সাক্ষাৎকার

দীপেন ভট্টাচার্য: তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না প্রকৃতি তাদের সঙ্গে এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করবে

রাজু আলাউদ্দিন | 3 Oct , 2018  


দীপেন ভট্টাচার্য আমাদের অগ্রগন্য বিজ্ঞানকল্পকাহিনীকার। সাহিত্যের এই শাখায় আমাদের মৌলিক লেখকের সংখ্যা একেবারেই হাতেগোণা, দীপেন ভট্টাচার্য এই হাতেগোণাদের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে আছেন তার মৌলিকতার গুণে আর অসামান্য বুননকৌশলের কারণে। তার পেশা তাকে নিশ্চয়ই বিষয়ের দখলদারিত্বে নিশ্চয়তা এনে দিয়েছে, যেহেতু তিনি পেশায় জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী, অধ্যাপক; কিন্তু বুননকৌশলের চমৎকারিত্ব তিনি পেয়েছেন বিশ্বসাহিত্যের পাঠ ও নান্দনিক রসজ্ঞ মনের পরিগ্রহণের সূত্রে। অধ্যাপনা করছেন রিভারসাইড কমিউনিটি কলেজ, ক্যালিফোর্নিয়ায়। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইড-এ জ্যোতির্বিদ্যায় গবেষণা করেছেন। প্রাক্তন গবেষক, নাসা গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার, ম্যারিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র। ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে তার অভিজিৎ নক্ষত্রের আলো, দিতার ঘড়ি, বার্ট কোমেনের ডান হাত, নক্ষত্রের ঝড় এবং নিওলিথ স্বপ্ল। সংখ্যায় অল্প হলেও প্রতিটি গ্রন্থেই তিনি কল্পনাশক্তির মৌলিকতা নিয়ে হাজির হয়েছেন।

দীপেন ভট্টাচার্যের সাথে গত জুলাই মাসের শেষ দিন কবি ও অধ্যাপক তাপস গায়েন, অনুবাদক আনিসুজ্জামান ও আমার সাথে সান দিয়েগোতে একদিনের জন্য দেখা হলে সেখানকার করোনাদো ফেরিঘাটের কাছে বিকেলের উজ্জ্বল আলোয় ঘেরা একটি রেস্তোরাঁয় আড্ডা দিতে দিতে আলাপ হচ্ছিল পদার্থবিজ্ঞানের একেবারে তাত্ত্বিক বিষয়গুলো নিয়ে। পরে সেই আলাপ ক্রমশ বাঁক নেয় সাহিত্যের দিকে। কিন্তু আড্ডার স্বভাবসুলভ চরিত্র অনুযায়ী আকস্মিকভাবেই অসমাপ্ত থেকে যায় এর বিস্তার। এই সাক্ষাৎকারটি সেই আড্ডারই লিখিত রূপ।রাজু আলাউদ্দিন।

রাজু আলাউদ্দিন: আমি তো বিজ্ঞান-ওরিয়েন্টেড লোক না, কিন্তু আমি বিজ্ঞান ভালোবাসি। আমি একটা জিনিস লক্ষ করেছি, লেখালেখির সূত্রে, যে-কোনো বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার যারা শীর্ষ ব্যক্তিত্ব তাদের ধারণার মধ্যে এক ধরনের ইস্থেটিক বিউটি থাকে, যেটা আমরা লেখকশিল্পীদের মধ্যেও দেখতে পাই। এ্টা কিন্তু উভয়ের মধ্যে সমান্তরাল। এটা কেন ঘটে বলে মনে হয় আপনার?
দীপেন ভট্টাচার্য়: পদার্থবিদ্যার মূল সমীকরণ যেগুলো আছে সেগুলো সিমেট্রিক্যাল। বাংলায় এটাকে প্রতিসাম্য বলা যেতে পারে। সিমেট্রির সাথে বিউটির সম্পর্ক আছে আমরা তো সেটা জানি। যেকোনা সিমেট্রির সাথে থিমেটিক্যাল একটা জিনিসকে আমরা পছন্দ করি। সমীকরণের মধ্যে এক ধরনের সৌন্দর্য আছে, সেটা বিজ্ঞানীদের ধারণা। সমস্ত পদার্থবিদই, তারা শেষাবধি যে-জিনিসটা চায় তা হল সুন্দর কিছু তৈরি করতে। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের যে সমীকরণ তার মধ্যেও একটা সুন্দর প্রতিসাম্য আছে। চন্দ্রশেখরের একটা বই আছে, চন্দ্রশেখর সুব্রামনিয়মের, নাম হল Truth and Beauty: Aesthetics and Motivations in Science।

রাজু: নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন যিনি?
দীপেন: হ্যাঁ, উনি তারার বিবর্তন, শ্বেত বামন এসবের ওপর গবেষণার জন্য নোবেল পান। উনি কিন্তু আর্টস-এরও ভক্ত ছিলেন। শেক্সপীয়ার, নিউটন ও বিঠোফেনের কাজের ওপর ওনার একটা ছোট লেখা আছে। নিউটনের যে প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমাটিকা বইটা, সেটা বেশ দুর্বোধ্য। উনি ওটাকে বিশ্লেষণ করে আবার একটা বই লিখেছেন। একটু পিছনে ফিরে গিয়ে একটা উদাহরণ দেয়া যাক। স্টিভেন ওয়াইনবার্গ, আবদুস সালামের সাথে একই বছরে উনি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন, তো ওনার একটা বইয়ের নাম হল Dreams of a Final Theory। ওই বইতে ওয়াইনবার্গ বলেছিলেন যে দার্শনি-করা বিজ্ঞান গবেষণার অনেক ক্ষতি করেছে। উনি বলছেন, আঠার শতকের শেষে পজিটিভিস্টরা (দার্শনিকেরা) এলো। তারা এসে বলল যে তুমি যদি চোখে কিছু না দেখ তাহলে তুমি কিছু বলতে পার না। যেমন এটম, এটমকে কি তুমি চোখে দেখছ? না, পরমাণুকে তুমি চোখে দেখছ না, কাজেই তুমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পার না। পরমাণু নিতান্তই একটা মডেল। অর্থাৎ হাতে পরীক্ষা করে যেগুলো দেখা সম্ভব সেগুলোই শুধু স্বীকার করব, বাদবাদিরা কিছু না। এক অর্থে যারা লজিকাল বা ইমপিরিক্যাল পজিটিভিস্ট তারা অভিজ্ঞতালব্ধ যে প্রমাণ তার বাইরে যেতে চাইলেন না। যেহেতু পরমাণু ছিল তখন অপ্রত্যক্ষ, ওদের কারণে পারমাণবিক তত্ত্বের আসতে দেরি হল। এজন্য বিজ্ঞানের কিছু ক্ষতি হল। এখন অবশ্য পরমাণুর ছবি বিশেষ কৌশলের মাধ্যমে ধারণ করা গেছে।

তো যা বলছিলাম, এই কারণে ওয়াইনবার্গ খুব ক্ষিপ্ত দার্শনিকদের ওপরে। একটা অধ্যায়ই লিখলেন Against Philosophy নামে, অথচ ঐ বইটিতেই Beautiful Theories নামে একটা অধ্যায় আছে। সেখানে ওয়াইনবার্গ নান্দনিকভাবে সুন্দর, অন্তত পদার্থবিদদের মতে, তত্ত্ব বা পদ্ধতির কথা আলোচনা করেছেন। সেটাও তো এক ধরনের দর্শন, তাই না?

পদার্থবিদ্যা গভীর প্রশ্ন করে। গভীর প্রশ্নগুলো কী ধরনের হতে পারে? যেমন ধরুন বস্তুর ভর বা ওজন কোথা থেকে আসে? একমাত্র পদার্থবিদরাই এই প্রশ্নটা করছেন। আমরা সাধারণ মানুষরা বলবো, এটার ওজন আছে, অতএব ভর আছে।–এটা কিন্তু পদার্থবিদদের কাছে কোনো সন্তোষজনক উত্তর নয়। তারা প্রশ্ন করবে এই ওজনটা কোথা থেকে আসছে। অনেকে বলবে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ওজনটা সৃষ্টি করছে। কিন্তু আমরা জানি যে ভর না থাকলে ওজনও থাকবে না, তাই না? এই জন্য তারা হিগস ফিল্ড আনলো। এই যে হিগস পার্টিকাল-এর কথা বলছি আমরা, তার উৎপত্তি হচ্ছে হিগস ফিল্ড বা হিগস ক্ষেত্র থেকে। হিগস ফিল্ড হচ্ছে বস্তু বা কণার ভর সৃষ্টি করে, সব ধরণের কণাকেই যে হিগস ক্ষেত্র ভর দেয় এমন না, কিন্তু অনেক কণাকেই দেয়। এইসব কণা হিগস ফিল্ডের সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়া করে, হিগস ক্ষেত্র তাদের জন্য একটা বাধা। যেমন আপনি যদি পানির মধ্যে হাটতে চান, পানি বাধার সৃষ্টি করবে। কিন্তু শূন্য জায়গায় হাটলে বাধার কিছু নেই। হিগস ফিল্ড অনেকটা পানির মতো যা আপনাকে বাধা দেবে, ঐ বাধাটাকে আপনি মনে করবেন আপনার ভর। ওখান থেকেই ভরটা আসছে। তবে আপনার সব ভরটাই হিগস ক্ষেত্র থেকে আসে না, ভরের অন্য আর একটা উৎস আছে।
এই মহাবিশ্বের সবকিছুই, আমরা যা যা দেখছি তার সবই পদার্থবিদ্যার সূত্র অনুযায়ী হচ্ছে। এই সূত্রের বাইরে কিছু হচ্ছে না। পদার্থবিদরাই তো সে সব বার করেছে। কিন্তু তারপরও তারা বলছে যে সূত্রগুলো কোথা থেকে এলো? এটা একটা জটিল সমস্যা, এই সমস্যার সমাধান পদার্থবিদরাও জানে সহজে করা যাবে না। মনে করুন, মাল্টিপল ইউনিভার্স তত্ত্ব, যাকে মাল্টিভার্স বলা হয় যার মূল কথা হল বিগব্যাং-এর সময় শুধু একটা মহাবিশ্ব নয়, অনেক মহাবিশ্ব তৈরি হয়েছে, এবং বিভিন্ন মহাবিশ্বে পদার্থবিদ্যার সূত্র ভিন্ন ভিন্ন হবে, আমাদের মহাবিশ্বে পদার্থবিদ্যার সূত্রগুলো…

রাজু: অন্য রকম?
দীপেন: অন্য রকম এবং যেখান থেকে জীবন তৈরি হতে পারে। যে-মহাবিশ্বে পদার্থবিদ্যার সূত্র অনুকূল হবে সেখানে জীবন বা জটিল সচেতন জীবন সৃষ্টি হবে। অন্য মহাবিশ্বে এই পদার্থবিদ্যার সূত্র অনুযায়ী জীবনই তৈরি হবে না। তবে অনেক পদার্থবিদের জন্য এটা খুব সন্তোষজনক উত্তর নয়।
রাজু: আপনি এটা বলার সঙ্গে সঙ্গে মনে পরলো যে বিজ্ঞানীদের বহুদিনের স্বপ্ন, এমনকি আবদুস সালাম এবং ওয়াইনবার্গেরও স্বপ্ন যে তারা গ্র্যান্ড ইউনিফিকেশন তত্ত্ব তৈরি করবেন। যদি একেকটা মহাবিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন ধরন হয়, ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট হয় তাহলে তো গ্র্যান্ড ইউনিফিকেশন তত্ত্ব সম্ভব না।
দীপেন: না, তাঁরা যে গ্র্যান্ড ইউনিফিকেশন থিওরি বলছেন সেটা কেবল আমাদের মহাবিশ্বের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু অন্য মহাবিশ্বের ধারণাটাই একটা স্পেকুলেশন, বাংলায় জল্পনা বলা যেতে পারে। কারণ অন্য মহাবিশ্বের তো কোনো প্রমাণ নেই, আমাদের তো কোনো যোগাযোগই নেই অন্য মহাবিশ্বের সাথে। তাই অনেক পদার্থবিদই এই ধরনের ধারণাকে পছন্দ করেন না, তারা কথাই বলতে চান না এ বিষয়ে।
রাজু: কিন্তু বিজ্ঞানীরা যখন বলেন যে, অন্তত এখনও পর্যন্ত সবাই বলছেন, যেমন আপনি বললেন একটা জায়গা থেকে বিগব্যাং হলো। বিগব্যাং হওয়ার পর অনেকগুলো ভিন্ন রকম ইউনিভার্সের জন্ম হল।
দীপেন: না, এটার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই। মনে করুন আপনার একটা সমীকরণ আছে, ধরুন সেটা x^2=1। এই সমীকরণের দুটো সমাধান পাবেন, সমাধানটা +1 হতে পারে আবার -1ও হতে পারে। এখন আপনি কেবল +1 মহাবিশ্বটা দেখছেন, যেটা হল আমাদের মহাবিশ্ব। কিন্তু সমীকরণ অনুযায়ী -1 মহাবিশ্বের সম্ভাবনা রয়ে গেছে, কিন্তু আপনার কাছে সেটা সম্পর্কে….
রাজু: ডাটা নেই।
দীপেন: হ্যাঁ, ডাটা নেই, কিন্তু গাণিতিক প্রমাণ আছে। x^2=1 দিয়ে আপনি কেবল একটা সমাধান প্রত্যক্ষভাবে দেখছেন, অন্যটা দেখছেন না। যেমন ধরুন কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সমীকরণের সমাধানে নেগেটিভ ইলেকট্রন পাওয়া যাচ্ছে আবার পজিটিভ পজিট্রন পাওয়া যাচ্ছে। এই দুটি কণার ভর ও অনেক বৈশিষ্ট একই। শুধু ইলেকট্রনের বৈদ্যুতিক চার্জ নেগেটিভ, পজিট্রনের পজিটিভ। এটাকে বলতে পারেন প্রতিসাম্যের একটা সরল উদাহরণ। এবং এই দুটি কণাই আপনি প্রকৃতিতে দেখতে পাচ্ছেন। মাল্টিভার্সের সমাধান আছে কিন্তু দেখতে পাচ্ছেন না।

কিছু পদার্থবিদ এটা পছন্দই করেন না। তারা বলেন, এ নিয়ে কথাই বলো না। তোমরা যখন পর্যবেক্ষণ দিয়ে প্রমাণ দিতে পারছ না, তাহলে এটা নিয়ে প্রশ্ন করছ কেন। এটা নিয়ে একটা বিরাট বিতর্ক আছে পদার্থবিদদের মাঝে। কারণ পদার্থবিদরা সমসময়ই চায়—দার্শনিক কার্ল পপারের মত অনুযায়ী—যে আপনি যদি কোনো হাইপোথিসিস বা অনুকল্প মিথ্যা প্রমাণ না করার উপায় না রাখেন তাহলে এটা হাইপোসিথিস নয়। মনে করুন আপনি বললেন খুব উঁচু থেকে ঝাঁপ দিলে আমার মৃত্যু হবে না। ইটস এ সায়েন্টিফিক স্ট্যাটমেন্ট, ইউ ক্যান প্রুভ ইট। কীভাবে প্রুভ করবেন? আপনি দেখলেন যে একজন ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে মারা গেল। আপনার হাইপোথিসিসটা মিথ্যা প্রমাণ হল, কারণ আপনি বলেছিলেন যে ছাদ থেকে পড়ে গেলে কিছু হবে না। কিন্তু আপনি যে বলেছিলেন মরবে না—সেই প্রস্তাবটা সায়েন্টিফিক হাইপোথিসিস। কারণ আপনার এটাকে মিথ্যা প্রমাণ করার উপায় আছে—ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে।

এখন আপনি যদি বলেন এই ঘরে অনেক অদৃশ্য কণা আছে যারা আনডিটেক্টিবল, যাদেরকে কোনো যন্ত্র দিয়েই দেখা যায় না। এটা বিজ্ঞানীদের মতে সায়েন্টিফিক হাইপোথিসিস নয়, কারণ আপনি প্রথমেই বলে দিলেন যে ‘আনডিটেক্টিবল’। আমি আপনার কথা শুনে অনেক যন্ত্রপাতি নিয়ে ঐ কণা খুঁজতে গিয়ে পেলাম না। আপনি তখন বলবেন, কেন, আমিতো আগেই বলে দিয়েছি যে ওটা আনডিটেক্টিবল। সুতরাং এটাকে সায়েন্টিফিক হাইপোথিসিস বলা যায় না, কারণ আপনার যে অনুকল্প তাকে মিথ্যা প্রমাণ করার মতো কোনো হাতিয়ার আপনি দেন নি। সেরকম ভাবে বলা যায় আমি যদি বলি ঈশ্বর আছেন সব জায়গায়, সেটাও সায়েন্টিফিক হাইপোথিসিস হবে না, কারণ আমার বক্তব্যকে অপ্রমাণ করার জন্য কোনো প্রেডিকশন বা ভাবীকথন আমি দেই নি। আমি বিশ্বাস করতে পারি ঈশ্বর আছেন, কিন্তু সেটা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির যে-জগৎ তার বাইরে। মাল্টিভার্সটাও সে রকম একটা ব্যাপার হয়ে যাচ্ছে। অনেক বিজ্ঞানীই বলছেন একটা সমীকরণ আছে বটে এবং তার সমাধানে অনেক বিচ্ছিন্ন মহাবিশ্বও পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু তাদের অস্তিত্ব প্রমাণের করার কোনো সুযোগ নেই। এটা নিয়ে অনেক তর্ক বিতর্ক হচ্ছে …

রাজু: কিন্তু বিজ্ঞানে তো আমরা এরকম অনেক বার দেখেছি যে, যেমন ধরেন আইনস্টাইন যখন ওই তত্ত্বটা দিলেন যে আলোর গতি বেঁকে যায়, তখন তো এটা প্রমাণ করা সম্ভব ছিল না। উনি তো তখন এটা বিশ্বাস করেছিলেন ।
দীপেন: কিন্তু উনি একটা নির্দিষ্ট ভাবীকথন দিয়েছিলেন..
রাজু : যার গাণিতিক ভিত্তি ছিল..
দীপেন: গাণিতিক ভিত্তি তো ছিলই, কিন্তু তাঁর ভাবীকথনটা পরীক্ষা করে প্রমাণ করা সম্ভব ছিল। এজন্য এটাকে বৈজ্ঞানিক হাইপোথিসিস বলা চলে।
রাজু: কিন্তু সেটাতো প্রমাণিত হয়েছে পরে।
দীপেন: সেটা কয়েক বছরের মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। ১৯১৯ সনে যখন সূর্যগ্রহণ হলো তখন আর্থার এডিংটন সূর্যগ্রহণ দেখতে দক্ষিণ গোলার্ধে গিয়েছিলেন আইনস্টাইনের ভাবীকথন প্রমাণ করার জন্য। তিনি কিছু ছবি তুলেছিলেন যেখানে সূর্যগ্রহণের সময় তারার আলোটা, মানে যে-তারাটার আলো দেখতে পাওয়ার কথা ছিল না, সেটার আলো বেঁকে আসার ফলে দেখা গেল।
রাজু: হ্যাঁ, বাঁকা না হলে তো দেখা যাবে না।
দীপেন: ঠিক তাই। সেজন্য ওটা হাইপোথিসিসই ছিল। আইনস্টাইন নির্দিষ্ট করে বলেছিলেন আলো এতখানি বাঁকবে, এবং সেটা ওভাবে প্রমাণ হলো। কাজেই এটাকে সঠিক হাইপোথিসিস, সায়েন্টিফিক হাইপোথিসিস। কিন্তু মাল্টিভার্স এখনও হাইপোথিসিস নয়।
তাপস গায়েন: মাল্টিভার্স তো একটা আইডিয়া, কারণ বিগব্যাং এর সাথে মাল্টিভার্সের কোনো সম্পর্ক নেই। বিগব্যাং থেকে একটা মহাবিশ্ব হয়েছে, তাই না?
দীপেন: বিগব্যাং-এর সাথে মাল্টিভার্সের সম্পর্কটা হচ্ছে এরকম: দেয়ার ইজ এ ইনফ্লেশন থিউরি। ইনফ্লেশন বা অতিস্ফীতি তত্ত্ব মূলত বলছে যে বিগব্যাং-এর শুরুতে একটা মহাবিশ্ব একটা বিন্দু থেকে সাংঘাতিকভাবে প্রসারিত হওয়া শুরু করল। অল্প সময় পরে কিছু জায়গায় সেই বেড়ে যাওয়াটা থেমেছে, যেমন আমাদের এইখানে। আর কিছু জায়গায় থামে নি, অথবা পরে থেমেছে। আর কিছু জায়গায় দ্রুত গতিতে এখনো বাড়ছে। যেখানে থেমেছে সেখানে আমাদের মত মহাবিশ্ব হয়েছে। ঐসব মহাবিশ্ব আমাদের থেকে আলাদা, তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ সম্ভব নয়।
তাপস: এখানে কয়টা বিশ্ব হবে, একটা বিশ্ব হবে নাকি দুইটা বিশ্ব হবে নাকি তিনটা বিশ্ব হবে—সেটাই হচ্ছে কথা।

দীপেন: ঠিক। আবার অগণিতও হতে পারে, প্রায় অসীম। পদার্থবিদরা ইনফ্লেশনের জন্য ইনফ্লেটন নামে একটা কল্পিত ক্ষেত্র ব্যবহার করছেন। ব্স্তুর ভরের জন্য যেমন হিগস ক্ষেত্র, ইনফ্লেশনের জন্য ইনফ্লেটন ক্ষেত্র! তো ইনফ্লেটন ক্ষেত্র স্থান বা স্পেসকে প্রচণ্ডভাবে প্রসারিত করতে থাকবে, সেই স্থানের গতি হবে আলোর গতির চেয়েও বেশি।
রাজু: প্রসারণ-গতি?
দীপেন: হ্যাঁ, কিন্তু খুব অল্প সময়ের জন্য।
তাপস: এটাও তো একটা হাইপোথিসিস যে আলোর গতির চেয়েও বেশি গতিসম্পন্ন । এটাতো প্রমাণ করতে পারেনি এখনও।
দীপেন: না না …
রাজু: তাই তো। এটাও তো একটা হাইপোথিসিস। ..
দীপেন: হা হা হা। আসলে আলোর গতির সীমা আছে, কিন্তু স্পেসের গতির কোনো সীমা নেই। এই যে মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে, মনে করুন আমরা একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। তাপস আমার কাছ থেকে প্রতি সেকেন্ডে এক মিটার করে দূরে সরে যাচ্ছে। দূরের ওই লোকটি দ্বিগুণ দূরত্বে সেকেন্ডে দুই মিটার করে সরে যাচ্ছে। ওই দেয়ালের কাছে যারা বসে আছে তারা পাঁচ মিটার দূরত্বে প্রতি সেকেন্ডে সরে যাচ্ছে। এটা আপনি বেলুনের সাথে তুলনা করলে বুঝতে পারবেন। একটা বেলুনের ওপর যদি কিছু দাগ থাকে, এবং বেলুনটা যদি ফোলান, ফোলানোর সময় কাছের দাগগুলো যে-গতিতে সরবে দূরের দাগগুলো আরো দ্রুত গতিতে সরবে। যত দূরে থাকবেন তত বেশি গতিবেগ হবে এবং শেষাবধি দেখা যাবে বহু দূরের গ্যালাক্সি আলোর গতিবেগের সমান বা তার থেকেও বেশি গতিতে সরে যাচ্ছে।
তাপস: এসবের কোনো ডাটা আছে কি, দাদা?
দীপেন: আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্বের মধ্যে গ্যালাক্সিগুলোর ডাটা আছে, সেই গ্যালাক্সিগুলো আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে দ্রুত, কিন্তু আলোর গতির চাইতে কম গতিতে। এর বাইরে যে গ্যালাক্সিগুলো আছে তাদের সম্বন্ধে আমাদের সরাসরি ডাটা নেই, তবে অন্য ডাটা ও থিওরি থেকে আমরা অনুমান করতে পারি যে তারা আলোর গতিবেগের চাইতে দ্রুত ভ্রমণ করছে।
তাপস: ঠিক। কিন্তু এটা কি হাইপোথিসিস হয়ে যাচ্ছে না?

দীপেন: এটা বৈজ্ঞানিক হাইপোথেসিস বটে, কিন্তু মহাবিশ্ব প্রসারণের যে তত্ত্ব ও ডাটা আমাদের কাছে আছে তার ওপর ভিত্তি করে এর সত্যতা যাচাই করা যায়। হয়তো কার্ল পপারের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সংজ্ঞা আমরা পুরোপুরি অনুসরণ করছি না, কিন্তু যা আছে তার ওপর ভিত্তি করে কিছু অনুমান করা যায় যা বৈজ্ঞানিক থিওরির অন্তর্গত। কারণ আমাদের মহাবিশ্বের বয়স হচ্ছে ….
তাপস: ফোর পয়েন্ট ফাইভ বিলিয়ন।
দীপেন: না, এটা হচ্ছে পৃথিবীর বয়স, সূর্যের বয়স। আর মহাবিশ্বের বয়স হচ্ছে ১৩.৮ বিলিয়ন বছর। কিন্তু মহাবিশ্ব ১৪ বিলিয়ন বছরের মত হলেও তার ব্যাসার্ধ প্রায় পঞ্চাশ বিলিয়ন আলোকবছর।
তাপস: বেড়ে গেছে ।
রাজু: এক্সপান্ড করার কারণে..
দীপেন: হ্যাঁ। এখন আমরা যে গ্যালাক্সিগুলো দেখছি তারা এই মুহূর্তে কোথায় আছে? মনে করেন এখন একটা গ্যালাক্সি থেকে আলো এসে পৌঁছালো, সেটা পৌঁছাতে ধরুন দশ বিলিয়ন বছর লেগেছে। এ্খন সেই গ্যালাক্সিটা কোথায় আছে? সেটা এখন হয়তো প্রায় সতের বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে। কারণ তার আলোটা নির্গত হয়েছে দশ বিলিয়ন বছর আগে, তখন সেই গ্যালাক্সিটা আমাদের কাছে ছিল, হয়তো তিন বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে। কিন্তু এ্ই আলোটা আসতে আসতে গ্যালাক্সিটা অনেক দূরে সরে গেছে।
রাজু: জীবনানন্দ দাশের একটা কবিতায় এরকম আছে যে “সমস্ত মৃত নক্ষত্রেরা কাল জেগে উঠেছিলো; আকাশে এক তিল ফাঁক ছিলো না; /পৃথিবীর সমস্ত ধূসর প্রিয় মৃতদের মুখও সেই নক্ষত্রের ভিতর দেখেছি আমি;”
দীপেন: এটা কি নক্ষত্রের রাত কবিতা? [সম্পাদক: কবিতাটির নাম ‘হাওয়ার রাত’]
রাজু: সম্ভবত। নামটা আমার ঠিক মনে নেই। আমার কাছে খুবই আশ্চর্য লেগেছিল। এটা দেখে যে উনি বলছেন যে-নক্ষত্রগুলো মরে গেছে তারাও আজ উপস্থিত। তাহলে কিভাবে তারা উপস্থিত হচ্ছে? উপস্থিত হচ্ছে আলোর এই রহস্যময় গতির কারণে। এক লক্ষ বছর আগে তারাটা মরে গেলেও তার আলোটা তো আছেই। ওটার আলো পৌঁছাতে সময় লেগেছে। এইমাত্র আপনি যেটা বললেন যে তারার আলো আসছে…

……………………………………………..
ইতিপূর্বে আর্টস-এ প্রকাশিত দীপেন ভট্টাচার্যের অন্যান্য লেখা:
দূরে দূরান্তরে পেরুর প্রান্তরে

বার্ট কোমেনের ডান হাত

প্রজাপতির স্বপ্ন

নিউটনীয় ঈর্ষা

পৃথিবীর ছায়া
……………………………………………..

দীপেন: গ্যালাক্সির আলো আসছে। মনে করুন যে-গ্যালাক্সি থেকে দশ বিলিয়ন বছর আগে আলো রওনা হয়েছে, সেটি এখন সতেরো বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে আছে। এই মুহূর্তে যে আলো সে বিকিরণ করছে সেটা আমরা কখনো পাবো না, কারণ সেই গ্যালাক্সি এখন আলোর গতিবেগের চাইতে বেশি গতিতে দূরে সরে যাচ্ছে।
তাপস: আগে এটা জানতাম না। একটা মজার আইডিয়া বললেন ।
রাজু: কোনটা জানতেন না?
তাপস: এই যে ইন্টার-গ্যালাকটিক স্পিড যেটা আলোর গতির চেয়েও বেশি।
দীপেন: আমরাও অনেক দূরের গ্যালাক্সির তুলনায় আলোর গতিবেগের চেয়ে বেশি গতিতে দূরে সরে যাচ্ছি।
রাজু: আমাদের চিরায়ত বিজ্ঞানের ধারণা থেকে যেটা জানি সেটা হচ্ছে আলোর গতির চেয়ে বেশি গতিসম্পন্ন কিছু হওয়া সম্ভব না।


দীপেন: আসলে স্থান-কালে দুটি বিন্দুর মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদানের গতি আলোর গতির চেয়ে বেশি হতে পারবে না, কিন্তু দুটি বিন্দুর মধ্যে যে স্থান বা স্পেস সেটা আলোর গতির চাইতে বেশি গতিতে বাড়তে পারে।

রাজু: একটা লেখার কথা আমার মনে পরছে, ৯৭ বা ৯৮ সালে Discovery পত্রিকার একটা সংখ্যার কথা মনে পরছে, এটা Scientific American পত্রিকার মতো অত বড় কোন পত্রিকা নয়, খানিকটা হাল্কা ধরনের সায়েন্স ম্যাগাজিন। ওখানে একটা আর্টিকেল পড়েছিলাম জর্জ সুদর্শনকে নিয়ে।
দীপেন: মারা গেছেন ভদ্রলোক কয়েক মাস আগে।
রাজু: ও আচ্ছা, তিনি ইতিমধ্যে মারা গেছেন?
তাপস: টেক্সাস ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ছিলেন ।
রাজু: উনি ট্যাকিয়ন ইউনিভার্সের কথা কল্পনা করেছিলেন। ওখানে আলোর গতির চেয়ে বেশি গতিতে পর্টিকল চলাচল করে। উনি নোবেল পুরস্কার পাননি কিন্তু যে-বিষয় উনি কল্পনা করেছিলেন আজকে আমরা সে-বিষয়ে আলাপ করছি ।
দীপেন: আসলে সুদর্শনের নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিৎ ছিল অন্য একটি বিষয়ে যার সাথে আমাদের এই আলোচনার সম্পর্ক নেই। এই মুহূর্তে আমি বিস্তারিত বলতে পারবো না, তবে সেটা পদার্থবিজ্ঞানের এক মৌলিক তত্ত্ব। তবে ট্যাকিয়নের সাথে এটার কোন সম্পর্ক নেই। ওনার নোবেল না-পাওয়াটা একটা দুর্ভাগ্য।
রাজু: উনি যে-ট্যাকিয়নের কথা বলেছিলেন তার সাথে কি আপনার এই আলোর গতির চেয়েও বেশি গতিতে গ্যালাক্সিগুলোর সরে যাওয়ার কোনো দূরবর্তী সম্পর্ক নেই?
দীপেন: না, নেই। কারণ উনি যে কণার কথা ভেবেছিলেন যার গতি আলোর গতির চেয়েও বেশি এবং সবসময়ই তাকে বেশি গতিবেগে ভ্রমণ করতে হবে, এবং সে থামতে পারবে না। আমরা যেটা বলছি সেটা হল স্থান-কালের বিভিন্ন অংশ একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে আলোর অধিক গতিতে।
রাজু: আচ্ছা, আপনি পুরো স্পেসের কথা বলছেন। আর সুদর্শন বলছেন একটা কাল্পনিক কণার কথা।
দীপেন: ঠিক, একটা কণার কথা। সমস্যা হচ্ছে আলোর গতিবেগের বেশি গতিতে যদি কেউ ভ্রমণ করে এবং আপনি যদি তার থেকে তথ্য আহরণ করতে পারেন তাহলে আমাদের জন্য অনেক ঝামেলা আছে।
তাপস: অ্যাপারেটাস এডজাস্ট করতে পারবে না।
দীপেন: অ্যাপারেটাস মানে অনেক ধরনের প্যারাডক্স দেখা দেবো। প্যারাডক্স মানে, আপনি ধরুন একজনকে চিঠি পাঠাচ্ছেন, কিন্তু আপনার চিঠি পাঠানোর আগেই সে চিঠি পেয়ে সেটা পড়ছে।
রাজু : হা হা হা । কী কূটাভাস! এর মধ্যে একটা কাব্যিক সৌন্দর্য আছে আপনি এইমাত্র যা বললেন।

দীপেন: হা হা হা। ঠিক তাই। ঘটনাটা সেরকমই হচ্ছে আর কি!
রাজু: প্যারাডক্স সম্পর্কে স্প্যানিশ এক বিখ্যাত লেখক বালথাসার গ্রাসিয়ান চমৎকার একটা কথা বলেছেন। বলেছিলেন যে প্যারাডক্স হচেছ সত্যের সুন্দরতম ভাষ্য– না, বলেছিলেন ভয়ংকর ভাষ্য। কথাটা এরকম: প্যারাডক্স হচ্ছে The monsters of truth। এর মধ্যে কাব্যিক সৌন্দর্য আছে। অনেক সময় আমরা বিজ্ঞানের মধ্যে এই সৌন্দর্য দেখতে পাই।
দীপেন: তা ঠিক। কী নাম বললেন ওই লেখকের?
রাজু: বালথাসার গ্রাসিয়ান। উনি ছিলেন স্পেনের স্বর্ন যুগের এক বিখ্যাত লেখক। নিটশে এবং শোপেনহাওয়ার-এর মতো লেখকদের দ্বারা ভীষণ প্রশংসিত । তার লেখা শোপেনহাওয়ার এতই পছন্দ করতেন যে তিনি বলেছিলেন All of whose books I have read.
দীপেন: আমরা যখন গাড়িতে বেরাতে যাই তখন সের্ভান্তেস পড়া হয়। এখন ব্রাদার কারামাজভ পড়া হচ্ছে। বহু আগে আগে ব্রাদার কারমাজভ পড়েছি রুশ ভাষায় । বাই দ্য ওয়ে, হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচ্যুড পড়েছি রুশ ভাষায়।
রাজু: তাই নাকি?
দীপেন: মস্কোতে ১৯৮৩ সালে। রাশিয়াতে তখন সবকিছু প্রকাশ করতে দিত না। কিন্তু মার্কেস যেহেুতু লাতিন আমেরিকার এবং লাতিন আমেরিকায় বিপ্লবীরা আছে তাই ওরা প্রকাশ করেছিল।
রাজু: আরেকটা কারণও আছে, মার্কেস ছিলেন বামপন্থী।
দীপেন: হ্যাঁ, ওইটা একটা সংযোগ।
রাজু: ওইটাই হলো মূল সংযোগ। দেখেন কী কৌতুককর ব্যাপার । বামপন্থা মূলত আশাবাদের কথা বলে, কিন্তু মার্কেসের লেখার মধ্যে আশাবাদটা কোথায়? যেমন হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচ্যুড, ওটা তো পুরোটাই হচ্ছে ধ্বংসের একটি ছবি। শেষ কথাটা কী এই উপন্যাসে? প্রেম যা তোমাকে রক্ষা করতে পারে।
দীপেন: যেমন লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা
তাপস: আচ্ছা, লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা গল্প হিসেবে চমৎকার। এটার ব্যাপারে আপনাদের অনুভূতিটা কী? এটাতো একটা স্যাভেজ স্টোরি। আমি জানি এটার একটা সাহিত্যিক মূল্য আছে। আন্ডার এজ একটা মেয়ের সাথে সেক্স করলো, তারপর তার মৃত্যু হয়ে গেল। একটা নারীর সাথে সঙ্গম করার জন্য মৃত্যু হল। আমার কাছে এটাকে মূলত ইনস্যানিটি (পাগলামি) মনে হয়।

দীপেন: শেষ পর্যন্ত কী হলো, শেষ পর্যন্ত মিলিত হলো তার প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে?
তাপস: এটাকে আমার কাছে একটা ইগোয়িস্ট জার্নি মনে হয়।
দীপেন: আমার মনে হয় এতে বয়সের একটা ব্যাপার আছে।
তাপস: আমার মনে হয় লেখক এই আখ্যানের সাথে যুক্ত হয়ে আছে।
দীপেন: সেটা হতে পারে। কিন্তু তুমি যখন ৬০/৭০ বছর বয়সে পড়বে এই গল্পটা তখন ভিন্ন রকম মনে হবে।
তাপস: হ্যাঁ, আমিও তাই বলবো। কিন্তু আমি একই সাথে নৈতিকতাবোধের কথা বলছি। আজকের পৃথিবীতে এটা অসম্ভব। আপনি এই গল্প বলতে পারেন না।

রাজু: না, আমার তা মনে হয় না।
তাপস: আপনি একটা গল্প তৈরি করতে পারেন, কিন্তু আপনি বাস্তব জীবনে তা পাবেন না।
দীপেন: এই মুহূর্তে আমাকে এটা মনে করতে হবে। আমি এটা পড়েছি ২৫ বছর আগে। আমার কেবল মোটা দাগে এটুকু মনে আছে যে সে তার জন্য অপেক্ষা করেছিল, শেষ পর্যন্ত যখন মহিলার স্বামী মারা গেল, সে তাকে জয় করলো—এইটুকুই আমার মনে আছে। একটা নৌকা ছিল। কিন্তু আন্ডার এজ ব্যাপারটা আমার মনে নেই।
তাপস: ভয়ংকর … আত্মহত্যা করে। বাচ্চাদের আপনি ছড়া পড়ান না? ফাইভ সিক্স গ্রেডের একটা মেয়ের সাথে আশি বছরের এক বৃদ্ধের দৈহিক সম্পর্কের একটা ঘটনা এখানে আছে।
রাজু: ম্যালানকলি হোর-এও একরকম একটা ঘটনা আছে।
তাপস: ওখানেও আছে?
রাজু: ম্যালানকলিতে আছে এরকম যে এক বৃদ্ধ তার জন্মদিনে একটা বাচ্চা মেয়ের সাথে সঙ্গম করতে চায়।
দীপেন: কিন্তু এটা কি ললিতার ঘটনা না? ভ্লাদিমির নবোকভ?
রাজু: নবোকভেও প্রায় এরকম একটা ব্যাপার আছে। একটা আন্ডার এজ মেয়ের প্রতি কামাসক্ত..
তাপস: আমি রক্ষণশীল নই, আমি জানি এটার একটা নান্দনিক মূল্য আছে, কিন্তু কখনো কখনো এটাকে আমার কাছে বিকৃতি মনে হয়।
রাজু: না না না। আমার কাছে তা মনে হয় না। বাৎসায়ন-এর কামসূত্রকে অশ্লীল বলে ইংরেজরা আমাদেরকে বুঝাতে চেয়েছিল। ইংরেজদের মূল্যবোধ থেকে এটা বিকৃতি ও অশ্লীল বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু তার আগে এটাকে তো ভারতবর্ষে অশ্লীল বলে গণ্য করা হতো না।
তাপস: এটাতো ইংরেজদের মানসিকতা।
রাজু: হ্যাঁ, সেটাইতো বলছি, সেন্স অব পারভার্সন। আমরা তো আসলে পশু।
তাপস: না, আমরা শুধু পশু নই।
দীপেন: আমরা এটার সমাধান করতে পারবো না। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কি শুধু টাইম অব কলেরায় আছে নাকি অন্য বইয়েও আছে?
তাপস: ম্যালানকলিক হোর-এও আছে, এক বয়োবৃদ্ধ লোক যে একটা কুমারী মেয়ের সাথে সঙ্গম করতে চায়।

রাজু: দীপেনদা, আজকের মত আলোচনাটা শেষ করতে হবে। বন্ধু আনিস এসে যাবে এখনই, ওর বাড়িতে আজ আমরা থাকছি। আমার প্রশ্ন হল বাস্তবকে বর্ণনা করতে হলে কি পদার্থবিদ্যার সমীকরণকে সুন্দর হতে হবে? এরকম কি কোনো ধারণা বর্তমান বিজ্ঞানী সমাজে আছে?
দীপেন: প্রশ্নটা একেবারে যাকে বলা যায় যথাযথ। পদার্থবিদ্যার কোনো নীতি বা সমীকরণ সুন্দর কিনা সেটা হয়তো কিছুটা সাবজেকটিভ দৃষ্টির ওপর নির্ভর করছে, কিন্তু প্রকৃতিতে প্রতিসাম্য যে গভীরভাবে বর্তমান সে নিয়ে কারুর সন্দেহ নেই। আমরা জানি সিমেট্রি আমাদের মনে সৌন্দর্য বোধ যেটা সেটা সৃষ্টি করে, যেমন সুন্দর মুখমণ্ডল মানে ভাল সিমেট্রিক্যাল মুখমণ্ডল। তবে ফিজিক্সে প্রতিসাম্যর সংজ্ঞাটা আর একটু বিস্তৃত। যেমন ধরুন একটা নির্দিষ্ট জায়গায় সময় সবসময় একইভাবে বইছে, এক সেকেন্ড বলতে আমরা যতটুকু সময় ধরছি সেটা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকছে। এখন এক সেকেন্ডের যে মান, এক ঘন্টা পরেও সেই মান। এটাও এক ধরনের প্রতিসাম্য। এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে এনার্জি কনজারভেশন প্রিন্সিপাল (শক্তি সংরক্ষণ নীতি) পাওয়া যায়। নীতিটা হল কোনো বদ্ধ সিস্টেমে শক্তি সংরক্ষিত হয়, এক ধরনের শক্তি অন্য ধরনের শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। আবার অন্য ধরনের প্রতিসাম্য থেকে অন্য ধরনের সংরক্ষণ নীতি পাওয়া যায়। তড়িৎ-চুম্বকীয় বল, স্ট্রং ফোর্স (নিউক্লীয় সবল মিথষ্ক্রিয়া), উইক ফোর্স (দুর্বল বল) এসবই নানা ধরনের সিমেট্রির ওপর গড়ে উঠেছে। প্রকৃতির যে সিমেট্রির প্রতি এক ধরনের পক্ষপাতিত্ব আছে সেটা বোঝাই যাচ্ছে। কেন আছে সেই উত্তরটা অবশ্য আমরা দিতে পারব না। প্রতিসাম্য নিশ্চয় সুন্দর, কিন্তু সব সিমেট্রিই যে আমাদের মহাবিশ্বে বাস্তবায়িত হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। সুপারসিমেট্রি তত্ত্ব বলছে আমাদের বিশ্বে দৃশ্যমান প্রতিটি মৌলিক কণার একটি বা দুটি করে পার্টনার বা সঙ্গীকণা আছে, প্রকৃতিতে প্রতিসাম্য যদি একদম সঠিক হত তবে এই প্রতিসাম্য কণাগুলো দেখতে পেতাম। এগুলোকে বলে সুপারসিমেট্রিক পার্টিকাল। যেমন ইলেকট্রনের সুপারসিমেট্রিক পার্টিকাল হল ইলেকট্রনের মতই চার্জ ও ভরসম্পন্ন প্রায় একইরকম একটা কণা। প্রায় বলছি কারণ এর বৈশিষ্ট হত কিছুটা অন্যরকম। কিন্তু আমরা জানি প্রকৃতিতে সেরকম কিছু পাওয়া যায় নি। অর্থাৎ প্রকৃতিতে যথার্থ প্রতিসাম্য নেই। কিন্তু অনেক বিজ্ঞানী বলছেন প্রকৃতি নিতান্তই চতুর, প্রতিসাম্য তার মধ্যে আছে ঠিকই, কিন্তু সেই প্রতিসাম্য ভেঙ্গেছে, সুপারসিমেট্রি ব্রেকিং। এই বিজ্ঞানীরা বলছেন এই ব্রেকিংএর ফলে সব সুপারসিমেট্রিক পার্টিকালের ভর বেড়ে গেছে। ভর বাড়া মানে শক্তি বাড়া। LHC নামে একটি যন্ত্রের কথা তো জানেন, জেনিভাতে, যেখানে হিগস কণা আবিষ্কার হয়েছে। তো LHC এই সুপার পার্টিকালগুলো অনেক উঁচু শক্তিতে খুঁজেই চলেছে, পাচ্ছে না। বেশীরভাগ বিজ্ঞানীই আশা ছেড়ে দিয়েছেন, অনেকে এখনো দেন নি। যারা আশা ছাড়েন নি তাঁরা বিশ্বাস করতে পারছেন না প্রকৃতি তাদের সঙ্গে এ’ভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। হা হা।

ইতিপূর্বে আর্টস-এ প্রকাশিত রাজু আলাউদ্দিন কর্তৃক গৃহীত ও অনূদিত অন্যান্য সাক্ষাৎকার:
দিলীপ কুমার বসুর সাক্ষাৎকার: ভারতবর্ষের ইউনিটিটা অনেক জোর করে বানানো

রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে সনজীদা খাতুন: “কোনটা দিয়ে কাকে ঠেকাতে হবে খুব ভাল বুঝতেন”

“হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) হযরত আলীকে (রা.) বললেন, ‘রাসুলুল্লাহ’ লেখার দরকার নেই, ‘রাসুলুল্লাহ’ শব্দটা কাট”

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সাক্ষাতকার: “গান্ধী কিন্তু ভীষণভাবে সমাজতন্ত্রবিরোধী ছিলেন”

নন্দিতা বসুর সাক্ষাতকার: “তসলিমার মধ্যে অনেক মিথ্যা ভাষণ আছে”

ভরদুপুরে শঙ্খ ঘোষের সাথে: “কোরান শরীফে উটের উল্লেখ আছে, একাধিকবারই আছে।”

শিল্পী মনিরুল ইসলাম: “আমি হরতাল কোনো সময়ই চাই না”

মুহম্মদ নূরুল হুদার সাক্ষাৎকার: ‘টেকনিকের বিবর্তনের ইতিহাস’ কথাটা একটি খণ্ডিত সত্য

আমি আনন্দ ছাড়া আঁকতে পারি না, দুঃখ ছাড়া লিখতে পারি না–মুতর্জা বশীর

আহমদ ছফা:”আমি সত্যের প্রতি অবিচল একটি অনুরাগ নিয়ে চলতে চাই”

অক্তাবিও পাসের চোখে বু্দ্ধ ও বুদ্ধবাদ: ‘তিনি হলেন সেই লোক যিনি নিজেকে দেবতা বলে দাবি করেননি ’

নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০০৯: রেডিও আলাপে হার্টা ম্যুলার

কবি আল মাহমুদের সাক্ষাৎকার

শামসুর রাহমান-এর দুর্লভ সাক্ষাৎকার

হুমায়ুন আজাদ-এর সঙ্গে আলাপ (১৯৯৫)

নির্মলেন্দু গুণ: “প্রথমদিন শেখ মুজিব আমাকে ‘আপনি’ করে বললেন”

গুলতেকিন খানের সাক্ষাৎকার: কবিতার প্রতি আমার বিশেষ অাগ্রহ ছিল

নির্মলেন্দু গুণের সাক্ষাৎকার: ভালোবাসা, অর্থ, পুরস্কার আদায় করতে হয়

ঈদ ও রোজা প্রসঙ্গে কবি নির্মলেন্দু গুণ: “ আমি ওর নামে দুইবার খাশি কুরবানী দিয়েছি”

শাহাবুদ্দিন আহমেদ: আমি একজন শিল্পী হয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না

জুয়েল আইচ: রাষ্ট্র কি কোন জীব নাকি যে তার ধর্ম থাকবে?

রফিকুননবী : সৌদি আরবের শিল্পীরা ইউরোপে বসে ন্যুড ছবিটবি আঁকে

নির্মলেন্দু গুণ: মানুষ কী এক অজানা কারণে ফরহাদ মজহার বা তসলিমা নাসরিনের চাইতে আমাকে বেশি বিশ্বাস করে

নায়করাজ রাজ্জাক: আজকের বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের যে বিকাশ এটা বঙ্গবন্ধুরই অবদানের ফল

নির্মলেন্দু গুণ: তিনি এতই অকৃতজ্ঞ যে সেই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে কোনো কবিতা লেখেননি

অক্তাবিও পাস: ভারত এমন এক আধুনিকতা দিয়ে শুরু করেছে যা স্পানঞলদের চেয়েও অনেক বেশি আধুনিক

নির্মলেন্দু গুণ: মুসলমানদের মধ্যে হিন্দুদের চেয়ে ভিন্ন সৌন্দর্য আছে

গোলাম মুরশিদ: আপনি শত কোটি টাকা চুরি করে শুধুমাত্র যদি একটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান করে দেন, তাহলে পরকালে নিশ্চিত বেহেশত!

মুর্তজা বশীর: তুমি বিশ্বাস করো, হুমায়ূন আহমেদের কোনো বই পড়ি নি

সাবেক বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান: ধর্ম সাধারণত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভেতরে অনৈক্যই সৃষ্টি করে বেশি

শামসুজ্জামান খান: পাকিস্তান আমলেও যতটা অসাম্প্রদায়িক কথাবার্তা চলত, এখন সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে

মানুষ যদি এতই ধর্মপ্রবণ হয়ে থাকে তাহলে এত দুর্নীতি, ঘুষ, ধর্ষণ, লুটপাট কি হতে পারে!

বিজ্ঞানী এ এম হারুন-অর-রশিদ: উনি যখন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না তখন এটা দেব

নাসির উদ্দীন ইউসুফ: দেখতে পাচ্ছি, সমাজ এবং রাষ্ট্র ধর্মের সাথে একটি অবৈধ চুক্তিতে যাচ্ছে
শিল্পী রফিকুন নবী: ওই বাড়িতে আমরা বঙ্গবন্ধুকে বইটা দিলাম

শামসুজ্জামান খান: নিজের দলের কোনো সমালোচনা করব না, অন্যদের করব– তাহলে তো সে পার্সিয়াল হয়ে গেল

Flag Counter


6 Responses

  1. স্বদেশ says:

    অসাধারণ! শুনতে শুনতে পড়ে যাচ্ছিলাম আলোর চাইতেই বেশি গতিতে। নগন্য ভাবলে নিজেকে ট্যাকিয়ন মনে হবে, সেলফি-তোলার মুডে ভাবলে মহাবিশ্ব। আসলে বয়স আমারও বাড়ছে এবং মেটাবলিজম কমে মেটাফিজিক্স হচ্ছে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত মহাবিশ্ব ঐ ভূড়ির মত প্রসারিত হচ্ছে । আমি ভুড়ি না থাকলে নোবেল প্রাইজ পেতাম! বৈজ্ঞানিক হাইপোথিসি হলো? নাকি প্যারাডক্স। প্যারা সন্দেশ নাম হয়তো ঐ প্যারাডক্সের থেকে হয়েছে। এখন বিশ্বের নিয়ম নিশ্চয়ই নিয়ম আবিস্কারের আগেই চলে আসছে। টিএন্ডটির আমলে একটা ফোনের বিল পেয়েছিলাম গ্রাহক হবার আগেই। এখন বুঝি তার কারণ। হয়তো আজকে সাক্ষাৎকার দেবার আগেই পড়ে ফেললাম সাক্ষাৎকার। এই সব হাইপোথিসিসের কথা কাকে বোঝাবো? যদি বলি চিঠি পড়ছি। সঙ্গী বললো, আমি কবে চিঠি দিলাম। বললাম এই যে এখন তুমি লেখা শুরু করবে। ঘুমাবো বলে পড়ে নিলাম আগেই। যেটাই হোক বিপদ হলো সিমেট্রির উপর ভরসা করা যাবে না। রূপবতীর নাক-চোখ-মুখের সিমেট্রি দেখে নক্ষত্রদর্শী বিজ্ঞানী যখন কবি হয়ে গেলেন, তখনই প্রকৃতি দুর্দান্ত এক হুঙ্কার দিয়ে বললেন, রসো, এসে গেছে সুপার সিমেট্রি ব্রেকিং.. কোথায় হিজরত করবো দাদা মহাবিশ্বটাই বড় দুর্নীতিবাজ। সিমেট্রির রীতি শিখায়ে শিখায়ে বড় হলাম, এখন প্রশ্ন তুলছে এই যে আশাবাদ তার নিশ্চয়তা কই?

  2. বিপাশা চক্রবর্তী says:

    ভালো লাগছে, বাংলা ভাষায় আবার বাঙ্গালীদের অংশগ্রহণে এমন আলাপচারিতা পড়বার সৌভাগ্য খুব একটা হয় না। ” স্থান-কালে দুটি বিন্দুর মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদানের গতি আলোর গতির চেয়ে বেশি হতে পারবে না, কিন্তু দুটি বিন্দুর মধ্যে যে স্থান বা স্পেস সেটা আলোর গতির চাইতে বেশি গতিতে বাড়তে পারে” এই তথ্যটা সাক্ষাতকারটি পড়েই প্রথম জানলাম। ধন্যবাদ আর্টস।

  3. দীপেন ভট্টাচার্য says:

    হা হা স্বদেশ, আপনার পান্ডিত্য ও রসবোধে পূর্ণ বিমোহিত। প্যারা সন্দেশ আর টিনএনটির চিঠি এমন সব যোগসূত্র ও উদাহরণ মানসমনে জ্ঞানের ব্যাপকতা না থাকলে কি হয়? এরকম তীক্ষ্ণধী মন্তব্যে যে চমকিত হলাম তা বলাই বাহুল্য। অনেক ধন্যবাদ।
    –দীপেন ভট্টাচার্য

  4. দীপেন ভট্টাচার্য says:

    অনেক ধন্যবাদ, বিপাশা, লেখাটি এত মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য। রাজু আলাউদ্দিনের প্রজ্ঞা ও প্রয়াস ব্যতীত এটি প্রকাশ হতে পারত না।
    — দীপেন ভট্টাচার্য

  5. মেহেদী হাসান says:

    চমৎকার! খুব ভালো লেগেছে পড়ে!

  6. জুননু রাইন says:

    লেখার ধরনের কারণেই এত বড় লেখা পড়েও ক্লান্ত হতে হল না। আনন্দের সঙ্গেই অনেক কথা জানা হয়ে গেল। ধন্যবাদ রাজু ভাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.