কবিতা

হাবীবুল্লাহ সিরাজীর সাতটি কবিতা

habibullah_siraji | 1 Nov , 2018  


একটি অসম্পূর্ণ ম্যাজিক

অন্ধকার না বুঝেই ঝাঁপ দিয়েছিলো বিড়াল
খাদও কিছু সামলানোর না পেয়ে পাতে বুক
হিশেব না পেয়ে মধ্যবর্তী অংশ হারিয়ে ফেললে সময়
যে ব্যাপারটি কিংবা বিষয়গুলো প্রস্তুত হয় নতুবা ঘটতে পারে
তার কোনো বর্তমান থাকতে নেই …

বিড়ালটি বিদেয় করা হ’লেও বুকে আঁচড় কেটেছিলো
খাদটির গভীরতা নিয়ে কেবল মৃত্যুর আন্দাজ পাওয়া যেতে পারতো
বিষয় হলো বাড়তি একটি সমীকরণ
এবং বর্তমান, সময়ের সঙ্গে লেগে থাকা বাহানা
মিশতে-মিশতে হারিয়ে যায় …

বিড়াল শূন্য, খাদ শূন্য, সময় শূন্য, বিষয় শূন্য
আর বর্তমানকে মহাশূন্য ধ’রে নিলে
আকাঙ্ক্ষার ভেতর ফুটতে থাকে দানাবীজ
একটি অসম্পূর্ণ ম্যাজিক।

১৬ নভেম্বর ২০১৭

কি ছিলো, কিছু কি থাকে নভেম্বরে
স্নিগ্ধ ধীরে, অথবা তুমুল স্বরে?
বয়স হে, হেমন্ত তো নয় এক জীবনের আয়ু
দু’য়ের গহন অসমাপ্ত ধারা
বিন্দু বৃত্তহারা!

কি আছে, কেউ কি অবসরে
নগ্ন বাহু, তাপের অধরে ?
অনুতাপে নম্র-ঘন হ’লে
কার্তিক সে যতো, অঘ্রানের অনুরোধ
ন্যস্ত পরিশোধ !

কেবলই পাওয়া ঊন আয়োজন, খোলামেলা সেতু
আমরা যেহেতু
পার হবো যে শীতের ভিতু নদী
অন্যজলে, নানাবিধ স্বরে
অমিল অক্ষরে!

পরিমাপ

ভালোবাসা ডুবে আছে পাঁচ ফুট ছয়
ঢেউ যদি ছিন্ন বয়
নড়ে শামুকের ঠোঁট
শ্যাওলার উল্টো চোট
অসম্ভব গুপ্তধারা
বুঝি শীতল পাহারা।

এক ফুট ভেসে থাকা প্রেম
চৈত্রঝড়ে না বোঝা এলেম
চিহ্ন রাখে নতুন শরীরে
বৃষ্টি কি ব্যাকুল আসে ফিরে?
উত্থান অধীন হ’লে
চক্ষু-কর্ণ ফলে।

অগ্নিসূত্রে মৃত্তিকায় জব্দ করপুট
মিলনের পরিমাপ সাড়ে ছয় ফুট।

অনাদি তুমুল

সত্তর পশ্চিম যদি বিশে পুব
চন্দ্র-সূর্য মধ্যস্থলে বছর পঞ্চাশ

মেঘ মানে ঘন রাগ দেখি
তখন বুঝেছি খুশি
গাছ ছিলো দেবদারু, মাটিমাখা স্কুল
বর্তমানে কবরের ঘাস; ভুল
চুম্বনের অর্থ সোহাগের ডিম
এখন তো নিম

সাঁকোর এপার বিশ, ওপার সত্তর
পঞ্চাশ বছর ধ’রে
হাওয়া আর সুতোদের নদী
অনাদি তুমুল

খঞ্জ

খঞ্জ যে প্রথম দেখে
কী নামে সেলাই করা
হাঁটুর বড়াই

খঞ্জ যে দ্বিতীয় বোঝে
কার ভাঁজে আলো নাচে
পায়ে মারে ঘাই

খঞ্জ যে তৃতীয় মানে
কোন্ ক্ষেতে কাঁচা ঝাঁজে
ঘানিভাঙা রাই

খঞ্জ কি কখনো জানে
তৈমুরের নতুন লড়াই

সালাদ

চিৎ হ’য়ে আছে এক পৃথিবীর দেহ
ঘন নীল কাচের টেবিলে

ছুরি দিয়ে ছাঁটা শেষে ঊর্ধ্ব আর অধ
খণ্ড ক’রে রাখা হ’লো টমেটোর পেট
এশিয়া আফ্রিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া আমেরিকা ইউরোপ
যত্ন আর ধৈর্য নিয়ে গাজরের ফালি
থিতু হয় প্রশান্ত অতলান্তিক শেষে
ভারত মহাসাগর
ভিসুভিয়াস জানান দিলে
শশা তার বুক খুলে দেয়
লেবু ও নুনের ছিটা হিমালয় ছুঁয়ে
আন্দিস আল্প্সে নামে
চিরে ফেলা ঝাললংকা
সাহারা সাইবেরিয়া মেখে
আঙুলে-আঙুলে ধরে সৌরীয় সমন

যতো শান্তি হাপুস-হুপুস
যতো যুদ্ধ মচামচ
জিহ্বার ডগায় ঝরে জল
ক্ষুধা ঝমাঝম

সালাদে প্রস্তুত হ’চ্ছে পৃথিবীর স্বাদ

ভয় ও মৃত্যু

ভয় সামনে এলে উল্টে যায় চিত্রফল
জলের বিলাস থেকে রৌদ্রের সাহস
সে সরল হ’তে পারে অথবা সবল
তাকে অতিক্রম করে খাটো তীব্র ফ্রেম
ফিরিস্তির কোনো অংশ বুঝি সত্য মৃত্যু

ভয় যদি নদী ও অন্ধকারের ঝুল
কিংবা কোনো নির্ধারিত যাত্রায় বদল
বালিঘড়ির ওপাশে পুষ্প কিংবা ফেনা
গিঁট ছুঁয়ে কোনো মুগ্ধ বুঝি মিথ্যা মৃত্যু

ভয় যদি আজ তবে মৃত্যুর আগামী
খুলে দেয় অন্ধ সম্মোহন
মেলে দেয় নগ্ন বিবেচনা
ফের দগ্ধ ফের মাটি
পুনরায় নবীন সূচনা

Flag Counter


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.