গল্প

মেঘ গেছে রৌদ্রের দেশে

শাহাব আহমেদ | 12 Dec , 2018  


মোহাম্মদ ইকবালের চিত্রকর্ম

ঝম ঝম করে বৃষ্টি নেমে এল। খরা ছিল বুকের ভেতর, খরা ছিল মনে। তাপ ছিল দেহের বাঁকে বাঁকে। স্তনগুলো ফুলে উঠেছে তৃষ্ণায়। বৃন্ত ঘিরে বৃত্তে ঘন ও গাঢ় হয়েছে কামনার জমাট অন্ধকার। একজন মানুষের অভাব যে এত তীব্র হতে পারে, নিজ দেহে এমন দাবদাহের মত, সে আগে কখনও বুঝতে পারে নি।
কলেজে ভার্সিটিতে যেত, ছেলেরা শীস দিত, তাকাতো বিশেষ ভাবে। মাঝে মধ্যে তাদের কমেন্ট কানে এসে কান লাল করে গেলেও তা ছিল ক্ষণিকের। রোমাঞ্চের চেয়ে বরং গা ঘিন ঘিনে অনুভূতি ছিল তাতে। যৌবনের উদগমে দেহে কামনার জোয়ার- ভাটা খেলেছে বটে কিন্তু কারো সাথে প্রেম সে করে নি।
সম্বন্ধটি আসে পড়াশুনোর শেষ বর্ষের শেষ দিকে। ছেলে কানাডায় ম্যারিন ইন্জিনিয়ার, ভালো বেতনে চাকরি করে।ওর মা দেখে পছন্দ করেছে। ছবি পাঠানো হয়েছে ছেলের কাছে।তাকেও ওর ছবি দেখানো হয়েছে।ছেলের ফর্সা নির্মেদ শরীর। মাঝারি লম্বা, প্রায় ওর সমানই, মুখে চিকন গোঁফ।চোখ দুটো ভীষন উজ্জ্বল। ফোনে কথা হয়েছে। দুপক্ষেরই পছন্দ।
ফোনেই কাবিন হয়।
ছেলে দেশে এলে বিয়ে সম্পন্ন হয় পরীক্ষা শেষ করার পর পরই। দু সপ্তাহ মানুষটি এত বেশী আদর তাকে দিয়েছে, এত যত্ন করে শরীরের অনুস্বার বিন্দু বিসর্গ গুলোকে আবিষ্কার করেছে যে সে শুধু বিস্মিতই হয় নি, বরং খুব তীব্রভাবে উপভোগ করেছে অস্থির গহীন পর্যন্ত। তার সারা শরীরে যেন মুক্ত হয়েছে কলি আর কলি, মুকুল আর মুকুল। আর মানুষটির কাজই ছিল যেন সেই কলিগুলো ফুটানো, মুকুলগুলোয় কচি সবুজ পাতা খুঁজে বের করে আনা। এত কিছু অজানা ঘাসফুলের মাঠ, ঝর্ণা, খাল, নদী ও গভীরতা যে তার মধ্যে লুকিয়ে ছিল তা তার ধারণায় ছিলো না। বলা হয় নিজেকে জানো, কিন্তু নিজেকে জানার জন্য যে একজন সত্যিকারের প্রেমিক পুরুষের প্রয়োজন হয়, তা জানে কয়জন? জীবনের ২১টি বছর সে পার করেছে, কই সে তো জানতো না !

সে মানুষটির প্রেমে পড়ে যায়। খুব তীব্র ভাবে। কিন্তু তাকে ক্লান্ত করার আগেই বা পূর্ণ কলসী পরিতৃপ্ত করার আগেই যাবার সময় ঘনিয়ে আসে।সে চলে যায়। এই প্রথম সে জীবনের দিগ্বলয়হীন ধু ধু প্রান্তরে হাঁটে যেন, যেখানে বাতাসের একটাই আওয়াজ হু-হু-হু ,আর ব্যপ্তির একটাই অভিব্যক্তি -শূন্যতা। মনে হয় মানুষটা তার সমস্ত অন্তরাত্মা কেড়ে নিয়ে ফতুর করে দিয়ে গেছে।
শাশুড়ি দেবর, ননদের সাথে থাকে।
লোকে ভরা ঘর তার শূন্য শূন্য লাগে, কিন্তু কাউকে বলতে পারে না। সময় যায়, সে আর নতুন বৌ থাকে না। জীবনে দৈনন্দিনতার ধূলো মর্চে আর তেল তেলে হাতের ছাপ পড়ে। দেবর, ননদের সাথে ঠোকাঠুকি হয়। শ্বাশুড়ী বলে, “বৌ ওরা ছোট ও অবুঝ। তুমি তো বড়, তোমার তা মনে রাখতে হবে।”

বিরহ কাতর এই বৌটির নাম নাম রূপা। ঠিক অপরূপা তাকে বলা যাবে না। গড় বাংগালী মেয়ের মতই সে। অসুন্দর নয়, আবার আশেপাশে আগুন লাগিয়ে দেবার মত লেলিহান শোভাও নয়। মোটা নয়, চিকনও নয়। চোখ দুটো হরিণের অবশ্যই নয়, তবে শেয়াল- বিড়াল চোখাও কেউ বলবে না। সে এভারেজ একটি মেয়ে। বুক দৃষ্টি এড়ায়ে যাবার মত ছোট নয় বরং চোখে সহজেই পড়ে, তবে বেঢপ বড় নয়। এক কথায় চোখে পড়ার মত কোন খুঁত তার নেই, আবার রূপ দেখে মাথা ঘুরে পড়ে যাবার মত ম্যাগনেটিকও সে নয় ।
বেশ বড় ওর চুল। উত্তরাধুনিক যুগে এসেও ক্লাসিক যুগের মত লম্বা। আর তমাল কান্ডের চেয়েও বহুগুণ বেশী কালো। নারিকেল তেলের বোতলে বিজ্ঞাপন দেয়া বাংগালি নারীর চুলের মত।
আগে সে সালোয়ার কামিজ পরতো, এখন শাড়ি পরে।
শাড়িতে বেশ লাগে।
স্বামী চলে যাবার কয়েক মাসের মধ্যেই ওর ইমিগ্রেশনের কাগজ হয়ে যায়। মনটা হয় উড়াল দেয়া পাখী। পাখাগুলো ঝাপটায় কিন্তু উড়তে পারে না । স্বামী বলে, “অপেক্ষা করো, আমি একটু গুছগাছ করে নিই। সময় হলেই টিকিট পাঠিয়ে দেবো।”
এই কথাটি যেন বুকে খঞ্জরের মত বিঁধে।
গুছগাছ মানে কি?
সে যার আলিঙ্গন, স্পর্শ ও সঙ্গমের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে, কাগজপত্র হয়ে যাবার পরেও সে তাকে নিয়ে যাবার জন্য পাগল হয়ে ওঠে নি দেখে সে বিভ্রান্ত হয়। যদিও সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স শেষ করেছে সে কিন্তু বিদেশ সম্পর্কে তার ধারণা খুব কম।
সে জানে বিদেশে মানুষ খুব সুখে থাকে। যত কষ্ট, বাংলাদেশে।
মিডল ইস্টে কাজ করে যারা তারা মূলত শ্রমিক ও অশিক্ষিত। ইওরোপ আমেরিকা কানাডায় যারা, তারা হয় বড় ব্যবসায়ী, নয় বড় চাকুরে। সবচেয়ে ছোট যে, সেও কোন কোম্পানীর ম্যানেজার।
বিদেশে খাওয়া দাওয়া ভালো, বাতাস পরিস্কার।লোকজন যদিও মদ খায়, তবে ভালো। রাস্তায় জ্যাম নেই। ছেলে- মেয়েরা অবাধে মেলা মেশা করে এবং সেখানে “ফ্রি সেক্স”। “ফ্রি সেক্স “ আসলে কী তার সে বিষয়ে তেমন ধারণা নেই। স্বামী তাকে দূরে রেখে সেই ফ্রি হাওয়াই মিঠাই খাচ্ছে কিনা, সে ভয় তার নিশ্চিত কাটে না। ৬ মাস চলে যায় স্বামীর ফোন আসে, কিন্তু টিকেট আসে না।
অন্যদিকে শ্বশুড় বাড়ি তার কাছে দু:সহ হয়ে ওঠে।
ছোট দেবরটা গায়ে পড়ে ঝগড়া করে।
ননদটা সাপ।
একদিন সে বাপের বাড়ি চলে যায়।তার কিছুদিন পরে নিঁখোজ। বাপের বাড়ি ভাবে সে শ্বশুর বাড়ি ফিরে গেছে, শ্বশুর বাড়ি ভাবে সে বাপের বাড়িতে আছে।খোঁজ পড়ে কিছুদিন পরে। শ্বাশুড়ির আলমারিতে রাখা ওদের বিয়ের সোনা গয়না জায়গা মত নেই।
রূপার হদিশ দেশে পৌঁছে এক মাস পরে।ততদিনে সে গহনা বেচে নিজেই এসে উপস্থিত হয়েছে কানাডার মন্ট্রিয়লে।

শফিক, মানে রূপার প্রিয় মানুষটি, নারায়গন্জেরই পূর্বপরিচিত এক বাঙালি পরিবারে একটি রুম ভাড়া করে থাকে। কিচেন বাথরুম কমন।
রূপা সার্প্রাইজ দিতে চেয়ে ছিল, তা সে ভালো ভাবেই দিয়েছে।
বিস্ময়টা কেটে যাবার পরে শফিকের নতুন পরিস্থিতি মেনে নেয়া ছাড়া গতি থাকে না।এর মধ্যে দৈহিক নগদ প্রাপ্তির বিষয় থাকলেও, ওর কপালে চিন্তার কুঞ্চন পড়ে।
সময়টা মন্ট্রিয়েল ও কুইবেকে তখন টালমাটাল ।
কুইবেকোয়া পার্টি ক্ষমতায়। কানাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করার ২য় রেফেরেন্ডামটি খুব সামান্য ভোটে হেরে গেলেও তাদের দাপট তখনও প্রচুর। ফরাসি ভাষার দৌরাত্ব সবখানে। ভাষা না জানলে চাকরি পাবার কোন সম্ভাবনা নেই। ইংরেজি ভাষাভাষি ইমিগ্রান্টদের প্রতি সন্দেহ খুব বেশী। তারা জানে এরা ওখানে বসে ওয়েলফেয়ার খেলেও ভোট দেয় ফেডেরালদের পক্ষে।

কানাডায় আসার আগে মেরিন ইন্জিনিয়ারের চাকরি নিয়ে জাহাজে জাহাজে বহুদেশ ঘুরেছে সে। এই জলে ভাসতে ভাসতেই সে কানাডায় এসেছিল। মন্ট্রিয়েলে মামলা সহজে জেতা যায় বলে জাহাজ থেকে নেমে সরাসরি এখানেই রাজনৈতিক আশ্রয় দাবী করে । কিন্তু পড়ে ইঁদুরের খাঁচায় । মামলা চলছে, চাকরি নেই। কিছুদিন ফ্যাকটরিতে অমানুষিক কায়িক পরিশ্রম করে দেখে, কাজ না করে ওয়েলফেয়ার যা পেত, বেতন থেকে সমমানের টাকা কেটে রাখা হয়। ফলে যা লাউ তা-ই কদু।হাতে আসা অর্থের পরিমাণ রয়ে যায় আগের সমানই। মাঝখানে মজুরের মত খাটুনি। ব্যাপারটা স্বচ্ছ হতে সময় লাগে না। যেখানে ওয়েলফেয়ার দেয়, সেখানে বুদ্ধিমানের কাজ করা বৃথা।

সামান্য টাকায় কোনমতে বাঁচে থাকা যায়, কিন্ত কষ্টের সীমা পরিসীমা নেই।সে ফ্রেঞ্চ ভাষা শিখে, সরকারি কোর্সে বিনা পয়সায় । ২ বছর পরে মামলা নিষ্পত্তি হয়। গ্রীন কার্ড পায়।
আরও ৫ বছর পরে নাগরিক হয়।
৭ টি বছর, জীবন থেকে নেই। কর্মহীন, ভাতা খেয়ে কোমর বাঁকা, পিঠ সোজা করে দাঁড়াতে কষ্ট। অত দীর্ঘদিনে সব চেয়ে ঋজু মানুষ ও ভেঙে যায়, নয় পাগল পাগল হয়। অন্য শহরে গিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে ভয় লাগে। টরোন্ট শহরে ভাতা পাওয়া মন্ট্রিয়লের তুলনায় বেশ কঠিন, কড়াকড়ি ও জবাবদিহিতা খুব বেশী। যদি চাকরি না পায়, আর ভাতাও না থাকে, বাঁচবে কী করে? মন্ট্রিয়েলের মাটি, হোক তার ফ্রেঞ্চ ফ্রেঞ্চ গন্ধ, তারপরেও আপন।খেতে দেয়।
ঠিক এমনি অবস্থায় শফিক চাকরিটি পায়।
সোনার পাথর বাটি হয় না, লোকে বলে। আসলে হয়, শফিক নিজে তা ছুঁয়ে দেখেছে। মন্ট্রিয়ল থেকে চিনির জাহাজ যায় ফ্রান্সে, সেই জাহাজে চাকরি। ৭ বছর আগে সে কাটাতো ৬ মাস জলে ( মানে জাহাজে) ৬ মাস স্থলে, এখন তিন মাস জলে, তিনমাস স্থলে।বেতন ভালো, চাকরিটা ধরে রাখতে পারলে ওকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না।এই দেশে ভালো বেতনের ব্লু কালারের চাকরি হলো ভ্যাটিকানের পোপদের বেচা ইন্ডালজেন্সির* চেয়েও বেশী কার্যকর।
দুই ট্রিপ দেয়ার পরে হাতে কিছু টাকা জমিয়ে সে দেশে যায় বিয়ে করতে।
খরচ করে ফেলে হাতের পাঁচ সব। তবে বৌ পছন্দ হয়েছে।
এমন বৌয়ের জন্য টাকা খরচ করতে বাঁধে না।ভেবেছিল আরও গোটা দুই ট্রিপ দিয়ে আলাদা বাসা করে নিয়ে আসবে ওকে । কিন্তু সেই সময়টা সে পেল না। তার জাহাজে যাবার এক সপ্তাহ আগে রূপা চলে এসেছে। চলে এসেছে বাড়িতে সবার পিত্ত জ্বালিয়ে দিয়ে।
শফিকের মা খুবই খুব্ধ। ভাই বোনেরাও। রূপাও শফিককে
ভাইবোন ও শাশুড়ির অপমান ও গন্জনা সইতে না পেরে চলে এসেছে বলেছে। একেই বলে জ্যন্ত কই মাছ গেলা, “নি তুদা, নি ছুদা”**। কার কথা সে বিশ্বাস করবে? ফোনে দীর্ঘ সময় কথা বলে এর তদন্ত করা মানে নিজের পকেটে হাত দেয়া। মনটা বিষিয়ে ওঠে, মনে হয় মা-ভাই-বোন যাদের সে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে খাদ্য যোগান দিয়েছে, তারা কাজটি ভালো করে নি। নিশ্চয়ই ওরা জ্বালিয়েছে তা নইলে বাংলাদেশের “ভোন্দা”
টাইপের একটা মেয়ে এমনভাবে অজানায় পাড়ি দেয় না।

কিন্তু শফিক চোখে অন্ধকার দেখে। তাকে চলে যেতে হবে দীর্ঘ দিনের জন্য। এখানে রূপা কিভাবে থাকবে? কিভাবে বাজার করবে? ইংরেজী জানে না বললেই চলে। আক্কেল গুরুমের ধূলো-গুড়া ওর চোখ অস্বচ্ছ করে তোলে।

রূপার কাছে বিষয়টি আরও অস্বাভাবিক মনে হয়। সে মাত্র দেশ থেকে এসেছে, অথচ স্বামী তাকে বিভুয়ে সম্পূর্ণ একা ফেলে তিন মাসের জন্য চলে যাচ্ছে।এটা কোন আক্কেলে সে করে? কোন দায়িত্ববান স্বামী এমনটা করতে পারে না। বহু-বরিষন, মনোমালিন্য, রাগ অভিমান করেও বিষয়টির সমাধান হয় না। হবার কথাও নয়। শফিক জানে, কোন নরকের মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে । কাজে না গেলে সে চাকরি হারাবে এবং জীবনেও আর চাকরি পাবে না।
কিন্তু সে তা রূপাকে বুঝাতে পারে না।
রূপা নিজের চামড়ায় কোনদিন চাকরিহীনতার হীনমন্যতা
টের পায় নাই। তার কাছে কানাডা হচ্ছে সব পেয়েছির দেশ।
অমুক ভাই তো দূরে না গিয়েই কাজ করছে। বাড়ি আছে গাড়ি আছে।
শফিকের কেন স্ত্রীকে ফেলে চলে যেতে হবে ?
রূপার মাথায় প্রশ্ন অনেক, উত্তর নাই।
কী ভাবে তারা সংসার করবে যদি একসাথেই থাকা না গেল? রূপা বাংলাদেশের গ্রামের মেয়ে নয়। তার লেখা পড়া জ্ঞান-বুদ্ধি আছে। তাকে গোঁজামিল গেলানো যাবে না, এটা সে জানে।

শফিক জাহাজে চড়ে বুকে চিনির বস্তার ভার নিয়ে।
চিনিরও যে ভার আছে এটা সবাই জানে না।
সবার কাছে চিনি হলো মিষ্টি।
রূপা সবার থেকে ভিন্ন নয়। সে কেঁদে কেঁদে মেঝে ভাসিয়ে দেয়। ভাগ্য ভালো বাড়ীওয়ালা ভাই ভাবী তাকে নিজের বোনের মত গ্রহণ করে। বিশেষ করে ভাবী রূপার কথার সাথে পুরোপুরি একমত হয়। শফিক নতুন বৌকে দেশ থেকে আনার সাথে সাথে ( তারা রূপার নিজে থেকে চলে আসার ঘটনা জানে না) এভাবে ফেলে চলে গিয়ে দায়িত্বহীনের মত কাজ করেছে। যে পথ ঘাট চিনে না, ইংরেজীতে কাঁচা, তাকে এই বিশাল শহরে একা ফেলে চলে যাওয়াটা যে “স্পাউজাল এবিউজের” শামিল তা ভাবী ভালো করে বুঝিয়ে দেয়।
সে এর প্রতিকারের পথও বাতলে দেয়।
রূপা চাইলে স্বামীকে তিন মাস নয় দশদিনের মধ্যে ফিরিয়ে আনার বন্দোবস্ত করা যায়। রূপার চোখ জ্বলে ওঠে।
ভাবী ওকে নিয়ে যায় এক উকিলের কাছে। উকিলরা পৃথিবীর যে দেশেই হোক না কেন মক্কেলের মঙ্গলের জন্যই বাঁচে। শফিক ফ্রান্সের মাটিতে পা দেবার সাথে কোর্টের পরওয়ানা পায়, তাকে অবিলম্বে মন্ট্রিয়লে হাজির হবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
“স্পাউজাল এবিউজ” মামলার আসামী হিসাবে তাকে জাহাজের কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়। প্লেনের টিকেট কেটে সে তড়িঘড়ি ফিরে আসে মন্ট্রিয়লে।
শফিক ক্ষিপ্ত কিন্তু রূপার কাছে ব্যাপারটি আলাদিনের চেরাগের মত মনে হয়।সারা জীবনে সে কোন সমস্যার এত ত্বরিত ও সুচারু সামাধান দেখে নি।
ভাবীর প্রতি সে কৃতজ্ঞতায় গদ গদ হয়ে ওঠে।
সবই ভালো ছিল কিন্তু শফিক রাগারাগির বিস্ফোরনে পুড়তে পুড়তে শেষপর্যন্ত ডিপ্রেশনে তলিয়ে যায়।
তার চুল ছিড়তে ইচ্ছে হয়। ইচ্ছে হয় গলায় ইট বেঁধে সেন্ট লরায় ডুবে মরতে । বিয়ের পরে নতুন সংসার তৈরী করা এমনিতেই অসম্ভব মানসিক চাপের ব্যাপার। দু’জন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের অতিবুদ্ধি, অর্বাচীনতা, অনুভূতি, অজ্ঞতা ও অনমনীয়তার সাথে খাপ খাওয়াতে হয়। শফিকের শুধু তাই নয়, চাপ আসে চতুর্দিক থেকে। রূপার কারণে মা, ভাই, বোনকে সে হারিয়েছে।
তারই অপরিণত কর্মকান্ডে কোর্ট ও মামলা হয়েছে। চাকরিটা চলে গেছে ক্ষয়। বিষয়টি সে কোন যুক্তিতেই জাস্টিফাই করতে পারে না। কী করে রূপা এমন একটা কাজ করতে পারলো ?
সে নিজে বুঝতে পারে যে রূপাকে সম্পূর্ণ ভুল পথে চালানো হয়েছে। কারা চালিয়েছে তাও সে রূপার কাছ থেকেই জানতে পায় কিন্ত সে কিছু বলতে পারে না সুহৃদদের। সে বুঝতে পারে যে রূপা বোঝেই নাই কত বড় সর্বনাশের চুলায় সে আগুন জ্বালিয়েছে আগ পাছ না ভেবে। চুল ছিড়েও এর সমাধান করা সম্ভব নয়। সে চিৎকার চেচামেচি করে, কিন্তু লাভ কি? ছুড়ে দেয়া তীর কে কবে তুনীরে ফেরাতে পেরেছে?

নতুন বাসা ভাড়া করে অতি শুভাকাংখী ভাই-ভাবীর কাছ থেকে তাকে সরে আসতে হয়! অথচ অতিরিক্ত ভাড়া গোনার সামর্থ্য তার নেই। স্বামী-স্ত্রী মধ্যেকার বিশ্বাস ও সম্পর্কে একটি বড় ধরণের ফাটল ধরে। তারপরেও ওরা একবাসায় থাকে, তর্কাতর্কি করে, এক বিছানায় ঘুমায়, সময় সময় একত্রে মিলিতও হয়। কুকুর বিড়ালেরও যা না হলে চলে না, মানুষের চলবে কেন? একটা বাচ্চা কাচ্চা হলেও দুজনের মধ্যেকার দূরত্বটা হয়তো কমে আসতো।
কিন্তু ….
চাকরি নেই, ভাতায় চলা কাছিমের জীবন।

রূপা কাজ খুঁজতে খুঁজতে একটি গার্মেন্টসে কাজ পায়।
তাতেই ভীষন খুশী। চাকরি হলো ঘরের গুমোটত্ব্রের থেকে বাইরে তাকানোর জানালার মত । ভার্সিটিতে লেখা পড়া শিখে, গার্মেন্টসের হীরক চুন্নীর থেকে কানাডায় এসে সেই গার্মেন্টসেই তাকে কাজ করতে হবে, এমন কথা রূপা কোনদিন চিন্তাও করতে পারে নি।
কিন্তু মেনে নেয়।
সে কাজ করে, ভাতার টাকা কমে।
শফিক বলে, “কাজ করে আর কী হবে, বরং বাচ্চা নাও, ঘর-সংসার কর”, কিন্তু রূপা প্রস্তুত নয়। তার আত্ম-সন্মান জ্ঞান প্রকট, সে বেকার বসে না থেকে কাজ করবেই। তাতে ভাতা চলে গেলেও আপত্তি নেই। রূপা কাজ করে, শফিক মসজিদে যায়, আর বাংলাদেশের বিএনপি আমলীগের রাজা-উজির মারে।মসজিদের ভিতরে শয়তান ঢোকে না, শয়তান থাকে বাইরে। অথবা মসজিদের ভিতরে যে মানুষগুলো ফেরেশতার মত তারাই বাইরে শয়তান হয়ে শয়তানি করে। তাদের অন্যের ঘরে ঢুকতে বা দরজায় নক করতে বাঁধা নেই। তারা মাঝে মাঝে দল বেঁধে আসে।
হেদায়েত করে দ্বীনের পথে ডাকে।
শফিক তাদের কথা শোনে।
যত বেশী শোনে ততবেশী সে তাদের কথায় যুক্তি খুঁজে পায় । সে জানতে পায় সংসার হল পাপের স্থান, মসজিদ পবিত্র। সে মসজিদেই থাকতে শুরু করে। কখনও কখনও বাসায় আসে, রাত কাটায়। রূপাকে পাপ পূণ্য, পর্দা, হিজাব ইত্যাদি বিষয়ে হেদায়াত করে ।
কিন্তু সে মুখরা। তর্ক করে। শ্রদ্ধা করে কথা বলে না। শফিকের পায়ের নীচেই যে তার বেহেশত এ কথা যেন সে জানেই না। ফলে বিতর্ক হয়। তুমুল তর্ক । কখনও কখনও অগ্নিগিরির বিস্ফোরণের মত।একদিন এই বিতর্কের মধ্যেই শফিকের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। সে রূপাকে এক মস্ত থাপ্পড় মারে। রূপার চোখের চশমা ভেঙ্গে যায়। ভাঙ্গা কাচে মুখ কেটে রক্ত বের হয়।রূপা অবিশ্বাসে পাথর হয়ে তাকিয়ে থাকে শফিকের দিকে।
কিছু বলতে পারে না।
কিন্ত রক্ত দেখে শফিক ব্যাকুল হয়ে বরফ এনে ক্ষতের উপরে ধরে আর হাজার বার ক্ষমা প্রার্থনা করে। সে যে রূপাকে কত ভালোবাসে এবং রূপা ছাড়া তার জীবন যে কতটা শূন্য তা সে জেনুইনভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়।
রূপা হল চাঁদের জ্যোছনা, সে না গলে পারে না। সে এতই গলে যে বহুদিন পরে তাদের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড়, অত্যন্ত অনুভূতি অজচ্ছল সংসক্তির বিস্ফোরণ ও বিক্ষেপন ঘটে।
কিন্তু এই দিনের এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তাদের সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্তরণ হয়। শফিক একটি দেয়াল বিলুপ্ত করতে সক্ষম হয়।দেয়াল যা নারীর গায়ে হাত তোলা থেকে পুরুষকে বিরত রাখে।
শফিক এরপর থেকে প্রায়শই তার হাতের টিপসই প্র্যাকটিস করে রূপার শরীরে। কাজটি খুব নীচ কিন্তু রূপা এর প্রতিকার জানে না। মাঝে মাঝে দীর্ঘদিনের জন্য পূণ্য সন্ধানে শয়তানের তীর্থে যায় শফিক।রূপা কাজ করে, একা ঘরে রাত কাটায়। পরিচিত কেউ নেই। ঘুম আসে না, একা একা কাঁদে।
স্বামী যার পূন্য সন্ধানী ও লম্বা যার হাত সেই নারীর রাত বড় দীর্ঘ। নারায়নগন্জের ভাই-ভাবীর উপকারের অর্বাচীনতার বিষয়টি ততদিনে ওর নিজের কাছেও স্বচ্ছ হয়েছে। তার অজ্ঞতা, অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে ওভাবে প্ররোচিত না করে অন্যভাবে তাকে সাহায্য করতে পারতো। স্বামীকে চাকরিচ্যুত করাটা যে ঠিক হয় নি তা বুঝতে পেরে সে নিজেই তাদের সাথে আর সম্পর্ক রাখে নি।শফিকেরও কড়া নিষেধ ছিল।

পাশের বাসায় এক ভারতীয় মহিলা থাকে ছেলে মেয়ে নিয়ে, তার স্বামী প্রায়ই বাসায় থাকে না। রূপা মাঝে মাঝে সেখানে গিয়ে হিন্দি ছবি দেখে মন হাল্কা করে। অন্যদিকে শফিকের কপালে পূন্যের কালো স্ট্যাম্প পড়েছে। মাথায় সাদা টুপি।
দাড়ি রেখে মেহেদি রং মেখেছে। রূপাকে নামাজ পড়া ও হিজাব মানার জন্য সে পিড়াপিড়ি করে। পাশের বাসায় গিয়ে হিন্দি ছবি দেখার সে ঘোর বিরোধী।
কিন্তু রূপা তার কথা শোনে না। তর্ক করে।
স্বামী স্ত্রীর পাপ পূন্যের হিসাব নিকাশের এক চুড়ান্ত মুহূর্তে শফিক রূপাকে আবার আঘাত করে।
রূপা উচ্চস্বরে চিৎকার করে পড়তে পড়তে টেবিলের কোণায় লেগে কপালের ডান দিকটি কেটে যায়। সে মেঝেতে পড়ে ধপ করে। রক্ত বের হয় ফিনকি দিয়ে।
পাশের বাসার মহিলা পুলিশ ডাকে।
রূপা হাসপাতালে যায়। শফিক যায় জেলে।
পুলিশের জবাবদিহির সময় রূপা চুপ থাকে, কোন উত্তর দেয় না। অনেক পিড়াপিড়ির পরে শেষ পর্যন্ত সে বলে শফিক তার গায়ে হাত তুলে নাই। সে নিজেই পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছে। পুলিশ সত্য সম্পর্কে ধারণা করতে পারলেও বাদী নেই তো মামলা নেই।
শফিকের ফারা কাটে।

যেখানে মানুষকে বসে বসে খাওয়ানো হয়, তাকে বলা হয় স্বর্গ ! ওরা মন্ট্রিয়েলের স্বর্গ ছেড়ে চলে যায় নিউইয়র্কে।
নিউইয়র্কে কাজ শরতের পাতার মত পায়ে পায়ে।
ওরা দুজনেই কাজ করে।
কিন্তু ওদের নতুন যৌথ জীবন ভেঙ্গে যায়।
রূপা এক আত্মীয়ের বাসায় ওঠে। শফিককে ডিভোর্স দেয়।
কাজ করে জ্যাকসন হাইটসের কোন এক জুয়েলারির দোকানে। শফিক রাস্তায় ব্যানার লাগিয়ে একটি ছোট্ট টেবিলে বসে মোবাইল টেলিফোন কোম্পানির এজেন্ট হিসাবে কাজ করে। সন্ধ্যার পরে রূপার কাজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। রূপা তার সাথে কথা বলতে অস্বীকার করে।
সে রূপাকে ফোন করে, ও ফোন ধরে না।
মেসেজ রাখে দেখা করার অনুরোধ করে কিন্তু দেখা হয় না।
যে মানুষটাকে ছাড়া তার জীবন চলবে না বলে শফিকের বিশ্বাস, এক সময় সে তার দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়।
ফুরুৎ করে উড়ে যায় মনের ময়না।
শফিক কেমন একটা ঘোরের মধ্যে থাকে, বিবেকের বৃশ্চিক অহর্নিশি কামড়ায়। নিজের প্রতি ঘৃণা হয়। ঘৃণা হয় যে সে তার রাগ কন্ট্রোল করতে পারে নাই।সে যে সত্যিই তাকে ভালো বাসতো কিন্তু তার ভিতরের দ্বৈত দানব সব ধ্বংস করে দিয়েছে।
সে কোনমতেই বিশ্বাস করতে পারে না যে রূপাকে সে সত্যিই হারিয়ে ফেলেছে। মনে হয় ও ঠিকই ফিরে আসবে।
কিন্তু রূপা হারিয়ে যায় নি, নিজেকে খুঁজে পেয়েছে। নতুন করে ঘর বেঁধেছে একই দোকানের অন্য এক কর্মচারির সাথে। সময়ে তার কোল আলো করে একটি ছেলের জন্ম হয়। সে যে সুখের সন্ধানে দেশ ছেড়ে এসেছিল, মনে হয় সে তার সন্ধান পায়। ততদিনে তার দেহের মুকুলগুলো বাসি হয়ে গেছে, চামড়া হয়েছে একটু পুরো। চোখের চশমার কাঁচগুলো পরিস্কার করে দিয়েছে জীবন।

ওর বিয়ে হয়ে যাবার খবর ভগ্ন শফিককে ঘুর্ণিঝড় পরবর্তী বৃক্ষের মত দুমড়ে মুচড়ে ফেলে। নিউইয়র্কে থাকার কোন অর্থ সে খুঁজে পায় না। মন্ট্রিয়েল তার কাছে অভিশপ্ত।
নিউইর্য়কে যে এতবড় একটা মরুভূমি আছে তা সে এই প্রথম আবিষ্কার করে। সব পেয়েছির দুই দেশ পিছনে ফেলে সে চলে যায় বাংলাদেশে।
আর কোনদিন ফিরে আসে না।
একটা বছর কাটে তার অনেকটা উদভ্রান্তের মত। নামাজ রোজা করে মসজিদে যায় কিন্তু সুস্থির হতে পারে না। এ সময়ে একটি চাকরি পায় বিদেশী জাহাজে, তার পেশার চাকরি।
মহাসমুদ্রে জল আর জল।
মনের মহাসমুদ্রের মত শূন্যতা আর শূন্যতা।
গাঙচিলগুলো ঘরবাড়ি হীন।
কিচ্ছু ভালো লাগে না। এক বন্দর থেকে আর এক বন্দরে যায়। নিজেকে গাঙচিলের মত লাগে।
৬ মাস যেন ছয়টি শতাব্দী।
আর্জেন্টিনার পোর্টে জাহাজ থামে। কাউকে কিছু না বলে নিশি পাওয়ার মত সে জাহাজ ছেড়ে চলে যায়। যায় এয়ারপোর্ট, তারপরে বাংলাদেশ। একটু শান্তি চাই তার, একটু স্বস্থি, একটু ভালোবাসা, মায়ের কাছে, বোনের কাছে, ভাইয়ের কাছে।
দেশেই থেকে যায় ।
ছোট ভাই, ছোট ২ বোনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। তাদের নিজস্ব ছেলে-মেয়ে, নিজস্ব সংসার। শফিক লক্ষ্য করে ছোট ভাইয়ের বাসায় ময়ূরের পালক ঝুলানো, সে জানে এটা পাপ।
দেখে ফ্রেমে বাঁধা ছেলে মেয়ের ছবি।
আরও বেশী পাপ। যে ঘরে এসব থাকে সেখানে ফেরেশতা আসে না। সে খুলে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে। ভাইয়ের বৌ বা বোনেরা হিজাব মানে না, সে বিরক্তি প্রকাশ করে।সমালোচনা করে।
সে তাদের পাপ চোখে আঙ্গুল দিয়ে ধরিয়ে দেয় প্রতিমুহূর্তে।
ভাইকে বলে, “আমার সাথে মসজিদে চল।”
ভাই বলে, “তুমি যাও।”
তারপরেও সে জোরাজোরি তর্কাতর্কি করে।
সে মানতে পারে না যে, তার পরিবার, তার এই প্রিয় মানুষগুলো দোযখে যাবে। সত্যিই তার মন কাঁদে ওদের ভবিষ্যত ভেবে। চোখে পানি পড়ে দরদর করে।
কিন্তু দুহাত তুলে খোদার কাছে প্রার্থনা ছাড়া কিছুই করতে পারে না। আগে ওরা বড় ভাই হিসাবে তাকে কত শ্রদ্ধা করতো, এখন করে না। মনে পড়ে, রূপা যে বলেছিল বাড়িতে এরা তাকে নিপীড়ন করেছে, এখন সে কথার সত্যতা খুঁজে পায়। ওদের কারণেই শফিকের কপাল ভেঙ্গেছে। ভাই বোনেরা অবশ্য অন্য কথা ভাবে। শফিক আগে ভালো ছিল, ছিলো স্নেহশীল ও আপন, যুক্তি দিয়ে কথা বলতো। সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতো। বিদেশে গিয়ে সে বদলে গেছে, আগের শফিক নেই। এখন সবাইকে তার মত হতে হবে, সে যা করে তাই করতে হবে। সেই হল ধর্ম। তার অন্ধত্ব ও খিটখিটে মেজাজের কারণেই যে রূপা চলা গেছে, তারা নিশ্চিত হয়।
মানুষ সত্যকে কঠিন বলে কিন্তু হলো বিম্ব-প্রতিবিম্বের খেলা।

শফিক ছোট ভাইয়ের সাথে কথা বলে না। ছোট বোনেদের বাসায় যায় না। আর চিল্লায় থাকে বলে তার বাড়ি আসাও নিষেধ, সুতরাং সে মায়ের সাথে দেখা হলেও কথা বলে না।অথবা জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলে।

মসজিদে মসজিদে আর চিল্লায় কাটে তার পরবর্তী ১৮ বছর।
ঠিক ততদিনই লাগে তার রূপাকে ভুলতে অথবা ওর মায়াজাল থেকে বের হয়ে আসতে, যাকে সে ভালোবেসে মারধোর করতো, তারপরে আবার ভালোবাসতো।
আশ্চর্য মানুষের মন। মানুষ, যে নাকি শয়তানের দোসর।

তারপরে সে বিয়ে করে।
তার ২য় বৌ খুব ভালো, যে কাউকে মুখ দেখায় না, মুখে মুখে তর্ক করে না, নিয়মিত নামাজ পড়ে। শফিক বাড়ি আসে, দু’চার দিন বা রাত থাকে, তারপরে আবার চল্লিশ দিনের জন্য চলে যায়।

সেপ্টেম্বর ২০,২০১৮

*ইন্ডালজেন্সি- মধ্যযুগে পোপেরা যে স্বর্গের সার্টিফিকেট বিক্রি করতো, তার নাম।
** “নি তুদা, নি ছুদা”- যা এই দিকেও যায় না, ওই দিকেও যায় না (রুশ)

Flag Counter


1 Response

  1. নিনো says:

    খুব ভাল লাগলো। আরো লিখুন। শুভকামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.