সেলিম জাহানের ‘বেলা-অবেলার কথা’-র সূত্র ধরে

সনৎকুমার সাহা | ১০ মে ২০১৮ ৩:২০ অপরাহ্ন

সেলিম জাহানকে প্রথম দেখি বোধ হয় তিন দশকেরও আগে। আমার স্যর ডক্টর মুশাররফ হোসেন তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর থাকা মানেই উন্মুখ মেধাবী মনকে আকর্ষণ করা। ফুলার রোডে পুরোনো লাল বাংলোটিতে তিনি থাকতেন দোতলায়। নিচের তলায় প্রবাদ-প্রতিম জ্ঞানবৃদ্ধ প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক। দুজনই আকর্ষণ করেন মেধাকে। অবশ্য একই ধাঁচের নন দুজন। আমার স্যর উচ্ছল, প্রাণবন্ত। আকর্ষণী ক্ষমতা চুম্বকের মতো। কেউ ফাঁকা মন নিয়ে তাঁর কাছে গেলেও ফিরে আসে ভাবনা-চিন্তার নানা বিষয় মাথায় নিয়ে। ছক বেঁধে তত্ত্ব সাজাবার মতো তিনি সেসব গেঁথে দেন না। হৈ-চৈ হুল্লোড়ের ভেতরেও তাঁর শাণিত বুদ্ধিদীপ্ত কিন্তু অন্তরঙ্গ কথার তোড়ে তারা অবলীলায় বেরিয়ে আসে। চারপাশে ছড়ায়। কখনো কখনো জমাট বাঁধে। যখনই গেছি, দেখেছি ওই সময়ে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ সহকর্মীরা, তাঁদের মতো বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সম্ভাবনাময় উচ্চাভিলাষী মেধার কারবারিরা কেউ কেউ– আরো অনেকের সঙ্গে সেখানে আসর জমিয়ে মশগুল। স্যর-এর সমসাময়িক তুখোড় পণ্ডিতরা থাকতেন। এতটুকু বেমানান মনে হতো না। অপরদিকে প্রফেসর রাজ্জাকের, আমার মনে হয়েছে, কিছু বাছ-বিচার ছিল। যদিও চলনে-বলনে খাস মাটির কাছাকাছি অতি সাধারণ এক মানুষ। তারপরেও যাঁদের তিনি দীক্ষা দেন, তাঁদের তিনি বাজিয়ে নেন। তাঁর সঙ্গে মনের তরঙ্গদৈর্ঘ্যে মিললে তবেই তিনি সহজ হন। এছাড়া তাঁকে লাজুক-মুখচোরাই মনে হতো। যেন অনেকের জন্য তিনি নন। তাঁর কৃপা বাছাই করা কতিপয়ের জন্য। এবং সেই কতিপয় অবশ্যই ভাগ্যবান।

এই বাংলোতেই আমার সেলিম জাহানের সঙ্গে পরিচয়। এবং তা দোতলার সামনে টানা খোলা গোলবারান্দায়। ঘর বারান্দার সঙ্গে জোড়া। পা বাড়ালেই একটানে চলে আসা। পরিসীমার বাকিটা রেলিং দেওয়া। কথার তোড়ে খেই হারিয়ে ফেললেও পড়ে যাবার ভয় নেই। সবটাই খোলা। মাথার ওপর উদার আকাশ। ভোরে-সন্ধ্যায় সিঁদুরে নীল। বেলা বাড়লে হাওয়ায়-রোদ্দুরে লুটোপুটি। রাতের ছায়া পড়লে তারায়-তারায় দীপ্ত শিখা। কখনো অন্ধকারের অন্তরাল থেকে ফুটে বেরোয়; কখনো বা চাঁদের আলোয় অন্ধকার দূরে পালায়। দিনের আকাশে বহুদিক থেকে ধাবমান মেঘবাহিনীর অসংখ্য রঙের খেলা। সাঁঝ পেরোলে যদি বিদ্যুৎ চমকায়, তবে অজস্র তীব্র আলোকরেখা পরস্পর কাটাকাটিতে মাতে। দিক থেকে দিগন্তে। চোখ ঝলসে যায়।
এই অবাধ-উন্মুক্ত ঝুল-বারান্দাতেই সেলিম জাহানকে আমার প্রথম দেখা। আমি যে কিছু ভেবেছি, তা নয়। কিন্তু ছবিটা মনে আছে। তখন দেশ স্বৈরাচারের কবলে। তার বিপরীতে ওই ছাদে প্রকৃতির যথেচ্ছ মুক্তিলীলা বোধ হয় তাঁকে রঙিন করে রাখে। এবং স্থায়ী। এতদিনেও ম্লান হয়নি কণাটুকু। যদিও তিনি আমার দৈনন্দিন ভাবনাবৃত্তের অনেক-অনেক বাইরে। তারপরেও ওই নাম ও ওই ছবি যে ভুলিনি, তার কারণ বোধ হয় তাঁর রুচিস্নিগ্ধ ব্যক্তিত্ব, বিনয় ও আত্মবিশ্বাস। অহেতুক নিজেকে জাহির করার কসরত তাঁকে কখনো করতে দেখিনি। তাঁর মতো ওই বয়সে মেধার অহংকারে উদ্দীপিত অনেকের ভেতরেই কিন্তু তা চোখে পড়তো। মনে হতো, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে তিনি বোধহয় একটু আলাদা। তাঁর বিষয়ে কিছুটা জানার পর নিশ্চিত হয়েছি এই মনে হওয়ায় কোনো ভুল ছিল না। আমি কিন্তু তাঁর ঘনিষ্ঠ হতে পারিনি। হবার চেষ্টাও করিনি। আবাস ঢাকার বাইরে । তা ছাড়া বয়সে আমি তাঁর চেয়ে ঢের বড়। তারপরেও অলিখিত ও অব্যক্ত একটা যোগসূত্র তৈরি হয়ে যায়। তৈরি করেন প্রফেসর মুশাররফ হোসেন। তিনি আমাদের দুজনেরই স্যর। অবশ্য একই বিদ্যাপীঠে নয়। আমার বেলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে, অনেক আগে। তাঁর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখন মনে হয়, এই তো সেদিন। আমি মাঝে-সাঝে ঢাকা গেলে স্যর-এর কাছে গিয়ে সময় কাটাই– যেন নিভু-নিভু বুদ্ধির গোড়ায় ঘি-ঢালা। এই রকমই তখন বার কয়েক গিয়ে সেলিম জাহানকে স্যর-এর ঘনিষ্ঠতর বৃত্তে দেখা। ক-বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে স্যর ধানমন্ডিতে নতুন বাড়ি বানিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে চলে আসেন। সেলিম জাহানের সঙ্গে আর দেখা হয়নি।
তবে তাঁর সঙ্গে পরিচয়ের আর-একটা দূরতর যোগসূত্রও আছে। এটা অবশ্য তাঁর জানার কথা নয়। প্রবেশিকা পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে ১৯৫৫ সালে আমি রাজশাহী সরকারি কলেজে ভর্তি হই। তখন এই কলেজের খুব সুনাম। বাছা বাছা শিক্ষক। ভাবতে ভালো লাগে– ডক্টর এ.আর. মল্লিক, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান(আমাদের শেলী স্যর, পরে উচ্চতম আদালতের প্রধান বিচারপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা), প্রফেসর মীর জাহান, দিলীপ বাগচি, সুলতানুল ইসলাম– এইরকম সব দেশবরেণ্য মনীষীকে কাছ থেকে দেখেছি। কারো-কারো ক্লাস করেছি। তাঁদের মতো একজন ছিলেন প্রফেসর কবীর চৌধুরী। আমার সৌভাগ্য, ইংরেজি ক্লাসে প্রথমেই তাঁকে পাই। উপান্তিক কৈশোরে সদ্য স্কুলের গণ্ডি ডিঙিয়ে আসা আমার সে এক বিরল অভিজ্ঞতা। তাঁর কাছেই শেলি-কিটস্-এর কবিতার রসগ্রহণে আর মর্ম অনুধাবনে আমার প্রথম পাঠ। আমি কৃতজ্ঞ, তখন তাঁকে পাই। আর কেউ তো ছিলেন না তাঁর মতোন। ভাষার এমন মার্জিত-সম্ভ্রান্ত প্রয়োগ– কী ইংরেজি, কী বাংলা– আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতো। এখনও তার রেশ কাটেনি। এছাড়া তাঁর চলা-ফেরা, কথা-বলাতেও দেখেছি– পরেও– সুমিতি, সংগতি, সমৃদ্ধি ও সংবেদনার করুণাঘন মাধুর্য। আমার অকৃতার্থ জীবনেও এক সময় যে তিনি আলোর মশাল হাতে কাছে এসেছিলেন, এ আমার পরম সৌভাগ্য। তবে বেশিদিন তিনি ছিলেন না। বছরখানেকের ভেতরেই বদলি হয়ে চলে যান অন্য কলেজে। তারপরেও ওই টুকরো স্মৃতি আমার মনে অক্ষয় হয়ে আছে। এখানে এসব কথা বলার কারণ, সেলিম জাহানকে দেখার আগেই আমার মুশাররফ স্যর-এর কাছ থেকে জানা হয়ে গেছে, অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর এক কন্যা সেলিমের স্ত্রী। যোগাযোগের এই মাধ্যম তাঁকে যেমন কাছে টানে, তেমনি মনে প্রত্যাশাও জাগায়। ওই ক্ষণকালের দেখাশোনায় তিনি আমাকে হতাশ করেননি। তবে আজ তাঁর এই ‘বেলা-অবেলার কথা’(প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৮) বইটি যখন আমার হাতের কোলে, তখন কবীর চৌধুরী স্যর আর নেই। নেই তিনিও যিনি এসেছিলেন সেলিম জাহানের জীবনসঙ্গিনী হয়ে। আবার আছেনও। তা সেলিমের চেতনায়–গভীরতম তল থেকে ওপর-কাঠামোয় বার-দরজা পর্যন্ত ছেয়ে। এই ভাবেই কেউ বাঁচে, বেঁচে থাকে। অনেকে–আমরা বেশির ভাগই বেঁচে থেকেও মরে যাই। নিজেরা টেরও পাই না।
কথাগুলো একসঙ্গে মনে হলো সেলিম জাহানের বইটি হাতে পেয়ে। তিনিও মনের পর্দায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠলেন। এতদিন তাঁর কথা তেমন ভাবিনি। ডক্টরেট করে এসেছিলেন আগেই। আবার বিদেশে থিতু হয়েছেন, এটা জানতাম। কিন্তু তাঁর কাজ-কর্মের হদিশ রাখিনি। গাফিলতি আমারই। আলসেমি মজ্জাগত। থাকি মফস্বলে। দিনগত পাপক্ষয়। ‘জানার কোনো শেষ নেই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই’– ‘হীরকরাজার দেশে’-র এই অমৃত-বচন আমার শিরোধার্য! এখন এই বইয়ের পেছন-মলাটের ভেতরের ভাঁজে তাঁর লেখা বই-এর সংক্ষিপ্ত তালিকা দেখে আফশোস হয়, কিছুই পড়িনি। তবে জানি, এ সাময়িক। একটু পরেই ভুলে যাবো। তবু এই ভালো লাগাটা থেকে যাবে, তিনি বৃথা সময় কাটাননি। মন তাঁর এখনও তৎপর। অর্থনীতিতে মানবমুখী প্রান্তিক ভাবনাচিন্তায় তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য। এবং তা বিশ্বনন্দিত। জাতিসংঘের মানব-উন্নয়ন প্রতিবেদন রচনাকাণ্ডে তিনিই কর্ণধার। এখন আমাদের অনেকেই বাইরে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গোটা পৃথিবীতেই বিশিষ্টজনদের শ্রদ্ধা আকর্ষণ করছেন। তিনি পড়েন তাঁদের প্রথম সারিতেই। আবার মুশাররফ স্যর ও কবীর চৌধুরী স্যরকে মনে পড়ে। তিনি যে তাঁদের যোগ্য উত্তরসূরি, এ ভেবে দারুণ তৃপ্তি পাই। তাঁরা নেই, এ বেদনা অবশ্য যায় না। ওই মলাটের ভেতর পাতাতে আরো আছে সেলিম জাহানের এখনকার ছবি। দেখে আমার দশা রবীন্দ্রনাথের ‘কাবুলিওয়ালা’-র মতো। সেই আগের চেহারাই আমার মনে সেঁটে ছিল। তা ভেঙে যাবে, এটা অনিবার্য। কিন্তু এরকমটি চাইনি। যদিও চেহারায় এক কৃতবিদ্য আত্মবিশ্বাসী মানুষের ছাপ স্পষ্ট। আমার কাছে কিন্তু তাঁর আগের চেহারাই অম্লান।
‘স্মৃতিপিপীলিকারা’ চারদিক থেকে মাথার ভেতরে ভিড় করে আসে। তা বইটির পাতা খোলার আগেই। মলাট ওল্টাতেই চোখ আটকে যায় ‘উৎসর্গ’ পাতায়: “জানি আমি জানি/আছে তো হাতখানি”। রবীন্দ্রনাথ থেকে একটু এদিক-ওদিক করে নেওয়া। গানটি অতি বিখ্যাত ও আমার অতি প্রিয়, মূলত ওই ‘হাত’ শব্দটির জন্যে। চৈতন্যে বাস্তব অতি-বাস্তবে প্রসারিত হয়। অথচ নিরুপায় সত্যের আকুতি তাতে ঝরে পড়ে। এক অকরুণ করুণায় মন ছেয়ে থাকে। সেলিম জাহান তাকে আশ্রয় করে বাঁচতে চান। বেঁচে থাকেন। অনুমান, তিনি ওই আসল-বাঁচার প্রেরণাও পান। তাঁর ‘উৎসর্গ’-ই তাঁকে তা জোগায়। এবং তা সবটাই খাঁটি। ‘ধুলোর সংসারে এই মাটি’-র বাইরে কিছু নয়। জীবনসঙ্গিনী তাঁর পাশে নেই। কিন্তু তাঁর চেতনায় তিনি অমর। এই করুণ রঙিন আস্থার কথাই বলে বইটি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। বিষয়-ভাবনা যেখানে যেমনই হোক।
‘প্রারম্ভিকা’-তে তিনি জানান, ফেসবুকে– যাকে তিনি চেনান ‘অবয়বপত্র’ বলে, তাতে তাঁর ভাবনার টুকিটাকি যে তিনি সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন, তাদের কিছু ঝাড়াই-বাছাই করে মলাটে বেঁধে এই বই। আমি এই প্রযুক্তি ব্যবহারে আকাট মূর্খ। গ্রহণেও নিরুদ্যম। তাই এই সব লেখালেখির সঙ্গে আগে কোনো পরিচয়ই আমার হয়নি। এখন দেখি, এই রকম করছেন আরো অনেকেই। প্রকাশনার ধরন-ধারণে এর ছাপ পড়তে শুরু করেছে ভালোই। লেখকের একটি লাভ, চটজলদি পাঠক-প্রতিক্রিয়া তাঁর জানার সুযোগ ঘটে। সেসব থেকে বই ছাপার আগেই তিনি তাঁর লেখার গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে একটা আন্দাজ পেতে পারেন। প্রয়োজনে পরিমার্জনেরও সুযোগ থাকে।
সেলিম জাহান নানাদিক থেকে পাঠক-প্রতিক্রিয়া কেমন পেয়েছেন, তা ‘প্রারম্ভিকা’-তে খোলাখুলি জানান। মত-বিভিন্নতা থাকলেও বিপুল সাড়া যে তিনি পেয়েছেন, এবং সবাই তাঁকে উৎসাহ জুগিয়েছেন, এতে তিনি প্রাণিত বোধ করেন। বিভিন্ন মন্তব্যের নমুনাও তিনি জুড়ে দিয়েছেন। এ সব পড়ে বইটি নিয়ে আলোচনা বাড়তি মনে হতে পারে। উচ্ছ্বসিত প্রশংসা তাঁর প্রাপ্য। পেয়েওছেন। ভালো লাগে। তবে মনে হয়েছে, অনেকে তাঁর লেখা এই প্রথম পড়ছেন। তাতেই অভিভূত। কিন্তু তিনি নবাগত নন। তিন দশক আগেও তাঁর মননশীল লেখা ঢাকার সেরা কাগজে ছাপা হয়েছে। সুধীজনদের নজর পড়েছে সে সবে। তখন তিনি ঢাকাতেই ছিলেন। বিদেশের পাট শুরু হলে ওই লেখালেখিতে ছেদ পড়ে। কিছুদিন পর বিস্মৃতিপ্রবণ মানুষ সেসব লেখার কথা ভুলেও যায়। এর ভেতরে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে। তাদের কাছে তাঁর স্মৃতিটুকুও নেই। এখন ফেসবুকের কল্যাণে নতুন সংযোগ তৈরি হয়েছে। পৃথিবীতে যে কোনো জায়গার বাঙালির কাছে তিনি পৌঁছুতে পারেন। এই পৌঁছুবার পেছনে অবশ্য একটা তাগিদ আপনা থেকে তাড়া দেয়। হয়তো লেখকের অজান্তেই। যে কোনো লেখক সাধারণভাবে সব পাঠকের মন জোগাতে চান। বিশেষ করে তিনি যদি আপন সমাজ-সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকেন। পাঠক-চাহিদার প্রত্যাশিত মান হয়তো তিনি আঁচ করে নেন। সেই অনুযায়ী লেখার মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগও গড়ে ওঠে। অসাহিত্যিক ভাষায় বলা যায়, এটা পুরোপুরি ক্রেতা বা উপভোক্তার দখলে। বিক্রেতা বা প্রস্তুতকর্তার নয়। লেখক পাঠকের প্রত্যাশিত রুচি অনুযায়ী লেখেন। লেখকের মননশীলতা যদি তুলনায় উঁচু মানের হয়, তবে পাঠককুল তা থেকে মুখ ফেরায়। এ কথা বলার মানে এ নয় যে সেলিম জাহানের লেখা তরলিত। অবশ্যই তা নয়। এবং সব প্রশংসা এর প্রাপ্য। আমিও মুগ্ধ। শুধু সীমারেখাটা চিনে নেবার চেষ্টা। আজকাল বিদেশে বসে অনেক প্রতিভাবান বাঙালি এ রকম লিখছেন। কোনো-কোনোটি খুবই ভালো মানের। কিন্তু তাঁদের সেরাটা থাকে আন্তর্জাতিক বোদ্ধাদের জন্য। বাংলায় লেখা অনেকটা বিনোদনের অংশ। হয়তো আত্মপরিচয়ের আকুলতায় ‘আমি যে গান গেয়েছিলেম’ এই কথাটিও মনে করিয়ে দেবার তাগিদে। কিন্তু তাঁদের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ কি এসবে আমরা দেখি? দুই প্রজন্ম পরে তাঁদের বংশধরেরা যদি কেউ লেখালেখিতে আসেন, তবে তাঁদের এমন স্মৃতিকাতরতা থাকবে না, চেতনায় কোনো দায়ও না, তাঁদের লেখা হবে অন্য ভাষায়, অন্য সংস্কৃতির বৃত্তে। অভিযোগ নয়। শুধু বাস্তবতার কালিকরেখা বোঝার চেষ্টা। সেলিম জাহানের লেখার মর্যাদা এতে বিন্দুমাত্র ক্ষুণœ হবে না। তবে মধুসূদনের ‘রেখ মা দাসেরে মনে’-র মতো এ নয়। আজকের বিশ্বভাবনায় তেমন হবার কোনো কারণও নেই। তাঁর এই বই যে আমাকে ‘দু দ-’ তৃপ্তি দিয়েছে, এ কথা অসংকোচে স্বীকার করি।
তবে পাঠক প্রতিক্রিয়ায় কেউ কেউ যে ‘লেখাগুলোকে ‘যাযাবরের’ কিংবা ‘জরাসন্ধের’ লেখার সঙ্গে তুলনা করেছেন’, এবং তিনি ‘একটু হলেও পুলকিত’ হয়েছেন, এতে আমার সায় নেই। অস্বীকার করি না, তাঁদের সময়ে যাযাবর বা জরাসন্ধ ছিলেন অতি জনপ্রিয় লেখক। কিন্তু এখন তাঁদের ওপরচালাকিটা খুব প্রকটভাবে ধরা পড়ে। যাযাবরের কথার চটকদারি অন্তঃসারশূন্য। জরাসন্ধ জেলখানার কয়েদিদের নিয়ে গল্প ফেঁদেছেন। তাকেও আতিশয্য মনে হয়। সময়ের ব্যবধানে আমরা কিছুটা সাবালক হয়েছি। মেকি সোনার চাকচিক্যও মুছে গেছে। তাঁদের সমতুল্য বলে গণ্য হওয়ায় ‘পুলকিত’ বোধ করার কোনো কারণ দেখি না। আমার বিবেচনায় সেলিম অনেক বেশি পরিণত, সংযত, আন্তর সত্যে নিবিষ্ট ও গভীরতা-সঞ্চারী। তাঁর ভাষার প্রসন্নতা– স্বীকার করি, কোথাও কোথাও বিষন্ন; এবং তাঁর মাত্রাজ্ঞান, বিশেষভাবে আমার মনে দাগ কাটে। লেখা তাঁর বাস্তবতার সত্য-ভূমি থেকে উঠে আসে। অভিজ্ঞতা কষ্টিপাথরে যাচাই করে নেওয়া। তারই প্রতিফলনে তাঁকে দেখি। তাঁর অনুভবের পবিত্রতাকে শ্রদ্ধা করতে পারি। বার বার নমিত হই।
টুকরো টুকরো লেখা জড়ো করে, তাদের পাঁচ ভাগে সাজিয়ে ১৮৪ পৃষ্ঠার এই বই নির্মিত হয়েছে। ভাগগুলো ক্রমানুসারে এমন: ১. স্মৃতি-কণা, ২. চিন্তা-চেতনা, ৩. সময়-সমাজ, ৪. স্বদেশ-বিদেশ ও ৫. শ্রদ্ধা-তর্পণ। সব লেখাই ছোট। সবচেয়ে বড় পাঁচ পৃষ্ঠার। বেশিরভাগ, দুই-তিনের ভেতর। এক পাতারও আছে। অনুমান, ফেসবুকে কথালাপে এর চেয়ে বড় হলে আশঙ্কা থাকে চেনা-অচেনা পড়ুয়াদের মুখ ফিরিয়ে নেবার। বিকল্প পাতায় ঢুঁ মারবার তাগিদ থাকে তাঁদের। এঁদের আকৃষ্ট করার বিষয়টি বোধ হয় সবসময় লেখকের মাথায় কাজ করে। লেখা মন্তব্যসর্বস্ব অথবা ভঙ্গিসর্বস্ব হয়ে পড়া এতে খুবই সম্ভব। সেলিমের বেলায় তা হয়নি। বরং বিপরীতে অল্প কথায় বেশি বলার, এবং সম্পূর্ণ করে বলার যে কৌশল আমাদের তৃপ্তি দিয়ে আরো তৃপ্তির আশা বাড়ায়, তিনি তা অনায়াস-দক্ষতায় আয়ত্তে আনেন। ক্ষুদ্রতম লেখাটিও এখানে সুগঠিত ও সুসম্পূর্ণ। যদিও বহিরঙ্গে কসরতের কোনো ছাপ নেই। অন্তর্লীন ভাব পুরোপুরি ফোটে। তার রেশের সম্মোহন বারবার পড়েও মিলিয়ে যায় না। সম্ভবত প্রেরণার মূলে তাঁর ‘বেনু’; যিনি নেই, কিন্তু আছেনও। সেলিমের চেতনায় তাঁর ‘হাতের’ ছোঁয়া বিরতিহীন। আবার তা দিগন্তে ছড়ায়। আলাদা-আলাদা লেখার বিষয় যাই হোক না কেন। ফেসবুকে মানিয়েও যায়।
এখানে সব লেখাই উত্তম। লেখকের পরিমিতিবোধ আবার উল্লেখ করার মতো। হুল্লুড়েপনা কোথাও নেই। তবে প্রশান্তির আকুতি আছে। ‘প্রাণের পরে চলে’ যায়। অবশ্য ‘বসন্ত’ নয়, ঝিরঝিরে বর্ষার মৃদু ‘বাতাসটুকুর মতো’। পড়বার সময় কারো ব্যক্তিগত স্মৃতির সমীকরণ যদি ঘটে, তবে ওই বাতাস আর মৃদু থাকে না, চেতনায় উত্তাল হয়। কখনো বা আক্ষেপ মাথা কোটে। সেলিমের লেখা কিন্তু আবেগে ভেসে যায় না। প্রশান্তির আবরণ একটা থেকে যায়। এবং ওই আবরণই আমাদের আকুতি বাড়ায়। শুদ্ধস্নাত আকুতি। আমার বেলায় এমনটি হয় যখন তিনি আমার মুশাররফ হোসেন স্যর, কবীর চৌধুরী স্যর, দ্বিজেনদা(দ্বিজেন শর্মা) এঁদের প্রসঙ্গে আসেন। যাঁদের সঙ্গে পরিচয় হয়নি, অথচ তাঁদের কীর্তিকথা জানি, যেমন শহীদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, মিশুক মুনীর, নাদিন গার্ডিমার– তাঁদের কথা তুললেও। এতটুকু বাড়িয়ে তিনি লেখেননি, লেখার মহিমা খাটোও হয়নি। সব মিলিয়ে চেতনায় ‘করুণ রঙিন পথ’ একটা খুলে যায়। সেলিম নিজের লেখালেখির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আবুল হাসনাতের সশ্রদ্ধ উল্লেখ করেছেন, তিনিও কিন্তু এখনও ওই পথে এক যোগ্য সারথি।
‘বেলা-অবেলার কথা’-র লেখাগুলোতে সেলিম জাহান অনেক প্রসিদ্ধ রচনার টুকরো-টুকরো কলি মিশিয়ে দিয়েছেন। কোথাও তাল কাটেনি। বরং তাঁর লেখাই উজ্জ্বল হয়েছে। তারপরেও, দু-এক জায়গায় আমি থমকে দাঁড়িয়েছি। যুৎসই হয়নি বলে নয়। লেখায় যুৎসই হলেও ভাবনাকে পথভ্রষ্ট করে কিনা, এই সংশয়ে।
‘প্রস্তাবনা’-য় পড়ি, “মেলাবেন তিনি মেলাবেন, নেহাত মিছে কথা কননি কবি অমিয় চক্রবর্তী।” পরে আর একবার চোখে পড়ে এই উদ্ধৃতি। তবে পারিপার্শ্বিকের সঙ্গে মিলিয়ে সেখানে অনিশ্চয়তাও একটু মেশানো। একে কথার কথা মনে করে পড়লে কিছু বলার থাকে না। কিন্তু ভাবনা-শৃঙ্খলায় যদি জুড়ে দিই, তবে একটু গোলমালে পড়ি। অমিয় চক্রবর্তী তাঁর স্থান-কালে ঘটনা-দুর্ঘটনার দোলাচলে নৈরাশ্যের অন্ধকার পাড়ি দিতে হয়তো নিজেকেই এভাবে সাহস জুগিয়েছেন। হতে পারে ‘তিনি’ নৈর্ব্যক্তিক, অথবা বাস্তবের কোনো মহাত্মা। কিন্তু ভিন্ন সময়ে তার চলমানতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোবার প্রাণান্ত চেষ্টার ভেতরে এ প্রশ্ন নিশ্চয় অসংগত হবে না, ওই ‘তিনি’ কে? অথবা ‘তিনি’ কী? আগেই বলে রাখি, কবিতাটি আমারও খুব প্রিয়। তবে মেলানোটাই যথেষ্ট কিনা, জানি না। বাস্তবে প্রতিটি মুহূর্ত গণনাতীত অনিশ্চয়তায় ভরা। যা ঘটে তা অনন্য। এক ধরনের সমীকরণ-ফল বটে। সে অর্থে ‘মেলানো’। কিন্তু এরকম সব ফলই কি কাম্য? মানবসভ্যতার ইতিহাস অবশ্য বলে, ‘পতন-অভ্যুদয়-বন্ধুর পন্থা’য় তার অগ্রাভিযান এখনও অপ্রতিহত। তাই বলে এইটিই কি সর্বোত্তম মেলাবার পথ? ইতিহাসই কি শেষ কথা? তেমন হলে প্রতিদিনের অসংখ্য অন্যায় মেনে নিতে হয়। আর ইতিহাসের বিকল্প পথ কিছু অধিকতর কাম্য হতো কিনা, জানা হয় না। প্রশ্নটিই হয়তো অবান্তর হয়ে যায়। সেলিমের কাছেও কি তাই? ‘বিশ্বাসে মিলায় কৃষ্ণ, তর্কে বহুদূর’– এতে শান্তি মেলে হয়তো, কিন্তু ইতিহাস গড়ার সমিধ মেলে না। ‘তিনি মেলাবেন’ বলে বসে না থেকে ‘মারের সাগর পাড়ি’ দেবার অভিযানে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হওয়াই বোধহয় ভালো। ফল যা-ই হোক। সেলিম জাহান যে সব প্রসঙ্গে উদ্ধৃতিটি দিয়েছেন, তাতে প্রাপ্তি বা অপ্রাপ্তির অভিজ্ঞতা বা সম্ভাবনার সঙ্গে তা খাপ খায়। কিন্তু তার ব্যাপ্তি ছোট হয়ে আসে। সম্মুখ সমরে তার মুখোমুখি হবার আগ্রহও। এও আজ অজানা নয়, বিপুল মহাবিশ্বে সূর্য নামে নক্ষত্রকে ঘিরে আবর্তিত পৃথিবী নামের এক গ্রহে মানুষ অসংখ্য প্রাণীর ভেতরে একটি। হয়তো তাদের ভেতরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই অকল্পনীয় বিস্তারে, ছায়াপথে-ছায়াপথে নীহারিকাপুঞ্জের নৈর্ব্যক্তিক আয়োজনে কিন্তু তা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিন্দুবৎ। এখানে অপার্থিব জগতে সব ব্যক্তিমানুষের ভাগ্য নিয়ে কোনো শক্তি তার ইচ্ছার প্রকাশ ঘটাচ্ছে, এটা ভেবে সান্ত¦না পেতে পারি, বেঁচে থাকার আপন আপন নৈতিক দায় এড়িয়ে যেতে পারি, কিন্তু এ সবের কোনো অনুধাবনেয় ভিত্তি নেই। মেলাবার দায়িত্ব নশ্বর মানুষের নিজের ওপরই পড়ে।
সেলিম জাহান আর-এক জায়গায় বুদ্ধদেব বসুর বহুচর্চিত এই নিদান উদ্ধৃত করেছেন, ‘শুধু তা-ই পবিত্র, যা ব্যক্তিগত’। এখানেও বিষয়ের সঙ্গে তা চমৎকার খাপ খায়। কিন্তু আর্ষবাণীতুল্য এই ঘোষণা কি কোনো সাধারণ স্বীকৃতি দাবি করতে পারে? একে মানলে বলতে হয় ‘ব্যক্তিগত’ ছাড়া কিছু পবিত্র নেই। কিন্তু ‘পবিত্র’ স্বয়ং তো নৈর্ব্যক্তিক এবং বিমূর্ত। ব্যক্তির অনুভবে তার অনুরণন জাগতে পারে। এবং তা যথার্থ। কিন্তু তাকে অতিক্রম করে সমষ্টির অর্জনে বা বিসর্জনে কি ‘পবিত্রে’-র আবির্ভাব ঘটে না? এই বইতেই ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’ ও ‘বিজয়ফুল: আমাদের সত্তার প্রতীক’ লেখা দুটো পড়ি; ওখানে যা জাগে, তা কি ‘পবিত্র’ নয়? আবেগ কি এখানে শুধু ব্যক্তির, না সমষ্টিরও? এবং ব্যক্তির আবেগের উৎস নয় কি সমষ্টির অর্জন, এবং অর্জনের পেছনে দুঃখ-বরণ? যুক্তি দিয়ে সাজাতে গেলেও দেখা যাবে বুদ্ধদেব বসুর বানানো কথা কতটা ওপর-চালাকি। তবে যে প্রসঙ্গে এই উদ্ধৃতি তা আমাদের হৃদয়েও ‘পবিত্র’ আক্ষেপ জাগায়। ‘আমরা’ সেলিমের সঙ্গে দুঃখের তিমিরে একাত্ম হই। বুদ্ধদেব বসুর চমকপ্রদ কাব্যবচন সেখানে কিন্তু পথ আগলাতে চায়।
আরো দু-এক জায়গায় এমন তাল কেটেছে আমার। হয়তো আমি যথেষ্ট সংবেদনশীল নই। তেমন হলে ত্রুটি আমারই। সেখানে সেলিমকে বলি, তিনি যেন এসব ভীমরতিগ্রস্তের বাখোয়াজি বলে উড়িয়ে দেন। বইটি আমার ভালো লেগেছে, খুব ভালো! সবাইকে ডেকে ডেকে বলতে ইচ্ছে করে।
সব শেষে এই ভালোলাগার সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন একটা বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করি। সেলিম জাহান যতদূর সম্ভব ‘শুদ্ধ’ বাংলায় লেখার চেষ্টা করেন। উদ্দেশ্য সাধু। আমাদের শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে ওঠেন তিনি। এই মনোভাব থেকে সম্ভবত ‘ফেসবুক’ না লিখে তিনি তাকে চেনান ‘অবয়বপত্র’ বলে। তাঁর মতো আরো একজন, দেখছি ওই জায়গায় ব্যবহার করছেন ‘মুখচ্ছবি’ শব্দ। আমার মনে হয়, ভাষার ব্যবহারে দেশ-কালে কর্ম-সংযোজনাও একটা উপাদান। এখন তো আরো বেশি। নিজেদের অজান্তেই কত নতুন শব্দ বিশেষজ্ঞ-নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই কথায় চালু হয়ে যাচ্ছে। ‘ফেসবুক’ এখন বাংলায় চালু শব্দ। একই রকম ‘মোবাইল ফোন’। ‘চেয়ার’, ‘টেবিল’-এর মতো এরাও বাংলায় স্বয়ংসিদ্ধ। এমনটিই স্বাভাবিক। স্বাস্থ্যকরও। কাজের সম্পর্কে যোগাযোগের নিবিড়তা বেড়ে যাবার ফল এটা। দুর্বলতার নয়, বরং ভাষার সজীব সক্ষমতার পরিচয়। খেয়াল করি অক্সফোর্ড ইংরেজি অভিধানে প্রতিটি নতুন সংস্করণে হাজার-হাজার বাড়তি শব্দ যোগ হয়। অধিকাংশই ঢোকে বিদেশি কার্য-কারণে। আমাদের বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত, জামিল চৌধুরী সম্পাদিত সর্বসাম্প্রতিক ‘আধুনিক বাংলা অভিধান’-এও(প্রথম সংস্করণের প্রকাশকাল ২০১৬-র ফেব্রুয়ারি) দেখছি ‘ফেসবুক’(পৃ. ৯০৩) শব্দটি সাদরে ঠাঁই পেয়েছে। গ্রহণ-বর্জনের ভেতর দিয়ে যে কোনো সজীব ভাষার পথ চলা। যদি তা কারো মাতৃভাষা হয়, তবে তা তার সজীবতার লক্ষণ। সেলিম জাহানের প্রয়াস সাধু। কোথাও কোথাও চমৎকার লাগসই। তবে এটি তাঁর লেখার প্রাণসম্পদ নয়। এমনটি না হলেও এই বই একই রকম সমাদর পেতো।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাহমুদ রিজভী — মে ১০, ২০১৮ @ ৯:০০ অপরাহ্ন

      অনেক ভালো লাগলো। বিস্তারিত আলোচনা। কিন্তু বইটি কোন প্রকাশনী ছেপেছে, জানা হল না…

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম — মে ১১, ২০১৮ @ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

      বই নিয়ে আলোচনার পেছনে বইয়ের গুরুত্ব, লেখকের পরিচিতি, পাঠকের রুচি কত বিষয় কাজ করে। সবমিলিয়ে আসল কথা হচ্ছে বইটির দিকে পাঠকের মন নিয়ে যাওয়া। বেলা- অবেলার কথা’র কয়েকটি অংশ পড়েছি। সনৎ কুমার সাহা এক জায়গায় আলোচনা করেছেন, ” এই যে বুদ্ধদেব বসুর একটি উক্তি তুলে এনেছেন ‘শুধু তা-ই পবিত্র, যা ব্যক্তিগত’। একে বিষয়ের সাথে চমৎকার মানিয়ে গেলেও আর্ষবাণীতুল্য এই ঘোষণা কি কোনো সাধারণ স্বীকৃতি দাবি করতে পারে? “। এখন আমারও প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে যা ব্যক্তিগত নয় তা অপবিত্র? যদিও বলাই আছে বিষয়ের সাথে মানিয়ে গিয়েছে। এইসব নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি সমালোচনার নয়, পাঠ আনন্দের। সেলিম জাহানের গদ্যের পাঠক আমি কিন্তু সনৎ কুমার সাহার আলোচনার এই দৃষ্টিভঙ্গি দেখে আবার পড়তে ইচ্ছে করছে।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com