খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: অনুবাদ এক স্বতন্ত্র সত্তা

রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী | ১০ মার্চ ২০১৮ ১১:১১ অপরাহ্ন

সাহিত্যের একটি শাখা হল অনুবাদ। বাংলাদেশের অনুবাদ সাহিত্যের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব হলেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। পেশাগতভাবে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত এই মানুষটির আস্থা অনুবাদের সৃজনশীলতায়। মূল ভাষা থেকে লক্ষ্যভাষায় এসে একটি টেক্সট আলাদা একটি সত্তা নিয়ে আবির্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে একজন অনুবাদক স্বাধীনতা নিতেই পারেন – এরকমই তার মত।
অনুবাদকর্মের জন্য জাতীয় পর্যায়ে সম্মানিত হয়েছেন, পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। বছর চারেক আগে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে অনুবাদ প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতেই তার সাক্ষাতকার নেয়ার কথাটি মাথায় আসে। তাকে সে কথা জানাতেই সাগ্রহে রাজী হন এবং ই-মেইলের মাধ্যমে দুই দফায় নেয়া হয় লিখিত এই সাক্ষাতকার। – রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী

রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: আপনার কর্মজীবন সম্পর্কে সংক্ষেপে যদি একটু বলেন। খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: কর্মজীবন শুরু স্বাধীনতার পর। সেসময়ের যুদ্ধ-পরবর্তী অনিশ্চয়তা আর রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতিতে কী করবো তা ভাবতেই ভাবতেই কেটে গেলো তিনটে বছর। সরকারী কলেজে বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করি এবং বাগমারী এম এম আলী কলেজ, টাঙ্গাইলে ইংরেজির প্রভাষক হিসেবে যোগ দিই। সেখানে মওলানা ভাসানীর সন্তোষে গঙ্গা বাড়িতে থেকে এবং তাঁর কলেজে ইংরেজির একটা দুটো ক্লাস নিয়ে বছর খানেক ভালোই কাটে। মওলানা ভাসানীর মৃত্যর পর টাঙ্গাইল শহরের দেড়শো টাকা ভাড়ায় একটা টিনের বাড়িতে বসবাস করি। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যায়ের ইংরেজি বিভাগে যোগ দিই ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে। সেখানে থাকি সহকারী অধ্যাপক হওয়া পর্যন্ত। এরপর ১৯৮৩ সালে ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে চলে যাই যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে তুলনামূলক কৃষ্ণাঙ্গ সাহিত্যে পড়াশোনা করতে। গবেষণা করি। এরপর এসে আবার যোগ দিই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে শিক্ষাদানের পাশাপাশি কিছুকাল কামালউদ্দীন হলের প্রভোস্ট এবং আর্টস ও হিউম্যানিটিজ ফ্যাকাল্টির নির্বাচিত ডীন হিসেব দায়িত্ব পালন করি। ১৯৯৮-এ জাহাঙ্গীরনগর থেকে বিদায় নিয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিই। সেই থেকে নর্থ সাউথেই আছি। অনুবাদ কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী পুরস্কার এবং ২০১১ সালে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার পাই।

রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: তর্জমার ভুবনে কেমন করে এলেন? কবে থেকে তর্জমা করছেন?
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যখন বগুড়া শহরের মাইল সাতেক পূর্বে গোলাবাড়িতে একজন শুভানুধ্যায়ীর বাসায় আশ্রয় নিই তখন কিভাবে যেন সঙ্গে শলোখভের থেকে গিয়েছিলো। ওই বইটাই থেকে থেকে অনুবাদ করি। এবং মোটামুটি ৭টা গল্প নিয়ে বইয়ের পান্ডুলিপিও প্রস্তুত হয়ে যায়। তখন থেকেই কিছু পড়ে ভালো লাগলে তা অনুবাদ করতাম।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: তর্জমা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: তর্জমা গুরুত্বপূর্ণ কেন? গুরুত্বপূর্ণ নয় কেন? তর্জমার মাধ্যম ছাড়া আমরা কি বিভিন্ন সাহিত্যের সেরা কাজগুলোর সঙ্গে পরিচিত হতাম? অন্য ভাষাভাষীর, অন্য জাতিসত্ত্বার জীবনকাহিনি জানতে পারতাম? অনুবাদের মতো প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ জিনিস খুব কমই আছে।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: তর্জমার কাজ কি ক্লান্তিকর, না কি আনন্দদায়ক?
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: ফরমায়েসী অনুবাদ ক্লান্তিকর হতে পারে কারণ তাতে আপনি আনন্দ পান না। আর ভালো লাগার সাহিত্য অনুবাদ আনন্দদায়ক হবে সেটাই তো স্বাভাবিক, নাকি?
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: জানতে চাইব কখনো কবিতা তর্জমা করেছেন কি?
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কাভাফির একটি কবিতা “ইথাকা” অনুবাদ করে আমার নোট বইয়েই রেখে দিয়েছিলাম। পঁয়তাল্লিশ বছর পর সেটাই ঘসেমেজে ছাপিয়েছি।
……………………………………….

ইথাকা

ইথাকার পথে তুমি যখন মাস্তুল দিলে তুলে
প্রার্থনা কর যেন যাত্রা হয় প্রলম্বিত,
পরিপূর্ণ রোমাঞ্চ ও অভিজ্ঞতা দ্বারা।
লিস্ট্রাইগ্যনি, সাইক্লপ, ক্রুদ্ধ পসাইডন
কাউকে করো না ভয় যতক্ষণ তোমার হৃদয়
রয়েছে উন্নত, যতক্ষণ তোমার দেহ ও আত্মা
সৃষ্টি করে দুর্লভ আবেগ।
লিস্ট্রাইগ্যণি, সাইক্লপ, রুষ্ট পসাইডন
এদের কারোই দেখা পাবে না, যদি না
নিজেই তুমি এদের বহন কর অন্তর্গত প্রাণে,
যদি না তোমার মন এদের সারাটা ক্ষণ
ধরে রাখে সমুখে তোমার।

প্রার্থনা কর যেন যাত্রা হয় দীর্ঘায়িত,
অনেক গ্রীষ্ম আর বসন্ত প্রভাতে
কি আনন্দে ফুল্লচিত্তে না-দেখা বন্দরে ফেলা প্রথম নোঙ্গর
জাহাজ ভেড়ানো ব্যস্ত ফিনিসিয় বাণিজ্য নগরে
সওদা করেছ তুমি দ্রব্যাদি উত্তম–
প্রবাল, স্ফটিক, মুক্তা, আবলুস কাঠ,
রকমারি ইন্দ্রজাগানীয়া ঘ্রাণ, মেশক-এ-অম্বর;
মিশরীয় অনেক শহরে ভ্রমণে;
গুণীজন সংস্পর্শে, জ্ঞান সঞ্চয়নে
ইথাকাকে পুষে রাখো মনের কোঠায়।
শেষযাত্রা সেখানেই বিধির বিধান
কিন্তু ভুলেও যাত্রা করো না ত্বরিৎ।

বরং এটাই ভালো,
হাজার বছর যাক সমুদ্র ভ্রমণে
কারণ যখন তুমি ফিরবে স্বদেশ তটে
বৃদ্ধ হয়ে গেছ তুমি বটে।
পথের সঞ্চয়ে তুমি হয়েছো ধনেশ
ইথাকার সম্পদের ভগ্ন অবশেষ
না-ই বা করলে আশা আর।
তোমার গৌরবযাত্রা–সে তো ইথাকারই দান
তার উদ্দেশ্যেই ছিল দুর্জয় এ অভিযান
এখন ফেরার পর তোমাকে দেবার
বাকী আর নাই কিছু তার
তবু যদি জননীকে মনে হয় বড় আকিঞ্চনা
জেনে রেখো সে কখনো করেনি বঞ্চনা।
অভিজ্ঞতাপ্লুত হয়ে এতটাই হয়েছ সজ্ঞান যে
ইতিমধ্যে এইসব ইথাকার মানে
তোমার হৃদয়ই সেটা জানে।
……………………………………….

রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: কোন্ কোন্ রচনাকর্ম তর্জমা করবেন সেটা নির্বাচন করেন কীভাবে?
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: বললাম তো, পড়ে ভালো লাগলে এবং লেখক যদি নাম করা কেউ হন তাহলে তাঁর লেখা অনুবাদ করি।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: আপনার তর্জমা প্রক্রিয়া সম্পর্কে যদি একটু বলেন।
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস:আমি সাধারণত পুরো বই বা গল্প না পড়েই Stanza বা প্যারাগ্রাফের মতো এক একটা অংশ পড়ে বাক্য ধরে ধরে অনুবাদ করি মূলের যতো কাছাকাছি থাকা সম্ভব তা থেকে।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: আপনার জন্য তর্জমার ক্ষেত্রে কোনটি বেশী গুরুত্বপূর্ণ- যুক্তি, বিচারবুুদ্ধি না কি সহজাত জ্ঞান?
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: মূল লেখাকে ভালোমতো বুঝে টার্গেট ভাষায় তা পরিবেশন করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। বিচার বুদ্ধি যুক্তি তর্ক এসব দরকার হয় এক ধরনের লেখায়, আবার সহজাত জ্ঞান দিয়ে আপনি অন্য ধরনের, বিশেষ করে সৃষ্টিশীল রচনা অনুবাদ করতে পারেন।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: no translation would be possible if in its essence it strove for likeness to the original. For in its afterlife –which could not be called that if it were not a transformation and a renewal of something living –the
original undergoes a change.–
ওয়াল্টার বেঞ্জামিনের এ-উক্তির সূত্র ধরে যদি কিছু বলেন।
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: হ্যাঁ, ঠিকই আছে। ওয়াল্টার বেঞ্জামিন যা বলেছেন তাতে দ্বিমত করার কারণ নেই। আসলে ঊদ্ধৃতিতে যা বলা হচ্ছে তাতে অনুবাদের স্বতন্ত্র স্বত্তা এবং প্রয়োজনীয়তারই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। মূলের হুবহু এক রকম হলে যেমন অনুবাদ হয় না, তেমনি মূল থেকে নাই যদি সরে এল তাহলে অনুবাদ যে মূলের পরবর্তী জীবন সে কথাই বা বলা যাবে কি করে? অর্থাৎ অনুবাদে মূল লেখা নবজীবন পায়।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: আপনি কি আক্ষরিক অনুবাদের পক্ষে? বোর্হেস একবার কথাপ্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘Literal translations are not literary.’
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: আক্ষরিক অনুবাদ বলতে কিছু নেই। অনুবাদক মূল টেক্সটের উপমা, প্রেক্ষিত, বাক্যবোধ সম্পর্কে সঠিক পাঠোদ্ধার করতে পারলে যথার্থ সাহিত্যিক অনুবাদের সৃষ্টি হয়। বোর্হেস সাহেব ঠিকই বলেছেন যে মূল লেখকের আক্ষরিক অনুবাদের সাহিত্যিক মূল্য নেই।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: আপনি তো ইংরেজি থেকেই তর্জমা করেন, উল্টোটা মানে বাংলা থেকে ইংরেজিতে সাহিত্যকর্ম তর্জমা করেছেন কি? তর্জমার কাজ করতে গিয়ে ইংরেজির সঙ্গে বাংলার কী কী তফাত চোখে পড়েছে? এ-প্রেক্ষিতে বাংলা ভাষার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে যদি একটু বলেন। বাংলা ক্রিয়াপদগুলো তর্জমার ক্ষেত্রে কতটুকু অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়?
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছি, তবে সংখ্যায় তা খুবই কম। অনুবাদের নিয়মই হলো আপনি যে ভাষায় অনুবাদ করবেন সেই ভাষায় আপনার চূড়ান্ত দক্ষতা থাকতে হবে। মূল ভাষায় কিছুটা ঘাটতি থাকলেও লক্ষ্য ভাষায় কোনোরকম দুর্বলতা থাকা চলবে না। এজন্য বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। মাতৃভাষায় লেখার বা অনুবাদের যে আনন্দ তা তুলনা রহিত। শুধু বাংলা ভাষা কেন সব ভাষারই সীমাবদ্ধতা আছে। বাংলা ক্রিয়াপদকে বিভিন্নভাবে বাক্যের বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহারের যে সুবিধা তা বরং ইংরেজি ভাষায় সেভাবে নেই। তবে ইংরেজির সুবিধা হলো দীর্ঘ বাক্যবন্ধ সর্বনাম যোগ করে লেখা যায় এবং তা পড়তে খারাপ লাগে না। একইভাবে ইংরেজিতে ইন্টারাপটিং স্টেটমেন্ট ব্যবহারের সূযোগ আছে, যা স্বাভাবিক বাংলায় নেই বললেই চলে। এরকম ক্ষেত্রে দীর্ঘ ইংরেজি বাক্যকে ভেঙে একাধিক বাংলা বাক্য সৃষ্টি না করলে অনুবাদ পাঠযোগ্য হয় না।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: শিরোনামের ক্ষেত্রে একজন অনুবাদক কতটুকু স্বাধীনতা নিতে পারেন?
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: রিউনোসুকে আকুতাগাওয়ার গল্প “বাঁশ বনে খুন” এর আসলে জাপানী শিরোনাম আমি জানি না। কিন্তু ইংরেজিতে In the Groove এর বাংলা তর্জমা যদি আমি ‘বাঁশবনে খুন’ দিই তাহলে দোষের কিছু দেখিনা। এটুকু স্বাধীনতা অনুবাদককে নিতেই হয়।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: বিখ্যাত ইতালিয়ো প্রবাদ Traduttore, traidore স্মরণে এনে জানতে চাইব তর্জমাকারীর স্বাধীনতায় আপনি বিশ্বাস করেন কি? রবীন্দ্রনাথের প্রিয় বর্ষাঋতু শ্রাবণকে ইংরেজিতে কী করব? তর্জমায় সৃজনশীলতার সীমানা কতটুকু?
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: অনুবাদক বিশ্বাসঘাতক নয়, বরং অনেক সময় মূলের পরম বন্ধু। অনুবাদে স্বাধীনতা নিতেই হবে, তবে কতটুকু নেবেন তার ওপরই নির্ভর করে আপনি কতটুকু সৃজনশীল হতে চান। বেশী সৃজনশীল হতে গেলে মূল থেকে সরে গিয়ে একটা নতুন শিল্প দাঁড় করাবেন, আর যৌক্তিকভাবে (অবশ্যই অনুবাদকের বিচারে) স্বাধীনতা নিয়ে মূলকে উপস্থাপন করলে তা যথার্থ অনুবাদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতা ছাড়া অনুবাদ করলে তা অপাঠ্য এবং অশিল্প হতে বাধ্য, যেমন বোর্হেস বলেছেন আপনার দশ নম্বর প্রশ্নে।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: কৃতি অনুবাদক ডেভিড বেইয়োস ফরাসি থেকে ইংরেজিতে উপন্যাস তর্জমা-প্রসঙ্গে বলেছেন: it should give the English reader the vague impression of having read a novel in French? উৎস ভাষার কিছু উপাদান রেখে দেয়া কি অনুবাদকের কর্তব্য? আর তা কীভাবে সম্ভব?
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস:অনুবাদ শিল্পতত্বে ফরেনাইজেশন বলে একটা কথা আছে। এতে বলা হয় অনুবাদে মূলের আবহ, মূলের সংস্কৃতি, স্থান কাল মানুষজন সবই মূলানুগ রেখে অনুবাদ করলে লক্ষ্যভাষার পাঠক মূলের একটা সম্যক ধারনা পাবেন। এক্ষেত্রে দু হাজার বছরের পুরনো মূল গ্রন্থ আধুনিক ভাষায় অনুবাদ করতে গিয়ে প্রাচীন আবহ অক্ষুন্ন রাখা প্রয়োজন–এমন ধারণা একেবারেই অবাস্তব। বর্তমানের লক্ষ্যভাষার পাঠক ভীনদেশী ভাষায় সৃষ্ট মানুষ জন আর পারিপার্শ্বিককে কখনোই পুরোপুরি অনুভব করতে পারেন না। মূল সাহিত্যকর্মের মানুষজন, স্থানের নাম, খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকর্মের নাম অবিকৃত পেলেই তো যথেষ্ট। এতেই, যেমন বলা হয়েছে,পাঠক বুঝবেন যে তিনি ফরাসী উপন্যাসই পাঠ করছেন। উৎসভাষার অনেক উপাদানই অনুবাদে থেকে যায়, থাকতে বাধ্য। যদি না থাকে তাহলে তাকে অনুবাদ না বলে এ্যাডাপটেশন বা ছায়া অবলম্বনে রচিত ইত্যাদি বলে ডাকা উচিত।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: নবোকভ লিখেছিলেন –
‘What is translation? On a platter,
A poet’s pale and glaring head!’

কবিতা তর্জমার দিকটি সম্পর্কে যদি একটু আলোকপাত করেন।

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: নবোকভের ঊদ্ধৃতিটা সনাতন ধারণা, এমন যে তর্জমায় কবিতা খোয়া যায়। সম্ভবত রবার্ট ফ্রস্ট এমনটিই বলেছেন। কিন্তু এর বিপরীতে সমমানের আরেকজন কবি অক্টাভিও পাজ বলেন অনুবাদে বরং নতুন কবিতার জম্ম হয় যেমনটি ওয়াল্টার বেঞ্জামিন বলেছেন আপনার ৯ নম্বর প্রশ্নে। নবোকভের মতে মূল আর অনুবাদের অবস্থান পরস্পর বিপরীতমুখী। এজন্য কবিতার অনুবাদে আমরা প্রকারান্তরে দুটো কবিতা পাই। ধরুন জীবনানন্দ দাসের “হায় চিল”কে যদি ইয়েটসের He reproves the curlew-এর সৃজনশীল তর্জমা হিসেবে দেখি তাহলে তো বলতেই হয় একটি নতুন কবিতার জন্ম হয়েছে।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: অনুবাদক হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? তিনি যেটাকে বলেছেন ‘প্রতিরূপ’ সেটাই কি কবি জন ড্রাইডেনের imitation নয়?
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: রবীন্দ্রনাথ খুব বেশি অনুবাদ করেননি; তবে যেটুকু করেছেন তা নেহায়েত মন্দ নয়। এলিয়টের-এর তর্জমা শিশুতীর্থ যথেষ্ট মূলানূগ থেকেও একটি সার্থক কবিতা হয়ে উঠেছে। ড্রাইডেনের তিনটি প্রকারভেদের মধ্যে imitation টাই তিনি সমর্থন করেন অনুবাদকের জন্য। হতে পারে “প্রতিরূপ” imitation এর কাছাকাছি।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: বিখ্যাত তর্জমাকারী গ্রেগরী রাবাসা এক সাক্ষাতকারে বলেছেন যে হয়তোবা আঞ্চলিকতা মহৎ সাহিত্যের ভিত্তিভূমি; যেমন দোন কিহোতে লা মাঞ্চা আঞ্চলিকতাপুষ্ট, যেমনভাবে ফকনার বা জেমস জয়েসের আঞ্চলিকতার প্রসঙ্গ তোলা যায়। তর্জমাকারীর জন্য আঞ্চলিকতা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় কি? অনুবাদ তাত্ত্বিক লরেন্স বেনুত্তি লক্ষ্যভাষার টেক্সটে স্রোতভাষার টেক্সটের আঞ্চলিকতা রাখার পক্ষপাতী। আলম খোরশেদ সম্পাদিত লাতিন আমেরিকার গল্পগ্রন্থ ‘যাদুবাস্তবতার গাথা’-য় আপনি মিগেল আনহেল আস্তুরিয়াস-এর গল্প ’মুক্তা’ তর্জমা করেছেন এবং গল্পটিতে আঞ্চলিক ভাষার প্রয়োগ করেছেন।
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: যেকোনো সাহিত্যেই আঞ্চলিক উপকরণ থাকবেই। ভাষা তো একটা অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে। একটা সম্প্রাদায়ের দীর্ঘ দিন একই ধরনের আবহাওয়ায় একত্রে বসবাস, একই রকমের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রা নির্বাহের ফলে আঞ্চলিকতা তো সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়। এরপরও যখন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী বাইরের বৃহত্তর দুনিয়ার সংস্পর্শ না পেয়ে কিছুটা বিচ্ছিন্নভাবে জীবনযাপন করে, তখন তাদের দ্বারা সৃষ্ট হয় লোকাল কালার। তো লোকাল কালারকে অনুবাদে বহুলাংশে এর বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতেই হয় নৃ ও সমাজতাত্ত্বিক চরিত্র অক্ষুন্ন রেখে অনুবাদ করতে গেলে। আঞ্চলিকতাকে রূপান্তরিত করা কঠিন কাজ। একেবারে খোলনলচে পাল্টে যদি জয়েসের ডাবলিনার-এর চরিত্রগুলোকে ঢাকাইয়া চরিত্রে রূপান্তরিত করা হয় তাহলে তো সেটা অনুবাদ হলো না, হলো ছায়া অবলম্বনে রচিত। ফকনারের কল্পিত স্থান ইয়োকনাপাটাওফাকাউন্টি বা আর. কে. নারায়নের মালগুদির কাহিনি পুরোপুরি আঞ্চলিক এবং অনুবাদে এদের ওভাবেই রাখতে হবে। ওখানকার একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের চরিত্রে যদি প্রমিত ভাষা ব্যবহার করে অনুবাদ করা হয় তাহলে যেমন বেখাপ্পা শোনা যাবে এবং চরিত্রগুলো জ্যান্ত হয়ে উঠে দাঁড়াবে না তেমনি ওদের মুখে একেবারে লক্ষ্যভাষার কোনো অঞ্চলের বুলি তুলে দিলেও তা কিছুটা বেখাপ্পা শোনায়–তবে তাতে হয়তো চরিত্রেরা হাত পা ঝেড়ে দাঁড়াবার চেষ্টা করতে পারে। আস্তুরিয়াসের “মুক্তা” গল্পে তৃণমূলের চরিত্রের মূখে বগুড়ার শহরাঞ্চলে ভাষা ব্যবহারের পেছনে এই যুক্তিই কাজ করেছে। কিন্তু ভালো হতো যদি কক্সবাজারের সমুদ্রতীরবর্তী কোনো গ্রামের সাধারণ মানুষের ভাষা ওদের মুখে দিতে পারতাম। কিন্তু সে ভাষা তো আমার জানা নেই। মূল গল্পের অনুবাদে প্রমিত ইংরেজিতে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের একটি মৎসজীবী গ্রামের কথাই বলা হয়েছে।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: ইংরেজিতে লেখা আফ্রিকান সাহিত্য বা কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের লেখা সাহিত্যকর্মের বাংলা তর্জমা করতে গিয়ে ধর্মীয় বা সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গগুলিকে কীভাবে হাজির করেছেন বাংলায়? আচেবের ইগবো সম্প্রদায়ের বিষয়গুলিকে বাংলায় আনতে গিয়ে কি কোনো সমস্যা হয়? তর্জমা কি অবধারিত সাংস্কৃতিক বিকৃতি?
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: আমার কাছে ব্যাপারটা একটু অদ্ভূতই মনে হয়। আচেবে বা অন্যান্যরা যাঁরা নিজেদের সম্প্রদায়ের লোকজনকে মূল ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করছেন শিল্পসম্মতভাবে, তাদের মুখে প্রমিত ইংরেজি তুলে দিচ্ছেন, কেবল মাঝে মাঝে ইগবো শব্দ বা প্রতিবেশিক অনুষঙ্গ, বচন-প্রবচন ব্যবহার করছেন–এদের লেখা পড়তে কিন্তু অসুবিধা হয় না। তারা বিদেশেী একটি ভাষায় বেশ অথেনটিক ইগবো সমাজকেই চিত্রিত করছেন। এখন এঁরা যদি তৃণমূল পর্যায়ের সংস্কৃতিকে বিদেশি ভাষায় আঁকতে পারেন, তাহলে অনুবাদে সেই সংস্কৃতিকে রূপান্তরিত করতে না পারার কোনো কারণ নেই। অনুবাদ করতে গিয়ে এরকম নানা কৃত্য ও প্রবচনের মুখোমুখি হয়েছি। সেসবের কোনো ইকুইভ্যালেন্ট কৃত্য বা বচন বাংলার সমাজে ও ভাষায় নেই, কিন্তু তাই বলে বাংলায় তাদের প্রকাশ করে পাঠককে জানাতে কোনো অসুবিধা বোধ করিনি। তর্জমাকে সাংস্কৃতিক বিকৃতি বলতে আমি নারাজ। অবশ্য তর্জমা মানেই তো রূপান্তর আর রূপান্তর মাত্রই এক অর্থে বিকৃতি। এই অবধারিত বিকৃতিকে আমি নেতিবাচক বলে মনে করি না।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: ইংরেজি-ব্যতীত অন্যান্য ভাষার বিশ্বসাহিত্য বিশেষত তৃতীয় বিশ্বের সাহিত্য সরাসরি মূল ভাষা থেকে বাংলায় তর্জমা হওয়া কি অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়? ইংরেজির হাত ঘুরে আসলে ঔপনিবেশিকতার ছোঁয়া থেকে যায় সে-তর্জমায়, আপনার কী মত?
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: অনুবাদ মূল ভাষা থেকেই হওয়া উচিত। অনুবাদের অনুবাদ–এমন পরিস্থিতিতে পাঠক মূল থেকে দুদফা দূরে থাকেন। ভারতের বহু প্রদেশে খুব উন্নত সাহিত্য রচিত হচ্ছে বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায়। সেসব মূল ভাষা থেকে বাংলায় অনূদিত হলে তো অবশ্যই ভালো হতো। এজন্য আমাদের বহুভাষিক জনসংখ্যা সৃষ্টি করতে হবে। শুধু তাই নয়, চীনা, জাপানী, ইংরেজি বাদে ইউরোপের অন্যান্য ভাষায় লেখা সাহিত্য ওইসব ভাষা থেকেই সরাসরি অনূদিত হওয়া উচিত। কিন্তু আমরা কি সেরকম বহু ভাষা জানা জাতি? আর শুধু বিভিন্ন ভাষা জানলেই তো হবে না, অনুবাদ করার মতো প্রতিভাও থাকতে হবে। আমার তো মনে হয় একটি বহুভাষিক জাতি হিসেবে পরিচিত হতে কিংবা সেধরনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে আমাদের এখনো বহুযুগ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ততদিন ইংরেজি অনুবাদ থেকে বাংলায় অনুবাদ করা ছাড়া গত্যন্তর কী? অবশ্য এর মধ্যে আমার একটু অন্যধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। কনস্ট্যান্টিন কাভাফির কবিতা “ইথাকা” আমি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করে প্রকাশ করার পর ইন্টারনেটে একজন পাঠক মূল গ্রীক থেকে ওই কবিতার বাংলা অনুবাদ পোষ্ট করেন। অবাক হয়ে দেখি গ্রীক থেকে বাংলা আর ইংরেজি থেকে আমার অনুবাদে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। এতে মনে হয় ইংরেজি তথা যেকোনো ভাষায় অনুবাদ যদি বিশ্বস্ত হয় তাহলে সেখান থেকে তৃতীয় একটি ভাষায় অনুবাদ করা যেতে পারে–এতে পাঠক বঞ্চিত হননা। আর ইংরেজির হাত ঘুরে এলে উপনিবেশিক ছোঁয়া থাকে তর্জমার–এ কেমন কথা?
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: আকুতাগাওয়া রিউনোসুকের অধিকাংশ গল্পই প্রাচীন জাপান তথা চীনের পটভূমিকায় রচিত। চারশ বছর আগে জাপানে পোর্তুগিজ মিশনারিরা খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের একটা চেষ্টা চালিয়েছিল এবং সেই সংক্রান্ত ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে লেখা গল্প ‘শহীদ’। আপনি ‘রাশোমন ও অন্যান্য গল্প’-এর ভূমিকায় লিখছেন: ‘শহীদ’ গল্পে পোর্তুগিজ খ্রিষ্টানদের জাপানি বাচনভঙ্গি ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েক শ বছর আগের কাহিনিকে বাংলায় আনতে গিয়ে ভাষা বা শব্দচয়নের ক্ষেত্রে কি কোনো নির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা কাজ করেছে আপনার মধ্যে? পাঠকরা যাতে মূল গল্পের রসগ্রহণ করতে পারে সে-বিবেচনায় কী করেছেন? টেক্সট যে-কালেরই হোক, অনুবাদকের উচিত তর্জমা করতে গিয়ে সমসময়ের ভাষাই ব্যবহার করা– এরকম বললে আপনি কি বলবেন?
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: আকুতাগাওয়ার ‘শহীদ’ গল্পে মিশনারীরা যেরকম জাপানী ব্যবহার করতো হয়তো সেরকম জাপানীই ব্যবহার করেছেন আকুতাগাওয়া। কিন্তু বাংলায় অনুবাদ করতে গিয়ে ইংরেজি ভাষায় যেমনটি এসেছে আমি সেরকমটিই অনুবাদ করেছি। এখন ইংরেজি অনুবাদ যদি আকুতাগাওয়ার মূল টেক্সট-এর বিশ্বস্ত হয়ে থাকে, তাহলে আমার বিশ্বাস বাংলা অনুবাদও মূল জাপানী থেকে বেশি সরে যায়নি। মধ্যযুগের জাপানী গল্প নিশ্চয়ই আধুনিক জাপানী ভাষাতেই লেখা হয়েছে। এবং ইংরেজি অনুবাদও আধুনিক ইংরেজিতে হয়েছে। অতএব বাংলা অনুবাদেরও আধুনিক বাংলাভাষায় হওয়াতে দোষ কোথায়?

রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: বাংলা অনুবাদ সাহিত্য সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন করুন।
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: বাংলা অনুবাদ সাহিত্য খুবই প্রাচীন–বস্তুত বাংলা ভাষারই সমবয়সী। তবে ইংরেজ শাসনের পর থেকেই অনুবাদ সাহিত্য একটি বিস্তৃততর প্রেক্ষিত অর্জন করে। উপন্যাস, কবিতা, নাটক প্রবন্ধ ইত্যাদির মতো অনুবাদ সাহিত্যকেও আমি একটি স্বতন্ত্র শিল্পমাধ্যম হিসেবে দেখি। বাংলা ভাষায় সংস্কৃত থেকে যেমন বহু যুগ আগে অনুবাদ হয়েছে তেমনি অন্যান্য ভারতীয় ও ইউরোপীয় ভাষা থেকেও হয়েছে। তবে অনুবাদের সিংহভাগই হয়েছে ইংরেজি থেকে ঐতিহাসিক কারনেই। বহুকাল অনুবাদ সাহিত্যকে অন্যান্য সাহিত্য মাধ্যমের তুলনায় খাটো করে দেখা হয়েছিলো বলে এর বিস্তার হয়তো তেমন ব্যাপক নয়; কিন্তু বর্তমানে অনুবাদ সাহিত্য বেশ তরতর করে বেড়ে চলেছে।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: ভালো অনুবাদ আর বাজে অনুবাদ-এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাইব।
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: বাজে কবিতা যেমন কবিতা নয়; বাজে গল্প যেমন গল্প নয়; বাজে কিংবা শিল্পগুণশূণ্য নাটক যেমন নাটক নয়; তেমনি বাজে, অপাঠ্য অনুবাদও অনুবাদ নয়। বাজে কবিতা, গল্প নাটক যেমন পড়া যায় না, বাজে অনুবাদও সেরকম পড়া যায় না।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: তরুণ প্রজন্মের তর্জমাকারীদের উদ্দেশে কিছু বলবার যদি থাকে।
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: তরুণ অনেকেই অনুবাদ করছেন এবং বেশ সাবলিল ভাষায় করছেন। আমার পরামর্শ থাকবে ভালো লেখা অনুবাদ করুন এবং সময় নিয়ে করুন। বিশ্বসাহিত্যের সব কালজয়ী লেখাই যে বাংলায় হয়েছে তা তো নয়, বেছে বেছে সেধরনের লেখাগুলো বাংলার পাঠকের জন্য অনুবাদ করুন। সংবাদ মাধ্যমের যুগে তাৎক্ষণিকভাবে অনুবাদের প্রয়োজন স্বীকার করেও বলি চিরায়ত সাহিত্য অনুবাদ করে বাংলা অনুবাদ সাহিত্য তথা বাংলা সাহিত্যকেই সমৃদ্ধ করুন।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: মানুষ কি তার মুক্তির সন্ধান পেয়েছে যে আরাধ্য মুক্তির কথা বলেছেন গার্সিয়া মার্কেসসহ সমকালীন অন্যান্য লেখক বুদ্ধিজীবীরা?
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: হঠাৎ এ প্রশ্ন কেন? এর সঙ্গে অনুবাদের সম্পর্ক কী? তবে হ্যাঁ, সাহিত্যের অন্যান্য শাখায় চর্চা করে কেউ যদি ‘মুক্তি’ পেতে চান তাহলে অনুবাদ সাহিত্য চর্চার মাধ্যমেও মুক্তির দেখা মিলতে পারে। আসলে মুক্তি কী? মৃত্যু ছাড়া কি যথার্থ অর্থে মুক্তি ঘটে? সাহিত্যিকরা মুক্তি খোঁজেন না, খোঁজেন বেঁচে থাকার অর্থ, পেতে চান বেঁচে থাকার আনন্দ প্রকাশের আনন্দ, এই তো।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ অনুবাদ শিল্পের একেবারে ভেতরের জিনিসপত্র নিয়ে নাড়াচাড়া করার সুযোগ দেওয়ার জন্য।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন jaya kundu — মার্চ ১৩, ২০১৮ @ ১২:৫৪ অপরাহ্ন

      অত্যন্ত দরকারী সাক্ষাৎকার। প্রশ্নগুলি সুচিন্তিত ছিল বলেই উত্তরের পরিসর এত বিস্তৃত রইল।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com