কবিতা

চে গুয়েভারার প্রতি

আশরাফুল কবীর | 1 Jul , 2018  

ওরা দেখেনি তোমার চোখ, কি মায়াময় তা
যেখানে খেলা করতো এক গভীর আবেগ।
ওরা বোঝেনি তোমার ভাষা, বুঝতে চায়নি
চেয়েছিল শুধু ঝাঁঝড়া করতে-
তোমার ঐ বুক, যা ফুলিয়েছিলে
গহীণ কাঠ কয়লার বলিভিয়ার জঙ্গলে।

কাটা হাত, সঙ্গী ফরমালডিহাইডের জারন
শুধু মিশ্রণই জানে তার রসায়ন,
আর জানে এই ব্রহ্মা-
কি অদ্ভুত এক তেজ, আর তার ঝাঁপটা।

এসেছিলে আটাশে জুনের কোনো এক সকালে –
বিপ্লবের দুয়ারে দুলতে, দোলাতে
ঠিক যেন চাবি দেয়া পেণ্ডুলামের মত
প্রতি ঘণ্টার প্রতিধ্বনি, শংকিত করে
কাঁপিয়ে দিতে শোষকদেরকে।

ওরা বোঝেনি তোমার শ্মশ্রুমণ্ডিত প্রতিকৃতির শক্তি।
কি দুর্দান্ত!
ভেবেছিল ঝাঁঝড়াতেই সব শেষ হবে
অসাড়তা আর কাকে বলে?
আহাম্মকের দল!
শুধু ভালেগ্রান্দেই বুঝেছিল –
তোমার সবুজ জ্যাকেটের ওজন।

ওহ এর্নেস্তো
কি ছড়ালে তুমি? হয়তো সেই,
সতের ঊনআশির ফরাসি ঢেউ,
হয়তোবা বিশ-শতকের রাশিয়ান ঝড়।

এত সহজে দমবার পাত্র নও।
ও’ব্যাটা জেনারেল ঠিক ঠিক ঠাউরিয়েছিল
তোমার ব্রত

তাইতো কত উন্মত্ততার বহিঃপ্রকাশ হল
মহাকাব্যিক সব পরিকল্পনার অংশ হলে তুমি।
তোমার শবদেহটিও পেল না রেহাই
হল শত ব্যবচ্ছেদ!

কত্তো রাজকীয় বেশে অংশ নিলে তুমি,
কত খবরের হলে বিষয়। অতঃপর
আবারো ফিরলে তুমি, হ্যাঁ, ফেরাই বটে,
ঠিক যেন এক রাজসিক ফেরা, যেমন
জুলিয়াস সিজার ফিরেছিল পম্পেই গুড়িয়ে।

তুমি ফিরে ফিরে আস চির নূতনের বেশে

তোমার উপস্থিতি, এক দুর্দমনীয় প্রতিজ্ঞায়,
যে পারতে চায় সবকিছু নূতন করে লিখতে।

ও এর্নেস্তো, চির বিপ্লবী চির জাগরুক তুমি

তোমার স্পর্শ আমি অনুভব করি।
Flag Counter


6 Responses

  1. হোসাইন আল মামুন says:

    অসাধারন কবিতা। চেগুয়েভারার প্রতি কবির আবেগ প্রশংসনীয়। দারুণ লিখেছেন। চালিয়ে যান। আরও কবিতা পড়ার প্রত্যয় রাখছি।

  2. আশরাফুল কবীর says:

    আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি সুপ্রিয় হোসাইন আল মামুন কবিতা পড়ে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।

  3. //ভেবেছিল ঝাঁঝড়াতেই সব শেষ হবে
    অসাড়তা আর কাকে বলে?
    আহাম্মকের দল!
    শুধু ভালেগ্রান্দেই বুঝেছিল –
    তোমার সবুজ জ্যাকেটের ওজন।//

    অসাধারণ! শুধু উদ্ধৃত অংশের জন্য কবিতাটি বিশেষ মনে হয়েছে আমার কাছে। বাংলা কবিতায় চে’কে বিভিন্নভাবে স্মরণ করা হয়েছে। সেখানে বর্তমান লেখাটিকে চমৎকার একটি সংযোজন হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

    কবিতায় চে’ গুয়েভারাকে যেভাবে ধারণ করা হয়েছে, তাতে শুধু বিপ্লবীকেই বন্দনা করা হয় নি, স্বাধীনতাকামী বাঙালির আকুতিটুকুও উপলব্ধি করা যায়। বাঙালি ছাড়া আর কে এভাবে চে’কে বুঝবে! কবিকে অভিনন্দন।

    (একটি জায়গায় লেখা আছে ‘সতের ঊনআশির ফরাসি ঢেউ’। যদি এখানে ফরাসি বিপ্লবকে [১৭৮৯] এল্যুশন করা হয়ে থাকে, তবে সালটি পুনরায় নিশ্চিত হয়ে নিতে পারেন।)

  4. আশরাফুল কবীর says:

    আলোচনা এবং সমালোচনা যেকোনো সৃষ্টিশীল কাজকে দারুন ভিত্তি প্রদান করে; আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি মাঈনউদ্দিন মইনুল ভাই কবিতা পাঠপূর্বক দারুনভাবে মন্তব্য প্রদান করার জন্য।
    (এল্যুশন এর ব্যাপারেঃ ফরাসি বিপ্লব শুরু হয়েছিল ১৭৮৯ সালে এবং তা দশ বছর স্থায়ী হয়েছিল তবে কবিতাটি লিখার সময় আমি নির্দিষ্ট তারিখের কিছুটা পূর্বে গিয়ে বিপ্লবের পূর্বের এবং পরের পুরো সময়কালটিকে ধারন করতে চেয়েছি; তারপরেও স্পেসিফিকেশনের ব্যাপার যেহেতু রয়েছে সেহেতু চেষ্টা করবো পরবর্তীতে প্রকাশ করার পূর্বে কবিতার ভাব ঠিক রেখে কিছুটা পরিবর্তনের)

  5. সাজ্জাদ হোসাইন says:

    বেশ ভালো লাগলো।।কবিতাটি যে শুধুই লিখার জন্য লিখা নয়,কবি’র আবেগও মিশে আছে তা বাক্যে বাক্যে স্পষ্ট ।।

    শুভেচ্ছা ও শুভকামনা থাকলো।।

  6. আশরাফুল কবীর says:

    ধন্যবাদ আপনাকে সাজ্জাদ হোসাইন; যে কোনো লেখার সাথে যদি আবেগ মিশে যায় তাহলে তা উৎকর্ষতা লাভ করে; “চে”র প্রতি আবেগ আসলে পৃথিবীর সকলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.