কবিতা

তাপস গায়েন: ভ্রাম্যমানতায় বিদ্ধ আমি

তাপস গায়েন | 7 Nov , 2018  


[এক] ভ্রাম্যমানতায় বিদ্ধ আমি
বসে আছি নাম না জানা নক্ষত্রপুঞ্জের পাশে
ছায়া ফেলে ধূমকেতু,
মহাজাগতিক ধূলিকণা আসে ভেসে
গ্রাম্য শুড়িখানা ভরে ওঠে কৌতুক আর আমোদে

কফিশপে একদিন পেয়েছি তোমাকে
কিন্তু তোমার মুখাবয়ব ফেলেছি হারিয়ে
তোমার আঙ্গুলের নির্জনতা
লেগে আছে আমার সকল শরীরে

তুমি অতি সাধারণ নারী,
তবু নিজের অজান্তেই তোমাকে দ্রৌপদী করে তুলি
‘অদৃশ্য-সঙ্গীত-রেখা’ ধরে তোমার প্রেমিকেরা আসে
এই সত্য জেনে আমি অন্ধ হয়ে আছি

আজ রৌদ্র-বলয়িত দিন; শিশুপুত্রের হাত ধরে হাঁটি, আর
বাতাসের ভিতরে, বাতাসের মতো ব্যাপ্ত হতে থাকি
দূর্দান্ত বাঘের থাবায় উচ্চকিত যেইসব দিন,
সেইক্ষণে এই দেহকে ছায়াপথের সাথে সমাকৃত করে রেখেছি।

[দুই] ভ্রাম্যমানতায় বিদ্ধ আমি

সকল গ্রহের মতোই ভ্রাম্যমান আমি, কিন্তু
কেন্দ্রহীন পরিধিতে পরিব্যাপ্ত; দেখি,
দূর আকাশে ধূমকেতু রেখে গেছে তার পদচিহ্ন
না কী একে একে উড়ে গেছে আমার সকল কবুতর

যুদ্ধক্ষেত্রে একদিন আমিও ছিলাম,
রণাঙ্গণ ছেড়ে ক্লান্ত, আজ ভ্রাম্যমানতায় বিদ্ধ আমি
জল-স্থল, আর আকাশ-পথের শূন্যতায়
অনুক্ষণ ঘুম আমাকে আবৃত করে রাখে

কিন্তু ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখি
মানুষের অবয়বে মানুষ যেন শ্মশানযাত্রী
সন্তান-সন্তুতি নিয়ে এখনো মানুষ নেশাতুর
ফড়িঙের স্বপ্নে স্বপ্নভারাতুর

ক্রম-প্রসারণশীল এই পৃথিবীতে
হারিয়ে ফেলেছি তোমাকে, আর
তথাগতহীন আমার কী বা অনুধ্যান আছে,
যে আমি ভ্রাম্যমান, কেন্দ্রহীন এই মহাবিশ্বে!

[তিন] ভ্রাম্যমানতায় বিদ্ধ আমি

রেখে এসেছি মাচুপিকচু, আরও দূরে কুসকো নগরী
স্বপ্নে প্লাবিত এই পৃথিবী, বয়ে যায় উরুবাম্বা নদী
রাত ছিল অনুগত, কিন্তু আমাদের আঙ্গুল ছিল ব্যগ্র
যেভাবে জলে কোলাহলরত থাকে অসংখ্য নক্ষত্র

তুমি আমার হারিয়ে যাওয়া ভিল্কাবাম্বা নগরী
আমার হৃদয় তাই ছিন্নভিন্ন ইন্‌কার সঙ্গীত
দ্রুতগামী বাস থেকে আন্দিজ পর্বতমালা দেখে মনে হয়
ফেলে যাচ্ছি মায়াময় জগৎ, অতিজাগতিক ভূমি

তোমার গোলার্ধ আমার পৃথিবীর বিপ্রতীপে
তাই আমরা আর একই নক্ষত্রসজ্জা দেখি না,
তবু প্রেমে পূর্ণ হয়েই এই হেমন্তে
পাতা ঝরে– লাল, খয়েরি, হলুদ, বাদামি।

কিছুই আসে না ফিরে
উরুবাম্বা বয়ে চলে আমাজন নদীর গভীরে
অমীমাংসিত থেকে যায় সকল হত্যাযজ্ঞ, ভ্রান্তিহীন প্রেম
স্বপ্নে প্লাবিত এই পৃথিবী, বয়ে যায় স্বপ্নের গভীরে!

Flag Counter


3 Responses

  1. বিপাশা চক্রবর্তী says:

    ভালো লেগেছে। ভাল লাগার চিহ্নটুকু এই মন্তব্যের ঘরে রেখে গেলাম কবি।

  2. মানিক বৈরাগী says:

    কবিতার গহিনে ফেলে গ্রাম
    যতই ভ্রমণ ততই টানে বিশ্ববিক্ষা
    ভালো লাগলো দাদা

  3. Taposh Gayen says:

    প্রিয় বিপাশা, প্রত্যেক কবির একান্ত অণ্বেষা হোল, পাঠকের পাঠপ্রিয়তার চিহ্নটুকু খুঁজে ফেরা । আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।

    আর ভাই মানিক বৈরাগী, আপানাকেও আলিঙ্গন, আমার কবিতার মধ্যে ভ্রমণের চিহ্নটুকু খুঁজে পাবার জন্য ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.