কবিতা

জুননু রাইনের কবিতা: এয়া সিরিজ

zunno_rain | 9 Oct , 2018  


এয়া-ক

আমিও বলে দিতে পারি চোখ কচলানো সকালকে
আমিও জানি অভিমানের নিজের কিছু নেই
একটি তেরসা মনবেদনা ছাড়া

প্রতিদিনই আমাদের উঠোন পার হয়ে
এই সকালটা যায় দুপুরের দিকে
বিকেলের দিকে
সন্ধার দিকে

সকাল বিকেল সন্ধেকে আমি চিনি;
এই সবুজ-
তোমার অবুঝ, তোমার চোখের শিশু…

দেখ, আমি তাকে কখনো মারি নি।

এয়া-খ

তুমি জান না ইছামতি
যখন মানুষের পৃথিবীতে
এক হাঁটু সন্ধা নামে
যখন সমুদ্র খালি পায়ে
হেঁটে হেঁটে বুকে আসে
বাসা বাঁধে- চোখে, দৃষ্টিতে

তখন, আমরা এক হয়ে
আমাদের অন্ধকারে আমাদের বারবার হারাই।

আমরা যে পাহাড়ের ফুল ফোটাতাম
আমরা যে পাখির গলায় গান তুলতাম
তারা এখনও ভোলে নি
ভোলে নি, জীবনের গন্ধ।

ঢেউ তো অনেক এসেছে-
মানুষের বাঁধ ভেঙেছে
জোয়ারে ভেসে গেছে সেইসব কথা।

এয়া-গ

তোমরা কোথায় কোথায় দেখা কর, আমি জানি না
রেললাইনের একা হাঁটা অবাঞ্ছিত গাছের সবুজ
তোমাদের গল্প রাখে?

পায়ে হাঁটা শ্রমিকের ঘামে ভেজা জোসনার পথে
তোমাদের কোন কথা কি লেগে আছে?
তোমাদের কোনো দেখা কখনও কি মাটিতে পড়ে?
অভিমানে,
পেকে,
ঝড়ে?
বৈশাখেরা বয়সে ভীষন হলুদ হলে?

তোমরা কোথায় কোথায় দেখা কর, আমি তো জানি।
Flag Counter


32 Responses

  1. আহমেদ বাসার says:

    ‘যখন মানুষের পৃথিবীতে
    এক হাঁটু সন্ধা নামে
    যখন সমুদ্র খালি পায়ে
    হেঁটে হেঁটে বুকে আসে’ …. ভালো লাগলো।

  2. mesbah says:

    এয়া সিরিজের কবিতাগুলো অসাধারন, আমরা জুননু রাইনের ২য় বইয়ের অপেক্ষায় আছি

  3. ড. ফজলুল হক সৈকত says:

    জুননু রাইন-এর শব্দ-নির্বাচন, প্রয়োগ-কৌশল এবং চিত্রকল্প নির্মাণশৈলী আনন্দদায়ক। এয়া-সিরিজের বর্তমান ৩টি কবিতায়ও সে-সব বিষয় বর্তমান। জুননু জানেন, পৃথিবীর অবিরাম কোলাহলে মানুষ নিজের নির্মিত অন্ধকারে নিজেকে কেবলই হারায়; সময়ের ও দাবির ঢেউ-এর ভেতরে মিশে যায় আমাদের সমস্ত সংগ্রাম ও অর্জন। যদিও কারো কারো পায়ের শব্দ, গায়ের গন্ধ, শব্দের আওয়াজ ধরে রাখে এই ব্যস্ত-সমস্ত বসুন্ধরা। জুননু পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান সাহিত্য-সাধক। অনুসন্ধানী সাহিত্য-সম্পাদক। তবে, কেন তিনি ‘নি’-কে আলাদা শব্দের তাৎপর্য প্রদান করতে চান, বুঝিনি। ‘সন্ধা’ না হয়ে ‘সন্ধ্যা’ হলে যুক্তিযুক্ত হতো কি-না, অভিধান দেখতে হবে। আর ‘ভীষণ’-কে ‘ভীষন’ লেখার দায়ও গ্রহণ করছেন কি-না কবি, তা বুঝতে তাঁর আরো কিছু রচনা পাঠ করার প্রতীক্ষায় থাকতে হবে।

    ড. ফজলুল হক সৈকত

  4. উল্লাস চট্টোপাধ্যায় says:

    অপূর্ব।সমুদ্র খালি পায়ে আসছে বুকে- লবনাক্ত অভিমান নিরবে গুমরে মরে পাঠকের ভিতরে— এই প্রজন্মের এত ভালো কবি , এমন অবাক করে দেওয়া কবিতা খুব কম চোখে পড়ে।
    একদিন, বেশি দূরে না , যখন তোমার কবিতা নিয়ে লোনাজলের অক্ষরে লিখতে বসতে হবে।
    শুভাশীষ নিও।লেখার মধ্যে থেকো।খবর বানানো যায় কিন্ত কবিতা আসে ধীর পায়ে বোধের কুঁড়ি থেকে।

  5. আকেল হায়দার says:

    সরল শব্দের সম্মিলনে, জ্যামিতিক প্রকরণে লেখা প্রাঞ্জল সব কবিতা। খুব সহজে নিয়ে যায় গহীনে, মোহনা অব্দি। অনবদ্য।

  6. rajeeb sarkar says:

    নতুন স্বাদ আছে জুননু রাইনের এই কবিতাগুচ্ছে। প্রকরণে, অলংকারে, উপমায় অভিনবত্ব আছে। তার আরো কবিতা পড়তে চাই।

  7. সুরাইয়া বেগম says:

    কবিতার প্রতিটি লাইন যেন আমার নিজের কথা ।ভীষণ রকম ছুঁয়ে গেল এর গভীর অনুভব ।আরো আরো কবিতা চাই কবি ।শুভ কামনা নিরন্তর ।

  8. মেহেদি হাসান says:

    অসম্ভব সুন্দর লেখা । “পায়ে হাটা শ্রমিকের ঘামে ভেজা জোছনার পথে ” অনেকদিন পর একটা সুন্দর কবিতা পড়লাম কবির জন্য দোয়া রইল তিনি যেন আমাদেরকে আরো সুন্দর সুন্দর কবিতা উপহার দিতে পারেন।

  9. জব্বার আল নাঈম says:

    ঢেউ তো অনেক এসেছে-
    মানুষের বাঁধ ভেঙেছে
    জোয়ারে ভেসে গেছে সেইসব কথা।

    সবগুলো কবিতাই ভালো লাগল। ধন্যবাদ

  10. রাহমান ওয়াহিদ says:

    কবি জুননু রাইনের কবিতা মানে এক অন্য রকম ভালোলাগা। তাঁর ‘এয়া’র অন্য কবিতাগুলোও আমার পড়া। মনেই হয় না যে এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ। তিনি যখন বলেন, ‘আমরা যে পাহাড়ে ফুল ফোটাতাম, আমরা যে পাখির গলায় গান তুলতাম, তারা এখনও ভোলে নি, ভোলে নি জীবনের গন্ধ…’(এয়া-খ) তখন জীবনের মায়া পারাবারে নতুন করে ডুব দিতে ইচ্ছে করে। কিংবা ‘আমিও জানি অভিমানের নিজের কিছু নেই, একটি তেরসা মনবেদনা ছাড়া’..(এয়া-ক)। কবি কি তীর্যকভাবেই না দেখেছেন অভিমানের মনবেদনা…। ‘অভিমান’ শব্দটিই তখন ভিন্ন এক মাত্রায় হৃদয়কে স্পর্শ করে। ‘তোমাদের কোনো দেখা কি কখনো মাটিতে পড়ে?..বৈশাখেরা বয়সে ভীষণ হলুদ হলে!’(এয়া-গ) অনবদ্য এমন পংক্তিগুলো যেন ভিন্ন এক কবিকন্ঠ। সরল শব্দগাঁথার ভেতরে আবেগের এমন নান্দনিক অভিব্যক্তি সত্যিই কবিতা পিপাসু মনকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়…। এমনি আরো কবিতার প্রত্যাশায়

  11. সুদীপ্ত সালাম says:

    এয়া সিরিজের কবিতাগুলোর শক্তির জায়গা এর পরতে পরতে থাকা অভিনব চিত্রকল্পে। চিত্রকল্প আরোপিত নয়, ভীষণ সাবলীল।

  12. কবি জুননু রাইনের এ কবিতাগুলো অসাধারণ। একটা ভাবনা-ঘোরের ভেতরে ঢুকে পড়া যায়। পাঠে আরাম লাগে। আনন্দ ও যন্ত্রণার সহজ সংক্রমণ ঘটে, মনোরাজ্যে। কবিতা এরকমই হওয়া উচিত। অভিনন্দন কবিকে।

  13. ‘যখন মানুষের পৃথিবীতে/এক হাঁটু সন্ধা নামে’ অথবা ‘ঢেউ তো অনেক এসেছে-/মানুষের বাঁধ ভেঙেছে/জোয়ারে ভেসে গেছে সেইসব কথা।’ অসাধারণ দৃশ্যকল্প। কবিতার একেকটি চিত্রকল্পই যেন আলাদা কবিতা।

    ‘তোমাদের কোনো দেখা কখনও কি মাটিতে পড়ে?’ বিমূর্ত বিষয়ের অসামণ্য চিত্র নির্মান।
    জীবনানন্দ দাশ যে বলেছেন চিত্রকল্পই কবিতা। আসলেই তো তাই। এরকম আরও লেখা পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

  14. কোন কোন কবিতা, আমার অনুভবে যে আমাকে ভাবায় তার কোন ব্যাখ্যা হয় বলে আমি মনে করি না। জুননু রাইনের কবিতা পড়ার পর সেই বিষয়ে কিছু বলা হলেও আমি মনে করি না বলা কথাই থেকে যাবে অধিক।
    এয়া-সিরিজের (৯অক্টোবর, ২০১৮) যে তিনটি কবিতা আমি একটু আগে পড়ছিলাম, পড়তে পড়তে মনে হয়েছে, তখন তো আমিও ছিলাম জেগে
    কিন্তু আমি জুননু রাইনের মতো করে দেখিনি সময়,
    যদি দেখতাম তাহলেও তার মতো করে ভাবতাম কি না জানিনা- সে যখন ভাবে
    ‘এই সকালটা যায় দুপুরের দিকে
    বিকেলের দিকে
    সন্ধ্যার দিকে-’ (এয়া-ক)
    দেখতে পেলে হয়তো কত বিকেল কত সাঁঝের অপমৃত্যু হতো না আমার হাতে। প্রতিদিন আমাদের জীবনে
    ‘ঢেউ তো অনেক এসেছে
    মানুষের বাঁধ ভেঙেছে
    জোয়ারে ভেসে গেছে সেইসব কথা।’ (এয়া-খ)
    সময়ের নিশ্চিত-অনিশ্চিত জীবন ও বৃত্ত, জানা-অজানার কিংবা বিশ্বাস-অবিশ্বাসের বোধ কী ভীষণ নাড়া দেয়
    বুকের ভিতর-এই কবির কবিতা।
    বলছে কবি, ‘তোমরা কোথায় কোথায় দেখা কর আমি জানি না / …তোমরা কোথায় কোথায় দেখা কর, আমি তো জানি।’
    কবির জানাটাই জানা। সেই সঙ্গে আমাদেরও। জুননু রাইনের কথা বলার ঢং কোমল কিন্তু আশ্চর্য অন্তর্ভেদী। মনে থাকে, ছেড়ে যায় না। ভুলতে দেয় না জীবনের গন্ধ।
    এই কবির জন্যে আমার নিরন্তর শুভকামনা।

  15. জুননু রাইন says:

    ধন্যবাদ প্রিয় কবি রহমান হেনরী।

  16. জুননু রাইন says:

    কবিতাগুলোয় আপনার নিজেকে খোঁজার আগ্রহ দেখে আনন্দিত হলাম। ধন্যবাদ উৎসাহিত করার জন্য।

  17. জুননু রাইন says:

    ধন্যবাদ প্রিয় লেখক সাইফুর রহমান ভাই।

  18. জুননু রাইন says:

    প্রিয় ড. ফজলুল হক সৈকত আপনি যে বিষয়গুলো ধরেছেন সে বিষয়ে আমি আরও বোঝার চেষ্টা করব। অনেক ধন্যবাদ নিবিড়ভাবে কবিতা পাঠ করার জন্য।

  19. জুননু রাইন says:

    ধন্যবাদ প্রিয় রাহমান ওয়াহিদ ভাই।

  20. জুননু রাইন says:

    ধন্যবাদ সুদীপ্ত সালাম, জব্বার আল নাঈম, মেহেদি হাসান, সুরাইয়া বেগম, rajeeb sarkar, আকেল হায়দার,

  21. জুননু রাইন says:

    প্রিয় লেখক উল্লাস চট্টোপাধ্যায় আপনার মন্তব্য আমাকে উৎসাহিত করবে।

  22. জুননু রাইন says:

    ধন্যবাদ, আহমেদ বাসার, mesbah ।

  23. কাউসার মাহমুদ says:

    আমি বলবো, জুননু রাইনের ‘এয়া’ সিরিজ আমাদের জন্য সুপেয় কবিতার সম্ভার। কবিতা কী বা কেমন এটা অবিশ্লেষ্যই থাক। এটাকে তর্কে নিয়ে যারা কবিতাকে কঠোর করে তোলেন, তারা জুননু রাইনের কোমল ও অন্তর্ভেদী কবিতাগুলো চেখে দেখুন। পঙক্তির মাঝেমাঝেই কবি জুননু রাইন এমনসব প্রতিকী উপমার উন্মেষ ঘটান, যা আমাদের ভাব ও বোধকে একীভূত করে এক অতীন্দ্রিয়তায় নিয়ে যান।

    তারপর যখন পড়ি ”আমরা যে পাহাড়ের ফুল ফোটাতাম
    আমরা যে পাখির গলায় গান তুলতাম
    তারা এখনও ভোলে নি
    ভোলে নি, জীবনের গন্ধ।

    এখানে আমি হারিয়ে যাই এক অনুল্লেখ অতীতের ভেতর। যেখানে আমি ও আমার সমস্ত কিছু ডুবে আছে এক পূর্বপরিচিত সময়ের ক্রোড়ে।

    বিডি নিউজকে ধন্যবাদ! কবির এমন কবিতা আমাদের পড়তে সুযোগ করে দেয়ার জন্য।

  24. আদিত্য নজরুল says:

    কবি জুননু রাইনের কবিতা ঠিক তার মতোই। যেখানে জুননুকে আলাদা ভাবে চিহিৃত করা যায়। তাঁর ‘এয়া’র প্রায় সব কবিতাই আমার পড়া। তিনি যখন বলেন, ‘আমরা যে পাহাড়ে ফুল ফোটাতাম, আমরা যে পাখির গলায় গান তুলতাম, তারা এখনও ভোলে নি, ভোলে নি জীবনের গন্ধ…’(এয়া-খ) তখন জীবনের মায়া পারাবারে নতুন করে ডুব দিতে ইচ্ছে করে। কিংবা ‘আমিও জানি অভিমানের নিজের কিছু নেই, একটি তেরসা মনবেদনা ছাড়া’..(এয়া-ক)। কবি কি তীর্যকভাবেই না দেখেছেন অভিমানের মনবেদনা…। ‘অভিমান’ শব্দটিই তখন ভিন্ন এক মাত্রায় হৃদয়কে স্পর্শ করে। ‘তোমাদের কোনো দেখা কি কখনো মাটিতে পড়ে?..বৈশাখেরা বয়সে ভীষণ হলুদ হলে!’(এয়া-গ) এমন চমকপ্রদ কবিতার পংক্তি দেখে আমি মোটেও চকমাই না। কারণ জুননু কবি হিসেবে অনেক আগেই আমার আস্থা অর্জন করেছে।

  25. জুননু রাইন says:

    অনেক অনেক ধন্যবাদ কবি আদিত্য নজরুল। ‘এয়া’ বইটি পড়েছেন এবং আপনার ভাললাগার কথা জেনে ভাল লেগেছে।
    আপনার মন্তব্য আমাকে আরও উৎসাহিত করবে, নিশ্চয়ই।

  26. জুননু রাইন says:

    আমার কবিতা আপনার অনুভবে বিশেষভাবে যুক্ত হতে পেরেছে, এটা আমার জন্য আনন্দের বিষয়।
    ধন্যবাদ কাউসার মাহমুদ।

  27. এমরান says:

    প্রথম কবিতার বই ‘এয়া’ মুগ্ধ হয়ে পড়েছি। এয়া সিরিজে অনেকগুলো কবিতা থাকলেও- পড়তে কোন রকম ক্লান্তি আসে না; এটা অনেক বড় কাব্যশক্তির প্রমাণ দেয়। কবি যতো লিখবেন ততই প্রকৃত কবিতা পাঠের স্বাদ নিতে পারব।

  28. রেবেকা ইসলাম says:

    যখন মানুষের পৃথিবীতে
    এক হাঁটু সন্ধা নামে
    যখন সমুদ্র খালি পায়ে
    হেঁটে হেঁটে বুকে আসে………একরাশ ভালোলাগার স্রোতে উথলে ওঠে মন।

  29. কবি জুননু রাইনের কবিতা নৈঃশব্দ্যে এসে বুকের উপর কোন এক প্রত্ন প্রিয়ার মতো আছড়ে পরে।
    প্রকৃতি নিভৃতে মনে রাখে মানুষের ভালবাসা। আর
    মানুষের ভালবাসার ঢেউগুলো একদিন বিলয়ের পথে হাঁটে! স্মৃতিচিহ্নগুলো মানুষের পথে ও প্রকৃতিতে স্মৃতি হয়ে থাকে অথবা থাকেনা। কবির দ্বন্দ্ব, কবিতার এই দ্বন্দ্ব চিরকালিন।

  30. Johab hasan says:

    অসাধারণ কবিতা। আমরা এই কবির এমন কবিতা আরো পড়তে চাই ।

  31. Mainus Sultan says:

    জুননু রাইনের এয়া সিরিজের কবিতাগুলোর সাথে আমি পয়লাবার মিথস্ক্রিয়ায় লিপ্ত হই বই প্রকাশের সামান্য আগে পান্ডুলিপি আকারে। তবে পাঠাভিজ্ঞতা ছিলো অসামান্য এবং মটিভেটেড হয়েছিলাম মন্তব্য করতে। ভালো লাগলো ফের তিনটি শ্রুতিসিগ্ধ কবিতা পড়তে পেরে। পড়তে গিয়ে মনে হলো-প্রতিটি স্তবক বিশেষ মনযোগের দাবি রাখে। তাই নিবিড়ভাবে প্রতিটি চরণ স্টাডি করলাম। যে বিষয়টা আমাকে মুগ্ধ করলো-তা হচ্ছে বলার ভঙ্গিটি। কবিতা উপস্থাপনের এ কৌশল চিত্রকলায় ওয়াশ পদ্ধতির কথা মনে করিয়ে দেয়। কবি শব্দ ও ইমেজের সমাহারে সৃষ্ট তুলিতে অত্যন্ত মেদুরভাবে ছুঁয়ে যান সংবেদনের তন্ত্রী। পড়তে পড়তে দারুণ তারিফের দৃষ্টিতে তাকাই কিছু নির্দ্দিষ্ট পংক্তির অবয়বে। ‘… সমুদ্র খালি পায়ে হেঁটে হেঁটে বুকে আসে…’ প্রভৃতি চরণ পাঠককে জুড়ায় পরাবাস্তবতায় ঋদ্ধ দখিনা হওয়ায়, ফোটে দিনযাপনের বিবর্তন, এবং মেলবন্দন ঘটে তার সাথে কবির প্রকৃতি-প্রিয় মানসের। সমুদ্রের সজল ঊর্মিতে ভরপুর দৃশ্যবিগ্রহ যেন হয়ে ওঠে ক্রমাগত সংগ্রাম ও মনজগতের বিস্তির্ণতার প্রতীক। জননুকে অভিনন্দন।

  32. Shardul sajal says:

    কবিতাগুলো এক ঘোরের ভেতর দিয়ে ঘূর্ণি তুলে সুদূরে মিশেছে আর ঐ সুদূরি তো সমসত্ত্ব দ্রবণের সেই জীবন! যা আমাদের ইচ্ছা অনিচ্ছায় বয়ে বেড়াতে হয় , যেখানে অভিমান অভিযোগগুলো ভেতরটা খেয়ে খেয়ে বেড়ে উঠে , আমরা দেখি আর নতুন জোয়ারে ভাসাই বেঁচে থাকা স্বপ্নের গহনা নৌকা…

    খুব ভালো লাগলো কবিতাগুলো … চলুক এমন ভালো লাগা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.