কবিতা

মোহাম্মদ রফিকের জল ও পাখি

mohammad_rafiq | 16 Apr , 2018  

জল

কান্দে কান্দে পরাণ কান্দেরে
রয়ে রয়ে কান্দেরে পরাণ
সারা অঙ্গে দাঁড্ বাইছে কে

চুলোর ওপরে একটি হাডি্
যতটা সময় ফুটতে লাগে
সেই তবে একটি জনম

ও মেয়ে তোমার পরিচয়
ভাটির নদীকে জিগাওনা
পরিচয় এই মধ্যরাত

বৃষ্টি

এই যে হারামি বৃষ্টি
নচে দেয়া পরণের শাড়ি
এক টানে খোলে বেশরম
জানি যাবে বান দিয়ে যাবে

ঢেলে দিল আগুন
আগুন জ্বালায় পোডায়
তবু কেন মনে লয় বরফ বরফ ঢাকা
মারা পড়ি হিহি কাঁপি শীত

সারারাত কী সুর সাধিছ
সর্ব অঙ্গ নিথর নিঃসাড়
এই খসে যায় একে একে
নাগরাজ করেছে দংশন

ছনচালা বাতাস কাঁপায়
ধসে পড়ে মাথর ওপরে
কাল ভোরে বন্য শেয়ালেরা
টেনে নেবে ধনিচার খেত

ছমিরদ্দি মাগীদের নাগ
তার লাশ যমুনার কূলে
ভুখা মাছ খেয়ে নিছে মাঁস
তোর মুখ মনে ভাসে কেনে

পাখি

পাখি ডাকে
অচেনা অজানা পাখি,
হতে পারে ভিনদেশি,
জাপানি বা ক্যারিবিয়
ফিলিস্তিনি, সাইবেরিয়,
তার ধাম, কিংবা
স্বদেশি বাঙালি;
বহুসমুদ্রের স্বর তার কণ্ঠে
উথলায় ফেনা
পাহাডে্র শীর্ষশৃঙ্গে
পালক ছডিয়ে উঁকি দেয়, দেখে, আঁধারের রঙে রূপে
মুখ ধুইছে বিস্তীর্ণ আকাশ,
বনবনা ন্তরে, মরুভুঁয়ে, মাঠঘাট বিরান প্রান্তর
ছুঁয়ে ছুঁয়ে নখ তার
ক্ষয়ে গেছে, যেন কত
জনমের ভার বয়ে বয়ে
একবার মরে গিয়ে ফের
কত বার বার বার কত
দিগন্তের খাদ বেয়ে
ঢলে পড়ে সূর্য আর চাঁদ
সমুদ্রও চাপড়ায় বুক ঢেউয়ে ঢেউয়ে,
বাতাসে বটের পাতা
পাখা মেলে দোল খায়।
পাফি ডাকে, হাওয়া হাওয়া কাঁদে ছলাৎ ছলাৎ

এই যোগবিয়োগের
সূত্র ধরে মানুষ
ঘটে যাক মহাসম্মিলন
অন্তে অন্তহীনতায়

মেঘ গুড় গুড় পাখি ডাকে
অন্ধকারে

অন্তে অন্তহীনতায়!

Flag Counter


2 Responses

  1. আশরাফুল কবীর says:

    স্যারের কবিতা মানেই দারুন কিছু। খুব ভাল লেগেছে।

  2. মানিক বৈরাগী says:

    তিন প্রভাতে তিনটি কাঁচা কবিতা আমি পড়েছি।
    কবি মোহাম্মদ রফিক মানেই নতুন চিন্তার নির্মাণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.