কবিতা

তাপস গায়েনের দুটি `বিভ্রম’

তাপস গায়েন | 11 Dec , 2017  

eyeবিভ্রম-১

একদিন এই আকাশ ছিল ঈশ্বরের প্রকাশ, আজ সেইখানে শুধু নক্ষত্রের সমাহার। এতো যে চুম্বকগতি, এতো যে বিদ্যুৎ বলরেখা, এইসব উপস্থিতি নিয়েও আমার আচ্ছন্নতায় আমি থেকে যাই নির্বাক। ফুলের শুভ্রতা আর বর্শার ফলকের মতো ক্ষিপ্রতা নিয়ে ধূমকেতু চলে গেছে, যেভাবে এই পৃথিবী পাড়ি দিয়ে চলে যায় সোনার সংসার, কিন্তু রেখে যায় অপরিচ্ছন্ন দর্পণ, ভাঙা আধুলির মতো কিছু সঞ্চয়, আর শরীরে অপরিচিতের প্রেম।

শেষ বিকালের আলোয় অপসৃয়মান হতে থাকে প্রিয় নদীর বাঁক, যেভাবে হারিয়ে ফেলেছি পিতার আদল আর মাতৃমুখ! তবু জেটিতে নোঙ্গর করেছে যে জাহাজ, তার মাস্তুলে চক্রাকারে পাক খায় সিগ্যল, আর তাদের ডানা থেকে খসে পড়ে অনির্নীত সময়। এই পৃথিবীতে এসে দেখে গেলাম অগ্ন্যূৎপাত, ভূমিকম্প, কালবৈশাখীর ঝড়, আর মানুষের উৎসব। প্রাণের প্রকাশ নিয়ে বাজে যুদ্ধের দামামা, আর বীরের শরীর নিয়ে উড়ে চলে পরিযায়ী পাখি মহাদেশব্যাপী। এই যে মহানগরী, যেখানে ভীড়েছি আমি, ভীড়েছে বিভিন্ন গোত্র আর বর্ণের মানুষ আর তাদের অভিজ্ঞান, তাদের ব্যর্থ প্রেম, আর ধ্বংসের প্রবৃত্তি। বিবিধ পানশালায় মাতাল আমি জীবনকে নিরন্তর পুণ্য করে তুলি।

এরই মাঝে আলোর তরঙ্গ তুমি; তুমি ধুলির বিস্তার। প্রবল বর্ষায় প্রাণের মৃত্তিকা তুমি, তুমি মাটির প্রতিমা, আবার তুমিই ইলেকট্রন দূহিতা। রাত গভীর হলে ভাবি, সমুদ্রতরঙ্গে তুমি ছিলে, আর নাবিকেরবেশে ছিলাম আমি। উৎসব-নিমিত্তে, ধুলিধূসরিত এই পৃথিবীর পথে আজও জেগে আছি। কতো সহস্র আলোকবর্ষ পেরিয়ে চুম্বক-বিদ্যুত বলয়িত এই পৃথিবীতে আজ দেখি তোমার অধিষ্টান!

নিউইয়র্ক, ডিসেম্বর ১১, ২০১৭


বিভ্রম-২

নদীর কেলাসিত জল। তার তীরে দীর্ঘ পাইন-বীথির পথ ধরে উড়ে যায় পরিযায়ী পাখি উষ্ণতর গোলার্ধের দিকে। নক্ষত্রময় আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবি- কবে জন্ম হয়েছিল এই পৃথিবীর! নদীর নাব্যতাকে মান্য করে আমার জন্ম হয়েছিল বাংলায়। রোরুদ্ধমান এই জীবন, তাই এতো জন্ম অভিষেক, তাই এতো পানশালা, চায়ের স্টল আর পানের দোকান।

জীবনের নশ্বরতাকে অনুভবে নিয়ে এসে, তির্থাঙ্কর, আপনাকে পিতাশ্রী হিসেবে জেনেছি। আপনার হাসি, আপনার চাহনি, আর কৌতুক এই পৃথিবীর পথে আমাকে বেধে রাখে। ধূমকেতুর গতিপথ দেখে উল্কার পতনের কথা ভাবি। আপনার মুখাবয়বে জেগে ওঠে রঙধনু, যা কেবলই বিস্তৃত হতে থাকে মহানগরী থেকে বনবীথির দিকে, যেখানে উড়ছে মহাকালের পরিযায়ী পাখি!

সারাদিন ঝরেছে বরফ। জ্যোতিষ্কময় মহাকাশ, তার নীচে আজ রাতে ক্রন্দনরত আমি, কারণ আমিও যে জন্মেছি!

নিউইয়র্ক, ডিসেম্বর ১১, ২০১৭
Flag Counter


3 Responses

  1. করবী মালাকার says:

    “সারাদিন ঝরেছে বরফ। জ্যোতিষ্কময় মহাকাশ, তার নীচে আজ রাতে ক্রন্দনরত আমি, কারণ আমিও যে জন্মেছি!”
    শুধু কান্না নয়, জন্ম ঋণ যদি থাকে তবে কিছু দিতেও হবে।

  2. L Gani says:

    অসাধারণ!

  3. গনী আদম says:

    তাপস গায়েনের কবিতার নিম্নগতি দেখে আমি একটু হতাশ। তাপস এর চেয়ে ভালো কবিতা লিখতেন। এ দু’টো রচনাকে ঠিক কবিতা বলতে আমি কুন্ঠিত; কিছু সুচিন্তিত শব্দসম্ভার বলা যেতে পারে বড়জোর। বিডিনিউজ২৪ -এর কাছে একজন কবিতা পাঠক হিসেবে আরও মানোত্তীর্ণ কবিতা আশা করি ভবিষ্যতে। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.