বেলাল চৌধুরী: বাংলা কবিতার আজন্ম বাউল

কামরুল হাসান | ২৬ এপ্রিল ২০১৮ ২:৩৭ অপরাহ্ন

আমাদের সাহিত্যাঙ্গণে তার চেয়ে বর্ণাঢ্য জীবন বোধকরি খুব কমজনই যাপন করতে পেরেছেন। এর তুলনীয় হতে পারে সৈয়দ শামসুল হকের বর্ণাঢ্য জীবন। যৌবনের প্রদোষকালে তিনি ঘর ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন পশ্চিমে। তবে পশ্চিম বলতে আমরা যে মহাদেশকে বুঝি, তিনি সেখানে যান নি, তিনি গিয়েছিলেন পশ্চিম বাংলায়, বাংলা সাহিত্যের রত্নভাণ্ডার যেখানে সজ্জিত।

যে ভাষার প্রেমে পড়ে তিনি আজন্ম বাউল জীবন বেছে নিয়েছিলেন, স্কুল জীবনেই সেই বাংলা ভাষার অধিকার রক্ষার জন্য সোচ্চার হলেন। বায়ান্নর মহান ভাষা আন্দোলনে জড়িত হয়ে জেল পর্যন্ত খেটেছেন। এ ভারি গৌরবের। তাঁর ছিল সমুদ্রে মাছ ধরার বাতিক। একদিন সামুদ্রিক জাহাজে চড়ে হাজির হলেন কলকাতা বন্দরে। সেই যে নামলেন এক অপরূপ ডাঙ্গায়, রয়ে গেলেন পুরো দশটি বছর। কলকাতা তখন অনেকটা দূরের পথই ছিল। ঢাকার সাথে আজ যে যোগাযোগ কলকাতার, সেসময়ে এর সিকিভাগও ছিল না। দুই বাংলার সংযোগহীনতার সেইসব দিনে কবি বেলাল চৌধুরী ছিলেন সংযোগ। কলকাতা তাকে ঘরের ছেলের মতোই গ্রহণ করেছিল। আজন্ম বাউল স্বভাবের এ কবি দিনরাত কাটিয়েছেন পশ্চিমের সব রথীমহারথীদের সাথে, যারা ছিল তার বন্ধু, নৈশ আড্ডার সখা। সেখানকার লেখককুলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল প্রশ্নাতীত, অনেকে ভাবতেন তিনি পশ্চিম বাংলারই লোক। তাঁর বন্ধু তালিকাটি ঈর্ষাজনক। কে নেই সেখানে? সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, দেবেশ রায়, কমল কুমার মজুমদার, তারাপদ রায়, শিবনারায়ন রায়, কমল দে সিকদার, অরুণ ভাদুরী, উৎপল কুমার বসু প্রমুখ সব বড় বড় নাম। তুমুল আড্ডায় আর আনন্দে, যাকে বলে তূরীয়ানন্দে কেটেছে সেসব দিন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের বহুপৃষ্ঠায় লিখিত এইসব দিনরাত্রির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে তার নাম। কলকাতায় বর্ণময় সময় কাটানোর সময় তিনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও শক্তি চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘কৃত্তিবাস’ পত্রিকার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েন এবং কিছুকাল বিখ্যাত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

তাঁর সাথে প্রথম পরিচয় আমার প্রথম কবিতা প্রকাশের সূত্র ধরে। সেটা সত্তর দশকের শেষভাগ। কলকাতা থেকে ফিরে তিনি ‘সচিত্র সন্ধানী’ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব নিয়েছেন। তখন বিপুল জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রার পাশাপাশি ইত্তেফাক থেকে সাপ্তাহিক ‘রোববার’ ও গাজী গ্রুপ থেকে ‘সচিত্র সন্ধানী’ প্রকাশ হতো। এখনকার মতো এত পত্রিকা তখন ছিল না। আশার ব্যাপার ছিল, তিনটি সাপ্তাহিকই সাহিত্য ছাপতো। আমি কলেজের প্রথম বর্ষে পড়ি। কবিতা তখন কদমফুলের মতো মাথার বৃক্ষে ফুটতো। তিনটি কবিতা ডাকে ( তখন ডাকের যুগ ছিল) পাঠিয়ে দিয়েছিলাম‘সচিত্র সন্ধানী’-র ঠিকানায়। কলেজে আমাদের বাংলা পড়াতেন রাজ্জাক স্যার, তিনি জানতেন আমি কবিতা লিখি। একদিন স্যার বললেন, ‘কামরুল, সচিত্র সন্ধানীতে একটি কবিতা দেখলাম, তোমার নামে নাম। তোমার না কি?’ শুনে আমার হৃদপিণ্ড লাফিয়ে উঠেছে, আমি জানি ওটা আমারই। কলেজ থেকে ছুটি নিয়ে পত্রিকা অফিসে ছুটে যাই। বেলাল ভাইকে সেই প্রথম দেখি। আমাকে দেখে বললেন, ‘আরে, তুমি দেখি বাচ্চা ছেলে। কিন্তু তোমার কবিতা তো ম্যাচিউরড। আরও বললেন, ‘এখানে একটু আগে আবদুল মান্নান সৈয়দ ছিলেন, তিনিও তোমার কবিতাটির প্রশংসা করেছেন।’ আমাকে আহ্লাদিত করে এরপর জানালেন, আমার আরও একটি কবিতা তিনি ঈদ সংখ্যার জন্য নির্বাচিত করেছেন। কবিতা লেখার প্রভাতলগ্নে আমার জন্য এ ছিল অভাবিত। আমি যে কবিতা লেখা ছাড়তে পারিনি তার মস্ত কারণ এ ঘটনা। আজন্ম তাঁর কাছে ঋণী আমি। সে ঋণের কিছুই শোধ হলো না। কেবল ১৯৯২ সালে প্রকাশিত আমার দ্বিতীয় কাব্য ‘প্রান্তসীমা অনন্তদূর’ তাকে উৎসর্গ করে কিছুটা হয়তো শোধ দিতে পেরেছিলাম। তাও কি পেরেছি? তার কছে যে আমার অপরিশোধ্য ঋণ। আমার মনে হয় এদেশের অগণিত কবি-লেখকের তাঁর কাছে অপরিশোধ্য ঋণ রয়েছে। তিনি ছিলেন তরুণদের অভিভাবকের মতো।

পড়াশোনার জন্য বেশ কিছু বছর আমি ভারতে কাটিয়েছিলাম। সেসময়ে বেলাল ভাই ও বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গণের সাথে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম। ফিরে এসে তাঁর খোঁজ করি। তখন তিনি ‘ভারত বিচিত্রা’র সম্পাদক। ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়কে ভারতীয় দূতাবাসের অনেকগুলো ভবনের একটিতে ‘ভারত বিচিত্রা’র সম্পাদকীয় অফিস ছিল। এক দুপুরে তাঁর সাথে দেখা করতে গেলে বেলাল ভাই বললেন, ‘ আরে তুমি কোথায় হারিয়ে গেলে? তোমাকে আমি বহুদিন ধরে খুঁজছি।’ কী স্নেহশীল মানুষ ছিলেন ভেবে এখন আমার চোখ জলে ভরে উঠছে। ‘ভারত বিচিত্রা’র পাতায় তিনি অনেক তরুণের প্রথম কবিতাটি ছেপেছেন। এদেশের সাহিত্যাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক কবি-লেখকের আত্মপ্রকাশের জনক বলা যায় নিরন্তর স্নেহশীল কবি বেলাল চৌধুরীকে।

কিশোর বয়সে বামপন্থায় জড়িয়ে পড়া কবি বেলাল চৌধুরী আমৃত্যু প্রগতিশীল আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। মাটি, মানুষ, দেশ ও ভাষা তাঁর লেখায় বারবার ফিরে এসেছে, তিনি ধারণ করেছেন তাঁর মাতৃভূমিকে। তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু কবি শামসুর রাহমানের সাথে স্বৈরাচার বিরোধী জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এ দেশের প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলন তাকে সম্মুখ সারিতে পেয়েছে। প্রকৃত নির্লোভ মানুষ ছিলেন, অর্থবিত্ত তাকে কখনো টানেনি, তাই কারো সাথে আপোষের ভূমিকায় নামতেও হয়নি। তাঁর অনেক ধনী বন্ধু ছিল, তাদের সাথে প্রছুর আড্ডা দিয়েছেন, মেতেছেন পানাহারে, কিন্তু কারো অনুগ্রহ নেন নি, নেবার প্রয়োজন অনুভব করেননি। তিনি ছিলেন পরোপকারী এক মহান সত্তা, প্রকৃত কবিস্বভাবী, ঘরছাড়া, মনেপ্রাণে সন্ন্যাসী।

তিনি যত কবিসভায় যোগ দিয়েছেন, যত কাব্য আড্ডায় সময় কাটিয়েছেন, তত কবিতা লেখেন নি। প্রথম কাব্য ‘নিষাদ প্রদেশে’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে। এর ঠিক দশ বছর পরে (১৯৭৬) প্রকাশিত ‘আত্মপ্রতিকৃতি, স্থির জীবন ও নিসর্গ’ । আবারও প্রায় দশ বছরের বিরতি। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয় ‘স্বপ্ন বন্দী’। কী করে যেন তার কাব্যপ্রকাশের সাথে দশ বছরের ব্যবধান যুক্ত হয়েছিল। এখনকার কবিরা যে ফিবছর নিদেনপক্ষে একটি করে কবিতাগ্রন্থ প্রকাশ করেন তার তুলনায় কত সংযমী এ কবি। তবে তৃতীয় কাব্য প্রকাশের ১২ বছর পরে ১৯৯৭ সালে একসাথে তাঁর তিনটি কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। কবিতা লেখায় আশ্চর্য সংযমী এ কবি দারুণ গদ্য লিখতেন। তাঁর স্মৃতিকথামূলক লেখাগুলো ষাট ও সত্তর দশকের বাংলা কাব্যভুবনের বিশ্বস্ত দলিল।

যদিও কবি হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত, আমার মুল্যায়ন কবিতার চেয়ে শক্তিময় তাঁর গদ্য। এক প্রাণময়, আড্ডার ঢঙ্গে তিনি গদ্য লিখেছেন। জীবনের বিপুল বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতা তাকে অমিত প্রজ্ঞা ও অবলোকনের চোখ উপহার দিয়েছিল। সম্পাদক ও নতুন প্রতিভা আবিষ্কারে তাঁর অবদান বাংলাদেশের সাহিত্যে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। অমায়িক, আমুদে ও উদারস্বভাবের কবি বেলাল চৌধুরী তাঁর স্নেহ ও প্রশ্রয় দিয়ে অগণিত কবি ও মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় ঠাঁই করে নিয়েছেন। কাল তাঁর দৈহিক মৃত্যু হলো বটে, আসলে কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক বেলাল চৌধুরীর মৃত্যু নেই! তাঁর প্রতি সুগভীর শ্রদ্ধা জানাই।
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (18) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মিনার মনসুর — এপ্রিল ২৬, ২০১৮ @ ৮:১২ অপরাহ্ন

      ভালো লিখেছেন, কামরুল। ছবিটি সংক্ষিপ্ত, কিন্তু যথার্থ। ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Labonno Barua — এপ্রিল ২৭, ২০১৮ @ ৮:৪০ পূর্বাহ্ন

      It is really an excellent article written on the poet Belal Chowdhury. I must say Kamrul Hassan Sir is very lucky that it has been possible for him to meet a lot of famous people in his life and having such wonderful memories. Thank you very much Sir for sharing your loving memories regarding the poet with us, as well as we have also come to know a lot of information about him through your article. This is truly appreciable.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিমুল সালাহ্উদ্দিন — এপ্রিল ২৭, ২০১৮ @ ৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

      আমার মনে হয় এদেশের অগণিত কবি-লেখকের তাঁর কাছে অপরিশোধ্য ঋণ রয়েছে। তিনি ছিলেন তরুণদের অভিভাবকের মতো।

      কথাগুলি বলা খুব প্রয়োজন ছিল কামরুল ভাই। আপনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mostofa Kamal Tonmoy — এপ্রিল ২৭, ২০১৮ @ ৯:৪৮ পূর্বাহ্ন

      স্যারের লেখা বরাবরের মতই খুবই সুন্দর হয়েছে। বেলাল চৌধুরীর জীবন কাহিনি একটি স্বল্প পরিসরে বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছি লেখকের মাধ্যমে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Khalid Al Imran — এপ্রিল ২৭, ২০১৮ @ ১০:১২ পূর্বাহ্ন

      খুবই ভালো লাগলো এত গুনী একজন মানুষ সম্পর্কে জানতে পেরে। অনেক শুনেছি মানুষটি সম্পর্কে।কিন্তু চেহারায় চিনতাম না। আজ দেখেও নিলাম মানুষটিকে।কিন্তু আফসোস খুব বেশি চিনা হলো না। তবুও লিখা টি পড়ে অনেক কিছু জেনে নিলাম।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Sujana Shafi — এপ্রিল ২৭, ২০১৮ @ ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

      Darun bolechen sir. The people we need they don’t stay with us at the crucial time. Death is something undeniable. But when it occurs to our close ones it shatters our heart. He was one of a kind. May Allah grant him jannah.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফারহানা আফরোজ জাফরীন — এপ্রিল ২৭, ২০১৮ @ ১২:১৭ অপরাহ্ন

      লেখক এখানে খুব সুন্দরভাবে অসাধারণ একজন প্রাবন্ধিকের স্মরণীয় বরণীয় ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন। কবি বেলাল চৌধুরির প্রতি অনেক শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালবাসা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Marufa Subrin Moon — এপ্রিল ২৭, ২০১৮ @ ২:৪৬ অপরাহ্ন

      লেখক অতি নিপুন হাতে প্রখ্যাত একজন লেখকের জীবনী তুলে ধরেছেন ☺️☺️

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Reza — এপ্রিল ২৭, ২০১৮ @ ৫:১৯ অপরাহ্ন

      Good writing. when a great personality sees with his inside eye.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Luna Rahman — এপ্রিল ২৭, ২০১৮ @ ১০:১১ অপরাহ্ন

      I didn’t know much about him. Sir your writing is so Powerful that at a glance I could know lots of information about him. May Allah keep his soul in peace forever.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওমর শামস — এপ্রিল ২৮, ২০১৮ @ ৪:৫২ পূর্বাহ্ন

      যথার্থ এবং উদ্দীপক।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Sayeda Wara — এপ্রিল ২৮, ২০১৮ @ ৬:২৭ পূর্বাহ্ন

      Amazing writing :) joto pori Bhalo lage

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাসনোভা জামান জুঁই — এপ্রিল ২৮, ২০১৮ @ ৭:০৭ পূর্বাহ্ন

      কবি বেলাল চৌধুরীর কাছে আমরা পরবর্তী প্রজন্মেরা চিরঋণী। লেখককে অশেষ ধন্যবাদ বেলাল চৌধুরীকে আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফারুক সুমন — এপ্রিল ২৮, ২০১৮ @ ৮:৫৭ পূর্বাহ্ন

      বেলাল চৌধুরীকে নিয়ে একটি বস্তুনিষ্ঠ লেখা পড়লাম। বেলাল চৌধুরীর জীবন ও সৃষ্টির একটি ধারাবাহিক পর্যালোচনা কবি কামরুল হাসান দারুন মনোনিবেশ নিয়ে লেখার প্রয়াস পেয়েছেন। গদ্যভঙ্গীও সুন্দর। ভালো লেগেছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ.আ.ফাত্তাহ — এপ্রিল ২৮, ২০১৮ @ ৯:৫৩ পূর্বাহ্ন

      গত কয়েকদিন ধরে সদ্যপ্রয়াত কবি বেলাল চৌধুরীকে নিয়ে বেশ কিছু লেখা পড়ার সুযোগ হচ্ছে। বলতেই হবে, কামরুল হাসানের লেখাটি তার মধ্যে অনন্য। লেখার পরিসর স্বল্প, কিন্তু ক্যানভাসটি বিস্তৃততর। একাধারে তার সংক্ষিপ্ত জীবনকথা, সৃষ্টিশীলতা, সংযম এবং নতুন নতুন লেখক সৃষ্টির আসাধারণ নৈপুণ্যের চিত্র অত্যন্ত শিল্পিত ভাবে ধরা পড়েছে কামরুল হাসানের কলমে। স্বভাবত:ই কবি বেলাল চৌধুরী তাকে ঊষালগ্নেই সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে ভুল করেননি। কবি বেলাল চৌধুরীর আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মোহাম্মদ হোসাইন — এপ্রিল ২৮, ২০১৮ @ ১:৩৫ অপরাহ্ন

      সম্ভবত আশির দশকে তাঁর কবিতার বই ‘সেলাই করা ছায়া’ পাঠ করি। নামটা গেঁথে যায় বুকের ভেতরে, মগজের ভেতরেও। দুই বাংলার কবিতার প্রসংগ আসলেই অনিবার্যভাবে এসে যান কবি বেলাল চৌধুরী। তাঁকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ পাইনি কোনোদিন। তবুও মনে মনে চির নৈকট্য অনুভব করেছি, করি আজও। মানুষ হিসেবে তিনি যেমন ছিলেন সংস্কারমুক্ত এবং সর্বাধুনিক, তেমনি কবি হিসেবেও ছিলেন চিরসবুজ, চিরতরুণ।তাঁর চিন্তা, তাঁর মননশীলতা আমাদের আগামীর পথ চলতে নির্ভীক হতে সাহায্য করবে নিঃসন্দেহে।কবি বেলাল চৌধুরীকে নিয়ে কবি কামরুল হাসান আজকের এই নিবন্ধে যতটুকুই আলোকপাত করেছেন তা অত্যন্ত যৌক্তিক ও প্রনিধানযোগ্য। কবি কামরুল হাসান নিজেও একজন অত্যন্ত শক্তিমান কবি। তার প্রতি অসীম ভালোবাসা–পাশাপাশি কবি বেলাল চৌধুরীর আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি এবং তাঁকে জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Tushar Gayen — এপ্রিল ২৯, ২০১৮ @ ২:০০ অপরাহ্ন

      সদ্য প্রয়াত কবি বেলাল চৌধুরীকে নিয়ে স্বল্প পরিসরে তথ্য সমৃদ্ধ লেখাটি পড়ে ভালো লাগল। অনেক কবি আছেন যাদের কবিতা বিখ্যাত, কিন্তু জীবনযাপন অতটা কাব্যময় নয়। আবার অনেক কবি আছেন যাদের জীবন পরিপূর্ণভাবে কাব্যময়, কিন্তু কবিতা তাৎপর্যপূর্ণ নয়। এই দু’য়ের ভিতর মেলবন্ধন কদাচিৎ ঘটে। কবি বেলাল চৌধুরীর কাব্য মূল্যায়ন সময়ের হাতে ন্যস্ত করেও, আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি বাংলাদেশের কবিতায় যারা অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতিসত্তা এবং তার দীর্ঘ সাংষ্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রাণ দিয়ে লালন ও চর্চা করেছেন এবং বাঙালিকে একটি সমৃদ্ধ আধুনিক জাতি হিসেবে বিকাশের স্বপ্ন দেখেছেন, তিনি তাঁদের অন্যতম। কবিতাকে জীবনযাপনের অঙ্গ করে সারাজীবন কাটিয়ে দেওয়া এবং আমৃত্যু নবীন কবিদের সেই যাত্রায় যুক্ত করার প্রয়াস চিরশ্ৰদ্ধার। কবি কামরুল হাসানকে এই সুন্দর লেখাটির জন্য অনেক ধন্যবাদ!

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com