সাক্ষাৎকার

রবীন্দ্র-গবেষক মার্টিন ক্যাম্পশেন: ভারতকে চিনতে এখনো আমার বাকি আছে

রাজু আলাউদ্দিন | 8 Jan , 2019  


গত বছরের মাঝামাঝি জার্মান রবীন্দ্র-গবেষক মার্টিন ক্যাম্পশেনের সাথে এই আলাপচারিতা হয়েছিল ধানমণ্ডির একটি হোটেলে। তিনি বেঙ্গল পাবলিকেশন্স লিমিটেড-এর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা এসেছিলেন। অনুষ্ঠানের পরের দিন সকালবেলা তার সাথে এই অডিও কথোপকথন। সাক্ষাৎকারটি অডিও থেকে শ্রুতিলিপি তৈরি করেছেন গল্পকার সাব্বির জাদিদ। বি. স

রাজু আলাউদ্দিন: আপনি দুই তিনদিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছেন
মার্টিন ক্যাম্পশেন: তিন-চারদিন।
রাজু আলাউদ্দিন: তো প্রথমেই আপনাকে স্বাগতম জানাই বাংলাদেশে আসার জন্য। এবং আমি নিশ্চিত যে এটা আপনার প্রথম সফর না। এর আগেও আপনি বাংলাদেশে এসেছেন।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: আমি অনেক বার এসেছি। কয়েকবার এসেছিলাম বক্তৃতা করবার জন্যে। বেঙ্গল একাডেমিতে এসেছিলাম। এরপর আমরা ওয়েস্ট বেঙ্গল সাঁওতাল দল আর বাংলাদেশের সাঁওতাল দল নিয়ে আমরা এখানে একটা উৎসব করেছিলাম। লুবনা মারিয়াম, উনি এর সাথে ছিলেন। মানে উনি সেই সাঁওতাল দলটা ডেকেছিলেন। সেটা দশ বছর আগে। তারপর জাস্ট একদিনের জন্য এসেছিলাম অন দ্য ওয়ে টু ইউরোপ। কোলকাতা-ঢাকা বিমানে ঢাকাতে এলাম, এখানে একদিন থেকে আবার ইউরোপে চলে গেলাম। তখন এটা সম্ভব ছিল। এখান বিমান যায় না। সেই রুটটা আমি ছেড়ে দিয়েছি।
রাজু আলাউদ্দিন: আপনি ভারতবর্ষে এসেছিলেন ১৯৭১ সালে। তখন আপনার বয়স ছিল বোধহয় একুশ বছর। এখন আপনার বয়স তো মনে হয় আশির উপরে…
মার্টিন ক্যাম্পশেন: না। সিক্সটি নাইন। আপনি আমাকে খুব বুড়ো মনে করছেন।
রাজু আলাউদ্দিন: হা হা হা। আচ্ছা, ১৯৪৮ সালে জন্ম। আপনার বয়স সিক্সটি নাইন। আমি যদ্দুর জানি, আপনি নিজের দেশে যতটুকু থেকেছেন, তারচে’ দেশের বাইরে বেশি সময় কাটিয়েছেন।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: তার আগেও ভিয়েনাতে চার বছর ছিলাম। এটা অস্ট্রিয়ায়। এক বছর প্যারিসে ছিলাম। এটা ফ্রান্সে। এক বছর আমেরিকায় ছিলাম। সো মোটামুটি বেশিরভাগ সময় বাইরে ছিলাম।
রাজু আলাউদ্দিন: তো আপনি যার কবিতা অনুবাদ করেছেন, সেই রবীন্দ্রনাথের ভাষায় আপনি ‘পরকে করেছেন আপন আর দূরকে করেছেন নিকট।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: হা হা হা। ইয়েস। ঠিকই বলেছেন।
রাজু আলাউদ্দিন: আমি যদ্দুর জানি, অনেক বড় বড় লেখক ভারতবর্ষে এসেছিলেন। যেমন ওক্তাবিও পাস এসেছিলেন। থেকেছেন প্রায় পাঁচ-ছয় বছর। নেরুদাও এসেছিলেন ভারতবর্ষে। পাবরো নেরুদা।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: উনি তো শ্রীলঙ্কায় এসেছিলেন।
রাজু আলাউদ্দিন: কোলকাতা পর্যন্তও উনি এসেছিলেন। কারণ, বিষ্ণু দের সাথে উনার দেখা হয়েছিল। তো আমি যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা হলো যে, ওক্তাবিও পাস প্রথম যখন ভারতবর্ষে এলেন, তখন তার ইমপ্রেশন খুব একটা ভালো ছিল না ভারতবর্ষ সম্পর্কে। সেটা ওনার চিঠিপত্রে উনি উল্লেখও করেছেন। একইভাবে নেরুদাও খুব যে প্রীতিকর অভিজ্ঞতা নিয়ে গেছেন, তা বলা যাবে না। কিন্তু ওক্তবিও পাস যখন আবার দীর্ঘ সময় থাকলেন, তখন তার ধারণাটির পরিবর্তন হয়। এবং উনি এই ভারতকে নিজের দেশই মনে করলেন। এবং উনি বললেন যে এটা তার দ্বিতীয় জন্মভূমির মতো। তো আপনার ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল, প্রথম যখন আপনি এলেন, সেই প্রথম দিককার অনুভূতি আর এখনকার অনুভূতির মধ্যে কতটুকু পার্থক্য খুঁজে পান?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: আমি যখন প্রথম বার আসি, তখন তিনমাস ছিলাম। এরপর যখন ফিরে গেলাম, তখন মনে হলো যে ভারতবর্ষটা পুরোপুরি চিনতে পারলাম না। ভারতকে চিনতে এখনো আমার বাকি আছে। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিই যে আমার পড়াশোনা শেষ করার পর, ইউনিভার্সিটিতে আমার কোর্স কমপ্লিট করার পর আমি আবার ফেরত যাব। এক বছর কি দু-বছর থাকব। অলরেডি তখন আমার একটা নিমন্ত্রণ এসেছিল কোলকাতার জমেন্টিসার হওয়ার জন্য। সো অলরেডি আমি একটা পদ পেয়েছি সেই মুহূর্তে। ভিয়েনাতে আমার পিএইচডি কমপ্লিট করে ১৯৭৩ সালে আবার পৌঁছে গেছি কোলকাতায়। তখন ভাবছিলাম এক বছর থাকব। ইন্ডিয়া সম্পর্কে যতটা বুঝতে পারি ততটা বুঝে নেব। যত জায়গা আমি যেতে পারি, যাব। এরপর নিজের দেশে ফেরত গিয়ে একটা চাকরি শুরু করব। ওখানে তখন চাকরিটা খুব তাড়াতাড়ি পাওয়া যেত। এখন পাওয়া যায় না। আর আমি তো কালচারাল জার্নালিস্ট। এক বছর পর আমি বুঝতে পারলাম, না, আরেক বছর থাকতে হবে। এখনো আমি যাওয়ার জন্য রেডি নই। দু-বছর গেল। তখনো আমার মনে হলো, না না, এটা হয়নি ওটা হয়নি; আরো একটু পড়তে হবে। আরো একটু শিখতে হবে, জানতে হবে। তখন আর ফিরতে পারলাম না। তবে তখন আমার খুব কষ্ট হয়েছিল বিভিন্ন দিকে।

রাজু আলাউদ্দিন: কী ধরনের কষ্ট?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: For example–Hit। মানে Climate । Humidity আমাকে খুব কষ্ট দেয়। এরপর তখন তো আমি ট্যাক্সিতে যেতে পারতাম না, বুঝতেই পারছেন। বাসে যাতায়াত করতাম। ক্রাউডেড বাসে। একদম ভিড়ের মধ্যে যাওয়া-আসা রোজ। এইভাবে তো আমি মানুষ হইনি, সে জন্য কষ্ট হয়েছে। আপনি নিশ্চয় সব কল্পনা করতে পারছেন। তবে আমি ভেতর থেকে বুঝতে পারলাম আমার এখানে থাকা উচিত। এরপর আমি মাদ্রাজে একটা পড়াশোনা শুরু করি। চেন্নাই তখন মাদ্রাজ ছিল।
রাজু আলাউদ্দিন: পড়াশোনাটা কী বিষয়ে?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: Comparative Religion । কোর্সটার নাম ছিল ‘Indian philosophy ’। বাট একচুয়ালি ‍বুদ্ধিজম, ইন্ডিয়ান ইসলাম, গান্ধিইজম, হিন্দু্ইজম–এসব নিয়ে একটা কোর্স ছিল। খুব ভালো একটা কোর্স। যেটা এম এ ছিল। এম এ শেষ করে শান্তিনিকেতনে গেলাম। ওখানে আবার সেকেন্ড পিএইচডি শুরু করি। সেটা শ্রী রামকৃষ্ণ সম্পর্কে। আমি যেহেতু খৃস্টান বিশ্বে ছিলাম, শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে, স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে আমি পড়েছিলাম, সো ন্যাচারালি এখানে আমার ইন্টারেস্টটা জেগেছে। তখন আমি শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত বইটি পড়তে শুরু করি। বেশ বড় বই। পাঁচ খণ্ডের। তো দেখলাম, যিনি বইটা অনুবাদ করেছেন ইনটু ইংলিশ, সেটা আসল অনুবাদ নয়। অনেক কিছু বাদ দিয়ে দিয়েছেন।
রাজু আলাউদ্দিন: মূলানুগ অনুবাদ নয়? বাদ দিয়েছেন?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: আবার অনেকটা নিজে এ্যাড করেছে। মানে শ্রী রামকৃষ্ণের কথা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য উনি কোনো ফুটনোট করেননি, ব্যাখ্যার জন্য রাখেননি, মূল বক্তব্যের মধ্যে নিজের কথা ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এসব আমার পছন্দ না। That is not the way to translate anymore. এইটা Philosophically incorrect। ভুল। মিথ্যাও বলা যায়। Because its not truthful, তো তখন আমি সিদ্ধান্ত নিই যে, শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত মূল বাংলা থেকে সরাসরি জার্মান ভাষায় অনুবাদ করব। এবং সেটা কিন্তু যেমন প্রয়োজন সেভাবে করব। আর সেটা করতে আমার কুড়ি বছর লেগেছে। আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে করা।
রাজু আলাউদ্দিন: আপনি বললেন যে, যেমন প্রয়োজন সেভাবে আপনি করবেন। এই প্রয়োজন বলতে কি আপনি বোঝাতে চাচ্ছেন Faithful translation?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: Absolutely .
রাজু আলাউদ্দিন: আপনি গতকাল অনুবাদ প্রসঙ্গে কার যেন উদ্ধৃতি দিচ্ছিলেন, সেখানে বলা হচ্ছিল যে, কবিরাই কবিতার ভালো অনুবাদ করতে পারেন বা করা উচিত।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: সেটা কেতকী কুশারী ডাইসন বলেছেন, কবিতা অনুবাদ করার জন্য নিজেকেও কবি হতে হয়। আর আমি নিজে কবি নই সে জন্যে আমি চুপচাপ ছিলাম। কী বলব! আমি অনুবাদ সম্পর্কে কিছু বলতে পারি না, কারণ, আমি কবি নই। তখন কেতকীদি আমাকে জিজ্ঞেস করছেন, তাহলে কোনো দিন কবিতা লিখনি? বললাম, হ্যাঁ, লিখেছি। যখন ছোট ছিলাম, একবার দুবার চেষ্টা করলাম। কিন্তু কিছু ছাপা হয়নি আর ছাপানো ছেড়েও দিয়েছি। তখন উনি বললেন, You are a failed poet, তুমি poet, কিন্তু failed poet। উনি নিজেকে রক্ষা করেছেন। এটা মজার কথা।
রাজু আলাউদ্দিন: তবে পৃথিবীতে অনেক বড় বড় অনুবাদক আছেন যারা কবি ছিলেন না। এখনো আছে। যেমন বোর্হেসের অনুবাদক নরমান টমাস ডি জিওভান্নি। মনে হয় না উনি কবিতা লিখেছেন কখনো। খুব ছোটবেলায়ও লিখেছেন এমন কোনো নজিরও পাওয়া যায় না। তো কবি না হয়েও কবিতার সফল অনুবাদক হতে পারেন।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: নিশ্চয়। সেটা আমিও মনে করি। আমি দুটো points বলেছি গতকাল। কবিতা অনুবাদ করতে হলে নিজের মাতৃভাষায় অনুবাদ করতে হবে।
রাজু আলাউদ্দিন: Target Language, যে ভাষায় অনুবাদ করা হবে, সেটা তার মাতৃভাষা হলে সবচেয়ে ভালো হয়। এটাই তো আপনার point?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: এটাই আমার point।
রাজু আলাউদ্দিন: এক্ষেত্রে আমি আপনার সাথে একমত। একটা ভাষা আসলে শুধু বই পড়ে জানার বিষয় না। ওটা কালচারালি থাকতে হবে।
ম্যার্টিন কাম্পশেন: আর দ্বিতীয় point ছিল, কবিতা অনুবাদ করতে হলে একহাতে অনুবাদ হতে হবে। এক মানুষই অনুবাদ করবে। রবীন্দ্রনাথের কবিতা জার্মানে অনুবাদ হয়েছে by a German and by a Bengali। মানে বাঙ্গালি একটু বুঝিয়ে দিয়েছে জার্মান ভদ্রলোককে, সে আবার সেটা জার্মান ভাষায় অনুবাদ করেছে। এটা আমার মনে হয় সম্ভব না। এতে ফলটা ঠিকমতো আসবে না। সেটা আমরা অনেকবার দেখেছি।
রাজু আলাউদ্দিন: এটা কি এমন হতে পারে না, ধরা যাক আমি জার্মান জানি না, আপনি জার্মান খুব ভালো জানেন, আবার বাংলাও আপনি খুব ভালো জানেন, তো ধরা যাক আপনি জীবনানন্দ দাশ অনুবাদ করলেন, আমি আপনাকে একটা Draft দিলাম ইংরেজি ভাষায়; আপনি সেটা জার্মান ভাষায় করলেন, জার্মান আপনার মাতৃভাষা, ফলে এই কোলাবরেশনে তো ভালো অনুবাদ হতে পারে।
ম্যার্টিন কাম্পশেন: এটা গদ্যে হলে সম্ভব, but not in poetry। এটা সম্ভব না। এর উপর আমার বিশ্বাস নেই। because, you translate a poem, you as a translator your personality, your values, your sensibility a part of the process of translation in a poem. Prose writing এমন না। But not you have to be totally involved in the poem as a translator. And that has to be an personality.
রাজু আলাউদ্দিন: ঠিক। আমি একমত আপনার সাথে। কিন্তু আপনি তো collaboration-এ অনুবাদ করেছেন?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: না।

রাজু আলাউদ্দিন: অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের সঙ্গে?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: না না না। উনি আমার সাথে করেননি। একজন জার্মান প্রফেসর, (লোথার) লুৎসে, তার সঙ্গে করেছেন। আমি সব সময় একা করেছি। শুধু একজন দুজন টিউটর ছিল, যারা আমাকে কবিতা শুনিয়েছে বারবার। তারপর তাদের সাথে কবিতার বিষয়ে আলোচনা করেছি in Bengali। তারপর আমি নিজেও লিখেছি জার্মান ভাষায়। যিনি আমার সাথে বসে ছিলেন, তিনি এক বর্ণও জার্মান জানেন না। আলোচনার পর হয়ত আমি শান্তিনিকেতনের কোনো একজন প্রফেসরের কাছে গেছি। জিজ্ঞেস করেছি, এই লাইনের মানেটা কি ঠিক আছে? নাকি আরো মানে হতে পারে? যখন আমি নোটস লিখেছি, তখন আমি জিজ্ঞেস করেছি, এই সম্পর্কে আপনার কী মত? কিন্তু অনুবাদটা আমি একা করেছি।
রাজু আলাউদ্দিন: আপনি রবীন্দ্রনাথের নাটক অনুবাদ করেছেন। তার কবিতা অনুবাদ করেছেন।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: দুটো নাটক অনুবাদ করেছি। ডাকঘর আর তাসের দেশ
রাজু আলাউদ্দিন: এর পাশাপাশি আপনি রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে গবেষণাও করেছেন। একাধিক গবেষণা গ্রন্থ আছে আপনার। আমার কাছে যে বইটা আছে, বইটা পড়ে আমি অভিভূত হয়েছি দুটো কারণে। তথ্যের নতুনত্ব যেগুলো আমাদের কাছে ছিল না। যারা রবীন্দ্র গবেষণা করেন, তাদের কাছে এটা একেবারেই অপরিচিত ছিল। আরেকটি কারণে এই বইটি আমাকে মুগ্ধ করেছে, সেটা হচ্ছে, বুনন-কৌশল।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: বইয়ের নামটা একটু বলে দেন।

রাজু আলাউদ্দিন: জার্মানিতে রবীন্দ্র-বীক্ষা
মার্টিন ক্যাম্পশেন: এটা বিভিন্ন পত্রিকা থেকে কালেক্ট করে বইটা করা হয়েছে।
রাজু আলাউদ্দিন: তো যেটা বলছিলাম, তথ্যের পাশাপাশি আপনি যেভাবে এটাকে সাজিয়েছেন, যাকে বুনন-কৌশল বলে আর কি, এটাও খুব ভালো লেগেছে আমার। আমরা দেখি যে, কেউ রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে গবেষণা করতে গেলে সে যদি রবীন্দ্রপূজারি হয়, তাহলে উচ্ছ্বাসে ভরা থাকে। আর যদি রবীন্দ্র-নিন্দুক হয়, তাহলে সে পারলে রবীন্দ্রনাথকে খুন করে বসে। কিন্তু আপনি সেটা করেননি। জার্মানিতে যখন তাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে, সেটাও আপনি বলেছেন; আবার যখন নেতিবাচক হিসেবে নেয়া হয়েছে, সেটাও আপনি বলেছেন। আমি মনে করি গবেষণা হিসেবে এটি একটি আদর্শ এবং সফল একটি কাজ।
<
strong>মার্টিন ক্যাম্পশেন: এরপরে কিন্তু রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আরো দুটো বাংলা বই বেরিয়েছে। একটা নতুন পাবলিশিং হাউজ আছে কোলকাতায়–কারিগর–২০১৬ সালে তারা একটা বই বার করেছেন। বইটার নাম–অনুভাবে অনুধানে রবীন্দ্রনাথ। এটা শুধু রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে। এ বছর বইমেলাতে আরেকটা বই বেরোচ্ছে, সেটা শুধু রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে না, বিভিন্ন মানুষের সম্পর্কে লেখা। হেরমান হেস যেমন।
রাজু আলাউদ্দিন: হেরমান হেস সম্পর্কে যেটা দেখলাম, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তার খুব একটা উচ্ছ্বাস ছিল না।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: না, ছিল না। উনি রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে দু-তিনটে রিভিউ লিখেছেন। উনি খানিকটা প্রশংসা করেছেন, খানিকটা ক্রিটিসাইজও করেছেন। তারপরও কিন্তু উনি রবীন্দ্রনাথকে পড়েছেন।
রাজু আলাউদ্দিন: তা তো উনাকে পড়তেই হয়েছে। কারণ, ভারত সম্পর্কে উনার একটা আগ্রহ ছিল। এবং আমি এটা জানতাম না, উনার মা হচ্ছেন একজন ভারতীয়।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: কেরেলাতে।
রাজু আলাউদ্দিন: আপনার এই বই পড়ে আমার যেটা অভিজ্ঞতা–সেটা হচ্ছে জার্মানিতে যদি আমি তুলনামূলকভাবে বিচার করি, ইংরেজিভাষি জগতে বা স্পেনিশভাষি জগতে, কিংবা লাতিন আমেরিকায় রবীন্দ্রনাথ যে উচ্ছ্বাসের সাথে গৃহীত হয়েছিলেন, জার্মানিতে বোধহয় ততটা সমাদৃত ছিলেন না।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: জার্মানিতে উনি যখন প্রথমবার যান, ১৯২১ সালে, তখন উনাকে নিয়ে ভীষণভাবে হইচই হয়েছে। সমাদরটা একদম কমও ছিল না। এবং One million copies of Tagore books were sold। যেটা আমরা বলতে পারি, First bestseller in German publishing history । এর দ্বারা বোঝা যায়, উনি জার্মাানিতে কতটা নাম পেয়েছিলেন! কিন্তু বছর দশেক পর, middle of the nineteen thirties, তখন কিন্তু নাৎসিজম শুরু হয়েছে, হিটলার এসে গেছে, তখন উনার কোনো বই প্রকাশ করা সম্ভব ছিল না। উনার উপর কোনো লেখা প্রকাশ হয়নি। সেটা আবার শুরু হয়েছে After the second world war। তখন কিন্তু নতুন একটা যুগ শুরু হয়। তখন রবীন্দ্রনাথের কথা অতটা প্রাসঙ্গিক ছিল না। এরপর যখন আস্তে আস্তে মূল বাংলা থেকে অনুবাদ শুরু হয়েছে, এখন আমি মনে করি, Renaissance of Tagore জার্মান ভাষায় চলছে।
রাজু আলাউদ্দিন: এটা After second world war?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: না না। সেটা Last twenty years may be. Many years after the world war.
রাজু আলাউদ্দিন: এই ফাঁকে একটা তথ্য জানতে চাই। বহু রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে রবীন্দ্রনাথের দেখা হয়েছে। আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছেন, বা কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ হয়েছে। জার্মানিতে হিটলারের সাথে দেখা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল কি?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: না না না। অসম্ভব। He was in Germany in 1930. তখন হিটলারের প্রকাশ ঘটেনি।
রাজু আলাউদ্দিন: আচ্ছা আচ্ছা। আর এরপর তো আর উনি জার্মানিতে যাননি!
মার্টিন ক্যাম্পশেন: So, no chance of him meeting Hitler. He met Hindenburg who was the president of Wimer Republic, that means 1920. He met politician and cultural figures, but not Hitler.
রাজু আলাউদ্দিন: মানে তখন হিটলারের রাজনৈতিক আবির্ভাবই হয়নি।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: না না।

রাজু আলাউদ্দিন: আরেকটা জিনিস বলতে চাই, আপনি দুটো জগত সম্পর্কে জানেন। একটা হচ্ছে, ইউরোপীয় মনোজগত, তার সাংস্কৃতিক আবহ; আরেকটা হচ্ছে প্রাচ্য, মানে ভারত। এবং এই দুই অঞ্চলের মনোগঠনের মধ্যে বড় পার্থক্য আছে। সেটা দার্শনিক পার্থক্য, অর্থাৎ জগতের দিকে তাকানোর ব্যাপারে বা বিশ্বাস-বোধ এগুলোর পার্থক্য রয়েছে। তো রবীন্দ্রনাথ তো ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হলেন ইউরোপে, জার্মানিতে; আবার ধূমকেতুর মতো কিন্তু বিলুপ্তও হয়ে গেলেন। এই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কারণটা কী?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: He came into the limelight in the twenties after the first world war which Germany lost. So, then Germany as a society was in a depression. Not only because of economic hardship But also a kind of emotional depression. because lost of thousand of young people. Then the experience of losing war. So there was a cultural crisis. There were a hope at that moment for some kind of figure who will redeem them, তাদেরকে রক্ষা করবে। And Tagore came at the right moment. He was like a Messiah to the German people. And there were other figures too, Tagore was not the only one but he was principal person from the East. From the East always comes redemption, liberation… So that helped Tagore to became such glorified figure as he was. That is the main reason.

রাজু আলাউদ্দিন: জার্মানিতে রবীন্দ্রনাথের ব্যাপারে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ইতিবাচক ছিলেন বের্টোল্ড ব্রেখট। ব্রেখটের একটা ব্যালান্স ছিল।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: ব্রেখট যখন রবীন্দ্রনাথের উপর বলেছিলেন, তখন খুবই ছোট ছিলেন। সে তখন বাচ্চা ছেলে, তখনও তার ছাত্রজীবন। সুতরাং উনি যেটা বলেছেন সেটার খুব বেশি দাম নেই। রবীন্দ্রনাথের ব্যাপারে খুব উচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন। তাদের দুজনের ব্যক্তিত্বের মধ্যে কোনো মিল নেই্। ব্রেখট লিখেছেন বলে উনার রিভিউটার এখনো একটু দাম আছে। না হলে এমনি কোনো দাম নেই।
রাজু আলাউদ্দিন: তো জার্মানিতে কার মূল্যায়নকে আপনি সঠিক মূল্যায়ন বলে মনে করেন?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: স্টেফান জোয়াইগ। খুব ভালো বলেছেন রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে। এরপর হারমান কাইজারলিং খুব পছন্দ করেছেন রবীন্দ্রনাথকে। তারপর হাইনরিশ মায়ার বেনফি। উনি রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে লিখেছেন। সেটা খুবই ব্যালেন্স একটা লেখা। দুজন ফিলোসফর উনার সম্পর্কে ছোট্ট বই লিখেছেন। একজন পাউল নাটফ। আরেকজনের নাম মনে পড়ছে না।
রাজু আলাউদ্দিন: রিলকেরও তো খুব উৎসাহ ছিল। উনি অনুবাদ করবেন এমন আগ্রহও ছিল।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: কিন্তু তিনি করতে পারেননি। কারণ, তিনি ইংলিশ ভাষাটা খুব ভালো জানতেন না।
রাজু আলাউদ্দিন: উনি আবার ফরাসিটা ভালো জানতেন।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: কারণ তিনি প্যারিসে অনেক দিন ছিলেন।
রাজু আলাউদ্দিন: উনি তো রঁদার শিষ্য বা সেক্রেটারি ছিলেন বলে জানি।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: এটা লোকে বলে। আমার মনে হয় এটা ঠিক না। উনি সাথী ছিলেন।
রাজু আলাউদ্দিন: এই বইটার যিনি অনুবাদ করেছেন, জয়কৃষ্ণ কয়াল, তিনি তো আপনার শিক্ষক?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: আমার শিক্ষক এবং বন্ধু। আমার থেকে ছোট। আমরা এখনো এক সঙ্গে কাজ করি।
রাজু আলাউদ্দিন: এটার অনুবাদ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: খুবই ভালো অনুবাদ করেছেন। সবাই ওকে প্রশংসা করছে। সবাই। আর ও খুব যত্ন নিয়ে কাজ করে। অনেক সময় নেয়। ও এখন রিটায়ার্ড। He was a West Bengal Govt. employee, অনেক উঁচু দরের চাকরি করতেন। সে অনুবাদ ছাড়া নিজের কোনো কিছু লিখছে না। নিজের কথা লিখছে না। প্লাস নিজের গ্রামে একটা স্কুল চালায়।
রাজু আলাউদ্দিন: আপনার এই বইটা সম্পর্কে কথা বলতে চাই।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: বইয়ের নামটা বলুন। না হলে পাঠক বুঝবে কীভাবে?

রাজু আলাউদ্দিন: হ্যাঁ, এই বইয়ের নাম: Rabindanath Tagore: One hundred years of Reception। বইটি বেরিয়েছে ওরিয়েন্ট ব্লাক সোয়ান প্রকাশনী থেকে। এটিই বোধহয় ইংরেজি ভাষায় প্রথম বই রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে, যেখানে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও লেখকদের অংশগ্রহণ রয়েছে। বইটি দেখে আমার ভালো লেগেছে। তবে ছোট্ট একটি সমালোচনাও আছে। সেটি হলো যে, আমি দেখলাম, সাউথ আমেরিকা এখানে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে, কিন্তু চিলি নাই। মেক্সিকো আছে ঠিকই, কিন্তু লেখাটি অত্যন্ত দুর্বল। এবং মেক্সিকোর অনেক বড় লেখক এখানে আসেনি। যেমন হোসে গরোস্তিসা, উনি কিন্তু খুবই বড় লেখক। হোসে গরোস্তিসার সাথে ওক্তাবিও পাসের সম্পর্ক ছিল। এরপর লাতিন আমেরিকার আরেকজন বড় লেখক, সান্তো দোমিংগোর, উনি কিন্তু স্প্যানিশ ভাষার অত্যন্ত বড় লেখক। প্রাবন্ধিক এনরিকে উরেনঞা। এরকম আরো বেশ কয়েকজন আছে। আপনার কি মনে হচ্ছে পরের সংস্করণে আরো একটু সম্পাদনা করা সম্ভব?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: দেখুন এই বইটা আমরা দুজন এডিট করেছি। ভীষণ কষ্ট করে এডিট করেছি। অনেক সূত্রও আমরা পেয়েছি। আমরা খুব চেষ্টা করেছি, যে দেশে রবীন্দ্রনাথ গিয়েছিলেন, সেই দেশের রিএ্যাকশনটা, সেই দেশের রেসপন্সটা প্রথমে আমরা দেখব। সেই টার্গেটও ফুলফিল হয়নি। যেমন উনি ইন্দোনেশিয়া গিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা ইন্দোনেশিয়াকে এর মধ্যে রাখতে পারিনি। কারণ, ওখানে আমরা কোনো পণ্ডিত মানুষ পাইনি, যিনি তার সম্পর্কে লিখতে পারে। আমরা ভালো স্কলার যতটা পেরেছি, তাদেরকে ডেকেছি। তারা লিখেছেন। আবার তিনচারজন এমন আছেন, যারা আমাদের জন্য লিখেছেন, কিন্তু সেগুলো আমরা নিতে পারিনি। ফর এক্সাম্পল, নেপাল। নেপালও এরমধ্যে নেই। নেপালের একজন ভদ্রলোক লিখেছেন, আমরা নিতে পারিনি।
রাজু আলাউদ্দিন: কিন্তু আপনি লাতিন আমেরিকার ওই অভাবটা শ্যামাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়কে দিয়ে কভার করতে পারতেন।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: উনি নট নেপালী।
রাজু আলাউদ্দিন: না, আমি তা বলছি না। উনি লাতিন আমেরিকার কয়েকটা অঞ্চল কভার করতে পারতেন।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: তাহলে আপনি উনার সাথে কথা বলুন।
রাজু আলাউদ্দিন: আপনি তো সম্পাদক। আপনাকেই তো বলব আমি।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: We can not verify every writing writing. We have to depend on the quality of the contributors. Only if we see the gaps in the writing of obvious… because the contradiction insides, internal contradiction, then we see objects, or if they don’t verify source… but if we do not that obvious gaps, then we have to just believe. We can not verify every source and every fact and figure. So i will say that Shama da, he is very good friend of mine. When i am in Delhi normally i meet him.
রাজু আলাউদ্দিন: বুঝতে পেরেছি। তবে আমি খুব খুশি হব যদি আপনি পরের সংস্করণে চিলিকে আলাদা Country হিসেবে রাখলে। তারপরে মেক্সিকোর অংশটাকে আরো বেশি reach করা যায় expert লোক দিয়ে। কারণ Rest of the things–I believe — really excellent। পুরো আয়োজনটার মধ্যে বিরাট ব্যাপার আছে।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: We could not find anybody for Africa, for example. Just Angola, that is in Portuguese chapter.
রাজু আলাউদ্দিন: আরেকটা বিষয়ে কি আমি জিজ্ঞেস করতে পারি?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: It’s last question।

রাজু আলাউদ্দিন: Yes, i am almost done. সেটা হলো যে, বাংলাদেশের কোন কোন লেখকের সাথে আপনার পরিচয় হয়েছে?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: দেখুন, এখানে আমি তিনদিন আছি। এই তিনদিনে কি পরিচয় হওয়া সম্ভব?
রাজু আলাউদ্দিন: এবারের সফরে না। এর আগেও তো আপনি এসেছেন। আহমদ ছফার সাথে তো আপনার পরিচয় হয়েছিল। তার সাথে আপনার কীভাবে পরিচয় হয়েছিল, একটু বলবেন?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: কখন কীভাবে পরিচয় হয়েছিল আমার মনে নেই। কোলকাতায় উনার সাথে আমার প্রথম দেখা হয়। সম্ভবত উনি শান্তিনিকেতনে গেছিলেন। আমার ঠিক মনে নেই। তখন উনি আমার কাজ দেখে, আমার বইটা (রবীন্দ্রনাথ টেগোর এন্ড জার্মানি ডকুমেন্টেশন) দেখে সেটার অনুবাদ করার জন্যে হাতে নিয়েছিলেন। এবং বইটা ঢাকাতে বেরিয়েছিল। সেটা আমার প্রথম বাংলা বই ছিল। সেটা পশ্চিম বাংলায় সেরকম যায়নি। এখানে, বাংলাদেশে বিক্রি হয়েছে। শান্তিনিকেতনে একটা মাত্র কপি আছে। আর কারো হাতে আমি দেখিনি।
রাজু আলাউদ্দিন: ওই বইটার অনুবাদ নিয়ে কি আপনি তৃপ্ত?
মার্টিন ক্যাম্পশেন: যিনি অনুবাদ করেছেন, তার সঙ্গে অনেক আলোচনা করেছি, এখানে যখন ছিলাম।
রাজু আলাউদ্দিন: সরদার আব্দুস সাত্তার।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: উনি খুবই চেষ্টা করেছেন। আমি তৃপ্ত কি না এটা বলা মুশকিল, কারণ, আমি তো ভালো বাংলা জানি না। অত ভালো বাংলা যদি আমি জানতাম, তাহলে তো আমি নিজেই অনুবাদ করতাম। সো ওদের হাতে কাজ দেয়া হয়েছে। আমি তৃপ্তি পেয়েছি যে, বইটা বের হয়েছে। পাওয়া যায়।
রাজু আলাউদ্দিন: তো ওই সময়ই প্রথম ছফা ভাইর সাথে আপনার পরিচয়।
মার্টিন ক্যাম্পশেন: হ্যাঁ। He was a very loving and dear man. খুব ভালোবাসতাম। উনিও আমাকে খুব ভালোবাসতেন। তারপর তো অসুস্থ হয়ে পড়লেন। মারা গেলেন। সেটা অন্যদের মাধ্যমে খবর পেয়েছিলাম। ফটোগ্রাফার মামুন ছিল। তার মাধ্যমে আমি আহমদ ছফা সম্পর্কে খবর পেয়েছিলাম।
রাজু আলাউদ্দিন: নাসির আলী মামুন।
ইতিপূর্বে আর্টস-এ প্রকাশিত রাজু আলাউদ্দিন কর্তৃক গৃহীত ও অনূদিত অন্যান্য সাক্ষাৎকার:
দিলীপ কুমার বসুর সাক্ষাৎকার: ভারতবর্ষের ইউনিটিটা অনেক জোর করে বানানো

রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে সনজীদা খাতুন: “কোনটা দিয়ে কাকে ঠেকাতে হবে খুব ভাল বুঝতেন”

“হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) হযরত আলীকে (রা.) বললেন, ‘রাসুলুল্লাহ’ লেখার দরকার নেই, ‘রাসুলুল্লাহ’ শব্দটা কাট”

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সাক্ষাতকার: “গান্ধী কিন্তু ভীষণভাবে সমাজতন্ত্রবিরোধী ছিলেন”

নন্দিতা বসুর সাক্ষাতকার: “তসলিমার মধ্যে অনেক মিথ্যা ভাষণ আছে”

ভরদুপুরে শঙ্খ ঘোষের সাথে: “কোরান শরীফে উটের উল্লেখ আছে, একাধিকবারই আছে।”

শিল্পী মনিরুল ইসলাম: “আমি হরতাল কোনো সময়ই চাই না”

মুহম্মদ নূরুল হুদার সাক্ষাৎকার: ‘টেকনিকের বিবর্তনের ইতিহাস’ কথাটা একটি খণ্ডিত সত্য

আমি আনন্দ ছাড়া আঁকতে পারি না, দুঃখ ছাড়া লিখতে পারি না–মুতর্জা বশীর

আহমদ ছফা:”আমি সত্যের প্রতি অবিচল একটি অনুরাগ নিয়ে চলতে চাই”

অক্তাবিও পাসের চোখে বু্দ্ধ ও বুদ্ধবাদ: ‘তিনি হলেন সেই লোক যিনি নিজেকে দেবতা বলে দাবি করেননি ’

নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০০৯: রেডিও আলাপে হার্টা ম্যুলার

কবি আল মাহমুদের সাক্ষাৎকার

শামসুর রাহমান-এর দুর্লভ সাক্ষাৎকার

হুমায়ুন আজাদ-এর সঙ্গে আলাপ (১৯৯৫)

নির্মলেন্দু গুণ: “প্রথমদিন শেখ মুজিব আমাকে ‘আপনি’ করে বললেন”

গুলতেকিন খানের সাক্ষাৎকার: কবিতার প্রতি আমার বিশেষ অাগ্রহ ছিল

নির্মলেন্দু গুণের সাক্ষাৎকার: ভালোবাসা, অর্থ, পুরস্কার আদায় করতে হয়

ঈদ ও রোজা প্রসঙ্গে কবি নির্মলেন্দু গুণ: “ আমি ওর নামে দুইবার খাশি কুরবানী দিয়েছি”

শাহাবুদ্দিন আহমেদ: আমি একজন শিল্পী হয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না

জুয়েল আইচ: রাষ্ট্র কি কোন জীব নাকি যে তার ধর্ম থাকবে?

রফিকুননবী : সৌদি আরবের শিল্পীরা ইউরোপে বসে ন্যুড ছবিটবি আঁকে

নির্মলেন্দু গুণ: মানুষ কী এক অজানা কারণে ফরহাদ মজহার বা তসলিমা নাসরিনের চাইতে আমাকে বেশি বিশ্বাস করে

নায়করাজ রাজ্জাক: আজকের বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের যে বিকাশ এটা বঙ্গবন্ধুরই অবদানের ফল

নির্মলেন্দু গুণ: তিনি এতই অকৃতজ্ঞ যে সেই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে কোনো কবিতা লেখেননি

অক্তাবিও পাস: ভারত এমন এক আধুনিকতা দিয়ে শুরু করেছে যা স্পানঞলদের চেয়েও অনেক বেশি আধুনিক

নির্মলেন্দু গুণ: মুসলমানদের মধ্যে হিন্দুদের চেয়ে ভিন্ন সৌন্দর্য আছে

গোলাম মুরশিদ: আপনি শত কোটি টাকা চুরি করে শুধুমাত্র যদি একটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান করে দেন, তাহলে পরকালে নিশ্চিত বেহেশত!

মুর্তজা বশীর: তুমি বিশ্বাস করো, হুমায়ূন আহমেদের কোনো বই পড়ি নি

সাবেক বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান: ধর্ম সাধারণত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভেতরে অনৈক্যই সৃষ্টি করে বেশি

শামসুজ্জামান খান: পাকিস্তান আমলেও যতটা অসাম্প্রদায়িক কথাবার্তা চলত, এখন সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে

মানুষ যদি এতই ধর্মপ্রবণ হয়ে থাকে তাহলে এত দুর্নীতি, ঘুষ, ধর্ষণ, লুটপাট কি হতে পারে!

বিজ্ঞানী এ এম হারুন-অর-রশিদ: উনি যখন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না তখন এটা দেব

নাসির উদ্দীন ইউসুফ: দেখতে পাচ্ছি, সমাজ এবং রাষ্ট্র ধর্মের সাথে একটি অবৈধ চুক্তিতে যাচ্ছে
শিল্পী রফিকুন নবী: ওই বাড়িতে আমরা বঙ্গবন্ধুকে বইটা দিলাম

শামসুজ্জামান খান: নিজের দলের কোনো সমালোচনা করব না, অন্যদের করব– তাহলে তো সে পার্সিয়াল হয়ে গেল

মোহাম্মদ রফিক: আমার কাছে ‘পদ্মানদীর মাঝি’ অসম্পূর্ণ উপন্যাস মনে হয়

Flag Counter


1 Response

  1. মানিক বৈরাগী says:

    রবীন্দ্রনাথ গবেষক মার্টিন কেম্পশেন-এর ইন্টার্ভিউটি পড়লাম। অনেক অজানা বিষয় জানা হলো।
    ধন্যবাদ কবি রাজু আলাউদ্দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.