প্রবন্ধ

বাংলাভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতিতে চীনের প্রভাব

শান্তা মারিয়া | 7 May , 2018  

বিশ্বের সুপ্রাচীন সভ্যতাগুলোর অন্যতম চীন। সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, মিশরীয়, ভারতীয় এবং চীনের সুপ্রাচীন সভ্যতা মানবজাতিকে প্রগতির পথে চালিত করার ক্ষেত্রে প্রধান অবদান রেখেছে। গ্রিস, রোম এবং পরবর্তিতে ইউরোপের অন্যান্য দেশের সভ্যতার বিকাশে চীনের অবদান বিপুল। অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে চীনের সভ্যতা, ভাষা ও সংস্কৃতির মৌলিক পার্থক্য হলো অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতার ভাষাগুলো এখন বিলুপ্ত বা শুধুমাত্র গবেষকের পাঠ্য। কিন্তু চীনের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি এখনও বর্তমান চীনা জনগণের চর্চিত বিষয়। চীনা সভ্যতার প্রাচীন নদীটির ধারা এখনও বহমান, তার জল এখনও সুপেয়।
বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিও সমৃদ্ধ। বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ গাঙ্গেয় অববাহিকায় প্রাচীনকাল থেকেই জনবসতি গড়ে ওঠে। গ্রিক ইতিহাসবিদদের লেখায় গঙ্গা অববাহিকায় মোহনা অঞ্চলে অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে গঙ্গাহৃদয় বা গঙ্গাহৃদি নামে এক শক্তিশালী রাজ্যের কথা রয়েছে। তাদেরকে গঙ্গারাইডিস নামে অভিহিত করা হয়েছে। দুধর্ষ গঙ্গারাইডিসদের ভয়ে মেসোডোনিয়ার দিগ্বিজয়ী সম্রাট আলেকজান্ডার এই দেশ আক্রমণে সাহসী হননি।

মহান ভারতীয় মহাকাব্য মহাভারতে বঙ্গ নামে দেশের উল্লেখ রয়েছে। বঙ্গের রাজা তার হস্তিবাহিনী নিয়ে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। মহাভারতে চীনজাতিরও উল্লেখ রয়েছে। মহাভারতের আদিপর্বে রয়েছে বশিষ্ট মুনির কথা। রাজা বিশ্বামিত্র বশিষ্ট মুনির আশ্রমের ধেনু নন্দিনীকে ধরে নিয়ে যেতে চাইলে নন্দিনীর দেহ থেকে অসংখ্য সৈন্যর উৎপত্তি হয়। সেই সৈন্যদলে বিভিন্ন জাতির সৈন্য ছিল। এরা নন্দিনীকে রক্ষা করে। এই জাতিগুলোর মধ্যে বাহ্লিক, পারসিক, শক, যবন, চীনসহ বিভিন্ন জাতির নাম উল্লেখ করা হয়। একইভাবে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধেও বিভিন্ন জাতির সৈন্যদলের যে উল্লেখ রয়েছে তার মধ্যে চীনজাতির কথা রয়েছে।
খ্রিস্টপূর্বে যুগে প্রাচীন বাংলায় বিভিন্ন সামন্ত রাজ্য বিকশিত হয়। পুন্ড্রবর্ধনের সভ্যতা প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো। গৌড়, বঙ্গ, পুন্ড্র, সমতট, রাঢ়, হরিকেল, চন্দ্রদীপ, চন্দ্রকেতুগড়, চন্দ্রকোটসহ বিভিন্ন রাজ্য মিলে গড়ে ওঠে আজকের বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ। এককথায় একে বৃহত্তর বঙ্গ বলে অভিহিত করা যায়। প্রাচীন বাংলার সমাজ ব্যবস্থার বর্ণনা পাওয়া যায় বিখ্যাত চীনা পর্যটক ও তীর্থযাত্রী ফা হিয়েন(৩৩৭- ৪২২ খ্রিস্টাব্দ) এর লেখায়। ফা হিয়েন চম্পা রাজ্যের মধ্য দিয়ে বৃহত্তর বঙ্গে প্রবেশ করেন। তিনি বৌদ্ধশাস্ত্রের জ্ঞানকে চীনে নিয়ে যান। জ্ঞান আহরণের জন্যই তিনি ভারতে আসেন। ফাহিয়েন যে শুধু বৌদ্ধশাস্ত্রের জ্ঞান চীনে নিয়ে গিয়েছিলেন তাই নয়। বাংলার সংস্কৃতি ও ভাষায় ফাহিয়েন এবং অন্যান্য চীনা পর্যটকের কি কোন অবদান ছিল না? এটা তো সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ যে একজন বিদেশি যখন কিছু গ্রহণ করবেন তখন অনিবার্যভাবে তার জ্ঞানের কিছু ছাপও তার পর্যটন করা দেশে পড়বে। চীনের পর্যটক ও তীর্থযাত্রী হিউয়েন সাং নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন সপ্তম শতকে। তার বর্ণনায় বাংলার সামাজিক অবস্থার বর্ণনা পাওয়া যায়। বাংলা ভাষার শব্দভা-ারে চীনা শব্দের উপস্থিতি প্রমাণ করে এদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির উপর দেশটির প্রভাব। উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি শব্দের কথা বলা যায়। গুলতি বা গুলচি, চা, চিনি, লিচু, লুচি ইত্যাদি শব্দ বাংলায় এত দিন ধরে প্রচলিত যে এগুলো যে বিদেশি শব্দ তাই আমরা ভুলে গেছি। লুচি বাঙালির একান্ত পছন্দের খাবার। দিনে ভাত ও রাতে লুচি, বিয়ের উৎসবে লুচি, পালা পার্বণে লুচি বাঙালির খাদ্য সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। চিনিও বাঙালির জীবনযাত্রার অংশ। চিনির বলদ, চিনির পুতুল ইত্যাদি বাগধারা বাংলাভাষার সম্পদ। চীনা বাদাম বাঙালির অন্যতম প্রিয় মুখরোচক খাদ্য। আর চা ছাড়া তো বাঙালির চলেই না। বাঙালির সমাজজীবনে চায়ের ব্যবহার নিয়ে আলাদা একটি প্রবন্ধ লেখা যেতে পারে। বাঙালির শিল্প, সংস্কৃতি, ভাষা, প্রচলিত গান ও কবিতায় চায়ের উল্লেখ রয়েছে অজ¯্রবার। হুজুগে বাঙালি আর হেকমতে চীন বাগধারাটি বাঙালির আবেগপ্রবণতা আর চীনাদের কর্মদক্ষতাকে তুলে ধরে। বাংলার শব্দভা-ারের আরেকটি সুন্দর শব্দের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। শব্দটি হলো চীনাংশুক। এই শব্দের অর্থ রেশম বা চীনা রেশম। এই একটি শব্দ থেকেই অনুধাবন করা যায় প্রাচীন কাল বা মধ্যযুগ থেকে রেশমপথ (সিল্ক রোড) এর মাধ্যমে চীনের রেশম বাংলায় এসেছে এবং রাজারাজরা ও অভিজাতদের পরিধেয় হয়েছে। শেরশাহের আমলে যে গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড নির্মিত হয় তা দিল্লি থেকে বাংলা পর্যন্ত পৌঁছায়। এই পথ দিল্লি থেকে রেশমপথের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ফলে রেশমপথের মাধ্যমে চীনের সঙ্গে বাংলার যোগাযোগ স্থাপিত হয়। বাংলার মসলিন ও সুতিবস্ত্র যেমন চীন, আরব, মিশর, গ্রিস ও রোমে পৌছায় তেমনি চীনের রেশমও পৌছে যায় বাংলায়। শুধু কি বাণিজ্যিক লেনদেনই হয়েছে সেসময়? ভাষা ওসংস্কৃতির উপরও প্রভাব কি পড়েনি? নিশ্চয়ই পড়েছে। বাংলার বিখ্যাত বন্দর চিটাগং এর নামটি কি চীনা ভাষার শি দা গং বা পশ্চিমের বড় বন্দরকে বুঝায়? প্রশ্নটি আমাদের মনে গাঁথা রইল। বাংলার নৌবিদ্যাসংক্রান্ত অনেক শব্দও চীনা ভাষা থেকে এসেছে। চীন থেকে নৌ চালনা বিদ্যাও হয়তো বাংলায় এসেছিল। যা বাংলার সামাজিক ইতিহাসের গবেষণার বিষয়।
হিউয়েন সাং এর মতো আরও কয়েকজন চীনা পর্যটক বাংলায় এসেছেন। প্রাচীন বাংলার সামাজিক ইতিহাসের মুল্যবান দলির আমরা তাদের কাছ থেকেই পেয়েছি। পক্ষান্তরে বাংলার চর্যাপদের কবি ও নাথপন্থার গুরু মৎস্যেন্দ্রনাথ এবং তার শিষ্য নাথপন্থী বিখ্যাত গুরু গোরক্ষনাথ যখন তিব্বতে যান এবং সেখানেই অন্তিমকাল পর্যন্ত জীবন অতিবাহিত করেন তখন অনিবার্যভাবে তারা বাংলার সহজসাধন জ্ঞানকে এবং দোহা বা বুদ্ধিস্ট মিস্টিক সং ও বাংলার সংস্কৃতিকে সেখানে বয়ে নিয়ে যান। বাংলার প-িত অতীশ দীপংকর যখন তিব্বতে যান তিনিও একইভাবে শুধু বৌদ্ধশাস্ত্রকেই নয় বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকেও চীনে নিয়ে গিয়েছিলেন।
এবার একটু আধুনিক যুগের দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক। ইংরেজ আমলেই কলকাতায় ও ঢাকায় চায়না টাউন গড়ে ওঠে। উনবিংশ শতকে ঢাকার ইসলামপুরে চীনা জনগোষ্ঠির বসবাস ছিল। ঢাকার জুতার ব্যবসার সিংহভাগ ছিল চীনাদের দখলে। কলকাতারও চীনাপট্টিতে বা চায়না টাউনে জুতার ব্যবসা গড়ে ওঠে। তাদের সঙ্গে চীনের খাবার দাবারও বাংলায় জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। বাংলার খাদ্য-সংস্কৃতিতে চীনা খাবার এক বিশিষ্ট স্থান অধিকার করেছে বিংশ শতকের প্রথম দিক থেকেই। চীনের মানুষও স্থান পেতে থাকেন বাংলার সাহিত্যে। উদাহরণ হিসেবে একটি উপন্যাসের কথা বলছি। বাংলাসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার লেখা একটি উপন্যাসের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। উপন্যাসটির নাম ‘মরণের ডংকা বাজে’। উপন্যাসের পটভুমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার চীনদেশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান চীনের উপর আক্রমণ করে। তারা চীনের নানচিং ও অন্যান্য শহরে ব্যাপক হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। উপন্যাসের কাহিনীতে দেখা যায় একজন বাঙালি তরুণ চিকিৎসক ও তার সহকারি এই সময় চীন সরকারের চাকরি নিয়ে চীনদেশে যান। তারা চীনের হাসপাতালে কাজ করেন। যুদ্ধের ফিল্ড হাসপাতালেও কাজ করেন। তারা চীনের জনগণকে সাহায্য করেন। কাহিনীতে প্রফেসর লি নামের একজন প্রবীণ শিক্ষক ও সমাজসেবকের চরিত্র খুবই উল্লেখযোগ্য। সহজ সরল, জ্ঞানী, মানবদরদী প্রোফেসর লি হয়ে ওঠেন মহান চীনদেশের প্রতীক। তাকে প্রখ্যাত চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াসের সঙ্গেও তুলনা করা হয়। এই উপন্যাসে সাংহাইসহ চীনের বিভিন্ন শহর ও স্থানের বর্ণনা রয়েছে। গণচীনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মাও সে তুংয়ের বিষয়ও রয়েছে এখানে।
পদ্মবিভূষণ মহাদেবী বর্মার লেখা ‘চীনে ফেরিওয়ালা’ একটি বিখ্যাত ছোটগল্প। এই গল্পের নায়ক ওয়ান লু নামের এক চীনা তরুণ। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা এই গল্পে একজন বাঙালি নারীর সঙ্গে চীনা বংশোদ্ভূত তরুণের প্লেটোনিক প্রেমকে তুলে ধরা হয়। এই গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয় মৃণাল সেন পরিচালিত বিখ্যাত সিনেমা নীল আকাশের নীচে। সিনেমাটি ১৯৫৯ সালে মুক্তি পায়।
বাংলার শিশুসাহিত্যেও চীনের অনেক গল্প জায়গা করে নিয়েছে। প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক মোহাম্মদ নাসির আালীর লেখা গল্পের বই ‘চীন দেশের রাজকুমারী’ প্রকাশিত হয় ষাটের দশকে। সেখানে চীন দেশের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রূপকথার গল্প স্থান পেয়েছে। এই প্রসঙ্গে একটি অনালোচিত বইয়ের উল্লেখ করতে চাই। ষাটের দশকে চীন দেশে পাকিস্তান দুতাবাসে চাকরি করতেন একজন বাঙালি কর্মকর্তা। তার স্ত্রী ছিলেন লেখক। অকাল প্রয়াত এই লেখকের নাম রুবি রহমান। তিনি চীন দেশের বেশ কিছু গল্প ও লোককাহিনী বাংলায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলেন।
চীনের বিপ্লব এবং নয়াচীনের প্রতিষ্ঠা বাংলার রাজনেতিক ও সামাজিক জীবনে আলোড়ন সৃষ্টি করে। নয়া চীন প্রতিষ্ঠার আগেই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্দোলন সংগ্রাম বাংলার প্রগতিশীল বামপন্থীদের মধ্যে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছিল। তার প্রভাব পড়ে বাংলা সাহিত্য ও বাঙালির সংস্কৃতিতে। বাংলার বামধারার সাহিত্যে এই প্রভাব অনেক বেশি। বিপ্লবী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ‘ঠিকানা’ কবিতায় লিখেছিলেন ‘ ইন্দোনেশিয়া, যুগোস্লাভিয়া ,রুশ ও চীনের কাছে, আমার ঠিকানা বহুকাল ধরে জেনো গচ্ছিত আছে’। কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান মাও সে তুং এর কবিতা অনুদিত হয়ে বাংলায় প্রকাশিত হয় এবং ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা পায়। প্রখ্যাত চীনা সাহিত্যিক লু সুন এর নির্বাচিত গল্প বাংলায় অনুদিত হয়। লুসুনের প্রভাব বাংলার ছোটগল্পে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলার প্রখ্যাত ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চীনকে নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন। সদ্য প্রয়াত কমরেড তকীয়ূল্লাহ নয়া চীন প্রতিষ্ঠা উপলক্ষ্যে ১৯৫৪ সালে কবিতা লিখেছেন। সেই কবিতা লেখার সময় তিনি কমিউনিস্ট পার্টির একজন নেতা হিসেবে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে বন্দী ছিলেন।
চীন বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতির উদ্যোগে সত্তর ও আশির দশকে বাংলাভাষায় অনুদিত হয় চীনের অনেক সাহিত্য। এরমধ্যে রয়েছে ছোটদের গল্প। কবি সাজ্জাদ কাদির চীনের রস সাহিত্য বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। দৈনিক জনকণ্ঠে এই লেখা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিল। চীন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বাংলায় অনেকেই লিখেছেন।
সাহিত্যে নোবেলজয়ী ও পুলিৎজার পুরস্কার প্রাপ্ত বিখ্যাত মার্কিন লেখক পার্ল এস বাক চীনের পটভুমিতে অনেক গল্প, উপন্যাস লিখেছেন। তার দুটি উপন্যাস ‘মা’ এবং ‘গুড আর্থ’ বাংলায় অনুদিত হয়ে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসদ্বয়ের মাধ্যমে চীনের গ্রামীণ সমাজজীবনের সঙ্গে বাঙালি পাঠকের নতুনভাবে পরিচয় ঘটে।
বাংলাভাষায় চীনের প্রভাবের কথা বলতে গেলে যার নাম অবধারিতভাবে উচ্চারণ করতে হবে তিনি হলেন গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বলা যায় তিনি দুটি মহান ভাষার সেতুবন্ধ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি চীন ভ্রমণ করেছিলেন। বিশ্ব ভারতীতে চীনা ভবন স্থাপন করেছিলেন। বিশ্বভারতীর চীনা ভবনে চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার ব্যবস্থাও গুরুদেব প্রবর্তন করেন। চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রসঙ্গ একটি একক প্রবন্ধের দাবিদার তাই এখানে সেই প্রসঙ্গ বিস্তারিত লিখছি না। তবে এটুকু বলতেই হবে যে, বাংলার রবি যেমন চীনের আকাশে দীপ্তি ছড়িয়েছেন তেমনি বাংলায় চীনের বসন্তও তিনি সৃষ্টি করেছেন।
এক পথ এক অঞ্চল নীতির মাধ্যমে রেশমপথ অঞ্চলের দেশসমূহের মধ্যে নতুনভাবে যোগাযোগ ও বিনিময় সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চীনের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বিনিময় ও যোগাযোগ আরও নিবিড় হচ্ছে। এই অঞ্চলের দেশসমূহের বন্ধুত্বকে আরও নিবিড় করতে বড় ভুমিকা রাখতে পারে সাহিত্য কারণ সাহিত্য মানুষের প্রাণের কথা বলে। চীনের সঙ্গে বাংলার জনগণের বন্ধুত্বকে আরও প্রাণময় করতে তাই প্রয়োজন সাহিত্যিক লেনদেন বাড়ানো। বাংলাভাষার সাহিত্য সম্পদ যেমন চীনাভাষায় অনুবাদ হওয়া প্রয়োজন, তেমনি চীনাভাষার সাহিত্য সম্পদও বাংলায় অনুবাদ হওয়া জরুরি। এজন্য পরষ্পরের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আরও বেশি জানতে হবে, জানাতে হবে।

Flag Counter


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.