পুলক হাসান: শিরোনামহীন ও অন্যান্য কবিতাগুচ্ছ

পুলক হাসান | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৭:২৫ অপরাহ্ন


শিরোনামহীন

সময়ের বরফ যে গলে
সে তোমার উষ্ণতার ফলে
যেন তুমি সুন্দরী এক বালিকা
শূন্য বুকে নামাও স্বস্তির চাকা।
মনে হয় তখন আশাহত অতীত
পেল বুঝি মজবুত এক ভিত
সহসা হচ্ছে না আর নড়বড়ে
হঠাৎ পাওয়া কোনো ঝড়ে!
বিপর্যয় যদিওবা ঢুকে পড়ে
তার নিবিড় বেষ্টন ভেদ করে
বেরুবার পথ আছে খোলা
তুমি সেই নির্ভরতার ডালা।
কিন্তু তারপরও থাকে গুপ্ত ভয়
যখন এসে ভর করে সন্দেহ সংশয়
নিমিষে খান খান তাসের ঘর
চির আপন হয়ে যায় দ্রুতই পর।
এই যে প্রাপ্তির পরও হৃদয় ফাঁকা
সে আদপে সুখের অসুখ
যেন তুমি জীবনমন্ত্র সুবর্ণরেখা
তুমি ছাড়া প্রান্তর বিমুখ
হে আমার অমল ধবল টাকা।

অশ্রুসিক্ত গোলাপ

সে এক জ্যোৎস্না ঢেউ
চিকচিক বালিয়াড়ি নদীতে
যেন সঙ্গম মুহূর্তে
দাউ দাউ গিলে কেউ
ক্ষুধার বিলাপ
যদিও নয় সে পাখি
তবু আত্মা তার পাখির
খোঁজে যে নীড়
সে-নীড় দূর অস্তে
বাতাসের দোতারা
ধরে রাখে শুধু অন্তরা
নিঃশব্দ অভিসম্পাতে
ফলে তুমুল আমুদে
ঘরে ঘরেও আজ দেখি
অশ্রুসিক্ত গোলাপ।

নিধূয়া পাথার

ঝরে যাওয়া ফুলের সৌরভ
যেন পাখির আর্তচিৎকারের মতো জান্তব
ফলে সময় সাজে
কোনো এক অমরাবতীর খোঁজে
রাগে অনুরাগে বহুবর্ণ দাগে
জমিয়ে তোলে যে নাটক কুশীলব
প্রকৃতি তার নীরব ভাষ্যকার
বুকভরা দীর্ঘশ্বাসে বেড়ায় ভেসে
গানের এপার ওপার
নিধূয়া পাথার।

ভেবে দেখো

যদি ভাবো জীবনটা এক চড়ুইভাতি
তাহলে পাখির গহন আর্তি
কিছুতেই পৌঁছুবে না তোমার কাছে
সহসা বিপুল জলরাশে
ডুবে যাবে তরী
তোমাকে মনে হবে শুধুই হৃদয় কারবারি
ভেবে দেখো
নিজেকে তুমি কিভাবে দেখো কিংবা আঁকো
তার ওপর জীবনসাঁকো।

সুশীল

বাশোর হাইকোর মতো
ভাবে নিমজ্জিত
আন্তঃভ্রমণে সাদাকালো নীল
পাখিটার নাম সুশীল
চেনা যায় না সহজে
চেনা যায় শুধু বাহাসে
আগুনের গোলায় ফুটন্ত খই
গল্পটা বুননে তাই লাগে না সুঁই।

বিচ্ছিন্ন অন্তর্গত

একটা গল্পের ভেতর দিয়ে তার শুরু
অনাহুত কিংবা বেদনাহত
কিন্তু আমূল প্রোথিত
যখন আসে মৃদু সন্ত্রাসে
পাতাগুলো কাঁপে দুরু দুরু
চাপা পড়া দিনগুলো উঠে আসে
মেতে ওঠে দুরত্বের গোপন তালাশে
জলের ভেতর ধূসর খল্সে
ছড়ায় শুধু বুদ্বুদ্
বলতে পারি না কী অদ্ভূত
স্বেচ্ছায়-অনিচ্ছায় যাকে করেছি অবহেলা
সে-ই কিনা ধরে আছে প্রাণের বেহালা।
কে থামাবে আজ সুরের দোলা?
বিচ্ছিন্ন কিন্তু মর্মগত।

ফেলানী

তোমার মৃত্যু
মূলত সীমান্ত চোখ রাঙানি
অতিক্রম করতে পারোনি তাই
কাঁটাতারের বেষ্টনী
বরং পাখির মতোই নিথর দেহ
নিয়ে ঝুলে পড়লে
গুলিতে ঝাঁঝরা
হয়ে
আমরা দেখলাম প্রতিবেশির হৃদয়
কতখানি শিলাময়!

স্পষ্ট হলো একজন বন্ধুর ভেতরও
বাস করে একজন শত্রু

আর মনে হলো তোমার শোকগাথার
কাছে তারা কত ছোট।

স্বীকারোক্তি

হে অবহেলিত সুমহান
নাইবা পেলাম স্বর্গোদ্যান
তোমার মহত্ব
আমাকে করেছে সন্ত
কোরবানীর মহিমায় উজ্জ্বল
অশ্রু টলমল চাঁদ
জীবনে এত কাঁটা এত ফাঁদ
তবু ভেতরে আলোকিত
তোমারই চেতনা
যেন তুমি অগ্নিমন্ত্র
সংগ্রামের সুপ্তবীজ
রক্তিম সূচনা
বক্তৃতার ঝাঁজ মিছিলের আওয়াজ
ভালোবাসার খনিজ আহরণে
দিনরাত্রির রণাঙ্গনে
তোমারই তাগিদে নিয়ত উজ্জীবিত
আমার সাতান্ন বসন্ত
হে আমার মহান দারিদ্র্য।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (1) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাইফ বাবলু — সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮ @ ৮:৩০ অপরাহ্ন

      অসাধারণ কবিতা হয়েছে। পুলক ভাইয়ের সময় উপযোগী আরো কবিতা পড়তে চাই

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com