আকাশ ও সমুদ্রে এত মাখামাখি

পুলক হাসান | ২১ মার্চ ২০১৮ ৮:৪৯ অপরাহ্ন


কক্সবাজার

সমুদ্র পাড়ের মেয়ে
সমুদ্র গর্জন তোমার অভ্যস্ত
দূর থেকে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের বুকে
সূর্যাস্তের লাল টিপে
বেশ চমৎকারই লাগে তোমায়
তরঙ্গের ফেনিল উচ্ছ্বাস ছুঁয়ে যায়
সৈকতের পায়ের পাতা
পর্যটক পাখির সে কী আনন্দ!
নাগরিক জীবনের বালির বন্ধনে
এ আনন্দ যেন অবসাদ মুক্তির
তোমার মাঝে খুঁজে পায় তারা প্রশান্তির তীর
তাই বারবার ছুটে আসে সমুদ্র রোমন্থনে
তাই এত পাখি সমাবেশ।
এত কাছে টানে ঐ দূরের আকাশ
গোপন থাকে না মনের গোপন সন্ন্যাস।
তোমার মনেও রেখে গেছে তার রেশ
কোনো এক ভিনদেশি শাসক কিংবা শ্যাম
বদলে দিয়ে গেছে তোমার নাম
সেই নামের অলঙ্কার আজো তুমি আছ পরে
তোমাকে এখন কে চিনিবে দরিয়া নগরে?

সমুদ্র পাড়ের মেয়ে, সমুদ্র ললনা
তবুও তোমার জন্য আমার ছোট্ট বন্দনা
তুমি শ্রেণিবিভক্ত সমাজে জীবিকা ও অবকাশের
সত্যি এক জীবন আধার।
তোমার কাছে এলে তাই প্রেমিক হয়ে যায় মন
তিমিরে তারার ধুলো জড়ায় স্বপ্নাবেশে
যদিও সমুদ্র গর্জনের ভিতর কেউ কেউ শোনে
ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ জীবনের অনুরণন।
কিন্তু হায় শ্বাশতী
ইনানী বীচে এসে দেখি
আকাশ ও সমুদ্রে এত মাখামাখি
যেন প্রণয়ভিসারে মত্ত কপোত-কপোতী।

সকল পাখি আশেকী

পাখি নেই পাখি সমাবেশে
মেঘে ঢাকা আকাশে আছে তবু রঙধনু
দূর থেকে তাই দেখি
পাকা ধানের হলুদ লাবণ্যে জ্বলে উঠছে
হলুদ বরণ পাখি
যেন নরম ঘাসের বুকে
হিম রোদ ভাঙতে ভাঙতে জাগ্রত
পুষ্প অনাঘ্রাত
নদীর মতো সোমত্ত প্রকৃতি প্রকাশে
যদি তা-ই বসন্ত, যৌবনব্রত
তবে তার বীজমন্ত্র
সকল ধানকন্যারই আছে
সকল পাখি তাই আশেকী।

আজও সেই সুর

যেন দূর সমুদ্রে আলোকবিন্দুর মতো উদিত
অথচ মনের কোণে
পুষ্পের মতো প্রস্ফুটিত
কিংবা মেঘে ঢাকা হৃদয় গগনে
একফালি চাঁদের উঁকি
কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি ঐ পাখি
আমারই চোখে খুলেছিল তার আঁখি।

এখন বলতেও কষ্ট হয় কী জীবন্ত
সেই বসন্ত! দূর দ্বীপের টানে
মাতাল সমুদ্র হাওয়ায়
আজও সেই সুর বহে অবিরত
ভাঙাচোরা শরীর ও মন হঠাৎ
স্বপ্নবান যুবকে পরিণত।

কবিতা লেখার আগে

তোমার ভালোবাসার ডালে বসি
আমি নই সেই সুযোগ্য পাখি
তবু চৈতন্যের টানে মগ্ন থাকি
তোমারই দিকে
গেয়ে উঠি গান আপন মনে
প্রভাতের ঊষালোকে
আমার গান কেউ শুনলো কিনা
জানি না
শব্দে সাজাই তরী বাক্যের অমল বন্ধনে
অন্ধ স্রোতের টানে
আমার তরী কোনো ঘাটে পৌঁছিবে কিনা
জানি না
আর আমিও কি বলতে পারি
কেন বারবার মুছে যাওয়া ছবি আঁকি?

আকাক্সক্ষা

প্রকৃতির ঐ চাকা স্বপ্নের চরকা;
তার মধ্যেই আবর্তন তোমার
শিকড় থেকে শিখরে যাওয়ার।
ফলে সতত উজ্জীবন এটি
জীর্ণ শাখে পত্রপল্লব
যতদিন না জীবন থেকে জীবন
নিচ্ছে ছুটি
চলতেই থাকে তার সমারোহ
চলতে থাকে প্রাণের উৎসব
যেন এটি ছাড়া তুমি ক্লীব
স্বপ্ন বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ
জীবন ও স্বপ্নের মাঝে এক নদী
বেঁধে দেয় সেই পরিধি।

জীবনসঙ্গী

জীবন পৃষ্ঠা জুড়ে সে
স্বপ্নের চাষবাসে
সতত শস্য সুফলা
পরশে তাই কামনা কাতর পৃথিবীর বুকের
আগুন নিভে আসে সহজে
সহজে পরিণত হয় দুরন্ত হৃদয়
কোমল ঘাসে
রোদ বৃষ্টির সহজ বর্ণমালা।
আর এমনই ছায়া সহচর
জ্বর ঘোরে কেটে যায় প্রহর
যেন জ্বরে জলপট্টির মত
সময় তার হাতে সমর্পিত।

ইচ্ছে

জীবন মূলত সংগীতময়
তাই ইচ্ছে হয়
নক্ষত্র পোড়া রাতে
তোমাকে লুকিয়ে রাখি
হাড়ের বাঁশিতে
যেন আমি হোমার
অন্ধ এক পাখি।
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (0) »

এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com