জার্নাল

২০১০: ঢাকা শহরের চারশ’ বছর পূর্তি

shamsuzzaman_khan | 27 Jun , 2008  

lalbag.jpg
১৮১৬ সালে Sir Charles D’Oyly (১৭৮১-১৮৪৫)-এর আঁকা লালবাগ দুর্গের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত। দুর্গ নির্মাণের শুরু ১৬৭৮ সালে, আওরঙ্গজেবের পুত্র মোহাম্মদ আযম শাহের হাতে। তিনি এর নাম রেখেছিলেন কেল্লা আওরঙ্গবাদ।

ঢাকা শহরের চারশ’ বছর পূর্তির আর মাত্র দু’বছর বাকি। আগামী ২০১০ সালে আমাদের প্রিয় শহর ঢাকা চারশ’ বছরে পড়বে। সাবেক পূর্ব বাংলা এবং বর্তমান বাংলাদেশের জন্য এ বড়ো গৌরব ও আনন্দের সংবাদ। আমাদের এই বাংলা অঞ্চল বিশেষ করে আদি বঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত এই ভূ-খণ্ডের মানুষের সামাজিক পশ্চাদপদতা, সাধারণ মানুষের সংস্কারাচ্ছন্নতা ও দারিদ্র্য এবং শিক্ষা-দীক্ষার অভাবের পটভূমিকা বিবেচনা করলে ঢাকার মতো একটি পুরনো এবং ঐতিহ্যবাহী শহর এখানে গড়ে ওঠাকে ভূ-রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করতে হয়।

dacca_litho-2.jpg
ডিকিনসন অ্যান্ড সন কোম্পানির লিথোগ্রাফে ১৮৪৭ সালের নদী থেকে দেখা ঢাকা শহর।

স্মর্তব্য যে, ঢাকা কোলকাতার চেয়ে পুরনো শহর। মাত্র কয়েক বছর অগেই কোলকাতা শহরের তিনশ’ বছর পূর্তি উৎসব অত্যন্ত সাড়ম্বরে এবং সাংস্কৃতিক ও বৃদ্ধিবৃত্তিকতার আঙ্গিকে সুসম্পন্ন হয়েছে। নতুন করে লেখা হয়েছে শহর কোলকাতার ইতিহাস। জনগণকে ফিচার ফিল্ম, চিত্র প্রদর্শনী, আলোকচিত্র, পোষ্টার, ব্যানার, হোর্ডিং, বিজ্ঞাপন এবং লিখিত বয়ান ভাষ্যে জানানো হয়েছে ওই শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভবন-প্রাসাদ, উদ্যান,

ahsan-manzil.jpg
আহসান মঞ্জিল, ছবি: Mohammad Jobaed Adnan

স্থাপত্য ও প্রাচীন কীর্তিস্তম্ভের নানা চিত্তাকর্ষক বিবরণ। নানা ভাষায়, ভাবে, আঙ্গিকে-শৈলীতে তাদের শহর সম্পর্কে অনুপুঙ্খভাবে জানিয়ে তাদেরকে সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের গর্বিত অংশীদার করা হয়েছে। শুধু তাই নয় কোলকাতাকে বিশ্বনগরীর (World City) গৌরবে অভিষিক্ত করার লক্ষ্যে নানা দেশী-বিদেশী ভাষায় হৃদয়গ্রাহী বয়ান ও চিত্রভাষ্যে অনুপমভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে নানা লক্ষ্য গ্রুপ-এর (Target Group) উপযোগী প্রকাশনা। এ কাজের জন্য তারা পাঁচ-সাত বছর আগে থেকেই সুচিন্তিত পন্থায় নানা পর্যায় ও সময়-নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। এতে ছিলো উদ্যম, ধীশক্তি, উদ্ভাবনা ও শিল্পমনস্ক নানা মাত্রিক উদ্যোগ। ফলে কোলকাতার তিনশ’ বছর পূর্তি উৎসবে বহুমাত্রিক লক্ষ্যভেদী সাফল্য কোলকাতার, ভারতবাসীর এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ এবং পর্যটকদের মন ছুঁয়ে যায়।

কোলকাতা ইংরেজ আমলের শহর। ইংরেজরাই এ শহর গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে ঢাকা মোঘলদের তৈরি করা শহর। ১৬১০ সালে মুঘল সুবেদার with_his_family.jpg…….
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকার নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ (১৮৭১-১৯১৫)। আহসান মঞ্জিলের সামনে ঈদের দিনে তোলা ছবি।
…….
ইসলাম খাঁ রাজমহল থেকে ঢাকায় রাজধানী সরিয়ে আনায় ঢাকা শহরের নতুন রাজনৈতিক, সামরিক, প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় এবং সেই সময় থেকেই ঢাকা শহরের নতুন যাত্রা শুরু ধরা হয়। ২০১০ সালে তাই পূর্ণ হবে এ শহরের চারশ’ বছর। মাত্র দু’বছর পরেই আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কিন্তু এ বিষয়ে উদযোগ-আয়োজন তো শুরু হল বড়ো দেরিতে। বাংলাদেশের সরকারী মহল এখনো অপরিপক্ক, বেসকারী বা বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডল কল্পনাহীন। এত গোলটেবিল হয়, এত টকশোতে কান ঝালাপালা হয়, কিন্তু কেউ ঢাকার চারশ’ বছরের সাতকাহন ঘাঁটার দিকে এখনো মন দিল না। তবে সম্প্রতি একটি নাগরিক সভা হয়ে গেছে। প্রখ্যাতজনেরা তাতে যোগ দিয়েছিলেন। অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে সে সভায় নানা প্রস্তাব পেশ করেন সাগর লোহানী, রবিউল হুসাইন, হাশেম খান, শামসুজ্জামান খান, সুলতানা কামাল ও সেলিনা হোসেন। এ তো হল বেসরকারী উদ্যোগ। কিন্তু সরকারী টাকায় চলে এমন সব প্রতিষ্ঠান: জাতীয় জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর পূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, সরকারের স্থাপত্য বিভাগ, পৌরসভা নিরব কেন? ২০১০ সালে কি তারা ঢাকাকে ‘ওঠ ছেড়ি তর বিয়া’ বলে সাজানো শুরু করবে? বলিহারি যাই এদের কাণ্ড দেখে।

star-mosque-in-dhaka_jpg.jpg……
ঢাকার তারা মসজিদ
……
আমরা আগেই বলেছি ঢাকা মোঘলদের তৈরি করা শহর। ঢাকা নগরের পরিকল্পনায় মোঘলেরা উদ্ভাবনা ও নান্দনিক চেতনার পরিচয় দিয়েছিল। ফলে এই নগরটি এক স্বকীয় বৈশিষ্ট্য অর্জন করে — নগর পরিকল্পনার দিক থেকে যেমন, স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকেও তেমনি। এককালে এর গৌরবের শুরু প্রশাসনিক, রাজনৈতিক এবং সামরিক ক্ষমতার অনতম কেন্দ্র হিসেবে। সেই সঙ্গে সঙ্গে সেকালে প্রাদেশিক রাজধানীর মর্যাদাও লাভ করে ঢাকা। পরে নবাবী আমলেই ঢাকার গুরুত্ব হ্রাস পায় এবং সে গুরুত্ব লাভ করে মুর্শিদাবাদ। ইংরেজ আমলে গুরুত্বহীন ঢাকা ছিল নিতান্তই এক মফস্বল জেলা শহর মাত্র। প্রকৃতপক্ষে অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতকে ঢাকা পরিণত হয় এক পতিত শহরে। তবে এ অবস্থার মধ্যে ঢাকা মাদ্রাসা (পরে আলিয়া মাদ্রাসা) প্রতিষ্ঠার পর তৎকালীন পূর্ব বাংলার মুসলমানরা ঐ প্রতিষ্ঠানে শুধু ধর্মশিক্ষা নয়, জীবন-জীবিকার শিক্ষা ইংরেজির চর্চা ও অনুশীলনে অনুপ্রাণিত হয়। আর মওলানা ওবায়দুল্লাহ আল ওবেদী’র মত মহা সূফী সাধক ও শাস্ত্রীয় পণ্ডিতের নেতৃত্বে বহু জ্ঞানী-গুণীর আবির্ভাবও ঘটে এই আধুনিক মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্য দিয়ে। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ঐ চেতনা আরও নানা মাত্রিক তাৎপর্য লাভ করে পূর্ব বাংলার সামাজিক জাগরণের অন্যতম পীঠস্থানে পরিণত হয়। জীবনের নবচেতনা ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ তৈরিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা (১৯২১) ঐ অনুঘটকের ভূমিকার জন্যই প্রতিষ্ঠানটি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ছাব্বিশ বছর পরেই ঢাকা পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে আরো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা পালনের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে এবং ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পূর্ব বাংলায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্টার যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, আমাদের এই নগরী হয়ে ওঠে তার অগ্নিগর্ভ মূল কেন্দ্র। এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ঢাকা এখন নব্য স্বাধীন বাংলাদেশের গৌরবধন্য রাজধানী শহর।

hossaini-dalan_jpg.jpg
হোসেনী দালান, ঢাকা

ঐতিহাসিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান পর্যায়ে উন্নীত আমাদের এই রাজধানী শহরকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন, অনেক প্রত্যাশা এবং কিছু উদ্বেগও আছে। স্বাধীন দেশের রাজধানী হিসেবে ঢাকা এখন বিপুল মানুষের কর্ম ও মর্ম ভূমি। কিন্তু আমাদের এই ঢাকাকে আমরা দিল্লির মতো, ব্যাঙ্গালুরুর মতো, এমনকি ইসলামাবাদের মতো সুপরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে পারিনি। ঢাকা নগরীর প্রাণ বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী নদী এখন রুগ্ন, দুষিত এবং ভূমিভূকদের দখলে মুমূর্ষু প্রায়। এই অবস্থা থেকে রাজধানীকে মুক্ত করতে হবে। ঢাকা শহরের ভেতরে যে খাল, নালা এবং লেকগুলোকে দূষণে, দখলে পঙ্কিল এবং আবর্জনাময় করে তোলা হয়েছে তা থেকে মুক্ত করে এই নগরীকে আবার প্রাচীন গৌরবে ফিরেয়ে নিতে হবে। চারশ’ বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকারী-বেসরকারী সংস্থা প্রতিষ্ঠান এবং পরিবেশবিদদের সমন্বয়ে এই কাজে এখনি হাত দিতে হবে এবং কঠোরভাবে সুচিন্তিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে হবে। সরকারের উচিত এ কাজে এগিয়ে আসা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার শিক্ষিত লোক নিয়ে গড়া কিন্তু তাদের সংস্কৃতি চেতনা কই?

চারশ’ বছরের শুরুতে আমাদের লক্ষ্য হোক বিশ্বের নোংরাতম শহর নয়, বরং অন্যতম সুন্দর নগর হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তোলা।

ঢাকার ইতিহাস এবং ঐতিহ্য নিয়ে ইতিপূর্বে উল্লেখযোগ্য গবেষণা ও পুস্তক প্রকাশ করেছেন ব্রাডলি বার্ট, এসএম তৈফুর, হাকিম হাবিবুর রহমান, ঐতিহাসিক আহমদ হাসান দানী, ড. আব্দুল করিম, ড. মুনতাসীর মামুন, কবি শামসুর রাহমান ও ড. শরীফ উদ্দীন আহমদ — এঁদের অনেকের বই এখন দুষ্প্রাপ্য। অনেকে আজ জীবিত নেই। তবে তরুণ প্রজন্মের মুনতাসীর মামুন, শরীফ উদ্দীন আহমদ এখনো সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এঁদের বই-পুস্তক নুতন করে বাংলা, ইংরেজি, ফরাসি এবং অন্যান্য ভাষায় প্রকাশ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক। লেখা হোক সর্বাধুনিক তথ্য সমৃদ্ধ নতুন armenian_church_in_ol.jpg……
ঢাকার আর্মেনিয়ান চার্চ
…….
একটি গবেষণামূলক বই। ঢাকার ঐতিহাসিক ভবন, বাগান, পার্ক, রমনা, লালবাগ দুর্গ, তারজালি কাজ, মসলিন-জামদানী শাড়ি, বাখরখানি, ঢাকার আদিবাসী ও নানা স্থাপত্যভবন ও পুরাকীর্তি নিয়ে লেখা হোক সিরিয়াস ও জনপ্রিয় বই। তাহলে দেশ-বিদেশের মানুষ ঢাকাকে নতুন করে জানতে পারবে এবং পর্যটকরাও এ সমস্ত বই-পুস্তক পড়ে বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যকে যেমন জানতে পারবে তেমনি এদেশে পর্যটক হিসেবে আসার ব্যাপারেও আগ্রহী হবে। শুধু বই প্রকাশ নয়, ঢাকার চলচ্চিত্র নির্মাণ, লালবাগ দুর্গে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড প্রতিষ্ঠা, ঢাকা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন প্রাসাদ, ভবন, পুরাকীর্তির ওপর ফটো অ্যালবাম প্রকাশ এবং ঐ সব ভবন সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং সকল বাসিন্দার বসবাসের সুযোগ-সুবিধাযুক্ত একটি আধুনিক নন্দিত নগরায়নই হোক আমাদের শহরের চারশ’ বছর পূর্তির কর্মসূচির প্রধান অংশ। এতে উন্নত ও সুলভ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় ফ্লাইওভার, মেট্রো সিস্টেম এবং টোকিও শহরের মতো প্রতিটি বড় রাস্তা থেকে ডাইনে বা বায়ে বেরিয়ে যাওয়ার আউটলেট এবং শহরে পূর্ব-পশ্চিম মুখী রাস্তার সংখ্যা বাড়িয়ে শহরকে যানজটমুক্ত ও দ্রুত চলাচলের উপযোগী করে তুলতে হবে। হাইরাইজ বিল্ডিং মূল শহরে আর তোলা যাবে না। নরসিংদী, গাজীপুর, সিংগাইর, মানিকগঞ্জ, ধামরাই, ভুলতায়, কলাতিয়ায় গড়ে ওঠুক আকাশতলিকা যুক্ত নতুন নতুন উপশহর।

mosqueonthemugbazarroadoq4.jpg
মগবাজারের মসজিদ, Sir Charles D’Oyly-র আঁকা ছবি

পুরনো ঢাকার শাঁখারী বাজারকেও উদ্ভাবনাময় পরিকল্পনায় পুরনো আদল বজায় রেখে নতুনভাবে বিন্যস্ত করা যায়। আমি দেখেছি ফ্রান্সের লিঁও শহরে এবং ওয়াশিংটন ডিসি-র একটি শাঁখারী বাজার প্রতিম গলিকেও পুরনো সত্তা বজায় রেখে নব আঙ্গিকে বিন্যস্ত করা হয়েছে, সে অঞ্চলের পুরনো বাড়ি হয়েছে পর্যটকদের তীর্থস্থান এবং সেখানকার পুরনো প্রাসাদ/বাড়ি হয়েছে শহরের সবচেয়ে ঐতিহ্যময় ও দামি হোটেল।

shiva_temples_dhakeshwari_m.jpg
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ভেতরের শিবমন্দির, ছবি: রাগিব হাসান, সূত্র: উইকিপিডিয়া

পরিশেষে বলি, ১৯৮৭ সালে সার্ক ফোকলোর সম্মেলনে ইসলামাবাদে গিয়েছিলাম। একদিন আমাদের দাওয়াত দিলেন নগর উন্নয়ন অথরিটির চেয়ারম্যান মি. রাজা সি.এস.পি। নৈশভোজ শহরের এক প্রান্তের টিলার উপরে দামান-এ-কোহ্ নামের রেস্টুরেন্টে। রেস্টুরেন্টের সামনে দাঁড়ালে পুরো শহর নজরে আসে। খুব সুন্দর লাগে শহরকে। আমরা বললাম, কেমন করে এমন ছিমছাম সুন্দর রেখেছেন? তিনি বললেন, শক্ত নীতি, কঠোর অনুশাসন ও ঘুষ-দুর্নীতির কলুষ মুক্ত রেখে এবং তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ও তদারকির মাধ্যমে। আমাদের পূর্বানুমোদন ছাড়া কেউই — তিনি যতই ক্ষমতাবান হোন না কেন — একখানা ইটও গাঁথতে পারবেন না।

হায়! আমাদের রাজউক, সিটি করপোরেশনে কীসের বিনিময়ে কী হয় তা কে না জানে!

ঢাকা, জুন ২০০৮

szk_shyamoli@yahoo.com


5 Responses

  1. আদনান সৈয়দ says:

    বিশ্বের যে কোনো উন্নত জাতি তাদের উন্নত শিল্প-সংস্কৃতির খবরটা বেশ উচু গলায় পৃথিবীর আন্যান্য জাতির কানে পৌঁছানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে। বাংলাদেশ এই ক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম, সন্দেহ নেই। আমাদের ভালো যাই আছে সে খবরটি তো বিদেশের বাজারে বুক উঁচিয়ে তুলে ধরার মত কোনো রকম প্রচেষ্টা আমাদের তথাকথিত শিক্ষিত উচ্চ কত্তা-ব্যক্তিদের নেই। আর সে কারণেই আজ ঢাকা থেকে অনেক পিছিয়ে থাকা পৃথিবীর অনেক ছোট-বড় শহর শুধুমাত্র সরকারি প্রচেষ্টার সুবাদে গোটা পৃথিবীতে বিশেষ একটা সম্মানের জায়গা তৈরি করে নিয়েছে। ঢাকার চার’শ বছর পূর্তি আমাদের এক বিরাট আহংকার। যতদূর জানা যায় আষ্টাদশ শতকে পৃথিবীর সেরা গৌরবময় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা ছিল একটি এবং সেরা শহরের ক্রমসংখ্যায় ছিল দ্বাদশতম। আবার আন্যদিকে মুঘল আমলের বাংলার তিনটি রাজধানীর মধ্যে ঢাকা ছিল সবচেয়ে প্রাচীনতম। এবার ভাবুন আমাদের সেই ঐতিহ্যের ঢাকার আবস্থা এখন কোথায়? শুধুমাত্র উপযুক্ত সরকারি পর্যায়ে রক্ষণাবেক্ষণ আর প্রচারের অভাবে এই ঢাকাকে চেনে খুব অল্প সংখ্যক মানুষই। আফ্রিকার আদ্দিস আবাবা যতটা পরিচিত ঢাকার সেই প্রচারটুকুও নেই। এটা দুঃখের কথা। আথচ ঢাকার চারশ’ বছর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আমাদের সরকারি পযায়ে একটা বড় রকম সুযোগ ছিল ঢাকার অতীতের রঙিন আর জাকজমকপূর্ণ ইতিহাসকে গোটা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার। তাতে ঢাকার উপকার হত তো বটেই উপকার হত আমাদের সরকারী কোষাগারটিরও। সরকারের উচিত ঢাকাকে বিদেশী পযর্টকদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলা। আর সে জন্য ২০১০-এ সরকারের জন্য রয়েছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। কথা হলো সরকারী পর্যায়ে সে কম্মটি কতদূর এগোবে? যে দেশে মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন অবলীলায় চুরি হয়ে যায় দায়িত্বজ্ঞানের অভাবে যেখানে আমাদের ঐতিহ্যবাহী প্রত্ন দিয়ে প্রদশর্নীর ব্যবস্থা করা হয় বিশ্বের কোনো এক বেসরকারি জাদুঘরে সেখানে আমাদের সরকার বাহাদুর কোমরে দড়ি বেঁধে লাগবেন ঢাকাকে সাজাতে এই কথা বিশ্বাস করি কেমন করে?

    তবে সরকারেও টনক নড়ে। এখন চাই এই বিষয়ের জন্য প্রচুর গণসচেতনতা, চাই ঢাকার উপর গবেষণাধর্মী বিস্তর লেখালেখি আর ঢাকার ঐতিহ্যকে ধারণ করে এধরনের প্রচুর প্রদশর্নী, সেমিনার, ইত্যাদি ইত্যাদি…।

    কাজ প্রচুর। সরকার যদি এগিয়ে আসে খুব ভালো। নাহলে একলা চলো পথ অনুসরণ করা ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। বিশ্ববাসীর সামনে ঢাকা বুক উঁচিয়ে বেঁচে থাক এটাই আমাদের একমাত্র প্রার্থনা। জয়তু ঢাকা। ধন্যবাদ জানাই লেখক শামসুজ্জান খানকে এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের পাতে তুলে দেবার জন্য।

    আদনান সৈয়দ

  2. জুলিয়ান সিদ্দিকী says:

    আমাদের অতীত ইতিহাস এবং ঐতিহ্যমণ্ডিত ঢাকা শহর নিয়ে সরকার কি কিছু ভাবছেন?

    অন্যান্য দেশের দিকে তাকালে দেখা যায় তারা তাদের প্রাচীন ঐতিহ্য তুলে ধরতে প্রতিনিয়তই নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। অথচ আমাদের পক্ষ থেকে তেমন কোনো আগ্রহ পরিলক্ষিত হয় না। এমন কি তা রক্ষায় তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় না। যা সত্যিকার অর্থেই দুঃখজনক!

    জুলিয়ান সিদ্দিকী

  3. shamim says:

    এই সাইটের ফন্টগুলি খুব ছোট। পড়তে অসুবিধা হয়। এই দিকে একটু নজর দিলে ভাল হয়। ধন্যবাদ।

    shamim

  4. shamim says:

    এই সাইটের ফন্টগুলি খুব ছোট। পড়তে অসুবিধা হয়। এই দিকে একটু নজর দিলে ভাল হয়। ধন্যবাদ।

    shamim

  5. বুলবুল আহমেদ পান্না says:

    চমৎকার তথ্যবহুল এই লেখাটা পড়ে আমার খুব ভালো লাগলো।

    বুলবুল আহমেদ পান্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.