কবিতা

গত মৌসুমে যারা কোন ভালোবাসা পায়নি

সরকার মাসুদ | 27 Nov , 2018  


শিল্পী জামাল আহমেদের চিত্রকর্ম

শীতের শুরুতে

শীতের শুরুতে যখন কুয়াশার শৈশব চারদিকে মাঠে ও বাগানে
আমরা হিমগ্রস্ত হাতের তালুতে তুলে ধরি
আমাদের স্বপ্নকাতর অস্তিত্ব!
এখনো যে স্বর্গের টুকরোর মতো ছোট ছোট
বনভূমিগুলো আছে গ্রামবাংলাদেশে
তারা শীতের শুরুতে আহলাদিত হয়ে ওঠে
জলাভূমির কিনারে কিনারে-
শীতের সংশয় নিয়ে আস্তে-ধীরে বনপথ পার হয়
লাজুক গুইসাপ…
গত মৌসুমে যারা কোন ভালোবাসা পায়নি
সেই নিঃস্ব পাখিদের দল এসে জোটে আমার জঙ্গলবাগানে
আর শোনো, আমি নয় তারাই ভালো বলতে পারে
কোন কুঁড়ি ফুল হবে, কোন পাতা মরবে অকালে
আমিও অপেক্ষায় থাকি তাদেরই মতো
কুয়াশামাখা সাত সকালে গাছপাতার ভেতর থেকে আসা
সবুজ সাইরেন আবার শুনতে পাবো কখন!


সার্ট

সার্ট স্মার্ট হয় কলারের গুণে-
বলে থাকে কারিগর;
আমি বলি, সার্ট সুন্দর হয়
যখন তার আস্তিনে অথবা পকেটে ঝরা পাতার
দীর্ঘশ্বাস পড়ে
কলার হবে কোচকানো, এলেঝেলে
সার্টের দুই হাতে লেগে থাকবে বিকেলের শেষ রোদ
পিঠের ওপর বাগানবাড়ির ছায়া
বোতামের ঘরগুলো ভরা থাকবে স্মৃতির বিষাদে!
দুই কাঁধে শুকিয়ে যাওয়া পাখির শাদা হাগু
হাওয়া খাবে একটা বোতাম ছেঁড়া বুক
সার্ট বেশি বাবু হলে, জেনে রাখো,
সেটা অপগন্ড অধঃপাত আধুনিক পোশাকের।

না

স্মৃতি একটা বড় মাকড়সার জাল
ঝিরঝির বাতাসে দোলে, ছিঁড়ে যায়
মাকড়সা আবার তাকে মেরামত করে

দয়ালু আশ্বিন মাস

রঙচটা ভালোবাসা ছড়িয়ে রাখে ঘাসে ঘাসে
পটাতে পারে না কাউকেই, এই দুঃখে
সুন্দরীর কর্কশ হাসি গড়াগড়ি খায়
রুক্ষ মাটির ওপর..
ফাল্গুন মাস তার ছত্রপলাশের আগুন দিয়েও
আমার ভেতর জাগাতে পারে না কল্লোল।

কেন

কালভার্টের নিচে মাতালের অসংলগ্ন আলাপের মতো
কৌতুকপ্রদ জলশব্দ
আমি তার কাছাকাছি বসে নাচের শব্দ শুনি
পৃথিবীর চিরপ্রিয়তমার দুরন্ত হাসির সুবাস পাই
এমন ঝিরিঝিরি হাওয়া-জল ভাববিহ্বল সুসময়ে
কেন ঢুকে পড়ে এই ছবি—
বড় রাস্তার ওপর চ্যাপ্টা হয়ে পড়ে আছে
স্থির চোখ বড় ফকফকা একটা নিঃশব্দ খরগোশ!

এই ভালো

সন্ধাবেলা মুলমুলে হাওয়া ওঠে
ঝিঁঝিরা কোরাস শুরু করবে কি না এখনই
বুঝে উঠতে পারে না
তখন সোনা চাঁদ মুচকি মুচকি হাসে

সোনা চাঁদ মুচকি মুচকি হাসে
কালো পানির ওপর ভাসে বেগুনি মাইক ফুল
রুদ্র নদীর দুই পারে শুকনো হাওয়া ওঠে
কে জানে তখন কেন ফোটে
ম্লান আশা, ছোট ছোট আশা!
সন্ধাবেলা আমি বুঝি এই ছবি
এই ভালো জীবনের শাদা-কালো যাবতীয় সংশয়
অনিশ্চিত ঘৃণা-ভালোবাসা।

কাঁটা

দিনে কাঁটা আমাকে গঠনমূলক অন্যমনস্কতা থেকে
ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যায় দেয়ালের কাছে
সেই দেয়ালের শাদা রঙের সম্ভ্রমে
খুুন ছিটিয়ে দিয়েছে খোলা সন্ত্রাস!
রাতে কাঁটা আমাকে জাগিয়ে রাখে
লেলিহান চাঁদের জানালায়!
তারপরও কাঁটার প্রতি আমার অবোধ পক্ষপাত,
কাঁটা কেবল তাজা রক্তক্ষরণের প্রতীক নয়
কাঁটা অনেক আশার শান্তি-
হুল ফুটানোর হিম মৌসুমে উষ্ণতা বুননের আরাম।

দুঃখকে দোষ দিও না
না বুঝে কাঁটার সমালোচনা করো না বোকা!
এত সহজেই ভুলে গেলে মাতৃসদনের ছুরি-কাচি,
জন্মদিনের কাঁটা চামচ?
দুঃখের নতুন স্মৃতির তলে চাপা পড়ে পুরনো বেদনা
কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার কথা তোমার মনে নাই?

Flag Counter


1 Response

  1. MD TAIFUR RAHMAN says:

    fantastic…loved them all

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.