স্মরণ

অকল্যাণ, অশুভ প্রতিরোধের দুর্জয় শক্তি সুফিয়া কামাল

দিল মনোয়ারা মনু | 20 Nov , 2018  


বটবৃক্ষ জানে এইসব ধ্রুপদী সম্পন্ন
ছবির জন্ম ইতিহাস
দু’হাতে আগলিয়ে নিয়ে প্রাণের অভ্যন্তরে রাখা আছে
উজ্জ্বল যাদুঘরে কতোশত দু:খ, বেদনা
বঞ্চনা, তাপ, উৎসর্গ, ব্যর্থতা আর
সাফল্যের আন্দোলনের বলি
এইসব নিয়ে সর্বংসহা একালের বটবৃক্ষ
ত্রিকালদর্শী বেগম সুফিয়া কামাল।

‘একালের বটবৃক্ষ’ নামে এই কবিতাটি কবির জন্মদিনে লিখেছিলেন কবি রবিউল হুসাইন। আজ এই ক্ষণে তার জন্মদিনে মনে হচ্ছে জননী সাহসিকা, বটবৃক্ষসম এই মানুষটি কতটা একাত্ম হয়ে আছেন আমাদের সাথে। আসলে ইতিহাসের অনিবার্যতায় বহু মানুষের স্বপ্ন, আকাঙ্খা, সংগ্রাম আন্দোলনকে ধারণ করে প্রতিনিধিত্ব করে নির্মিত হয়েছিলেন আমাদের সুফিয়া কামাল। বাংলাদেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় এক ব্যক্তিত্ব।
একজন কবি হিসাবে তাঁর পরিচয় প্রথম প্রকাশ পেয়েছিল বিশ শতকে, ব্রিটিশ শাসিত কলকাতার সাহিত্য পত্রিকায়। তখন মুসলিম নারী সমাজ রোকেয়ার নারী জাগরণী মন্ত্রে সবেমাত্র দীক্ষা নিয়েছে। সুফিয়া কামালের কাব্যচর্চা শুরু হয়েছে। একজন তরুণীর লেখা কবিতা বিদ্রোহী কবি নজরুলকেও আকৃষ্ট করে এবং সেকালের কবি- সাহিত্যিকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথও তাকে আশীর্বানী পাঠিয়েছিলেন। পিতৃস্নেহ বঞ্চিত সুফিয়া কামাল প্রথম শিক্ষা অর্জন করেন মায়ের কাছে। শৈশব-কৈশোর যার কেটেছে একাকী, মায়ের
স্নেহছায়ায়। বরিশালের নানাবাড়ির আভিজাত্যও তাকে ধরে রাখতে পারেনি। বাঙালি মেয়ে হয়েই জন্মেছিলেন বলে তাঁর স্বভাবজাত মূল্যবোধ ও আদর্শ ছিল সুদৃঢ়। ধর্মীয় শিক্ষা- দীক্ষা ও সাংসারিক কাজকর্মের প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করলেও, তার মন পড়ে থাকত প্রকৃতির কাছে। এই বাংলার আকাশ-বাতাস-সাগর-গিরি ও নদী এবং ধূলিকণা, ঘাস, ফুল, পাথি তার হৃদয়কে আকুল করে রাখতো। প্রকৃতি তাঁকে কবি করেছিল, প্রকৃতি তাঁকে পরিপুষ্ট করেছিল, প্রকৃতি তাকে মানবিক করেছিল বলেই আমরা এক বিরাট বটবৃক্ষ সুফিয়া কামালের ছায়ায় আশ্রয় পাই। ১৯১১ সালে তাঁর জন্ম বরিশালের শায়েস্তাগঞ্জে। শৈশবে মায়ের সঙ্গে একবার কলকাতায় গিয়েছিলেন, তখন যে আত্মীয় বাড়িতে ছিলেন সেখানে একদিন বেগম রোকেয়া এসেছিলেন। তিনি তাঁকে কাছে টেনে বলেছিলেন, আমার স্কুলে আপনার মেয়েটিকে দিয়ে দিন। কিন্তু সেটাও সম্ভব হয়নি, মায়ের সঙ্গে সুফিয়া চলে আসেন নানাবড়ি বরিশালে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয় মামাত ভাই নেহাল হোসেনের সঙ্গে, তারপর কলকাতায় গিয়ে বসবাস করেন। কাব্য প্রতিভার স্ফূরণ ঘটেছিল মূলত: বরিশালে বসেই। মামার বিশাল লাইব্রেরী তাঁকে বই পড়ায় আগ্রহী ও অবরুদ্ধ করে তোলে। তিনি নিজেই বলেছেন, আমি বই ও পত্র-পত্রিকায় লেখা ও লেখকের নাম দেখতাম ও পড়তাম, আর ভাবতাম আমিও চেষ্টা করলে একদিন নিশ্চয় লিখতে পারবো। শৈশবে পাড়ার মেয়েরাই আমাদের বাড়ি আসতো। তাদের বকুল ফুলের মালা গেঁথে, দোলনায় দুলে, পাখির কন্ঠ শুনে, লতায়-পাতায় জড়াজড়ি করে, নদীর বাতাসে শ্বাস নিয়ে আমার দিন কেটেছে। মায়ের কাছে বাংলা পড়া শিখেছি, কোরান শরীফ ও নামাজ শিখেছি, রান্না-বান্না শিখেছি। আমাদের বাড়ি ছিল অনেক বড়, ঐ বাড়ির প্রাকৃতিক পরিবেশই আমাকে কবিতা লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে। তখন স্বদেশী আন্দোলন চলছিলো, পাড়ার মেয়েদের সঙ্গে আমিও একবার বাড়িতে না বলে বক্তৃতা শুনতে গিয়েছিলাম। আমার কৌতুহল ও উৎসাহই জানতে সাহায্য করেছে মানুষের কথা, সমাজ ও দেশের কথা। সুফিয়া কামালের প্রথম বিয়ে হয় মাত্র ১৬ বছর বয়সে। স্বামী নেহাল হোসেনের সঙ্গে যখন কলকাতায় বসবাস করতেন তখন তার কাব্য প্রতিভার মাত্র প্রকাশ ঘটেছে। মাসিক ‘সওগাত’ ছাড়াও অন্যান্য পত্র-পত্রিকায় কবিতা ছাপা হতো। তাঁর কবিতার প্রধান আকর্ষণ ছিলো বিষয়, ছন্দ এবং প্রকৃতিগত সারল্য। কবি হিসাবে তাঁর প্রতিষ্ঠা পেতে খুব দেরি করতে হয়নি। এখানেই হচ্ছে সুফিয়া কামালের প্রধান সাফল্য।

কলকাতা থাকতেই অল্প বয়সে তিনি বিধবা হলেন একটি কন্যা সন্তান নিয়ে। কলকাতা কর্পোরেশনের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরি নেন মাত্র ১৭ টাকা বেতনে। প্রথম জীবন সংগ্রাম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই একটু একটু করে তৈরি করেছে আমাদের সুফিয়া কামালকে। একজন নিরুপায় তরুণী হলেও আত্মমর্যাদায় সুফিয়া কামাল ছিলেন অনন্য ব্যক্তিত্বময়ী। সরকারি- চাকরিজীবী হলেও তাঁর দ্বিতীয় স্বামী কামালউদ্দীন সাহেব তখন লেখকমহলে সুপরিচিত ছিলেন। কবি সুফিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয় ১৯৪০ সালে, এরপর আর তাঁকে ভাবতে হয়নি। স্বামী, সন্তান, সংসার সামলিয়ে তার কাব্যচর্চা এগিয়ে গেছে এবং সমাজ-সংস্কৃতি ও স্বদেশের কাজে তিনি একাত্ম হতে পেরেছিলেন। তিনি নিজেই বলেছেন, ‘আমি সাধারণত রাতের কাজকর্ম শেষ হলে, সবাই ঘুমুলে লেখার টেবিলে বসতাম। লেখার সময়টা আমার তখনই ছিল। এখনও তাই করি, অনেক সময় ভোরবেলা উঠে লিখতে বসি। লেখার ভাবনাটা আগে থেকেই ভেতরে ভেতরে থাকে, সুতরাং লিখতে বসলে গুছিয়ে নিতে সময় লাগে না। তাছাড়া লেখার জন্য তাগাদা থাকতো বেশি। এখনও তো লেখা নিতে অনেকে আসে। প্রতিদিন লেখার টেবিলে বসাটা একটা অভ্যাস ছিলোই। তবে পড়ার প্রতি ঝোঁকটা শৈশব-কৈশোর থেকে গড়ে উঠেছিলো শেষ বয়সেও সেই অভ্যাস ছাড়তে পারেন নি। ১৯৪৭ সালে সাপ্তাহিক ‘বেগম’ প্রকাশিত হলে তিনিই এর প্রথম সম্পাদিকা ছিলেন কয়েকমাস। সুফিয়া কামাল কেবলমাত্র কাব্যচর্চা থাকেননি। ঘর ছেড়ে বেরিয়েছেন মানুষের ডাকে, মানুষের কল্যানের জন্য। বর্ধমানে স্বামীর চাকরিস্থলে থাকাকালে তাকে প্রথম দেখা যায় খাদ্যের দাবিতে একটি মিছিলে, এর উন্মেষ মণিকা সেনের গ্রন্থে পাওয়া যায়। এরপর কলকাতায় থাকাকালে দেশ-বিভাগের পূর্বে ও পরে যে দাঙ্গা হয়, তখনও তাঁকে দেখা গেছে দাঙ্গায় আহত ও ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে কাজ করতে। ১৯৪৮ সালে সুফিয়া কামাল ঢাকায় চলে আসার পর তখনকার মহিলা সমাজকর্মী আশালতা সেনের সঙ্গে পরিচিত হন এবং ঢাকার ‘গেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে সমাজকল্যাণমূলক কাজে সংযুক্ত হন। এরপর বেগম ক্লাবের সাথে যুক্ত হয়ে তাকে আরও বেশি জড়িয়ে পড়তে হয় শামসুন্নাহার মাহমুদ, জোবেদা খাতুনসহ অনেকের সঙ্গে। নারী শিক্ষার জন্য কলেজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, নারী পুনর্বাসন, নারীর অধিকার আদায়ের নানা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি। ১৯৬১ সালে যে পারিবারিক আইন পাস হয় তার পেছনেও ছিলো শামসুন্নাহার মাহমুদ, সুফিয়া কামালের বিরাট ভূমিকা। এ আন্দোলনে পাকিস্তানের আরো অনেক কল্যাণী মহিলারাও সংযুক্ত ছিলেন। এ দাবি সোচ্চার হয়েছিলো, সমর্থন পেয়েছিলো বলেই জেনারেল আইয়ুব তা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। এখানে আর একটি ঘটনার উল্লেখ করতে হয়। ষাটের দশকে যখন আইয়ুব মোনেমের দু:শাসন চলছিলো তখন এর প্রতিবাদে সুফিয়া কামাল তার সাথে দেখা করে এই নৃশংসতার অভিযোগ তোলেন। এর জবাবে আইয়ুব খান বলেছিলেন ইয়ে সব আদমী নেহী হ্যায়, হাইওয়ান হ্যায়। বেগম সুফিয়া কামাল তাৎক্ষণিক জবাবে বলেছিলেন, তব আপ হাইওয়ান ক্যা প্রেসিডেন্ট হ্যায়। জেনারেল আইয়ুব-এর মুখের উপর এমন সুতীব্র প্রত্যুত্তর দেয়ার সাহস সেই সময়ে একমাত্র সুফিয়া কামালের ছিল, আর কারো না।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় সুফিয়া কামাল রাজপথেই ছিলেন। ছাত্রদের গুলী খাওয়া ও গ্রেফতারের খবর পেয়ে ছুটে গিয়েছিলেন মেডিক্যাল কলেজে, প্রতিবাদ সভায়, মিছিলে। অধিকার আদায়ের জন্য সচেতন বাঙালীর যে সংগ্রাম, সেখানে তিনি যুক্ত হয়ে পড়লেন। বাঙালীর সাংস্কৃতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে প্রধান সারিতে দাঁড়ালেন সুফিয়া কামাল। ছাত্র সমাজের অনুষ্ঠানে বক্তৃতা, রবীন্দ্র সঙ্গীতের আন্দোলন- সর্বত্র। কোথাও তিনি সভানেত্রীত্ব করছেন, কোথাও বা প্রধান অতিথি। পাকিস্তানী সামরিক শাসকগোষ্ঠীরা তখান বাঙালীর উপর শাসন ও শোষণে স্টীম রোলার চালাচ্ছে। এসব স্বাধিকার ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন বন্ধ করতে বেয়নেট-বুলেট চালাচ্ছে, অসংখ্য রাজবন্দীতে কারাগার ভরে যাচ্ছে। বাঙালীর স্বাধিকার আদায়ের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যখন দেশদ্রোহী হিসাবে আখ্যা দিয়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হয় তারপর জোরালো হয় ছাত্র আন্দোলন।
সে সময়ের যে আন্দোলনে রাজপথে নেমে এসেছিলো সর্বস্তরের মানুষ। সচেতন শিক্ষিত, চাকরিজীবী, বিবেকবাস সকলে তুলেছিলো শ্লোগান। সুফিয়া কামালও নেমেছিলেন রাজপথে নারী সমাজের মিছিল নিয়ে। শহীদ আসাদের শোক মিছিলে তিনি ছিলেন নেতৃত্বে, শহীদ মতিউরের প্রতিবাদ সভায় তিনি ছিলেন সোচ্চার প্রতিবাদী বক্তা। উনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থান সফল এদেশের জাগ্রত জনতার একাত্মতায় এই একাত্ম শক্তিকে সর্বতো সাহস যুগিয়েছেন আমাদের সমাজের বিবেকবান মানুষেরাই। ১৯৭১- এর অসহযোগ আন্দোলনের সময়ও সুফিয়া কামাল হেঁটেছেন রাজপথে, মিছিলে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য। একাত্তরের নয়টি মাস তাকে নজরবন্দী করে রাখে পাকিস্তানী সৈন্যরা। এ সময়ও তিনি সাহস দিয়ে সাহায্য করেছেন গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের, মেয়েদের। স্বাধীনতার পর সৈন্যদের হাতে ধর্ষিতা ও নির্যাতিতা মেয়েদের পুনর্বাসনের জন্য তিনিও ‘নারী পুনর্বাসন বোর্ডের’ কাজের সঙ্গে সংযুক্ত হন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী হিসাবে নারী মুক্তি আন্দোলনের নেত্রী হিসাবে তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত, সর্বজন স্বীকৃত। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদী কন্ঠ, সাহসী আন্দোলন দুস্থ অসহায় নারী সামজের মাঝে বিপুল সম্ভবনা এনে দিয়েছিল। নারীর মানবাধিকার আদায়ে বেগম রোকেয়া যে নারী জাগরণী শক্তি যুগিয়ে যান, সুফিয়া কামাল তা আন্দোলনে রূপান্তরিত করে প্রতিষ্ঠা করে গেলেন। এ কর্মে, সংগ্রামে তাকে সাহস ও সমর্থন দিয়ে তা কার্যকর করতে অনেক পথ হাঁটতে হয়েছে। অনেক অপপ্রচার হয়েছে, বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়েছে কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে আদর্শ সব বিরোধী শক্তিকে পরাজিত করে তা ‘নারীর অধিকার আদায়ের সংগ্রাম’ ক্ষমতায়নের মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের নারীকে পশ্চাৎপদতা, ধর্মান্ধতা, সামাজিক কুসংস্কার, পারিবারিক নির্যাতন, দারিদ্র্য যুগ যুগ ধরে নারীকে এক মানবেতর জীবন-যাপনে বাধ্য করে রেখেছিলো। তা নিরসনের দীক্ষা হয়েছে বেগম রোকেয়াতে। হাত ধরে তিনি তাকে সড়কে তুলে দিয়েছিলেন। মন্ত্রটা ছিল কি? সুফিয়া কামাল বলেছিলেন, নারী মুক্তি মানেই মানবমুক্তি।
বেগম রোকেয়া নারীর শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার উপরই প্রধানত জোর দিয়েছিলেন। সুফিয়া কামালও সেই একই সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। আজকের নারী সমাজের সচেতনতা বোধ গড়ে ওঠার পেছনে এই আদর্শ ও সংগ্রামটুকুই ছিলো প্রধান চালিকা শক্তি। অবিশ্বাস্য এক বিস্ময় বোরখার ভূবনের বাসিন্দা এই নারী দমদমে গিয়ে বিমানে চড়ে ১৯২৮ সালে পত্রিকায় নিউজ হয়েছিলেন। প্রথম বাঙালী মুসলমান নারীর বিমান আরোহন। পরের বছর বেগম রোকেয়ার আনজুমান্দকে খাওয়াতীনের সদস্য এবং ১৯৩১ সালে ইন্ডিয়ান ইউমেন ফেডারেশনের সদস্য হলেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

সুফিয়া কামাল নারীর অধিকার আদায়ে, বাঙালীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে, সর্বোপরি রাজনৈতিক আন্দোলন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় বিবেক হিসেবে সম্মানিত, প্রতিষ্ঠিত। সুদীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় ‘শতাব্দীর সাহসিকা’ হিসেবে সর্বস্তরের মানুষের কাছে মর্যাদায়, শ্রদ্ধায় অভিষিক্ত হয়েছেন। বাংলাদেশের নারীকে তিনিই অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন। শিখিয়েছেন কি করে মেরুদন্ড শক্ত করে দাঁড়াতে হয়।

আজ তাঁর জন্মদিন। সুফিয়া কামাল শুদ্ধতম এক মানবিক হৃদয়ের অধিকারী। এর বিরাট মমত্ব তার হৃদয় জুড়ে যা তিনি অর্জন করেছেন এই বাংলার প্রকৃতি, সামজ, মানুষ ও স্বদেশ থেকে। এ অর্জন করতে বড় দু:খ, কষ্ট, অপমান স্বীকার করতে হয়েছে, কিন্তু যে কোন মহান আত্মত্যাগ, আদর্শ ও সংগ্রামের পরই থাকে সম্মান ও সাফল্য। সুফিয়া কামালের কৃতিত্ব সাফল্য, প্রাপ্তি এখানেই। তাঁর তীব্র ঘৃণা ছিল যুদ্ধাপরাধীদের, স্বাধীনতার শত্রু আর স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর প্রতি। তাইতো ’৭১ এদেশে কোন গণহত্যা হয়নি এ রকম কোন বিবৃতিতে তিনি স্বাক্ষর করেন নি। এই অসত্য, অন্যায়কে ঘৃণা করা আবার কোমলতা সমতায় সততা, সত্য সুন্দরকে ভালোবাসা, দেশের মুক্তি, মানব মুক্তির জন্য নিরন্তর লড়াই করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল। সে চিত্র এই স্বল্প পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তাই আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছি।
Flag Counter


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.