মুজিব কোটের মেয়ে

ঝর্না রহমান | ৭ মার্চ ২০১৮ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আহনাফ ডান হাতটি উঁচু করে তুলে ধরে। আবার নামিয়ে ফেলে। দেয়ালে ঝুলছে বঙ্গবন্ধুর একটা পোস্টার আর কয়েকটা ছবি। আহনাফের আম্মু ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে প্রিন্ট করে দিয়েছেন। সেগুলো দেখে আহনাফ আবার হাত তোলে। ডান থেকে বাঁ দিকে স্লো মোশানে ঘুরিয়ে নেয়। কোনোটাই পছন্দ হয় না আহনাফের।
আম্মু, আম্মু, শুনে যাও তো!
আহনাফের আম্মুর কোনো উত্তর পাওয়া যায় না। ও আরো চেঁচায়।
আম্মু, আসছো না কেন? বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ঠিক না হলে প্র্যাকটিস করবো কীভাবে?
কিন্তু আম্মু ব্যক্তিটির দেখা পাওয়া যায় না। অস্থির হয়ে ওঠে আহনাফ। আর একটু গলা চড়িয়ে ডাকে। আবার তাড়াতাড়ি গলা খাকারি দিয়ে খাদে নামায়। এখন খামাখা চিৎকার চেঁচামেচি করে ভোকাল কর্ডের বারোটা বাজানোর দরকার নেই। পরে ছোট খালার মতো ভয়েস কলাপস করলে আহনাফের মাথায় বাড়ি পড়বে। কম্পিটিশন আর করতে হবে না। শেষে ছোট খালার মতো গানের ফাইনাল কম্পিটিশানের দিনে প্যাঁচা-মুখ করে চুপচাপ ঘরের ভেতর বসে থাকতে হবে।
ছোট খালা শাম্মীর ঠাণ্ডার ধাত। এক ছটাক ঠাণ্ডা বাতাস তার গায়ে লাগলেই, গায়ে আর কোথায়, গলার আশেপাশে লাগলেই তার এক সিরিয়ালে সাতটা হাঁচ্চো, নাকের তলায় লাল টুকটুকে জ্বরঠোসা, স্বর ঘ্যারঘ্যারানি সব একসাথে মার্চ করে চলে আসে। তারপরের দিন দেখা যায়, ছোট খালা হাতে একটা কাগজ আর কলম নিয়ে ঘুরছে। কথা বলার প্রয়োজন হলে লিখে লাইনের পাশে একটা টিক দিয়ে এগিয়ে দিচ্ছে। তার মানে টিক দেয়া লাইনটা পড়ো।

আবার হাত উত্তোলন করার মকশো করতে আয়নায় তাকাতেই দরজার বাইরে হাসিনাকে দেখতে পায় আহনাফ। হাসিনা আহনাফেরই সমবয়সী। আহনাফের উঁচু করা হাতের দিকে চেয়ে ঠোঁট টিপে হাসে হাসিনা।
এখানে হাসির কী হলো? স্টুপিড! আহনাফ চেঁচিয়ে উঠতে গিয়ে শান্ত স্বরে বলে, এই হাসিনা, দেখ তো আম্মু কোথায়? এতবার ডাকছি!
খালাম্মায় তো বাথরুমে। ডাকলে লাভ কী? বাথরুম থেইকা কি মানুষে কথা বলে?
আর একবার ঠোঁট টিপে হাসে। হাসিনার এই হাসিটা খুব মিষ্টি। কিন্তু এখন গা জ্বলে যায় আহনাফের। দাঁতে দাঁত ঘসেÑ
জ্বি ম্যাডাম! মানুষে বাথরুমে গেলেও কথা বলতে পারে। টয়লেটে গেলে কথা বলে না। সেটা অশোভন। আপনি এখন যান, দয়া করে আম্মুকে বাথরুম থেকে বের হয়ে আসতে বলেন। আর বলেন ভিডিওটা লাগবে।
হাসিনা একটু ভড়কে যায়। কথা বলার ধরন দেখে বুঝতে পারে আহনাফ ভাইয়ার রাগ হয়েছে। সে খালাম্মাকে ডাকতে বাথরুমের দিকে দৌড় লাগায়।
হাসিনা আহনাফদের বাসায় বছরখানেক হলো কাজ করছে। এর আগে সে এক কমিশনার সাহেবের বাসায় থাকতো। সেখানে সে কোনো মতে মাস তিনেক থেকে একদিন পালিয়ে চলে এসেছে। কমিশনার সাহেবের বউ ভীষণ বদরাগী। পান থেকে চুন খসলে হাতের কাছে যা থাকতো তাই দিয়ে মারতো। খেতে দিত না। তখন শীতকাল ছিল। ঠাণ্ডা মেঝের ওপর মাদুর পেতে একটা পাতলা কম্বল গায়ে দিয়ে শুতে হতো হাসিনাকে। মাথার নিচে বালিশও দিত না। সারা রাত খিদেয় ঘুম আসতো না। কিন্তু সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগতো মাকে দেখতে না পেয়ে। মায়ের সাথে দেখা করতে দিত না। মা-র কাছে যাওয়ার কথা বললেই বেগম সাহেব হাসিনার দুই গাল নিষ্ঠুরভাবে চেপে একেবারে দাঁতের তলায় ঢুকিয়ে দিয়ে বলতো, এক বছরের আগে কোনো যাওয়াযাওয়ি নেই। ভেংচি কেটে বলতো, কামকাজ বাদ দিয়ে ম্যা ম্যা করলে খাবি ছ্যাচা।
একদিন বাড়িতে একটা অনুষ্ঠানে অনেক লোকজন এলো। সবাই ব্যস্ত। সেই সুযোগে পালালো হাসিনা।

এই বাসার মানুষগুলো বেশ ভালো। মা-র সাথে দেখা করায় কোনো বাধা নেই। বরঞ্চ ওর মাকে আহনাফের আম্মু বলে দিয়েছে, মাঝে মধ্যে এসে মেয়েকে দেখে যাবেন। তাহলে হাসিনার মন ভালো থাকবে। এ বাসায় কাজও তেমন বেশি না। রান্নাবান্না ধোয়ামোছা বড় বড় কাজ করার জন্য আম্বিয়ার মা আছে। হাসিনার কাজ তাকে সাহায্য করা আর বাসার লোকজনের এটা-ওটা ফাইফরমাশ খাটা। কাজকর্মে গলদ হলে খালাম্মা বকাটকা দেয়, তবে গায়ে হাত তোলে না কখনো। আর হাসিনার সমবয়সী আহনাফ ভাইয়া তো খুবই ভালো। মাঝে মাঝে ছোটদের গল্পের বই পড়তে দেয় হাসিনাকে। স্কুলের পড়া নিয়েও হাসিনার সাথে গল্প করে। হাসিনা গ্রামের স্কুলে ফোর পর্যন্ত পড়েছিল। তাই কাজ চালাবার মতো লেখাপড়া সে জানে। তবে হাসিনার খুব ইচ্ছা আবার স্কুলে ভর্তি হওয়ার। কিন্তু কে তাকে ভর্তি করাবে, কে দেবে স্কুলের খরচ!
ওর মা এ কথা শুনে দাঁতমুখ খিঁচিয়ে বলে, তোর কোন বাপে পড়ার খরচ দিবো? তোর বাপ বদমাইশ তো তার পোলামাইয়ার কথা ভাবে নাই! আর একটা বিয়া কইরা ভাগছে।
হাসিনা ছোট হলেও মায়ের কষ্ট বোঝে। মনে মনে ভাবে কোনোদিন যদি লেখাপড়ার সুযোগ পায় তবে নিশ্চয়ই সে চাকরি করে মায়ের কষ্ট ঘুচিয়ে দেবে। মাকে আর ছোট ভাই সালমানকে যতেœ রাখবে। ভালো ঘর, ভালো জামাকাপড় আর ভালো খাবারের ব্যবস্থা করবে। এসব ভাবনার কথা অবশ্য হাসিনা মনে মনেই রাখে। কাউকে বলে না। আর কীভাবে তা সম্ভব হবে তা-ও জানে না। তার পরেও রাতের বেলা শুয়ে শুয়ে যতক্ষণ ঘুম না আসে ততক্ষণ সুন্দর একটা জীবনের কথা ভাবে হাসিনা।

আম্মু ল্যাপটপ অন করতে করতে বলেন, এখনও বঙ্গবন্ধুর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ তোমার মুখস্থ হয়নি! প্রায় পনর মিনিটের ভাষণে প্রথম সাত আট মিনিট তো দুহাত পেছনে জড়ো করেই কথা বলেছেন তিনি! কয়েকবারই তো দেখেছ!
আহ্ সেটা তো জানি! কিন্তু ডান হাতটা কখন কখন সোজা উঁচু করে কথা বলতে হবে সেটা ভুলে গেছি।
ঠিক আছে। আবার দেখে নাও।
ভিডিও চালু করে দেন আহনাফের আম্মু। সাতই মার্চের ভাষণ চলতে থাকে।
“ভায়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি…..”
পজ হয়ে যায় হঠাৎ। আম্মুই পজ করেছেন। স্ক্রিনে হাত তুলে স্থির বক্তৃতারত বঙ্গবন্ধু। আম্মু সেটা দেখিয়ে আহনাফকে বলেন, একটা জিনিস মনে রাখবে, বঙ্গবন্ধু যখনই হাত তুলেছেন, তাঁর ডান হাতের ফোর ফিঙ্গার মানে তর্জনী তুলে রেখেছেন সোজা। এই দেখ। এই সোজা আঙুলে আছে তাঁর আত্মবিশ্বাস। তিনি বাংলার জনগণের মঙ্গলের জন্য যে পথ ভাবছিলেন, সেটাই একেবারে স্ট্রেইট দেখিয়ে দিয়েছেন। সেটা সঠিক পথ। সোজা সরল।
আহনাফ বঙ্গবন্ধুর হাতের ভঙ্গি অনুকরণ করার কসরৎ করতে করতে আম্মুর কথা শোনে।
এটা কি সিরাতাম মুস্তাকীম আম্মু? স্যার বলেছেন, সরল সঠিক পথ হলো সিরাতাম মুসতাকীম!
গুড! যখনই আঙুল তুলবে, মনে মনে বলবে, সিরাতাম মুসতাকীম! তাহলে আর ভুল হবে না। এখন দেখে নাও, কয়বার হাত তুলবে আর কোথায় কোথায়।
আম্মু আবার পাশের ঘরে চলে যান। অফিসের সময় হয়ে গেছে তাঁর। একটু পরেই হাতে ঘড়ির বেল্ট বাঁধতে বাঁধতে আম্মু দৌড়ে গিয়ে গাড়িতে উঠবেন।
ভিডিও চলতে থাকে। ভাষণের কথাগুলো অবিকল ভঙ্গিতে বলতে থাকে আহনাফ।
১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৫তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশুদিবস উদযাপন উপলক্ষে শিশু একাডেমি বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। সেখানে নাম রেজিস্ট্রেশন করেছে আহনাফ। আহনাফ অনেক ছোট থেকেই ভালো আবৃত্তি করে। তার পড়ার টেবিলের পাশে একটা সুন্দর ওয়াল র‌্যাক-এ সাজানো আছে বিভিন্ন আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় পাওয়া নানারকম পুরস্কারের ক্রেস্ট আর মেডেল। এবারের প্রতিযোগিতার জন্য বঙ্গবন্ধুর ভাষণটিও দারুণ আয়ত্ত করেছে আহনাফ। ঝাড়া মুখস্থ। সেই সঙ্গে আয়ত্ত করেছে বঙ্গবন্ধুর বাচনভঙ্গি। প্রথমে ধীরে ধীরে শান্ত স্বরে, তারপর ক্রমাগত ভোকাল রেঞ্জ বাড়াতে থাকে, ফুলে ওঠে গলার শিরা, চোয়ালের কচি হাড় যথাসম্ভব শক্ত করে তোলে। আহনাফ মাত্র বারো ছাড়িয়ে তেরোয় পড়েছে। কণ্ঠ এখনও কচি। মিষ্টি। কিন্তু সেখানেই বজ্রকণ্ঠের দৃঢ়তা ফুটিয়ে তোলে আহনাফ। কারণ বঙ্গবন্ধুর গলার আওয়াজ খুব ভরাট। কথা বললে গম গম করতো। ভাষণ দেয়ার সময় সেই কণ্ঠ বজ্রের আওয়াজের মতো যেন দূর আকাশেও ছড়িয়ে পড়তো। তাই তাঁর কণ্ঠকে বলা হয় ‘বজ্র-কণ্ঠ’। আহনাফ জানে, উনিশশো একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের মানুষের মনে সাহস আর শক্তি আনার জন্য বেতারে ‘বজ্রকণ্ঠ’ নামে একটা অনুষ্ঠান হতো। সেখানে এই সাতই মার্চের ভাষণের একটা অংশ বাজানো হতো। “আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকদের উপর হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইলো, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে……” আহনাফের জিভের ভেতর থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে নামতে থাকে ভাষণের কথাগুলো।

খুব সিরিয়াসলি প্র্যাকটিস করছে আহনাফ। হাতে আর চারদিন মাত্র সময় আছে। আহনাফের জন্য দর্জি দিয়ে একটা মুজিব কোটও বানানো হয়েছে। ড্রাইভার ইয়াসিনকে দিয়ে শাঁখারিপট্টি থেকে নকল গোঁফ আর আঠা আনানো হয়েছে। শেখ মুজিবের গোঁফ! কানের পাশে চুলের গোছা রঙ করার জন্য আনা হয়েছে সাদা চক। সাদা পাঞ্জাবী আর ঢোলা পাজামাও বানানো হয়ে গেছে। একটা জিনিস বাকি আছে। সেটা হলো চশমা। মোটা কালো ফ্রেমের চশমা এখনও পাওয়া যায়নি। আহনাফের আব্বু নিউমার্কেটে ফুটপাথের এক চশমার দোকানদারকে বলে রেখেছেন। সে এনে দেবে বলেছে।

”আমি প্রধান মন্ত্রিত্ব চাই না, আমরা এ দেশের মানুষের অধিকার চাই…আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দেবার চাই যে……”
হ্যাঁ, এইবার! এইবার বঙ্গবন্ধুর হাত উঠলো! আঙুল সোজা করে আকাশের দিকে আর জনতার দিকে।
অক্ষরগুলো যেন আঙুল দিয়ে লিখছেন বঙ্গবন্ধু — মনে মনে ভেবে নেয়! এভাবেই নিজের মতো করে নানারকম পয়েন্ট দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ মুখস্থ করে নেয় আহনাফ।
উনিশশো একাত্তর সনের সাতই মার্চ তারিখে রমনার রেসকোর্স ময়দানে মঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলে কথা বলতে থাকেন বঙ্গবন্ধু। ভিডিও চলতে থাকে। তার পাশাপশি চলতে থাকে আর একটি কিশোর কণ্ঠ। আহনাফের কণ্ঠ। আমরা ভাতে মারবো.. আমরা পানিতে মারবো… তোমরা আমার ভাই, তোমরা বেবাকে থাকো…
কে? কে বললো ‘বেবাকে’? এটা হবে ব্যারাকে! তোমরা ব্যারাকে থাকো…! আহনাফ তো ‘ব্যারাকে’ই বললো! তা হলে?
হাসিনা? আহনাফ অবাক হয়ে হাসিনাকে দেখে, কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে হাসিনা গড়গড় করে মুখস্থ বলে যাচ্ছে ভাষণের কথাগুলো!
থেমে গেছে হাসিনাও। আহনাফকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে হাসিনা প্রথমে একটু ভড়কে যায়। তার পর ফিক করে সেই হাসিটা হেসে ফেলে।
তুই বলছিলি আমার সাথে সাথে, হাসিনা? তুইও মুখস্থ পারিস ?
হুউঊউম। কাঁধ তক মাথা কাত করে হাসিনা। আপনের প্যাকটিস শুনতে শুনতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আমার পুরাটাই মুখস্ত হইয়া গেছে।
এ্যাহ্ ! এ্যাত্ত সোজা! বলতো দেখি! আহনাফের গলায় অবিশ্বাস।
হাসিনা সেই ঠোঁট টেপা হাসিটা হাসে। একটু আল্লাদী গলায় বলে, মিশটেক হইলে বইলা দিয়েন ভাইয়া।
বলবো, তুই বল!
একটু গলা খাকারি দিয়ে হাসিনা শুরু করে, “ভায়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে….”
হাসিনার মিষ্টি রিনরিনে কণ্ঠ থেকে ছোট ছোট রঙিন পাখির মতো বেরিয়ে আসতে থাকে ভাষণের কথাগুলো। বিস্ময়ে হা হয়ে যায় আহনাফ। কোথাও আটকে যাচ্ছে না, ভুল করছে না। এমন কি বডি ল্যাঙ্গুয়েজেও ভুল করছে না হাসিনা। কখনো দুহাত পেছনে জড়ো করে, কখনো হাত ওপরে তুলে, আঙুল উঁচু করে, ঘাড় সোজা করে, শরীর টানটান করে ভাষণ দেয় হাসিনা।
“আমরা ভাতে মারবো.. আমরা পানিতে মারবো… তোমরা বেবাকে থাকো কেউ তোমাদের কিছু বলবে না।” এখানে হাসিনাকে থামিয়ে দেয় আহনাফ। ‘বেবাকে’ না ব্যারাকে থাকো। ‘ব্যারাক’ মানে হলো সেনানিবাস, মানে যেখানে সৈন্যরা থাকে।
হাসিনা লজ্জা পেয়ে হাসে। বলে, অ, আমি মনে করছিলাম, বেবাকটিরে মানে সব্বাইরে থাকতে বলতেছেন।
উইথড্র, অ্যাসেম্বলি, আত্মকলহ এরকম আরও কয়েকটি শব্দ শুদ্ধ করে দেয় আহনাফ। ভিডিওটা রিওয়াইন্ড ফরওয়ার্ড করে হাসিনাকে দেখায়। এই দ্যাখ্, বঙ্গবন্ধু এখানে ডান হাত নয় বাম হাত তুলেছেন। হাসিনা চট করে ডান হাত পেছনে নিয়ে বাম হাত উঁচু করে।
আহনাফ টের পায় না কী করে ওর ভূমিকাটি পাল্টে যায়। আহনাফ হয়ে ওঠে হাসিনার প্রশিক্ষক। মন দিয়ে হাসিনাকে তালিম দিতে থাকে।
ভাষণ প্র্যাকটিস করতে করতে হাসিনা আহনাফের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জেনে নেয় আরও কত কথা। আম্মু আহনাফকে এসব গল্প করেছেন। আহনাফ শোনায় হাসিনাকে বঙ্গবন্ধুর কথা।
দেশের স্বাধীনতার জন্য দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য এই মানুষটি কত সংগ্রাম করেছেন সারা জীবন। কতবার জেলে গেছেন। পশ্চিম পাকিস্তানীদের তাড়িয়ে দিয়ে নিজের দেশ স্বাধীন করার জন্য দেশের মানুষকে এক করেছেন। এ জন্য তাঁকে কত কষ্ট করতে হয়েছে। তাঁর কোনো পারিবারিক জীবন ছিল না। বউ ছেলেমেয়ে নিয়ে শান্তিতে দিন যাপন করা তাঁর হয়নি। কেমন করে হবে? তাঁকে তো সরকার কেবল জেলেই ঢুকিয়ে রাখতো। এমনও হয়েছে এক আদেশে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বেরুবার জন্য গেট পর্যন্ত আসতে না আসতেই আর এক আদেশে তাঁকে আবার জেলে ঢোকানো হয়েছে। একাত্তর সনে তাঁরই নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার অপরাধে বঙ্গবন্ধুকে সে সময় পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। লায়ালপুর কারাগারে তাঁকে বিচার করে মৃত্যুদণ্ডও দেয়া হয়েছিলা। তাঁকে মেরে ফেলার জন্য সব ব্যবস্থা রেডি ছিল। এমন কি কবরও খোঁড়া হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সারা বিশ্ব পাকিস্তানীদের এই সব কাণ্ডকীর্তি জেনে ফেলাতে ওরা আর তাঁকে মারতে সাহস পায়নি। অথচ যেই দেশ তিনি স্বাধীন করলেন, সেই দেশেরই কিছু কুচক্রী মানুষ তাকে পঁচাত্তর সনে খুন করে ফেললো। শুধু তাঁকে? তার পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলল। ছোট্ট রাসেলকে হত্যার কথা শুনে হু হু করে কেঁদে ফেলেছিল হাসিনা। তবে তাঁর দুই মেয়ে হাসিনা আর রেহানা সে সময় বিদেশে ছিলেন বলে বেঁচে গিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী এ কথা মনে করে হাসিনার খুব ভালো লাগে। তার নিজের নামটা বঙ্গবন্ধুর মেয়ের নামে এ কথাটা সে অনেক আগেই জানে। মনে মনে সে এই নিয়ে অহংকারও করে।
আহনাফ বলে, ও সে জন্য তুই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ মুখস্থ করেছিস?
লজ্জা পেয়ে যায় হাসিনা। বলে, না, ঠিক তা না। আপনের মুখে ভাষণটা শুনতে আমার খুব ভালো লাগে। শুনতে শুনতে তাই মুখস্থ হইয়া গেছে।

কাল বাদে পরশু কম্পিটিশন।
আহনাফের প্রপস সব রেডি। মুজিব কোট পাজামা পাঞ্জাবি জুতো চশমা গোঁফ সব। আজ সন্ধ্যায় ড্রেস রিহার্সাল। আহনাফের আম্মু এ উপলক্ষে ওর প্রাইভেট টিউটর শওকত হাসান আর পাশের বাসার মাসুমা মনোয়ারা বেগমকে ডেকেছেন। মাসুমা আন্টি একটা স্কুলের সিনিয়ার টিচার। আহনাফের আম্মুর বন্ধু।
বিকেলে আহনাফদের সামনের লম্বা বারান্দায় একদিকে একটা চেয়ার রাখা হলো। এটা ডায়াস। আহনাফ চেয়ারের ব্যাকে হাত রেখে দাঁড়ালো। ওকে সাজানো হয়েছে। মুখে গোঁফ। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা। গায়ে সাদা পাজামা পাঞ্জাবির ওপর মুজিব কোট। খুব সুন্দর লাগছে দেখতে। সামনে একটু দূরে গিয়ে বসলেন আহনাফের আম্মু আব্বু, শওকত স্যার, মাসুমা আন্টি। ছোট ভাই আয়ান, আম্বিয়ার মা, হাসিনা ওরা আশেপাশে দাঁড়ালো।
শওকত স্যার স্টপওয়াচ হাতে নিয়ে বললেন, স্টার্ট আহনাফ।
“ভায়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে…”
স্পষ্ট গলায় গম্ভীর স্বরে ভাষণ দিয়ে যেতে থাকে আহনাফ। সবাই মুগ্ধ হয়ে শুনতে থাকে। মনে হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর একটা ছোট সংস্করণ চলে এসেছে ওদের সামনে। হঠাৎ আহনাফের কণ্ঠটা ডাবল হয়ে যায়। ব্যাপার কী? মনে হচ্ছে দুজন আহনাফ ভাষণ দিচ্ছে! হাসিনা! সবাই অবাক হয়ে হাসিনাকে দেখে। আহনাফের সাথে সাথে অবিকল একই রকমভাবে ভাষণের কথাগুলো আবৃত্তি করে যাচ্ছে হাসিনা।
শওকত স্যার অবাক হয়ে বলেন, হাসিনা? তুমিও বলতে পার? দারুণ!
আম্মুও অবাক! কীরে? তুই কীভাবে শিখলি?
হাসিনাকে নিয়ে সবাই কৌতূহলী হয়ে ওঠে। আহনাফের হঠাৎ রাগ লেগে যায় হাসিনার ওপর। কড়া গলায় বলে, তোর কি আমাকে ডিসটার্ব না করলে হতো না? যা, তুইই কম্পিটিশন কর গিয়ে। দুমদাম পা ফেলে আহনাফ অন্য ঘরে চলে যায়। হাসিনা অপরাধীর মতো একটু দূরে গিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। পরিবেশটা হঠাৎ থমথমে হয়ে যায়। সবাই মুখ চাওয়াচাওয়ি করে। আম্বিয়ার মা শুধু উঠে গিয়ে হাসিনার মাথায় একটা ঠোনা মেরে বলে ওঠে– ওই ছেরি, তরে ক্যাডায় কইছে এহানে আইতে? এহ! বক্তিমা দেয়! কি আমার বঙ্গবন্দু আইছে রে! তুইও একটা নেতা, আর তেইল্যাচোরাও একটা পাখি..!
আহ থাম তো আম্বিয়ার মা!
আম্মু হাত তুলে মানা করেন। শওকত স্যার শুধু চারদিকে তাকিয়ে হাসিনাকে বলেন, হাসিনা, তুমি পুরো ভাষণটা পারো? হাসিনা জুলজুল চোখে তাকায়। কথা বলে না। শওকত স্যার আবার বলেন, ভয় নেই। বলো।
মাথা নাড়ে হাসিনা। হ্যাঁ।
আহনাফের আম্মু অবিশ্বাসের সুরে বলেন, মানে? শুরু থেকে শেষ পর্যন্তÑ সবটা?
হাসিনার ভয়টা হঠাৎ কেটে যায়। সে বলে, হ, পুরাডা। আহনাফ ভাইয়াই আমারে শিখাইছে। আগে এট্টু এট্টু ভুল হইত।
একটু পরে হাসিনার রিনঝিন কণ্ঠ থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নদীর স্রোতের মতো বয়ে যেতে থাকে। সবাই মন্ত্রমুগ্ধ। কখন আহনাফও এসে দাঁড়িয়েছে কেউ খেয়াল করে না।

উত্তেজনার চোটে পনের মিনিটের ভাষণ এগার মিনিটে শেষ করে ফেলে হাসিনা। মাথা নামিয়ে বড় বড় দম নিতে থাকে।
শওকত স্যারও উত্তেজিত। প্রচণ্ড জোরে হাততালি দিচ্ছেন।
বাহ! বা বা হাসিনা! বাহ! ওয়ান্ডারফুল! আহনাফ, তুমি তো সাংঘাতিক কাজ করেছে! দারুণ ট্রেনিং দিয়েছ? আমার চেয়ে ভালো ট্রেনার তো তুমি! তুমি ভালো ছাত্র। আবৃত্তিতে এক্সপার্ট। তোমাকে শেখানো কঠিন কিছু না। কিন্তু হাসিনাকে কীভাবে তুমি এমন চমৎকার শেখালে?
আম্বিয়ার মা পলিথিনের মোড়ানো প্যাকেট খুলে এক টুকরো পান নিয়ে গুটলি পাকিয়ে গোমরা মুখের ভেতর ঠেসে দিয়ে গজ গজ করে।
আহনাফে নিজের পেকটিস বাদ দিয়া আজাইরা কামে সময় নষ্ট করছে। হ্যারে শিখাইয়া কী অইব? হাচিনায় কি ঠোডের উপরে মোছ লাগাইয়া মজিব-কুটের মাইয়া হইয়া পরতিযোগিতা করতে যাইব? ওই ছেরি, যাহ, কামে যা! যত্ত সব!
হাসিনা নিঃশব্দে রান্নাঘরে চলে যায়।
যেতে যেতে কানে আসে মাসুমা আন্টি বলছেন, মেয়েটার অসাধারণ প্রতিভা। এখন তো আর নাম রেজিস্ট্রেশনের সময় নেই। নয়তো ওর নাম প্রতিযোগিতায় দিয়ে দেয়া যেত। নিশ্চয়ই প্রাইজ পেতো। শওকত স্যারও মাসুমা আন্টির কথায় সায় দেন। বলেন, দেখি, মেয়েটার জন্য কিছু করা যায় কি না।
আহনাফের মনটা খারাপ হয়ে যায়। শওকত স্যার মাসুমা আন্টি এখন হাসিনাকে নিয়েই কথা বলছেন। যদিও আব্বু আম্মু কিছু বলছেন না। তবুও মনে হচ্ছে আহনাফ যেন এখন আর কেউ না।
‘উফ্ গরম লাগছে’ বলে আহনাফ ওখানে দাঁড়িয়েই কোট চশমা গোঁফ সব খুলে ফেলে।
শওকত স্যার এবার বলেন, তোমার প্র্যাকটিস ভালো হয়েছে আহনাফ। নিশ্চয়ই তুমি সাকসেসফুল হবে।

নির্দিষ্ট দিনে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। আহনাফদের গ্রুপে মোট আটজন চুড়ান্ত প্রতিযোগী। প্রত্যেকেই অসাধারণ বক্তৃতা দিল। বিচারকবৃন্দের হিমশিম খাওয়া অবস্থা। কাকে রেখে কাকে বেশি নম্বর দেবেন।
ফলাফল ঘোষণার সময় একজন বিচারক বললেন, আটজনকেই ফার্স্ট করতে পারলে তাঁর কাছে ভালো লাগতো। তারপরেও প্রথম স্থান লাভ করলো খুলনা থেকে আগত হিমেল আহমেদ। আহনাফ হলো দ্বিতীয়। মাত্র ১ নম্বরের ব্যবধান!
ফলাফল শুনে আহনাফের দুচোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে। ওর মনে হলো হাসিনাকে নিয়ে মাতামাতি করেই সে নিজের ক্ষতি করেছে। কারণ ভাষণের সময় ‘তোমরা ব্যারাকে থাকো’ বলতে গিয়ে কী করে যেন হাসিনার ‘বেবাকে’ শব্দটা জিভের ডগায় চলে আসছিল। কয়েক ন্যানো সেকেন্ডের জন্য একটু থতমত খেয়ে গিয়েছিল আহনাফ। যদিও দর্শক সেটা বুঝতে পারেনি। কিন্তু নিশ্চয়ই সেটা বিচারকদের চোখ এড়াতে পারেনি।
ছোট খালা আহনাফের ভাষণটা ভিডিও করে নিয়ে গেছে। বলে গেছে ভার্সিটির লাইব্রেরির কাজ শেষ করে রাতে ওটা ফেসবুকে পোস্ট করে দেবে। সন্ধ্যায় শাম্মী বোনকে ফোন করে।
আপা, এসব কী কাণ্ড! তোদের বাসার কাজের মেয়েটা তো ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে!
আহনাফের আম্মু প্রথমে বুঝতে পারেন না। কী হয়েছে? হাসিনার ভাইরাস জ্বর? না-না ওর মায়ের জ্বর!
আরে ধুর! ভাইরাস জ্বর না। ভাইরাল পোস্ট। ফেসবুকে। তোমাদের বাসার হাসিনা শেখ মুজিবের ভাষণ দিয়েছে! কী দারুণ! মুখে আবার কালি দিয়ে গোঁফ আঁকা। গায়ে কামিজের ওপরে একটা জরির এমব্রয়ডারি করা কালো কটি। অদ্ভুত পোশাক! কিন্তু ভাষণটা তো তাক লেগে যায়! কে যেন ওর ভাষণ ভিডিও করে পোস্ট করেছে। শিরোনাম দিয়েছে — গৃহপরিচারিকা হাসিনার বিস্ময়কর প্রতিভা। আমার এক ফেসবুক ফ্রেন্ড সেটা শেয়ার করেছে। এর মধ্যেই তিরিশটা শেয়ার, অসংখ্য কমেন্টস আর তিন হাজারের ওপরে লাইক! মাই গড! কয়েক ঘণ্টায় হাসিনা তো বিখ্যাত হয়ে গেছে! অনেকে হাসিনার এই প্রতিভার জন্য শিশু একাডেমির পুরস্কার ঘোষণা করারও দাবি জানিয়েছে। তোলপাড় কাণ্ড!
তাই নাকি? হাসিনা তো আজ বাসায় নেই। মার কাছে গেছে। ওর মায়ের জ্বর।
ফেসবুক খোলা হলো। পাওয়া গেল হাসিনার ভাষণ। কে প্রথম পোস্ট করেছে তা-ও পাওয়া গেল। শওকত স্যার। তাঁকে ফোন করা হলো। ওপাশ থেকে শওকত স্যার হাসেন।
হ্যাঁ বিখ্যাত হয়ে গেছে হাসিনা। আমি বুঝিনি এতটা রেসপন্স পাবে।
ফেসবুকের পোস্টটি বাসার সবার সাথে আহনাফও দেখে। মনে মনে খুব হিংসা লাগে হাসিনাকে। রাগ লেগে যায় শওকত স্যারের ওপর। এই জন্য আহনাফের প্রতিযোগিতার সময় স্যার উপস্থিত ছিলেন না। ওরা ভেবেছিল তাঁর জরুরি কোনো কাজ আছে। আসলে তখন তিনি বাসায় গিয়ে হাসিনার ভাষণ ভিডিও করে নিয়ে গেছেন! আশ্চর্য! হাসিনা কি শওকত স্যারের স্টুডেন্ট না কি আহনাফ? কান্না পায় আহনাফের। আম্মুকে গিয়ে বলে, আম্মু আমি আর শওকত স্যারের কাছে পড়বো না।
কেন?
এমনি।
আহনাফের আম্মু ব্যাপারটা বুঝতে পেরে মনে মনে হাসেন। শওকত স্যারের ওপরে ছেলের অভিমান হয়েছে। কিন্তু অভিমানের আড়ালে তো ছেলের মনে হিংসা জন্ম নিচ্ছে। এটা তো হতে দেয়া যায় না!
তিনি ছেলের মাথায় হাত রেখে বলেন, কেন, শওকত স্যার তোমার ভাষণ না দিয়ে হাসিনার ভাষণ ফেসবুকে দিয়েছে তাই? আহনাফ কথা বলে না। ছলছল চোখে দাঁড়িয়ে থাকে।
আম্মু আলতো করে আহনাফের থুতনি তুলে ধরেন।
ছিঃ বাবা, তুমি হিংসুক হয়ে উঠছো? তোমার তো খুশি হওয়া দরকার! একটি দরিদ্র মেয়ের প্রতিভার কথা প্রকাশ পেলো তোমারই কারণে! তুমিই তাকে শিখিয়েছ? বঙ্গবন্ধু কি নিজের জন্য ভাবতেন? ভাবতেন তো দেশের মানুষের জন্য! এখন তুমি নিজের কথা ভাবছো? তোমারও হাসিনাকে অভিনন্দন জানানো উচিত। আর ট্রেনার হিসেবে তোমারও অভিনন্দন প্রাপ্য। কংগ্রাচুলেশন স্যার!
আম্মুর কথা শুনে হেসে ফেলে আহনাফ।

পরদিন আর একটা ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। হাসিনার প্রশিক্ষক, ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র আহনাফ, তার প্রতিযোগিতার প্রপস মুজিব-কোটটি হাসিনার গায়ে পরিয়ে দিচ্ছে। এ ছবির শিরোনাম ‘মুজিব কোটের মেয়ে’!
পরের দিন টেলিভিশনের নিউজ হয়ে ওঠে হাসিনা আর আহনাফ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দুজন প্রতিভাবান শিশুর জন্য বিশেষ পুরস্কার ঘোষণা করেছেন, আর হাসিনার লেখাপড়ার সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছেন।
দুই হাসিনা হয়ে ওঠে টক অব দ্য টাউন।

৩ নভেম্বর ২০১৬

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (0) »

এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com