কবিতা

গোলাম কিবরিয়া পিনু’র কবিতা

গোলাম কিবরিয়া পিনু | 25 Sep , 2018  

পেটে ধরে রাখা জন্তু

নদীটার স্বচ্ছজল ও উল্লোল দেখে
আমারও ভালো লেগেছিল!
তার পারে গিয়ে বসলাম–
অন্যান্য দূষিত নদী থেকে
তাকে আলাদা ভাবতে লাগলাম!
যখনই তার জলে নেমে
সাঁতরাতে থাকলাম
তখন কী কাণ্ড!
নদীটার ভাণ্ডভরা জল
এঁদোপুকুরের জল হয়ে গেল
মজাপুকুরের জল হয়ে গেল!
আমি ভাবলাম–
নদীও কি পেটে ধরে রাখে কোনো জন্তু
তার জলহস্তী দূষণ তৈরিতে পটু!

সবিশেষ
আবেষ্টনীর ভেতর থাকতে থাকতে
আবিষ্কার হলো না নদীও!
নদীটা বরফে ঢেকে ছিল
হাঁটাপথে দূরে!
সেখানে পারিনি যেতে–মেতে উঠলাম কীসে?
কুলুপে কুলুপে আটকানো বাঁশে তৈরী ঘর
ঘুণে ধরে ধরে শেষ হলো!
তবুও আমার দু’পা মেলা হলো কই?
উঠানেই গলাধঃকরণ–উঠানেই নবজাতক বরণ
উঠানেই সবিশেষ বাঁচা!
চতুষ্পদ গাধাও উঠানে থাকে না সবসময়ে
গর্ভপতনের জন্য সে-ও দূরে যায়!

হৃদয়ের বীজতলা
যে বাতাসে লাফিয়ে লাফিয়ে গাছে উঠে শয়তান
যে বাতাসে মানুষ গড়িয়ে পড়ে খাদে
সে বাতাস যেখান থেকেই আসুক না
সে বাতাস শত্রুতায় ভরা!
মারণাস্ত্র ছিল না সেদিন
ঘাতকও ছিল না সেদিন
আত্মঘাতীও ছিল না সেদিন
অগ্নি জল নিয়ে মানুষের বসবাস
বৃষ্টিজল নিয়ে কৃষিকাজ
আজ কোন্ উদগ্র বাতাসে তছনছ হয়ে যায়
এই হৃদয়ের বীজতলা!

আমার প্রাঙ্গণ
আমার প্রাঙ্গণ রয়েছে প্রাণবন্ত
সেখানে উদ্যম নিয়ে হাঁটি
প্রকাশিত হই
দুর্ভোগ ও দুর্গতির মধ্যে
ভ্রমণ থামে না!

বিপ্রতীপ হাওয়ায় চুল উড়লেও
আমাকে সেখান থেকে স্থানচ্যুত করতে পারে না
–কোনো হিংসালু!

সেখানে একান্তভাবে আমি প্রাকৃতিক
প্রাণবায়ু থাকে
প্রাণপ্রাচুর্য থাকে
প্রাণঘাতী মারণাস্ত্র ধ্বংস হয়ে যায়!

পতনমুখী
জন্মদুঃখীদের জন্মাধিকার বলে কিছু নেই
নেই ওদের গ্রহ ও নক্ষত্র!
ওদের রয়েছে সরুগলি
মজাপুকুরের সান্নিধ্য!
জন্মপত্র নিয়েও কোনো লাভ নেই
একই উঠান–
অসুস্থ হলে হাসপাতালে ঠাঁই নেই!
জন্মকাল থেকে রোগী
তাদের শুশ্রুষা জন্ডিসআক্রান্ত!
জন্মলগ্নে নক্ষত্রের পতন হয়েছিল
সেই থেকে পতনমুখী।

Flag Counter


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.