কবিতা

একরাম আলি: কোনো-এক ইচ্ছের ছোটো-ছোটো মৃত্যু লেগে থাকে

একরাম আলি | 4 Dec , 2018  


শিল্পী জামাল আহমেদের চিত্রকর্ম

আকাশ

একেক বস্তুর রং একেক রকম

অথচ, তোমাকে দেখে জেনেছি–
ঠোঁট, স্তন, নাভির ঘূর্ণন থেকে বেরিয়ে গেলেই
সেসব বস্তুর রং নীল আর নীল

বহু দূরে, শূন্যে শূন্যে
আমাদের শরীরের আকাশ

পরাজয়

তীরের এ-ধার থেকে ওই দূর অবধি
ঢেউয়ের রেখার মতো আড়াআড়ি পড়ে আছে
তার বারবার ফিরে আসার দাগ

উথলে-ওঠা তরল আমিষে বুঁদ হয়ে ডুবে যাচ্ছে সূর্য

বালি থেকে পায়ের আঙুলে
এবার গুটিগুটি উঠে আসবে সেই দার্শনিক পোকাটি
অন্ধকারে ফিসফিসিয়ে বলবে—
‘দাঁড়াও, জয়ীর মতো তরঙ্গায়িত হও’

নাচ

এত-এত ফুল মাড়িয়ে হেঁটে-যে এলাম
থ্যাঁতলানো পাপড়ি, রেণু আর সৌরভে
আমাদের কত কিছুই-না লেগে রইল

সামনে সদ্য-তৈরি সাঁকো, তার
কাঁচা অন্ধকার নীচে ঘাপটি মেরে আছে
ওপরে সারি সারি মোটরবাইক, বারুদের
গন্ধ থেকে বারুদ বেরিয়ে আসতে চাইছে ছিটকে
হিংসার অন্ধতা থেকে হিংসা

যুদ্ধ আজ অনিবার্য জেনেও
হাঁটা থামানো যাচ্ছে না

ফল

ফলের দোকানে কত কত বর্ণের প্রস্ফুটন
ঝুলে-থাকা তারাগুলি সোনালি রুপোলি
সেইসব সজ্জায় কত রূপ আর রং, গন্ধে কত আশ্বাস
তবু তারা রয়েছে নরম অপেক্ষায়, ফলেরই স্বভাবে

এতটাই নরম যে তারা শুধু ফলই
আমাদের খাদ্যাখাদ্য নয়

ডানা

ভোরের ফিকে অন্ধকার ফিসফিসিয়ে বলেছিল—
জানো তো, ওর দুটো ডানা আছে!
সেই থেকে পাখিকে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়

শহরতলির এই ঘরে
হাওয়া ঘুরে-ঘুরে কেবলই ভুল বকছে

রাত গড়িয়ে যায়, শেষ রাতে
মাকড়সার জালের ভেতর নিরুপায় ঢুকে পড়ি
ঘুম ভাঙে অগুনতি মরা পালকের ঘন ঘন শ্বাসে

জালের ভেতর ওড়াউড়ি, ব্যস্ততা, হাঁসফাঁস
অসংখ্য উড়ো পালকের দীর্ঘশ্বাসে
কোনো-এক ইচ্ছের ছোটো-ছোটো মৃত্যু লেগে থাকে

মাথুর

আমি আলো, হাওয়া, আমি বৃষ্টিকে ভয় পাই
পালিয়ে যেতে-যেতে রোদন-ভরা এ বসন্তের দিকে
একপলক পিছন ফিরে তাকাই

কত কথা লুটিয়ে পড়েছে এই পথে
অযত্নে শুকিয়ে গেছে শহরতলির বনপুলক
তবু পথপাশে হ্যাজাকের আলোয় কীর্তনীয়া
দু-হাত ছড়িয়ে দিয়েছে নীল মথুরার দিকে

তার উত্তর সে জানে যেমন আমার প্রশ্নও আমি ভুলিনি
তবু আমাদের দেখা হল না বলেই
পিছন ফিরে একপলক তাকাই
Flag Counter


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.