মোহাম্মদ ইকবাল: যুদ্ধ মানে রাইফেল নিয়ে, পতাকা নিয়ে দৌড়াচ্ছে— শুধু এটাই না

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৩০ এপ্রিল ২০১৮ ১:১৩ অপরাহ্ন

ভূমিকা ও সাক্ষাৎকার: শিমুল সালাহ্উদ্দিন

মোহাম্মদ ইকবালের ক্যানভাসে জাপানি কাগজে আঁকা বিস্ফোরিত ক্ষয়িষ্ণু চোখেরা তাড়িয়ে বেড়াবে যে কোন অনুভূতিপ্রবণ মানুষকে। জগতের সমস্ত অন্যায়, অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে রঙ ও রেখায় যেনো প্রতিবাদ করছেন শিল্পী। জাপানে শিক্ষা নেয়া এই শিল্পী ২০০৫ সালে পেয়েছেন চিত্রকলায় দেশটির জাতীয়ভাবে প্রদত্ত আওকি সিগেরু গ্রান্ড প্রাইজ, অথচ নিজের দেশেই বলা যায় তার প্রতিভা প্রচারের আলোর বাইরে। ইকবাল তাঁর উদ্ভাবনী কৌশল, নিরীক্ষাপ্রবণতা ও স্বতন্ত্র বিষয়ের গুণে বাংলাদেশের চিত্রকলার ভুবনে এক সম্ভাবনাময় চিত্রকর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন চারুকলার শিক্ষার্থী থাকতেই। দীর্ঘ সময় তিনি কাজ করে সমাজবিচ্ছিন্ন, গৃহত্যাগী, সংসারে উদাসীন মানব-মানবীর যে-চিত্র অঙ্কন করেছিলেন, তাতে তাঁর শিল্পীমনের আর্তি ছিল। এসব ছিন্নমূল মানুষের জীবনের অন্তর্গত বোধকে তিনি বিশ্বস্ততার সঙ্গে রূপায়িত করেছিলেন তার তেলরঙের ক্যানভাসে। শিল্পী ইকবাল তাঁর শিল্পীজীবনের এক পর্বে এবং সৃজনে এই ব্যবহার্য বস্তুসামগ্রী ঢালাওভাবে ব্যবহার করে নিজেকে আলাদা পরিচয়ে চিহ্নিত করেছিলেন।

পরবর্তীকালে সন্ন্যাস-জীবনের নানা অনুষঙ্গের পাশাপাশি তিনি অঙ্কন করেছিলেন সাধারণ মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক ও মানুষের নানা অভিব্যক্তির অবয়ব। কষ্ট ও যন্ত্রণার ছায়া ছিল এসব সাধারণ লোকের মুখাবয়বে। অভিনবত্বে, চমৎকারিত্বে ও রং-ব্যবহারের মনোজ সুষমার কারণে তাঁর সৃজনভূমি মৃত্তিকালগ্ন ও দেশভাবনার উজ্জ্বল প্রকাশ বলে বিবেচিত হয়েছিল।

মোহাম্মদ ইকবালের জন্ম ১৯৬৭ সালের ১৮ই জুন চুয়াডাঙ্গা শহরে। বাবা আশরাফ উদ্দিন ছিলেন ব্যবসায়ী। মাতা নূরজাহান বেগমের দশ সন্তানের মধ্যে পঞ্চম পুত্র ইকবাল। ১৯৮২ সালে শিল্পী হবার স্বপ্ন নিয়ে শিল্পশিক্ষা শুরু করেছিলেন চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগে। ১৯৮৯ সালে সম্পন্ন হয় তার স্নাতকোত্তর।

চারুশিক্ষা পেয়েছেন মোহাম্মদ কিবরিয়া, কাজী আবদুল বাসেত, রফিকুন নবীর মতো বড় শিল্পীদের। ইকবাল জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে ১৯৯৯ সালে জাপান যান। চিত্রকলায় উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা তাঁর মানসভুবনকে আরো পরিশীলিত, সমৃদ্ধ, নিরীক্ষাপ্রবণ ও শিল্পের অন্বিষ্টভুবন নির্মাণে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

ইকবাল পরবর্তিকালে জাপানে অবস্থান সত্ত্বেও তিনি সাম্প্রতিক জাপানি চিত্রকলার প্রবণতায় প্রভাবিত হননি। বিদেশের সমাচ্ছন্ন প্রভাব বহু শিল্পীকে গ্রাস করে ফেলে। মৌলিকত্ব যায় হারিয়ে। এমনকি অনেকেই পাশ্চাত্যের নানা প্রবণতার অন্ধ অনুকরণে দেশ ও শেকড় থেকেও বিচ্যুত হন। মোহাম্মদ ইকবাল পা দেননি সেইসব ফাঁদে।

ইকবালের শিল্পচৈতন্যে এক নিজস্ব পথ নির্মাণের তাগিদ ছিল। তাঁর সৃষ্টিতে বিমূর্ত প্রকাশবাদী ছোঁয়া থাকলেও মানুষের অবয়ব গঠন ও রঙের ব্যবহারে এলো নমিত উজ্জ্বলতা। হিংসা, যুদ্ধ ও বর্বরতার বিপরীতে তিনি আকাঙ্ক্ষা করেন শান্তি। এই আকাঙ্ক্ষার ফল হিসেবেই ২০০৫ সাল থেকে তাঁর শিল্পের ভুবনে অনুষঙ্গ হিসেবে শিশুমুখের নানা অভিব্যক্তির রূপ আমরা লক্ষ করি। এই শিশুমুখগুলোর অভিব্যক্তি, তাদের চোখের দৃষ্টি অনেক বেশি স্পষ্ট। এই অভিব্যক্তি অনেক ক্ষেত্রে অর্থময়। এসব অভিব্যক্তিতে যে বিষাদ ও অনিশ্চয়তাজনিত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ক্রিয়াশীল তাতে শিল্পীমনের শান্তির প্রত্যাশা আরো গভীরভাবে উচ্চকিত।

ধানমণ্ডি ও গুলশানের এইজ গ্যালারিতে চলছে শিল্পী মোহাম্মদ ইকবালের একক প্রদর্শনী সাইলেন্ট রিভিলেশনস বা নীরব উন্মোচন। রঙ ও রেখায় বিস্ফোরিত অবাক সব চোখে বর্তমান পৃথিবীর যুদ্ধহানাহানিসহ রাজনৈতিক অস্থিরতা ফুটিয়ে তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের চিত্রায়ন ও অঙ্কন বিভাগের এই শিক্ষক। তার সাথে আলাপ করেছেন কবি শিমুল সালাহ্উদ্দিন।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আলাপ শুরু করি ইকবাল ভাই। তো, কি বিষয় নিয়ে এবারের প্রদর্শনী?
মোহাম্মদ ইকবাল:আমার বিষয় হলো লস্টস চিল্ড্রেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড। এটাই আমার মূল বিষয়। এই বিষয় নিয়ে আমি ২০০৫-০৬ থেকে কাজ করছি। এটা নিয়ে আমার গবেষণাও আছে। পিএইচডির যে থিসিস, এই বিষয় নিয়েই। আমি যেহেতু পিএইচডি করেছি ফাইন আর্টসে, সেখানে প্রাক্টিক্যাল এবং থিসিস— উভয়ের সমন্বয়ে এই ডিগ্রিটা। তো এই সাইলেন্ট রিভিলেশন শিরোনামটা আসলে গ্যালারি থেকে সিলেক্ট করা হয়েছে। আমার টোটাল এগজিবিউশনের পেপারস, লেখা সবকিছু থেকে গ্যালারি কর্তৃপক্ষ এটা সিলেক্ট করেছে। আমারও ভালো লেগেছে নামটা।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: প্রায় পঞ্চাশটার মতো কাজ এখানে দেখতে পাচ্ছি। আপনি বলছেন গুলশানের গ্যালারিতেও আরো কিছু কাজ আছে। তো একই শহরের দুইটা জায়গায় একটা প্রদর্শনী হচ্ছে, ব্যাপারটা শিল্পী হিসেবে আপনার কাছে কেমন?
মোহাম্মদ ইকবাল: আমার কাজের সাইজ এবং মাধ্যম একটু ডিফারেন্ট। এবং একটা গ্যালারিতে এতগুলো ছবি প্রদর্শন করা সম্ভবও না, এ জন্য আমি চিন্তা করলাম, দুইটা গ্যালারিতে একসাথে ছবিগুলো প্রদর্শন করব। এবং গ্যালারি কর্তৃপক্ষও একসেপ্ট করলো। অন্য কোনো চিন্তা (ভাবনা) করিনি। কাজগুলো ডিসপ্লে করতে হবে সে জন্যই করা।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আমি যদি ভুল না করি, দীর্ঘদিন পরে আপনার প্রদর্শনী হচ্ছে।
মোহাম্মদ ইকবাল: আমার লাস্ট এক্সিবিশন ২০১৪ তে। গ্যালারি কায়া। কিন্তু এর পাশাপাশি আমার প্রতি বছর সলো এক্সিবিশন হচ্ছে। প্রদর্শনী প্রতি বছরই আমি করছি। এবারের এটা বিয়াল্লিশতম প্রদর্শনী। এবং আমার অধিকাংশ সলো এক্সিবিশন জাপানে। বাংলাদেশে ১০/১২ টার মতো হয়েছে। আর বাকিটা পুরাটাই জাপানে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনার কাজের যে টেকনিক, এটা বাংলাদেশের শিল্পী-মহলে বেশ আলোচিত। আপনার বিস্ফোরিত চোখের শিশুদের অনুভূতি— এটা নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। সিনিয়ররা লিখেছেন। কথা বলেছেন। আপনার টেকনিকের কথা যদি আমাদের বলেন, কোন টেকনিক আপনাকে এই সময়ের অন্য শিল্পীদের থেকে আলাদা করেছে?
মোহাম্মদ ইকবাল: আমি তেল রং-এ (অয়েল পেইন্টিং) কাজ করতে বেশি পছন্দ করি। এটা আমার মূল মাধ্যম।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এটা আপনার সিগনেচার হয়ে গেছে প্রায়—
মোহাম্মদ ইকবাল: হ্যাঁ, অয়েল মাধ্যমেই আমি কাজ বেশি করি। এই বিষয়ে আমি অনেক গবেষণাও করেছি। যখন আমি জাপাতে পড়াশোনা করি… আমাদের এখানে সমস্যা হলো, আমরা যখন স্টুডেন্ট ছিলাম, আমি নিরানব্বই সালের আগের কথা বলছি, এই সময় পর্যন্ত আমরা কিন্তু ভালো আর্টস মেটেরিয়ালস পাইনি। এটা সাংঘাতিক সমস্যা। বাংলাদেশে এখন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ফাইন আর্টস ফ্যাকাল্টি হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের আর্টস মেটেরিয়ালসের স্বল্পতা রয়েছে। তো আমি যখন নিরানব্বই সালে জাপানে গেলাম, পড়তে, চিন্তা করলাম এখানে তো অনেক আর্টস মেটেরিয়ালস পাব। প্রফেসর আমাকে রং দিলেন, আমি ভাবলাম এই মেটেরিয়ালসগুলো প্রোপার ওয়েতে কাজে লাগাই। এটা নিয়ে আমি গবেষণা করি, অয়েল কালারকে কীভাবে অন্যরকম করে উপস্থাপন করতে পারি। তো সেই চিন্তাভাবনা নিয়ে আমি প্রচুর পড়াশোনা করেছি। জাপানে যাওয়ার আগে, বাংলাদেশে আমার বিষয় ছিল বাস্তবানুগ, ফিগারধর্মী কাজ করতাম আমি। ফিগারেটিভ কাজ আমি পছন্দ করতাম। আপনারা হয়ত জানেন, বিবাগী মানুষ বা সন্ন্যাসব্রত পালন করা মানুষ, বাউলদের নিয়ে আমি দীর্ঘ সময় কাজ করেছি। জাপানে যাওয়ার পর একটু চেঞ্জ করতে চাইলাম। ওখানে যাওয়ার পর অটোমেটিক্যালি চেঞ্জ শুরু হলো। যখন মেটেরিয়ালস নিয়ে গবেষণা করছি, তখন অয়েল কালারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আমি এক্সপেরিমেন্ট করেছি। অয়েল কালারের একটা পেইন্টিং করতে আমি অনেক সময় নিই। প্রথমে আমি অয়েল কালারের সার্ফেস তৈরি করি। আমার একেকটা কাজে সাত আটটা লেয়ার আছে। লেয়ারের পর লেয়ার সাজানোর পর আমি ভিন্নভাবে বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করি। সবশেষে আমার যে মূল বিষয়, সেটাকে সাবজেক্টে নিয়ে আসি। একটা টেকনিক আছে, পেইন্টিঙের মধ্যে সূক্ষ্ম নাইফের এফেক্ট তৈরি করি। সেটা আমি কালারের মাধ্যমে এক্সপেরিমেন্ট করেছি। আমার কাজের আরেকটা বৈশিষ্ট্য হলো লাইনের ব্যাপার। জাপানে যখন ছিলাম, জাপানিজ ক্যালিগ্রাফি, পারসোনালি আমি শিখেছি। জাপানিজ ক্যালগ্রাফির একটা বৈশিষ্ট্য হলো, একই ব্রাশে খুব সূক্ষ্ম লাইন দেয়া যায় আবার মোটা লাইন দেয়া যায়। এটা শেখার পর আমি ভাবলাম এই লাইনগুলো পেইন্টিঙের ভেতর লাগাতে পারি কি না। থিকনেসে ঠিক রং আমি পাতলা করে ব্যবহার করে ক্যানভাসে একটা চরিত্রকে বা একটা সাবজেক্টকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। অনেক সূক্ষ্ম লাইন আছে আমার।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনি আমাদের এখানে চারুকলার ছাত্র ছিলেন। এখন শিক্ষক। এখানকার শিল্পের যে অভিযাত্রা, সেটার সাথে আপনি পরিচিতই ছিলেন। জাপানে পড়াশোনা করার কারণে আপনার মধ্যে নতুন অনেক কিছু যুক্ত হয়েছে।
মোহাম্মদ ইকবাল: যে কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে আপনার একটা পরিবেশ, আপনার শিক্ষাগ্রহণের পাশাপাশি পরিবেশ কিন্তু আপনাকে অনেক কিছু শিক্ষা দেয়। মানুষের সাথে মিশে, ওই দেশের কালচার, ওই দেশের খাবার, ওই দেশের সবকিছু আপনাকে প্রভাবিত করবে। জাপানে একবার আমার একক প্রদর্শনী হচ্ছে, আমি আমার আগের বাংলাদেশের ক্যাটালগগুলো রাখছি, তো একজন আর্টিস্ট-দর্শক আমার এক্সিবিশনে এসে বলছে, এটা ২০০১ সালের কথা বলছি, সে বলে যে, তোমার আগের ক্যাটালগ দেখেছি, তোমার এখনকার রং এতো ফ্রেশ কেন! ব্রাইট। একটা জিনিস খেয়াল করবেন, পরিবেশের কারণে আর্টিস্টটের উপর একটা প্রভাব পড়ে। দেখবেন, আমার কাজের মধ্যে খুব মিনিমাইজ কালার, আবার খুব ব্রাইট রং। আমার আগের কাজগুলোর মধ্যে ডার্কনেস ছিল। এটা পরিবশের কারণে। আমাদের পরিবেশে চারদিকে ধূলা-ময়লা। আমরা ছবিও আঁকতাম, ভাঙাচোরা ঘর, ময়লা রাস্তা, নোংরা ক্ষেত বা বস্তি, এসব জায়গায়। পরবর্তীতে, আমার অজান্তেই, পরিবেশের কারণে সুন্দর শহর, নিট এন্ড ক্লিন— এগুলো ছবির মধ্যে প্রভাব বিস্তার করেছে। জাপানে যাওয়ার পর এক্সপেরিমেন্ট করার সময় বিমূর্তধারার কাজ আমাকে আকৃষ্ট করে মানে, বিমূর্তধারা বলতে, দেখে মনে হবে বিমূতর্ধারা। কিন্তু আমার এগুলো ল্যান্ডস্কেপ-ধর্মী কাজ। যেহেতু আমার প্রত্যেকটা সাবজেক্টের সাথে রিলেশন আছে।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অয়েলেও আপনি যত কাজ করেছেন, সেগুলোর বেশিরভাগই রিয়েলিস্টিক বা বাস্তবধর্মী কাজই ছিল। এবং, আমি যদি ভুল না করি, আপনার আগের কাজও তাই। এখন আমি জানতে চাই যে, এখানে আপনার পঞ্চাশটা কাজ, ওখানে বড় বড় দুইটা কাজ, এই কাজগুলো নিয়ে আপনি আসলে কতটা সন্তুষ্ট?

মোহাম্মদ ইকবাল: মধ্যমের কথা বলছিলাম। একটা মাধ্যমে আমি কাজ করেছি। অয়েল কালারে। আর্টিস্টরা সব সময় নতুন নতুন কিছু খোঁজে। রিসেন্টলি আমি জাপানিজ পেপার ওয়াসি, এটার উপর আমি কিছু কাজ করেছি। এই কাজ করে এটার মধ্যে আমি আনন্দ পেয়েছি। এই যে যাত্রাটা, একটা পেইন্টিঙের ভ্রমণ থেকে মাধ্যমগতভাবে জাপানিজ পেপারে, ওয়াসিতে কাজ করেছি। তো এবারের প্রদর্শনীতে আমার এই ধরনের বেশকিছু কাজ আছে। এটাতে আমি আনন্দ পেয়েছি। আপনি অনেক আর্টিস্টকে দেখবেন, ওয়ার্ল্ডের নামকরা আর্টিস্টরা স্কাল্পচার করছে। পিকাসোর কথা বলেন, সে অনেক মাধ্যমে কাজ করছে। তো হাতের কাছে যা পাচ্ছি, সেটা দিয়ে একটা কিছু করা, এগুলের মধ্যে আর্টিস্টের তৃপ্তি আছে। আনন্দ পাওয়া যায়।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আমি এখানে এসে আপনার ক্যাটালগের লেখাটা পড়তেছিলাম। ট্রাঙ্কুইলিটি শব্দটা আপনার খুব প্রিয়। এই প্রদর্শনীর কাজের সাথে ট্রাঙ্কুইলিটিকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
মোহাম্মদ ইকবাল: কাজের মধ্যে সব সময় আমার ইমোশন কাজ করে। ছবি আঁকার সময় সাপোর্টিং হিসেবে কোনো ফটোগ্রাফ বা স্কেচ, এগুলো আমি কিছু করি না। আমার সব চরিত্র কাল্পনিক। ছবি যখন আঁকি, মনের একদম অভিব্যক্তি থেকে কাজ করি। মনের ভেতর থেকে আমার বিষয়টাকে তুলে ধরি। ওর ভেতরে আমি ঢুকে যাই। বিশেষ করে আমার ছবির বিষয়বস্তু হলো বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করা। মুখগুলো আমি যে আঁকি, আমি কোনো দেশকে উদ্দেশ্য করি না। আমি বিশ্বের মানুষকে আঁকি। বিশ্বের বাচ্চাকে আঁকি। বিশ্বের বিষয়গুলোকে চিন্তাভাবনা করি। কিন্তু আমি যেহেতু বাংলাদেশী, অজান্তে দেখা গেল যে আমার ছবির মধ্যে বাংলাদেশের মুখ আসতে পারে। বিভিন্ন দেশের মানুষ আসতে পারে। যখন মুখগুলো আঁকি, এক্সপ্রেশনটা আমার খুব ইমপর্ট্যান্ট পার্ট। ক্যারেক্ট্যারের অভিব্যক্তি, অনুভূতি— সেই জিনিসটা আমি তুলে ধরি। এটা কিন্তু আমি ফটোগ্রাফ দেখে যদি কাজ করি, এটা কিন্তু আসবে না। মানুষের অভিব্যক্তির কথা যে বলি, দুঃখ-বেদনা-আনন্দ— সবকিছুর ছাপ কিন্তু মানুষের মুখের মধ্যে পড়ে। মুখে ছাপ পড়লেও চোখটা কিন্তু বেশি ইমপর্ট্যান্ট। এই চোখটা দিয়ে বোঝা যায় তার আনন্দ-বেদনা-কষ্ট। এ জন্যই আমার মুখের যে অংশ, সেখানে চোখটাকে ফোকাস করেছি। আমি যখন ছবি আঁকি, বড় সার্কেলে কাজ করতে পছন্দ করি। তখন আমি একটা মুখই আঁকি, কিন্তু একটা মুখের মধ্যে অনেক মুখ আঁকতে চাই। একটা মুখের মধ্যে অনেকগুলো মুখ দেখা যায়। ফেসের মধ্যে সব থেকে ইমপর্ট্যান্ট চোখ। মানুষের সবকিছু চোখের মধ্যে বোঝা যায়। সেই জিনিসটা আমি এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। চোখের ভাষা, ল্যাঙ্গুয়েজ অব দ্য আই— এই জিনিসটা আমি আমার ছবির ভেতর আনার চেষ্টা করি।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন: কথাটা কাব্যিক শোনাতে পারে—একটা মানুষের এতগুলো চোখ— এরা আপনাকে স্বপ্নের মধ্যে তাড়া করে না?
মোহাম্মদ ইকবাল: এগুলো নিয়ে আমি কখনো ভাবিওনি। কখনো স্বপ্নও দেখিনি। আমার পুরাতন কাজগুলো দেখলে দেখবেন যে আমার একটা ধারাবাহিকতা আছে। হঠাৎ করে আমি কিন্তু চেঞ্জ করি নাই। চেঞ্জ এসেছে টেকনিক্যাল-ম্যাটেরিয়াল সাইডে। সাবজেক্টে চেঞ্জ এসেছে। কিন্তু ছবির যে স্টাইল, সেটা কিন্তু আমার আগের কাজের সঙ্গে এখনো মিল আছে। আমি পড়াশোনার উদ্দেশে জাপানে গেছি। পড়াশোনার সিস্টেম সারা পৃথিবীতে সেইম। হয়ত আমাদের দেশের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে অনেক কিছুর স্বল্পতা আছে। উন্নত বিশ্বে সুযোগ সুবিধা বেশি। কিন্তু শিক্ষার যে ব্যাপারটা— এটা সব জায়গায় সেইম। আমরা ওখানে পড়াশোনা করেছি, শিক্ষক আমাদের কিন্তু প্রাক্টিক্যালি কিছু শেখাননি। শিক্ষক এসে দুটো কথা বললেন, কাজ দেখলেন, কিছু কথা শেয়ার করলেন। আমি কাজ করছি, আমার টিচার এ্যাডভাইস করলেন। মানে একটা ডিসকাশন। কিন্তু আমাকে তো প্রাক্টিক্যালি শিখিয়ে দিচ্ছেন না।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনি হিরোশিমায় ছিলেন…
মোহাম্মদ ইকবাল: জাপানে আমি চারটা ইউনিভার্সিটিতে পড়েছি। বাংলাদেশে একটায় পড়েছি। জাপান সরকারের স্কলারশিপের কারণে ইউনিভার্সিটি চয়েস করার সুযোগ আমার ছিল না। যে ইউনিভার্সিটিগুলোতে আমি ভর্তি হতে চেয়েছিলাম সেগুলোয় আমাকে চান্স দেয় নাই। এটা জাপানিজ এডুকেশন মিনিস্ট্রি ঠিক করে। আমি তিনটা টপ ইউনিভার্সিটির নাম দিয়েছিলাম। কিন্তু ওখানে না দিয়ে তারা আমাকে নাগোয়াতে দিল। নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ছয় মাস ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স করেছি। এটা করতেই হয়। বাধ্যতামূলক। কারণ আমি তো ল্যাঙ্গুয়েজ জানি না। তারপর আমি আইচি ইউনিভার্সিটি অব এডুকেশন-এ ভর্তি হই। এটাও ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। সেখানে আমি রিসার্চ এবং মাস্টার্স করেছি, আবারও। ওই ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি কোর্স নাই। তখন আমি ভাবলাম যে টোকিওতে ভর্তি হই। কিন্তু আমার প্রফেসর বললেন টোকিওতে ভর্তি হওয়া খুব কঠিন। কারণ ওখানে বাইরের স্টুডেন্ট নেয় না। এরপর আমি চলে যাই হিরোশিমা। ওটা ভালো ইউনিভার্সিটি। ভালো প্রফেসরও ছিলেন। ওখানে আমি ভর্তি পরীক্ষা দিলাম। রিসার্চ কোর্স পর্যন্ত পড়াশোনার পরে মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হতে হলে জাপানিজ স্টুডেন্টদের সাথে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়। আমি যদি পাশ না করি তাহলে আমার স্কলারশিপ ক্যানসেল হয়ে যাবে। মাস্টার্স কমপ্লিট করতে পারব না। এ জন্য আমার প্রফেসর গাইড করলেন, তুমি হিরোশিমাতে যাও। ওখানের পিএইচডি ভর্তি পরীক্ষা আরো কঠিন। আর স্টুডেন্ট নেয় খুব অল্প। তাও আমি জাপানিজ স্টুডেন্টদের সাথে ভর্তি পরীক্ষা দিলাম। সেখানে অন্য দেশের ফরেন স্টুডেন্ট থাকে। চাইনিজ, কোরিয়ান, ইউরোপিয়ান, আমেরিকান। তো তাদের সাথে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে আমি ওখানে টিকে গেলাম। তো এটা করে আমার পিএইচডিটা কমপ্লিট করতে আরো তিন বছর। এদিকে সাড়ে তিন বছর, ওদিকে পিএইচডিতে তিন বছর। ওখানে পড়াকালীন লাস্ট মুহূর্তে আমার প্রফেসর রিটায়ার্ড করলেন। এক বছর বাকি থাকতেই। ওই সময় আমি একটা পুরস্কার পেয়েছিলাম। গ্রান্ড প্রাইজ। অল জাপানের ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড। বড় মাপের পুরস্কার। এটার মান ছিল ত্রিশ লক্ষ টাকা বাংলাদেশি টাকায়। ২০০৫ এর কথা বলছি। এই মুহূর্তে আমার প্রফেসর গেল রিয়াটায়ার্ড হয়ে। খুব ভালো নামকরা প্রফেসর ছিলেন। এরপর আরেকজন আমার গাইড হলেন। আমার পুরস্কার পাওয়াতে কী না, তিনি হয়তো চাননি আমার পিএইচডিটা ওখানে হোক, মুখে বললেন, তুমি বাংলাদেশে চলে যাও। তুমি তো একজন আর্টিস্ট। পিএইচডির দরকার কী? আমি তো মহা ফ্যাসাদে পড়লাম। সে নিজেও মাস্টার্স করা। থিসিস টিসিস তেমন হয়তো কিছু বোঝে না। আমার মনে হলো, পুরস্কারটা কী আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল! তো আমি যে পুরস্কারটা পেলাম, ওটার জুরিবোর্ডে ছিলেন টোকিও ইউনিভার্সিটির একজন প্রফেসর। আমি হিরোশিমা থেকে টোকিও ইউনিভার্সিটিতে যোগাযোগ করলাম।

আমি বুঝেছিলাম যে আমার পিএইচডি ডিগ্রি দেবে না। আমি সব কাজই করেছিলাম। থিসিস রেডি ছিল। তখন আমি টোকিও ইউনিভার্সিটির প্রফেসরের সাথে যোগাযোগ করলাম। জাপানিজ প্রফেসরদের সাথে সরাসরি কথা বলা যায় না। উনাদের এসিটেন্ট টিচার আছে। তার সাথে যোগাযোগ করলাম। আমার পরিচয় দিলাম। এবার আমি গ্রান্ড পুরস্কারটা পেয়েছি। আমি একটু দেখা করতে চাই পিএইচডি সংক্রান্ত ব্যাপারে। আমি টোকিওতে আসলাম। আমার ইন্টারভিউ নিলেন। দেখলাম যে উনি আমার কাজের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। জুরিবোর্ডে পাঁচজন ছিলেন। তো পাঁচজনই নাকি আমার কাজটাকে মনোনীত করছে। পরে দেখে যে ফরেনার। ওটা ন্যাশনাল পর্যায়ের পুরস্কার। কিন্তু ক্যানসেল করতে পারবে না। কারণ আমি ওই দেশের নাগরিকের মতোই এটেন্ড করেছি। কারণ, আমি হিরোশিমার স্টুডেন্ট। হিরোশিমার ন্যাশনাল কার্ড আছে। ওখানে লেখাও থাকে। কোন সিটির নাগরিক পুরস্কার পেয়েছে? সে হিরোশিমার নাগরিক। এইভাবে লিখছে। তো আমার ওই প্রফেসর পেপার কাটিং নিয়ে আমাকে দেখালেন। আমি আগে ওসব দেখিও নি। বললেন তুমি খুব লাকি। তোমার কাজ আমি পছন্দ করছি। কিন্তু আমার এখানে তো বাইরের কোনো সটুডেন্ট পিএইচডি করতে পারবে না। এখানকার স্টুডেন্ট হতে হবে। তখন আমাকে বললেন যে তুমি রিসার্চ স্টুডেন্ট হয়ে যাও। এক বছরের রিসার্চ স্টুডেন্ট হয়ে গেলাম। এরপর পিএইচডির অনেক সিস্টেম আছে। কীভাবে থিসিস জমা দিতে হয় সব শিখলাম। ফোর থাউজেন্ড ওয়ার্ডের একটা প্রপোজাল দিতে হবে। দশটা বড় বড় পেইন্টিং জমা দিতে হবে। তো ওখানে আমি চান্স পেলাম। ওখানকার চান্স পাওয়া আরো কঠিন। ফিফটি পার্সেন্ট ফরেনার, ফিফটি পার্সেন্ট জাপানিজ। তো যেটা বলছিলাম, পরিবেশ… আমাদের শিক্ষার্থীরা যারা বিদেশে যায়, তারা শুধু শিক্ষাটা নিয়েই আসে। বাঙালি স্টুডেন্টরা ম্যাক্সিমাম বাঙালি কমিউনিটির মধ্যেই থাকে। এ জন্য কালচারটা ডেভেলপ করে না।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনার ভাষা শিক্ষাটা ভালো কাজে দিয়েছে।
মোহাম্মদ ইকবাল: আমার ওখানে ফরেনারই বেশি ছিল। ইউরোপিয়ান, আমেরিকান, চাইনিজ, কোরিয়ান— এদের সাথে আমার ওঠাবসা ছিল। জাপানিজরা তো ছিলই। আর খাবার বাছতে গিয়ে আমাদের দেশের মানুষদের সর্বনাশ হয়, অনেকেই মানিয়ে নিতে পারে না। আমি কোনো বাছবিচার করিনি।যেহেতু ধর্মীয় গোড়ামি নাই আমার। এই সমস্যা থাকলে একটা দেশ সম্পর্কে, কালচার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না। এখান থেকেই আমার একটা আলাদা শিক্ষা। জাপানিজ বয়স্ক মহিলারা, বুড়োরা ক্যালিগ্রাফি শেখে। ওরা খুব সুন্দর করে ক্যালিগ্রাফি আঁকে। তো আমার খুব আগ্রহ হলো। এটাও তো একটা আর্ট। আমি শিখলাম। শিখে পেইন্টিং-এর মধ্যে এপ্লাই করলাম।

রাসেল মাহমুদ: একটা জিনিস জানতে ইচ্ছা করছে। আমাদের এখানকার যেকোন আর্টিস্টদের তার কাজের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের আবহ চলে আসে। আপনি হিরোশিমায় ছিলেন। ঐতিহাসিকভাবে ওদেরও বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ওখানকার আর্টিস্টদের কি এই রকম প্রবণতা আছে?
মোহম্মদ ইকবাল: এটা তো অনেক হয়েছে। ওদের তো অনেক আর্টিস্ট অনেক রকম কাজ করেছে। এটা ওরা ধরে রাখে না। অনেক সময় কাজের মধ্যে অন্যভাবে ইনভলবড হয়। আমি যদি আমার নিজের কথাই বলি, যদিও আমি এটা কাউকে বলি নাই, কাজের বিষয়গুলো কোথা থেকে আসছে! স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমার বয়স চার বছর। আমার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা শহরে। ওই সময় আমি বোম্বিং করা দেখছি। আমার বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা দেখছি। আমি তো নির্যাতিতই। যুদ্ধ তো থেমে নেই। বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ চলছে। কিন্তু শিক্ষা, বিজ্ঞানে আমরা অনেক আগাচ্ছি। মানুষের চিন্তায় পরিবর্তন হচ্ছে। আপনাকে যদি বলি, বলবেন, আপনি যুদ্ধ চান না। তাহলে যুদ্ধ করে কে? যুদ্ধ কি থেমে আছে? যুদ্ধের কারণে আজকে যে পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে, এটার এফেক্ট পড়ছে বাচ্চাদের উপর। আগামী প্রজন্মের উপর। আমার দেশে এখন যুদ্ধ নেই। কিন্তু পৃথিবীতে যুদ্ধ চলছে। সিরিয়াতে, গাজাতে কীভাবে বাচ্চাদের মেরে ফেলা হচ্ছে! ওই শিশু-চিন্তা থেকেই আমি এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করছি। এখন আমি বড় হয়ে গেছি, কিন্তু ছোট বাচ্চারা আফগানিস্তানে যুদ্ধের মধ্যে থেকেই বড় হচ্ছে।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন: হ্যাঁ, অনেকের জন্য যুদ্ধটাই ওদের স্বাভাবিক অবস্থা।
মোহাম্মদ ইকবাল: ওই যে ছবিটা দেখালাম, ওটার সাব্জেক্টের নাম হলো লস্ট সিভিলাইজেশন। ওখানে দেখবেন আফগানিস্তানের হলোকাস্টটা আছে। বাচ্চার মুখ, জীবজন্তু, পাখি— এই কনসেপ্টটা নিয়েই ওটা করেছি। যুদ্ধের মধ্যেই ওরা বড় হচ্ছে। জঙ্গিবাদের বিপর্যয়– সব মিলায়ে ওটার অনেক বড় গল্প আছে। এটা সম্বন্ধে আমার থিসিসের মধ্যে অনেক লেখা আছে। য্দ্ধু মানে রাইফেল নিয়ে, পতাকা নিয়ে দৌড়াচ্ছে— শুধু এটাই না। আর্টিস্টরা অনেকভাবেই চিন্তাভাবনা করতে পারে। ছোট একটা একজাম্পল দিই। এই যে রোহিঙ্গাদের কথা বলি। আমি বলব যে আমার ছবির মধ্যে রোহিঙ্গাদেরকে নিয়ে আসছি। কত মেয়ে ধর্ষিতা হয়েছে! এই যে বিপর্যয়, এটা আমি নিয়ে আসছি। হাজারো মানুষের বেদনার্ত চোখ নিয়ে আসছি।

শ্রুতিলিপি: সাব্বির জাদিদ
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (7) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Shibly — এপ্রিল ৩০, ২০১৮ @ ৫:২১ অপরাহ্ন

      Wonderful representation. Excellent painter indeed.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রুহুল করিম রুমি — মে ২, ২০১৮ @ ১:৫৬ অপরাহ্ন

      বাহ। চমৎকার লাগল। ধন্যবাদ সংশ্লিষ্ট সবাইকে। আর্টসে আরও বেশি শিল্পীদের নিয়ে কাজ থাকা উচিত বলে মনে করি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আশরাফুল কবীর — মে ৪, ২০১৮ @ ১১:১৫ অপরাহ্ন

      এক কথায় চমৎকার সাক্ষাৎকার।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কামাল আহমেদ খান — মে ৫, ২০১৮ @ ৪:০৮ অপরাহ্ন

      চিত্রকলা নিয়ে আর্টসে প্রকাশিত কাজগুলোর উচ্চতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। দীর্ঘ কয়েকটি সাক্ষাৎকার পড়লাম শিমুল সালাহউদ্দিন ও রাজু আলাউদ্দিন, মানে দুই উদ্দিনের নেয়া, সাক্ষাৎকারগুলি আরো নিয়মিত প্রকাশ করার ব্যবস্থা করলে ভাল হয়। সম্পাদকের প্রতি অনুরোধ রইল, গুণে মানে অনন্য, আমি বলব, বিশ্বমানের এসব লেখা আরও গুরুত্ব দিয়ে, আরও বেশি সময় হোমপেজে রাখা যেতে পারে, আগে থেকে বিজ্ঞাপন দেয়া যেতে পারে, শিল্পীদের সাক্ষাৎকার আসছে, এমন। শুধু চিত্রকলা নিয়ে কাজগুলোর জন্য আলাদা বিজ্ঞাপনও নিতে পারে বলে মনে করি, বিডিনিউজের মার্কেটিং টিম। কন্টেন্টহীনতার দিনে, বিডিনিউজের উচিত এসব মূল্যবান কন্টেন্টগুলি ধরে ধরে বিপণন করা, আরও বেশি পাঠকের কাছে পৌছানোর চেষ্টা করা।

      কামাল আহমেদ খান
      নিউইয়র্ক

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুহম্মদ আবু রাজীণ — মে ১৩, ২০১৮ @ ১২:৪৪ অপরাহ্ন

      অসাধারণ সব চিত্রকর্ম!!!
      কাজ দেখে অনুমান করা যায় কতটা সাধনা আর একাগ্রতায় শিল্পী নিজেকে গড়ে তুলেছেন। আমি অন্তর থেকে স্যালুট জানাই শিল্পীকে। পাশাপাশি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিই তাদের প্রতি যাঁদের জন্য ইকবাল স্যারের মত একজন শিল্পীর সন্ধান পেলাম।

      …আশাকরি, তিনি এস এম সুলতান, জয়নুল আবেদীন স্যারদের মতই অমর হয়ে থাকবেন।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com