কবিতা

স্বদেশ রায়ের কবিতা: গ্রাফিতি

স্বদেশ রায় | 6 Jan , 2018  

Fakir একেবারে নিখুঁত গোয়েন্দার মত আমরা এগিয়ে চলেছি,
আমাদের চলার সঙ্গে শুধু সর্ন্তপন ছিলো না, আমরা সকলের মধ্যে
থেকেও সকলের চোখ এড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।
রেল স্টেশনের লোক সব সময়ই ব্যস্ত থাকে, তীক্ষ্ম চোখ শুধু ফেরিওয়লার।
শুধু তীক্ষ্ম নয়, অভিজ্ঞও – তাকানোর আগেই যেন বুঝতে পারে -কে
খরিদ্দার আর কে নয়। আমরা তাই সহজেই ছিলাম তাদের চোখের বাইরে।
আমাদের গন্তব্যের পথটা দীর্ঘও নয়, দুর্গমও নয় তবে সে এক অন্য পথ।
তবুও সবাইকে এড়িয়ে, সব চোখ ফাঁকি দিয়ে আমরা ঠিক পৌঁছে যাই
নির্দিষ্ট শিমুল তলায়। বিশাল আকৃতির শিমুল, কত কালের সাক্ষী তাও বা কে জানে!
গায়ের অনেক কাটা পড়ে গেছে, অনেকগুলো কেউ কেউ উঠিয়ে সেখানে এঁকেছে গ্রাফিতি।
আমাদেরও হাতে অল্প সময়, ফিজিক্স ল্যাবরেটরি থেকে বের করে এনেছি একটি ছোট্ট হ্যামার
আর বেশ বড় কয়েকটি পিন। দুটো সম্বলই জ্যাকেটের পকেটে – যেন বিপ্লবীর রিভলবার।

নিজের উচ্চতার বেশি কেউ উঁচু হতে পারে না, সেদিন আমরাও পারেনি।
সহযাত্রী বলল সাহায্য করি আমি, তাকে বলি- এ কাজটুকুতে ভাগ দিতে চাইনে কারো।
তারপরে হ্যামারের আঘাতে ফেলে দেই শিমুলের একটি কাঁটা, বেরিয়ে আসে শিমুল
গাছের গায়ের বেশ নরম শরীর। এরপরে সময় চলে যায় দ্রুত, শরীর ওঠে ঘেমে।
হ্যামারটি জ্যাকেটের পকেটে ঢুকিয়ে পিনগুলো দ্রুত চালাই শিমুলের শরীরে।
না, বেশি সময় লাগেনি- বরং অক্ষর গুলোর দিকে তাকিয়ে নিজের মুখই হয়ে ওঠে উজ্জল।
অনেকগুলো গ্রাফিতির ভীড়ে স্থান পায় নতুন গ্রাফিতি, “রাজলক্ষ্মী তোমাকে ভালোবাসি।”
এর আগে তাকে শুধু বলেছি, আমার যা কথা তা তুমি দেখা পাবে রেল স্টেশনের শিমুল গাছের গায়ে।

Flag Counter


2 Responses

  1. prokash says:

    বিকারহীন তন্দ্রার খেঁয়ারিতে আটকে থাকা পলাতক মানুষদের একবার হলেও কবিতাটি ভাবাবে। ধন্যবাদ স্বদেশ রায়।

  2. Md. Nazmul Islam says:

    ভালোবাসা বিনে বাকি
    সবকিছু মিছে
    ভালোবাসা পেলে আমি
    পাই খোঁজে দিশে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.