কবিতা

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী আমগাছটি

mostafa_tofael | 17 Mar , 2018  

গোপালগঞ্জ শহরের সেই আমগাছ,
বঙ্গবন্ধুর প্রিয় আমগাছ,
স্কুলজীবনের বৃদ্ধসঙ্গী।
গোপালগঞ্জ শহরে তাঁর পিতার সরকারি বাড়ির পশ্চিমে ছিল
এক বিশাল পুকুর, সরকারি পুকুর;
পুকুরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে ছিল আমগাছটি।

বঙ্গবন্ধু সেই আমগাছটির নিচে বসে
বন্ধুদের সাথে, খেলার সাথিদের সাথে গল্প করতেন;
সঙ্গীসাথির সংখ্যা বেশি থাকলে বক্তৃতাও করতেন;
ছোট-খাটো রাজনীতিও করতেন;
নির্মলেন্দু লাহিড়ীর কণ্ঠশিল্প মক্শো করতেন।

আমগাছটির গায়ে এখন ফার্ণ জাতীয় উদ্ভিদ।
আমগাছটি অনেক বয়েসী।
গাছটির গোড়া থেকে অনেক উঁচু পর্যন্ত চাকা-চাকা দাগ, গোল-গোল দাগ।
বঙ্গবন্ধুর হৃদয় সেখানে ভাস্কর্য হয়ে আছে;
হৃদ্পিণ্ড থাকে বুকের মধ্যে;
বঙ্গবন্ধুর হৃদয় বিছিয়ে আছে আমগাছটির সারা দেহে।
হৃদয় দিয়ে গড়া মানুষ ছিলেন তিনি,
চুল থেকে নখ পর্যন্ত হৃদয় ছিল তাঁর;
আসমুদ্রবাংলাদেশ।

পুকুরটি এখন মজা পুকুর, পাড়ে ঝোপঝাড়।
রাতে জোনাক জ্বলে দলে দলে;
হাজার মোমবাতি সাজায়, কেউ জ্বলে কেউ নিভে যায়;
উৎসবমুখর হয় জন্মদিন পালনে।

আমগাছটি ছিল বঙ্গবন্ধুর কৈশোরের বোধিবৃক্ষ,
রাজনীতির পরম জ্ঞান, ‘বোধি’
লাভ করেন তিনি সেখানে।
অশোকের কন্যা সঙ্ঘমিত্রা বোধিবৃক্ষের চারা শ্রীলংকায় নিয়ে যান,
পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম বৃক্ষরোপণ।
একটি চারা চলে যায় শ্রাবন্তীর জেতবন বিহারে।
নৈরঞ্জনা অথবা ফল্গু নদীর তীরে
সিদ্ধার্থকে পায়েস-অন্ন খাওয়াতেন সুজাতা;
বঙ্গবন্ধুরও একজন সুজাতা ছিলেন।

গোপালগঞ্জের আমগাছটির চারা আগামীতে ছড়িয়ে পড়বে
রমনায়-শাহবাগে-ধানমন্ডিতে, মিরপুরে-সাভারে,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে, গুলিস্তানে-গুলশানে-উত্তরায়,
চট্টগ্রামে-সিলেটে-রংপুরে-রাজশাহীতে।
হাজার আমগাছ, লক্ষ আমগাছ হবে স্মরণিকা,
কোটি জোনাকি জ্বলবে সতের-ই মার্চে।

Flag Counter


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.