সংস্কৃতিসেবী ইত্যাদি। এদের হত্যা করার অর্থ হলো বাঙালী জাতি যেন এই ক্ষেত্রগুলোতে দুর্বল হয়ে মেধাশূন্য হয়ে পড়ে। কারণ এরাই জাগিয়ে রাখেন যুগে যুগে জাতির বিবেক, মনন, মেধা। একটি জাতিকে নিষ্ক্রিয় নির্জীব করার জন্য দেশকে বুদ্ধিজীবী-শূন্য করার এটি ছিল একটি ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র।
বুদ্ধিজীবী দিবস ঘোষণা করা হয়েছে কিন্তু আজ পর্যন্ত সারা দেশে মোট কতজন বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে জানা গেছে ১০ তারিখ থেকে বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা নেয়া হয় এবং ১৪ তারিখে এই পরিকল্পনার মূল অংশ বাস্তবায়ন হয়। সেদিন প্রায় ২০০ জন বুদ্ধিজীবীকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসররা অস্ত্রের মুখে শুধু ঢাকা থেকে অপহরন করে নিয়ে যায়। চোখে কাপড় বেঁধে মিরপুর, মোহাম্মদপুর নাখালপাড়া রাজারবাগ সহ অনেক স্থানে অবস্থিত নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে তাদের উপর নির্মম নির্যাতন চালানোর পর হত্যা করে মিরপুর এবং রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে ফেলে রাখে। কিন্তু ইতিহাসের নির্মমতা এই নরপশুদের রেহাই দেয়নি, মাত্র দুদিনের মাথায়ই পরাজয় বরন করে অবনত মস্তকে আত্মসর্মপন করে মুক্তিযোদ্ধা এবং ভারতীয় মিত্র বাহিনীর কাছে। নয় মাস মরনপণ লড়াই করে দুলক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম হারানোর বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে লাল সবুজের এই পতাকা। ইতিহাসের পাতায় কালো অক্ষরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে উৎকীর্ন হলো বেদনাবিধুর এক কালবেলা। আশার কথা স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পরে হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে। বুদ্ধিজীবী হত্যার সঠিক তালিকা প্রকাশ করে এবং যুদ্ধাপরাধীদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, শহীদের স্ত্রী পুত্র স্বজনরা সেই আশায় বুক বেঁধে আছেন। এর পাশাপাশি এই শহীদদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এই জাতি বুদ্ধিজীবী হত্যার স্মরণে ঢাকায় বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকেট সিরিজ বের করেছে। দেশের সকল শহীদ বুদ্ধিজীবীর প্রত্যেককে তালিকাভুক্ত করে তাদের যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এটাই এখন সময়ের দাবী। লক্ষ্য রাখতে হবে এটা যেন গতানুগতিক প্রথাভিত্তিক আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিতে না হয়।
যে আদর্শ ও লক্ষ্যের জন্য তাদের জীবন দিতে হয়েছে তা বাঁচিয়ে রাখার জন্য এদের স্বপ্ন জীবন ও কর্ম তুলে লেখালেখি পত্র পত্রিকায় প্রকাশ ও গবেষণা খুব জরুরি। শিক্ষা কারিকুলামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি এদের জীবন কথাও অন্তর্ভূক্ত করা দরকার। না হলে তাদের অসাধারণ ত্যাগ দেশের জন্য এদের মহান অবদান কালক্রমে হারিয়ে যাবে।
এখন ঢাকার শেরেবাংলা নগরে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সামগ্রিকভাবে তুলে ধরার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ে দৃষ্টান্ত তৈরী করেছে। এই জাদুঘর আমাদের চেতনার নতুন দ্বার খুলতে সক্ষম হয়েছে। এই প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর একসময় সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এখানে মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা বই, তথ্য প্রমান সহ পান্ডুলিপি, অডিও ভিডিও ক্যাসেট পোষ্টার ইত্যাদি সংগৃহীত থাকবে। এছাড়া দলিল দস্তাবেজ মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ব্যবহৃত জিনিষপত্র নিদর্শন হিসেবে থাকবে এই জাদুঘরে। জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামাল নিজ হাতে শহীদ পরিবারগুলোর কাছ থেকে এই স্মারক নিদর্শন গ্রহণ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর থেকে বের হবার মুখে দর্শকরা দেখতে পাবেন রায়ের বাজার বধ্য ভূমির বাস্তব প্রতিরূপ। এই জাদুঘরের জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে বধ্য ভূমির মাটি সংগ্রহ করা হয়। খুলনার গোযাল্লামারি বধ্য ভূমি সহ দেশের সর্বত্র প্রায় সমস্ত বধ্য ভূমির মাটি এখানে সংগ্রহ করা হয়েছে। তাই এই প্রতিষ্ঠান আমাদের সকলের। আমাদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে এর কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে।
স্বাধীনতার এত বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় অনেক নাম এসেছে কিন্তু শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নাম এখনও এই তালিকায় আসেনি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শহীদ শিক্ষক বুদ্ধিজীবীদের নাম সরকারের কাছে পাঠাননি। শহীদ পরিবারের সদস্যরা এ নিয়ে একসভায় ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।
এই পরিবারের সদস্যরা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ হাজার ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই বিশদভাবে জানেন বলে অভিযোগ করেছেন। শহীদ শিক্ষকদের মধ্যে প্রায় প্রত্যেকেই ছিলেন মানবতাবাদী, প্রগতিশীল, সাহিত্যিক, সমাজবিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ, দার্শনিক। এদের বিভিন্ন বই গবেষণা পত্রিকা ও জার্নালে সৃষ্টিশীল লেখা রয়েছে। তাদের এই দুর্লভ রচনাবলী ও মুক্তচিন্তা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার ব্যবস্থা অনতিবিলম্বে করার অনুরোধ সাধারণ মানুষের। এই উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিতে হবে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রেরণ করে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে এদের মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবী জানিয়েছেন সম্প্রতি এক সভায় এদের পরিবারের সদস্যরা। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়ের তো দায়িত্ব ছিল এই তালিকা নিজেদের উদ্যোগে সংগ্রহ করা। কেন করেনি? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য এ প্রসঙ্গে বলেছেন শহীদ বুদ্ধিজীবী শিক্ষকরা ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত এ দেশের সকল আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন। তাদের এই মহান অবদানকে ভুলে যাওয়া যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন না করা ভয়ানক অপরাধ।
আমাদের দেশে শহীদ বুদ্ধিজীবী নিয়ে নানা আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম হচ্ছে কিন্তু সত্যিকার অর্থে তাদের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনের জন্য ধারাবাহিক ভাবে কোন কর্মসূচী গ্রহণ করা হচ্ছে কি? নতুন প্রজন্মকে তাদের আদর্শ শিক্ষা এবং দেশপ্রেম তুলে ধরার কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি যা অত্যন্ত লজ্জার এবং দুঃখজনক। শুধু ঢাকা নয় ঢাকার বাইরেও অনেক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়েছে তাদের সঠিক পরিসংখ্যান এখনও জানা যায়নি। বরং স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করে শহীদদের নানাভাবে অসম্মান করার চেষ্টা চলেছে। তাদের ত্যাগকে খাটো করার জন্য নানা অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। আশা করি সব শহীদ বুদ্ধিজীবী সহ সকল শহীদদের ত্যাগের স্বীকৃতি ও যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে স্বাধীন দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।
Flag Counter


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.