কবিতা

খুঁজে নিও নিজেকে

রনি আহম্মেদ | 13 Dec , 2018  


খুঁজে নিও নিজেকে

আমি জানি না তুমি কে!
কারণ, তুমি জানো না তুমি কে!
আর আমিও ‘তো ..
ঠিক এমনই….
জানিনা কেন শব্দগুলো এলো,
আর ভাষা !
আদি যুগে সবইতো
নীরব ছিল
শোনা যেত শুধু তার
রহমতের গান।
আমাদের সীমাহীন
রূহ ‘এ এসে থামা
আলোর গ্রামগুলো
জানতো কিছু রহস্য !
আমি ভুলে গেছি…
এখন যা দেখো
সবইতো বাগানের
মাঝে বাগান;
ফুলের মাঝে ফুল;
নয়নের মাঝে নয়ন…
বন্ধ সমুদ্রগুলো খুলবে
এক এক করে
আর বুঝবো… কে আমি,
আর কে তুমি !
আর কারা এসেছিলো
চলে যাবার জন্য…
শুধু বলতে সেজদা দাও
নিঃশ্বাসের সাথে সাথে !
আগুন জানে কাকে পোড়াতে হয়,
আর পানি জানে কার চোখ যোগ্য !
ভেবে দেখো…
আমি চলে যাবার আগে
কিছু টেলিফোন বেজেছিল
কারো কারো মনের ভিতর …
কারো মন ছিল আয়নায় !
আর ভালোবাসার জন্য দরকার
মহাকাশের কিছু ঘোড়া,
ঝিঝি পোকাদের হারিয়ে যাওয়া
উপগ্রহগুলো….
ভালো থেকো…
খুঁজে নিও নিজেকে …
আর অন্যদের
দূরে যেতে বলো…

লালচে মেঘের স্মৃতি

এই জীবন একটা বন,
এই বন এক মুখ,
এই মুখ এক নদী;
এই নদী জাহাজ।
এই জাহাজ তোমার হাতের পাশে
পড়ে থাকা রোদ-চশমায় বিম্বিত…
কিছু শব্দ , কিছু গান
সিগররসের গাঙচিলের
উড়ে যাওয়ার
ঘুরন্ত স্থিরতায় …
তন্দ্রার একফোটা উপত্যকা।
আমার জন্ম হলো
তোমাদের কথা শেষেই ,
যেখানে অবসরের
দাগগুলো মিশে থাকে।
অনন্ত রুহের ছায়া
চোখ বুজে ….
শুধু খুলবে বলে।
আমরাতো গোলাপের
ভাষা কিছু জানি আর
বাকিটা ভুলে থাকা।
দুনিয়ার মায়ায় নষ্ট
হয় কিছু পাপড়ি।

অন্যরা উড়ে যায়
লালচে মেঘের স্মৃতিতে…
এখন সন্ধ্যা …
গভীর সকাল অথবা
সবচেয়ে মধ্যদুপুর…
একটি মুখের চোখ, মুখ, নাক
যেন শেষ চুম্বনের দৃশ্য ছিল
আলো আর আঁধারের…
আঁধার ভীত হলো।
আলোময় হলো
জগতের সৃষ্টি সকল।
আমাকে ভালোবাসার আগে
আমি তোমাদের কথা ভেবেছিলাম…
নবীজির জিকিরে বছর
আর শতাব্দীগুলো থাকুক
দেহের পাখিগুলোকে
উড়তে দিয়ো…
ভাল থাকো…
নিবিড় হও…


সুন্নতগুলো মেনে চলো

আশাগুলো নিভিও না ,
দেখো কিভাবে শুরু হয়
শেষের দিনগুলো !
পেয়ারা বাগানে বুলবুল,
মধ্য দুপুরে…
নিভে যায় পূর্ব জীবনের আঁধার !
কখন তোমার সাথে
আমার আয়নার দেখা হলো ?
জানে শুধু একটা শিশু…
থাকে যে কল্বের
পাতায় পাতায় …..

সুন্নতগুলো মেনে চলো।
মহানবীর আশায়
কত অযুত নিযুত বছর
কাটে আমাদের…
দুনিয়া সৃষ্টির আগে
লেখা হলো এখানে…
নির্জন পুরানো বাগানে
ঠিক, মধ্য দুপুরের
রোদের একটা রশ্মিতে…
হলুদ একটা দ্বোর কাঁটা বাঘ
উঠবে নড়ে…
আর যা কিছু ,
সব হলো ….
সেগুলো হয়ে যাওয়া
বহুকাল আগে !
ঘুমিয়ে পড়…
চির জাগ্রত হবার
প্রস্তুতি নিয়ে !


সামনে একটি নদী

সময়ের চুমুগুলো
তোমাদের জন্য অপেক্ষা করে ,

লম্বা লিমুজীন এলো…
সাদা কবুতরে ভরা একটি জীবন।
তুমি কি জানতে ..
পাথরের মায়া নিয়ে সমুদ্র ভাসে।…
তাকায়।

আজানের আলোয়
আমাদের গভীর গানগুলো বাজে।
যেন গোলাপ জলের তৈরি এক মেঘ
তোমাদের পরিশুদ্ধ করে
নবীজির জন্মদিনে…

মহালোক থেকে নেমে আসা
সংবাদ দাতা…

ভেবে নাও…
তোমার কল্পনাগুলো
কত গোপন নকশাকারীদের
বাড়ি গিয়ে হানা দেয়!

এখন মধ্যরাত অথবা
নিঃশব্দ একটি রাস্তা…

আমি হাটি , তোমার কেন দেখনা ?

মৃত্যুর ওপার থেকে
আমি তোমাদের
কক্ষগুলো ঘুরি ,
আর বলি উঠে এস…
এ সব অন্ধকার
তোমাদের জন্য নয়।

সামনে একটি নদী ,
ভালবাসার সাঁকোটা খুঁজে নিয়ো ,
ফুল দিয়ো দূরের আকাশে।

আমি’তো তার মাঝেই ফুটে আছি
অনন্ত কালের মতো করে,
কালের নিষ্পলক চোখের জন্য।

অশ্রুধারাগুলো হীরার আংটি
হয়ে জ্বলে …
তোমাদের নিরালা আঙুলগুলোয়

ভাল থেকো… শান্ত পাখি তুমি …


ভেসে আসা পালক

আমার ভালবাসাগুলো ছিল
একটি পাখির গলায় ঝোলানো…

ঝাড়বাতি গভীরতম রাতে
উঠতো জ্বলে।
ভাবনার রাস্তাগুলো খুললো ,
অপরিচিত কোনো গোলাপ।

জিব্রাইলের পায়ের শব্দ
আসলো ভেসে …
যেন নতুন কোনো দিন
আমাকে ডাকছে।

এতগুলো দিন কিভাবে কাটাবো ?
চুলায় বসানো গভীর বনের শব্দ
শেষ রাতে সিদ্ধ হলো ,
বের হলাম সাদা পোষাকে…

কাফনের চেয়ে পবিত্র
আর কোন পোষাক ?

গোলাপের সমুদ্রে
হারিয়ে যাওয়া নাবিক…

তোমাদের একটি স্যুটকেস
আটকে আছে রেল রোডের
বৃষ্টিমাখা দিনটিতে।

অবিশ্বাসীরা জানে না
কোন শব্দের কি অর্থ !

ভালো থেকো…

নির্জনতার গাড়িগুলো চলে যায়…
উঠে পড়ো ,
আর সবকিছুতো ছিল
আল্লাহর গান,
তোমরা কিছু শুনেছিলে…

আর হারানো কিছু ফুলের পাপড়ি,
ভেসে আসা পালক;
ধীরগতির বাতাসে …
যত্ন নিয়ো…

কবি নিজেই অঙ্কন করেছেন।
Flag Counter


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.