মাসুদ খানের গুপ্তচর, বলাধ্যক্ষ ও যুদ্ধপরিস্থিতি এবং অন্যান্য

মাসুদ খান | ১২ অক্টোবর ২০১৮ ৭:৪১ অপরাহ্ন


প্রস্থানের আগে

প্রীতি পেলে থেকে যাব আরো কিছুদিন, না পেলে এক মুহূর্ত নয়।

আবার যোগ দেব প্রকৃতির প্রতিটি আয়োজনে–
মেষশাবকের তৃণপ্রাশনের দিনে, জোনাকিদের বিচিত্রানুষ্ঠানে,
বৃষদের বপ্রক্রীড়ায়, সাতভাইচম্পা পাখিদের বেলাশেষের কলহকাণ্ডে,
হরিণ-হরিণীদের বিবাহপ্রস্তাবে,
নবীন পাহাড়ি ঝরনার অভিষেকে, উদ্বোধনে…।

জানি অবহেলা পাব, তবু
কখনো বেহাগ রাগে, কখনো তোটক ছন্দে ঘুরব
রঙচিত্র প্রজাপতিদের পিছু পিছু
বাজি ধরব শিকারসফল উদবেড়ালের অন্তরা থেকে সঞ্চারী অবধি
জলপলায়নরেখা বরাবর।

বহুকাল আগে ভুলে-যাওয়া সহপাঠীদের ঝিলিক-মাখানো
মর্নিং স্কুলের রোদ এসে পড়বে গায়ে
সেই রোদ দিয়ে সেরে নেব শান্ত প্রভাতি গোসল।

প্রীতি পেলে থেকে যাব, না হলে এক মুহূর্ত নয়।

অমৃতের সন্তান

তোমরা কারা? কতদূর থেকে এলে?
মনোহরপুর? মধুপ্রস্থ? লীলাস্থলী? অবাকনগর?
কোন যুগেরই-বা তোমরা?
উপলীয়? তাম্র? প্রত্ন? নাকি নুহের আমল?
যে যেখান থেকে যে-যুগ থেকেই আসো-না-কেন
একই জাহাজের যাত্রী আমরা এ অকূল মহাকাশে।

সহযাত্রী, এবং সমবয়সী।
তোমাদের বয়স প্রায় পনেরোশো কোটি বছর, আমাদেরও তা-ই।
যে-যে কণিকায় গড়া দেহ তোমাদের, আমাদেরও তা-ই–
সব উদ্ভব ওই মহাবিস্ফোরণের ক্ষণে।

অমরতা চাও? চাও অন্তহীন পরমায়ু?
বিলাপ থামাও, শোনো, আমরা যে যখনই আসি
অমরতা নিয়েই আসি হে অমৃতের সন্তান–
অলুক, অব্যয়, অনশ্বর, চির-আয়ুষ্মান।

জরা ব্যাধি মন্বন্তর মহামারী অনাহার অত্যাচার গুম খুন দুর্বিপাক দুর্ঘটনা
কোনো কিছুতেই হবে না কিছুই, ধস নেই, মৃত্যু নেই,
ক্ষয়ে যাওয়া ঝরে যাওয়া নেই
শুধু বয়ে চলা আছে, রূপ থেকে রূপান্তরে,
রূপক থেকে ক্রমশ রূপকথায়…
জলে স্থলে মহাশূন্যে অগ্নিকুণ্ডে…কোত্থাও মরণ নাই তোর কোনোকালে…

সাড়ে চারশো কোটি বছরের পুরনো এক সজল সবুজ
কমলা আকারের মহাকাশযানে চড়ে
শাঁ-শাঁ করে চলেছি সবাই এক অনন্ত সফরে।

অপ্রাকৃত

ছোট্ট একটি ট্রেন– কিশোরী-বয়সী। অসুস্থ, অর্ধবিকল।
পরিত্যক্ত লোকোশেড ছেড়ে
নিশীথে বেরিয়ে পড়ে একা, নিশ্চালক।
সারারাত কোথায়-কোথায় কোন পথে ও বিপথে ঘুরে বেড়ায়…
কিছুটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে, গ্রাম-গঞ্জ-শহর পেরিয়ে…

রেললাইন ছেড়ে নেমে যায় মাঠে। চলতে থাকে মাঠের ভেতর
পৌষের শূন্য শীতার্ত মাঠ…
সুখী মানুষেরা ঘুমে। অসুখীরা নির্ঘুম, উনপ্রাকৃতিক–
দীর্ঘনিশ্বাসের আতসবাতাসে একাকার তাদের ঐহিক-পারত্রিক।

ঘুমে-ঢুলুঢুলু স্টেশনের বিধ্বস্ত কোণে
কয়েকজন নির্দন্ত নুলা ভিখারি সোল্লাসে মেতেছে সম্মিলিত স্বমেহনে।
পথ থেকে এক পথকিশোরকে গাড়িতে উঠিয়ে নিচ্ছে দুই সমকামী
সদ্যমৃত শিশুর লাশ তুলে নিয়ে পালাচ্ছে এক শবাহারী।
কাঁপতে কাঁপতে এগুচ্ছে চোখবাঁধা এক হতভাগা,
ক্রমে ক্রসফায়ারের দিকে।
তা দেখতে পিছু নিয়েছে দুই রোঁয়া-ওঠা ঘেয়ো ক্ষুধার্ত কুকুর
আর রাজ-রহমতে সদ্য-ছাড়া-পাওয়া এক মৃত্যুসাজাপ্রাপ্ত খুনি।
বাসায় বাসায় বন্দি, নির্যাতিতা শিশু পরিচারিকাদের স্ফুট-অস্ফুট কান্না…

এসব কোন অ্যাবসার্ড নাটকের নিষ্ঠুর নাট্যায়ন, ঘূর্ণ্যমান নাটমঞ্চে!
শেষ অঙ্ক থেকে পিচকারির বেগে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসছে সমাপ্তিসংগীত–
পরাজিত মানুষের শোচনা ও খুনির নৈশ নিভৃত অনুশোচনা
এ-দুয়ের মিশ্ররাগে জেগে-ওঠা এক নিষ্করুণ গান।

প্রাকৃত-অপ্রাকৃতের ভেদ ভুলিয়ে-দেওয়া সব দৃশ্যনাট্য
ঠেলে উজিয়ে চলেছে সেই পালিয়ে-বেড়ানো ট্রেনটি।

কেউ কি দেখেছে ট্রেনটিকে?
–কেউ না।
শুধু পরান মল্লিকের চির-রোগা রাতজাগা ছেলেটি বারবার বলে যাচ্ছে–
“গভীর রাতে জানালা খুলে দেখি-কি,
আগাগোড়া ফিনফিনে কুয়াশা-কালারের হিজাবে মোড়া
নুপূর-পরা এক ঘরপালানো গৃহবধূ
ত্রস্তপায়ে হালকা ঝুমঝুম শব্দ তুলে চলে যাচ্ছে দূরে
আরো অধিক কুয়াশার ভেতর।”

কিন্তু কেউ বিশ্বাস করছে না তার কথা।

প্রশান্তি

যখনই বাসায় আসে মায়ের পুরনো সেই প্রেমিক, শিশুটি বোঝে–
এ নিঃসীম নরকসংসারে
ওই স্নিগ্ধ সম্পর্কটুকুই যেন একপশলা মায়াবী শুশ্রূষা,
তার চিরবিষণ্ন মায়ের।
একখণ্ড নিরিবিলি রঙিন সুগন্ধদ্বীপ
মায়ের এ রং-জ্বলা নিষ্করুণ নিজস্ব ভুবনে।

স্রেফ, স্রেফ কিছুটা সময় হাসিখুশি দেখবে মাকে, শিশু তাই দ্রুত গিয়ে
সিডিতে চালিয়ে দেয় সেই গান,
যে-গান গেয়ে ওঠে চিরন্তন প্রেমিক-প্রেমিকা
চাঁদনি রাতে, প্রশান্ত নদীতে, দু-পা মেলে দিয়ে, ছইয়ের ওপরে।

এইসব ছোট-ছোট প্রসন্ন মুহূর্ত, মধুলগ্ন
ধীরে ধীরে গিয়ে গেঁথে যায় এক বিষণ্নবিপুল মহাকালে।
সার্থক হয় মায়ের প্রণয়, মর্মী সন্তানের সহযোগ পেলে।

ফল

সরু সরু লোহার জালিকা–
তাকেই অবলম্বন ক’রে
লতিয়ে উঠেছে কিছু আঙুরলতিকা,
বহু ব্র্যাকেটের ঘেরাটোপ-ঘেরা হর-লবে-ভরা সরল অঙ্কের মতো,
জটিল আকারে।

বিচিত্র গণিতচিহ্ন আর বন্ধনীর ভিড়ে হঠাৎ-হঠাৎ দৃষ্টিশান্তিরূপে
দেখা-দেওয়া দ্বিতীয় বন্ধনীদের মতো গজিয়েছে কিছু লতাতন্তু,
চাষি যাকে আঁকশি বলে ডাকে।
সেইসব আঁকশি বাড়িয়ে দিয়ে লতারা আকাশ থেকে পেড়ে আনে
আলোহাওয়া বৃষ্টিজল, রূপ রূপক ও অনুপ্রাস।

জানি না কোথায় থাকে গাছের হৃৎ-পাম্প,
ভূ-মাতার দেহ থেকে স্তন্যরস শুষে নিয়ে যা পাঠিয়ে দেয়
ঊর্ধ্বমুখী, পরাক্রান্ত মাধ্যাকর্ষ-স্রোতের উজানে,
ঠিক-ঠিক পাতায় পল্লবে!

গাছ তার কোন স্নায়ুকেন্দ্র থেকে পাঠায় সংকেত, সেই কোমল স্পন্দন
বীজে যার সূত্রপাত, ফল-এ যার আপাত সমাপ্তি,
যা শেকড় থেকে পাতা অব্দি হয় অবিরাম সম্প্রচার
ধীরে ধীরে লতা বেয়ে ক্রমে লৌহজালিকায়।

সেসব সংকেতই নাকি রূপান্তরে হয়েছে আঙুর–
ফল তাই থোকা-থোকা, ফল তাই সুরসম্মোহিত,
স্পন্দমান, রসাত্মক, রসিক, বর্তুল।

আর সঙ্গগুণে দিনে দিনে লোহারাও হয়ে ওঠে
আঙুরের মতো সুরেলা, সরস।

গুপ্তচর, বলাধ্যক্ষ ও যুদ্ধপরিস্থিতি

সৈনিকেরা সার ধরে ক্রল করে এগুতে থাকে আর চালায় বন্দুক।
গুলি ছোটে ভবিষ্যৎ বরাবর আর ব্যাক-ফায়ারে
প্রতিবারই ফোঁস করে বেরিয়ে আসে এক-হলকা আগুন।

হলকারা ছোটে অতীতের দিকে, অতিদূর আর নিকট-অতীত…
বন্দুকচিদের মধ্যে কারো-কারো বেশ লম্বা চুলদাড়ি।
একটু একটু করে আগুন ধরে নিকট অতীতে,
বেসামাল বাঁকা চুলদাড়িতে তাদের।

গুপ্তচর ব্যস্ত থাকে চুলদাড়ি-পোড়া গন্ধবিচারে।

আচমকা বৃষ্টি নামে মুষলধারায়, প্রতিপক্ষদের পরগনায়।
ভিজে যায় বারুদ তাদের, স্যাঁতসেঁতে বারুদখানায়।

সেই ফাঁকে ধূর্ত ও বিলাসী বলাধ্যক্ষ
বলচর্চা বাদ দিয়ে যথারীতি মন দেয় ব্যসন ও বালাচর্চায়।

বোমা একটাই
রিমোট দুইটি, দুই বিরুদ্ধপক্ষের হাতে, মুখোমুখি।

মামুলি কবিতা

প্রমত্ত ঝড়ের আগে-আগে-ছোটা
ঈগল-আরোহী তরুণেরা আজ কেমন নির্জীব, ন্যুব্জ!

আবার সজীব হয়ে উঠুক তো তারা,
পাকড়ে ফেলুক ফের সে-দুরন্ত ঈগলের ডানা।

ক্লিষ্ট যুবকের দূর হোক ক্লেশ
অনাথ অনন্যগতি তরুণীর হোক ইষ্টগতি
অস্থির শিশুর মুখে ঢুকে যাক মায়ের ব্যাকুল স্তন
মধুর স্তননে আমোদিত হোক আশপাশ
রশ্মিরোষে দগ্ধ হোক বলদাম্ভিকের দম্ভ
রেলভ্রষ্ট ট্রেন উঠে আসুক সঠিক রেলরেখায়…

জীবের জীবন

নাভিমূল থেকে সাইফন করে তুলে-আনা প্রলম্ব আওয়াজ
ধারালো জিকিরধ্বনি, কুফরি কালাম, আরতিকৃত্যের বুলিয়ান বীজগণিত…
তারপর পাশুপত দৃষ্টিক্ষেপ, পূর্বরাগ, রমন্যাস…
অতঃপর জীবনের প্রথম রমণ–
গুজব ও বক্র ব্যাসকূটে-ভরা রোলার কোস্টারে
প্রথম আরোহণের রোমহর্ষ অভিজ্ঞতা, দুকূল-ছাপানো
শিহর-জাগানো লাল-লঙ্কা বিনোদন।

তরল মানবফল, ভেতরে তরল বীজ।
মাত্র দুয়েকটি ছাড়া সব বীজ চিটা ও নিষ্ফলা।
সেই একটি বা দুটি সুপুষ্ট সফল বীজই অঙ্কুরিত একদিন।

প্রথমেই চারাগাছ, দিনে দিনে সবল সুঠাম মহিরুহ,
প্রগাঢ় তরল তার পুষ্প, অধিক তরল তার পরাগায়ন
কালক্রমে ফের সেই মধুফল, ফল গলতে গলতে ফের নিখাদ তরল…

পূর্বমানবের পরমায়ু শুষে নিয়ে
আয়ু পায় উত্তরমানব।
এভাবেই কিছু শুভাশুভচক্রে কেটে যায় বদ্ধ সব জীবের জীবন।

আগুন

জ্বলিনী, জ্বালিনী– দুই রূপ আগুনের।

তা দেখতে ফিরে ফিরে আসে যত চোরাই মোমবাতি
কী-এক নিষিদ্ধ আবগারি উন্মাদনা নিয়ে
মন-নাজুক-করা বাউরি বাতাসের দিনে
অসংখ্য উড়ন্ত চোরপতঙ্গের ভিড় ঠেলে ঠেলে।

বিপদসংকেত

মাথা-ছেঁটে-ফেলা আর্ত আহত ঘাসেরা
ত্বরিত ছড়িয়ে দেয় বিপদবিষণ্ন এক তৃণগন্ধ।
সে-গন্ধ তো আর কিছু নয়, ঘাসেদের মরণচিৎকার
পুরো তৃণসমাজের উদ্দেশে বিপন্ন ঘাসেদের প্রচারিত প্যানিক অ্যালার্ম–
যে যেভাবে পারো দ্রুত পালাও, লুকিয়ে পড়ো, ধেয়ে আসছে মানুষ
আসছে শিরশ্ছেদযন্ত্র।
কিন্তু হায় কিছুতেই পালাতে পারে না তারা,
ঘাসেরা, তাদের সহজাতকেরা।

সিংহাসন ও শীতবস্ত্র

যেসব জীবের অভ্যন্তরে তুমুল উত্তাপ
শীতল তাদের ত্বক, ঠান্ডা রোমরাজি।

আর
ভেতরটা যাদের শীতল,
বাহিরটা তাদের উষ্ণ যথারীতি।

বারুদগর্ভ সিংহের হুঙ্কার
আর সেই হুঙ্কারের ওপর বিছিয়ে দিয়ে কেশরশোভিত টানটান সিংহচর্ম,
সুসজ্জিত করা যায় বটে সিংহাসন, কিন্তু
সেসবে হয় না কোনো শীতের বসন।

ভেতর ও বাইরের এ এমন এক কারসাজি
শীতবস্ত্রে লাগে নম্র নিরীহ মেষের রোমরাজি।

বাস্তবতা

ছেলেটি আহার করে, মুগ্ধ হয়ে তা-ই দ্যাখে তার অভুক্ত মা,
নির্নিমেষ, কুপির আলোয়
এবং তাতেই হয়ে যায় তার রাতের আহার।

কেউ বলে নিরুদ্দেশ, কেউ বলে গুমখুন। বহুকাল পরে
যেদিন ভিড়ের মধ্যে ছেলেটিকে, হুড-তোলা হালকা জ্যাকেটে,
বিজলিচমকের মতো একঝলক দেখতে পেল তার মা,
দিনে-দিনে একদম ভেঙে-পড়া উদ্ভ্রান্ত জননী,
সেইদিন থেকে শেষ সদবাস্তবতার কাল,
শুরু হলো সে-এক ফণীতে-মণিভ্রম
গরলে-মধুকভ্রম আলেয়াবাস্তবতার পর্ব।

পরিণতি

পূর্ব বেঁকে যেতে যেতে একসময় পশ্চিমে গিয়ে মেশে
চরম শত্রুও এক কালে হয়ে ওঠে মিত্র, সুহৃদ পরম।
প্রখর রোদ্দুরও বদলে যায় মৃদু মসৃণ জ্যোৎস্নায়।

রাতদিন বলকাতে-থাকা, আগুন-উগরানো
পাহাড়ও ঘুমিয়ে যায় চুপচাপ একদিন।
গনগনে লাভা ক্রমে হয়ে আসে সুস্থির শীতল
এবং হঠাৎ-ফ্রিজ-হয়ে-যাওয়া, ঠাণ্ডা সেই লাভাপ্রবাহের গায়ে
একদা গজিয়ে ওঠে তৃণগুল্ম, ফোটে ফুল, টকটকে অঙ্গারবরণ।

মেঘরোদ্দুরে, ফলিত পুলকে…

আজকে না হয় কোনোমতে কেটে গেল দিন। কিন্তু
কী খাবে আগামী দিনে-সেই ভাবনায় ব্যস্ত ও ব্যাকুল দিনমণি
প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই পনেরো কোটি কিলোমিটার
দূর থেকে পাঠাতেই থাকে তার কিরণবাহিনী।

পড়িমরি ছুটে আসে তারা।
সাগরের থেকে শুষে তুলে আনে জল বাষ্পমসলিনের বেশে
হাওয়া বয় উত্তেজনাবশে, মেঘ জমে সম্মোহনে
মেঘ তো গগনশোভা, ঘোর হয়ে আসে ক্রমে…।
শস্যখেত বাগান বনস্থলীতে ঝেঁপে নেমে এসে
ঝিলমিল করে বয়ে যায় মগ্ন মেঘমসলিন।

অন্যদিকে, হাসিখুশি কিরণেরা এসেই তাদের চনমনে গুণাগুণসহ
প্রভূত ঝিলিক তুলে ছলকে চলে হুলুস্থুল পাতায় পল্লবে…
উন্মাতাল সোহাগে ও শিহরনে, পুলকিত আলো-সংশ্লেষণে।

রৌদ্রযতি আর বায়ু-বিরামের মধ্যকার টানাপড়েন ও স্নিগ্ধ বৃষ্টিবিবৃতির
ত্রিভুজ তৎপরতায় সৃজনচঞ্চল হয়ে ওঠে ঋতু
ফলিত পুলকে ক্রমরোমাঞ্চিত হতে থাকে বসুমতী।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (1) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Taposh Gayen — অক্টোবর ১৩, ২০১৮ @ ৯:০৩ পূর্বাহ্ন

      কবি মাসুদ খানের এইসব কবিতা পড়ে, ইহজাগতিক এবং মহাজাগতিক পথ পরিক্রমাশেষে, এক গভীর বিষণ্ণতা আচ্ছন্ন করেছে আমাকে । এতো বিপুল জগত আর হৃদয়ের বৈভব নিয়ে সাম্প্রতিককালে বাংলা কবিতা পড়েছি বলে আমার স্মরণে আসছে না । কবিকে আমার আলিঙ্গন এবং তুমুল ভালোবাসা জানিয়ে যাই ! বিডিনিউজকে অনেক ধন্যবাদ ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com