কবিতা

রনি আহম্মেদের সুফি কবিতা

রনি আহম্মেদ | 19 Jul , 2018  

মায়ের গন্ধ মাখা আকাশ

অন্য জগতের
এই জগৎ রয়ে গেলো ,
নদীর ভিতর তোমার সাথে
হলো দেখা…..
যেন হয়নি আর
কিছুই কখনো!

যখন প্রভাতগুলো
জড়ো হয়
নিঃশব্দ ময়ূরের ঠোঁটে,
আমিতো নূর নাইতে
বসে আছি!

মহাগগন ভেদ করে
তাকিয়ে থাকা নবীকে
সালাম দাও…

মনে রেখো,
স্বপ্ন একটি জীবিত পাথর
যার মুখে লেখা আছে তার
গোপন নাম …

শুধু পিয়ানোগুলো
ভেসে যায়
দেহ থেকে দেহে…

ভালোবাসতে গিয়ে
ভুলে যাওয়া একটি গ্রামের
ঘুম ভাঙলো…

তীর ধরে হেটে যাওয়া
রাজহাঁসেরা জানে…
কখন তিনি আসবেন!

মায়ের গন্ধ মাখা
এই আকাশ…
বৃষ্টির গোলাপ হাতে দাঁড়িয়ে।

নিঃশব্দ মেঘ

কি ভাবে ঘুমাও তোমরা,
এই সব বালিশের নদীর পাশে!

চিলের ডানাগুলো মানা করে…
কিছু সোনালী বই থেকে নেয়া
আলোর গোলাপ জ্বলছে
আগুন্তকের চোখে।

মওলা আলীর জিকির করে
সবুজ পাগড়ির ছেলেটা
অধীর হয়ে কোথায় যে গেলো?

তাকে বোলো…
নিঃশব্দ মেঘগুলো
হারানো মানুষের পোস্টারে
ভারী হয়ে বৃষ্টি ঝরায়…

আমিতো কিছু নবীর জন্য
বেঁচে থাকা প্রাণ…
রাসূলের আলোয় জ্বলছি
মানুষের চোখে।

গ্রামোফোন থেকে আসা
পুরোনো দিনের শব্দে
দরজা খুলে দেখি
আমি নিজেই দাঁড়িয়ে;
পৃথিবীর সকল মানুষ হয়ে…

নীরবতা একটি ঘড়ির কাটা
সময় একটি স্মৃতি দিলো,
আর আমি দিলাম
দূর একটি গ্রহে
চলে যাওয়া
প্রশ্নপত্রের উত্তর…

ভাবনার কিছু ছিল না,
তবুও আমার কান্নাগুলোর
পায়ের শব্দে
তোমার ঘুম ভাঙলো…

ভাবলাম এ রকমই হয়,
আর এ রকম কিছুই
কোনোদিন হয় নি…

আলোকে বোলো
তুমিও ভাল আছো,
ফুল দিয়ো
অনন্ত এক ঘরে …

ভালোবাসার টিকটিক শব্দ

এখানে ঘড়িগুলো
সময়ে চলে না।
শুধু ভালোবাসার
টিকটিক শব্দ।

তোমাদের বলেছিলো
তিনি আসবেন,
অক্লান্ত এক দুনিয়ার
সকল মায়া নিয়ে…

ভাবো কতবার নিঃশব্দের
কাছে গিয়ে তোমরা এলে ফিরে!

যদিও নদীর বেণী খুলে …
আতরের গন্ধে
ভরে গেলো
অতীত আর ভবিষ্যতের,
জেসমিন ফুলের পথগুলো।

জীবনের খুঁটিনাটি নিয়ে
এতো ঝুঁকে থাকা
জাতিগুলো আজ কোথায়?

আল্লাহর গান ছাড়া
সব পাখি থাকে নীরব …
এই মায়া থাকবে না।

থাকবে শুধু তার সাথে
তোমার কিছু ফোনালাপ।
কিছু মহাকাশগামী বারান্দা
আর প্রতীক্ষার চোখে
লিখে রাখা নবীজির নাম।

আমাকে সুন্দর কিছু
গোলাপ দিয়ো,
যা জ্বলে আগুন ছাড়াই!

ভালো থেকো…
নদী নিয়ে ফিরে এসো…
আলো জানে
কখন সঠিক সময়!

নূরের সাগরে বৃষ্টির জাহাজ

দূর দেশে তোমার
সাথে আমার দেখা…
সেখানে শুধু আয়না
আর কিছু নেই!

আর প্রতিবিম্বে লেখা আছে
তোমাদের সবার নাম…
মেঘের ছায়ায় সমুদ্র একদিন
শান্ত হলো।

মনে করো একটা
মোমবাতি জ্বলছে…
হৃদয়ের সবচেয়ে দূর কক্ষে
বসে আছি ঘড়ির সময়কে…
কিছু বলবো বলে
চলে যাওয়া আত্মারা
আসে আর যায়!

আমাকে দেখে ভুলে যেও
যা কিছু ছিল
এই সীমানাহীন
ভঙ্গুর পৃথিবীতে…

আলোর দরজাগুলো খুলে গেলো,
খুলে গেলো আর ভাবলাম
আমিতো একটি রেলগাড়ি …

স্টেশনের খোঁজে!
মহাকাশে গেলাম
আর নূরের সাগরে
হলাম বৃষ্টির জাহাজ।

ক্লান্ত হলো একটি মাছ…
লাউহে মাহফুজে
লেখা আছে,
গভীর জলে ডুবে যাওয়া
শহরের কথা।

কোনো এক দরজায়
টোকা দিল ফেরেস্তা জিব্রাইল…
হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণ মুদ্রার
মতো দিনগুলো,
নবীজির প্রতীক্ষায় কাটলো…
একটি বছরের শেষ রাত
ভালো থেকো,
ফুল দিয়ো…

আতরের গন্ধ মাখা
কোরআনের শব্দগুলো
তোমাদের ভালবাসে
যতনা… তোমরা;
তোমাদের ভালবাসো!

কিছু রহস্য

তুমি চলে যাওয়ার আগে
একটা গল্প শুনছিলাম
যার কোনো গল্প ছিল না,
শুধু কিছু সংকেত …

যদিও এমন দিনগুলো
খুব স্পষ্ট ছিলোনা…

তোমাদের মিলিত
হাসিগুলো যেন
আমার চারপাশে
নীল মাছ হয়ে ঘুরতো!

আমি তাকিয়ে থাকতাম
আর ভাবতাম…
এগুলোই হয়তো
একদিন আবার আসবে ফিরে…

কিছু আকাশ থাকে বইয়ের
লেখায় পাওয়া যায় না!

বিরল মুহূর্তে
রুমালের পাখা
ভেদ করে দেখা যায়।

যদি মনে করো
এই শেষ, তবে
ভুল হবে…

স্মৃতি আমাকে তিনটি
ঘোড়া দিলো…
যাদের নাম এই শহর।

যাকে তুমি পাও
যেই তোমাকে চেনে না,
শুধু কিছু চিহ্ন পড়ে থাকে।

হেটে আসার শব্দে
রক্তিম হলো আকাশ,
আমি চাদরে লুকালাম।

পূর্ণজন্ম হলো একটা মানুষের,
হলো নীরবতার সরঞ্জাম জোগাড়।

হস্তিময় ঝড়ের মেঘগুলো
উত্তর দিলো সবকিছুর।

নূহ-এর নৌকায় আমাকে
শেষ দেখা গেলো।

কবি নিজেই কবিতাগুলোর অলংকরণ করেছেন।
Flag Counter


2 Responses

  1. nur says:

    বাংলা কবিতা নতুন মোড় পেল…..

  2. prokash says:

    কবিতায় নতুন প্রকৃতি, নব আনন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.